শিক্ষক ও শিক্ষা-কর্মকর্তাদের ভূমিকা শিক্ষার মানোন্নয়নে

শিক্ষায় তুঘলকি কান্ড বা এ জাতীয় শিরোনামে যত লেখাই প্রকাশ হোক না কেন, যত বক্তৃতা-বিবৃতিতে
আকাশ-পাতাল মুখর হোক, একটি কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করা বোধ হয় অসঙ্গত হবে না যে, শিক্ষায় একটি
বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। বেখেয়ালি দৃষ্টি দিলেও বোঝা যাবে যে, শিক্ষার সংখ্যাগত
সম্প্রসারণ অভাবিত ও অভূতপূর্ব। তবে শিক্ষামন্ত্রী হতে শুরু করে শিক্ষা সম্পর্কিত
বিষয়ে জড়িত ও উৎকণ্ঠিত সবাই স্বীকার করবেন যে,
আমাদের শিক্ষার মান আশানুরূপ নয়। এ ব্যাপারে
আমাদের যেতে হবে বহু দূরে। তাই করণীয়
বিষয় নিয়ে এই নিবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সমস্যা ও সমাধান বিবেচিত হলেও এসব কিন্তু শিক্ষার সকল
পর্যায়ে বা ক্ষেত্রে কম-বেশ প্রযোজ্য। শিক্ষার মানোন্নয়নে কতিপয় চালক বা নিয়ামক
ইতোমধ্যে নিঃসন্দেহে চিহ্নিত হয়েছে, তার মধ্যে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ভূমিকা অসীম। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে
সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মানসম্পন্ন ও নিবেদিত শিক্ষকের অভাব। এ ব্যাপারে বহু
কিছু বিবেচ্য রয়েছে, তবে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রণীত আইন বা সাধারণ ব্যবস্থাপনা বড় বাধা বলে
প্রতিভাত হচ্ছে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষাস্থলগুলোর সামগ্রিক
ব্যবস্থাপনা ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, পরবর্তীতে প্রতিটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য
সংসদের বিশেষ আইন এবং ২০১০ সালের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
১৯৭৩ সালের আইনে এমন কিছু বিধান রয়েছে যা স্বায়ত্তশাসনকে ছাড়িয়ে স্বেচ্ছাচারিতাকে
প্রশ্রয় দেয়। অন্তত প্রথম ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসক বা
প্রশাসকগণ যে প্রক্রিয়ায় বাছাই ও নিয়োজিত হোন বা যে প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োজিত হোন
কিংবা বিভাগীয় প্রধান ও ডিন নিয়োজিত হোন, সেগুলো সবাইকে কম-বেশি কর্মবিমুখ এবং দায়িত্ব বর্জনে উৎসাহিত করে থাকে
বলে অনেকের বিশ্বাস এবং সে কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানসম্পন্ন শিক্ষা। যে
জ্ঞান, প্রজ্ঞা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা নিয়ে সেসব বাস্তবায়ন প্রয়োজন তা বেমালুম সবাই ভুলে
আছেন বলে মনে হচ্ছে। পদ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে পদোন্নতি সারা শিক্ষকতা জীবনে
একবারই করা উচিত। শিক্ষকদের মূল্যায়নে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত বা ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈকালীক কোর্সে প্রবর্তিত ৩৬০ ডিগ্রী মূল্যায়ন ব্যবস্থা
প্রাতিষ্ঠানিকীরণ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সীমাবদ্ধতা
সত্ত্বেও মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সময়
গণনাকে বা প্রকাশনাকে অবহেলা করার কারণ নেই। তবে কোনভাবেই স্বসম্পাদিত জার্নাল বা
বন্ধুবান্ধব, শুভাকাক্সক্ষীদের সম্পাদিত জার্নালের প্রকাশনাকে গুরুত্ব দেয়া সমীচীন
নয়। আন্তর্জাতিকমানের বহিঃসুপারভাইজার কর্তৃক মূল্যায়িত গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে
হবে। এক প্রকাশনায় তিনের বেশি প্রবন্ধকার বা গ্রন্থকারের অবদান বিবেচনায় নিয়ে
পদোন্নতি দেয়া উচিত নয়। পাকিস্তানভিত্তিক জার্নালের প্রকাশনাকে বিবেচনার বাইরে
রাখতে হবে। নিয়োগের সময়ই শিক্ষকদের কার্যাবলীর বিশদ বর্ণনা থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে
বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতিতে কি কি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা জানিয়ে দিতে হবে।
শিক্ষকদের সাপ্তাহিক ক্লাসের সংখ্যা ও সময় বেঁধে দিতে হবে। তাদের ক্লাসে
অনির্ধারিত উপস্থিতি নিরোধ করতে হবে। তারা যেন সময়মতো ফলাফল ঘোষণা করে
শিক্ষার্থীদের স্বতঃপ্রণোদিত ও ক্রম অগ্রগতির ব্যবস্থা রাখে তার ব্যবস্থা রাখতে
হবে।

 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None