জঙ্গি দমনে চাই সবার উদ্যোগ

বাংলাদেশের জঙ্গিদের
আন্তর্জাতিক কানেকশনের কথা বারবার উঠে আসছে। ২০১৬ জুন পর্যন্ত যে সমস্ত বিক্ষিপ্ত সন্ত্রাসী
হামলা হয়েছে এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের কানেকশনের অভিযোগটি  আমলে নিলেও এর ভয়াবহতার বিষয়টি এত গভীরে প্রোথিত তা ধারণা করা যায়নি। কিন্তু আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিদের হামলা পরবর্তীতে কল্যাণপুরে
জঙ্গি আস্তানায় ৯ জঙ্গির নিহত হওয়ার ঘটনার বিষয়টিকে অনেক বেশি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে
নেওয়ার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। আর্টিজান হামলার পর ধারনা করা হয় এগুলো দেশীয় সন্ত্রাসীদের কাজ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে
আনার জন্যও এ হামলা হতে পারে বলে  আশঙ্কা প্রকাশ করা
হয়। আর্টিজানে আত্মঘাতী
জঙ্গিদের জঘন্য হত্যাযজ্ঞ এবং অতিদ্রুত আইএসের হামলা স্বীকারের ঘটনাকে হালকাভাবে নেওয়ার
কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। বিষয়টি আরেকটু গভীরতার সঙ্গে উপলব্ধি করে
নিরাপত্তার সকল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে সমন্ন্যয় করে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে
হবে। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা
এটুকু প্রত্যাশা করতে পারি। জঙ্গিবাদ এখন আর দেশীয় বা অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নয়। আন্তর্জাতিক
সমস্যা হিসেবে ইতোমধ্যেই চিহ্নিত। নিরাপত্তা ও মানবাধিকারে আমাদের চেয়ে অগ্রসর বলে
পরিচিত ইউরোপে বিশেষ করে ফ্রান্স তুরস্ক ও জার্মানিতে যে হামলাগুলো হয়েছে এগুলোকে তারা
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের অংশ বলে সরাসরি আখ্যা দিয়েছে। আমেরিকাও সন্ত্রাসবিরোধী সকল
বক্তৃতায় সন্ত্রাসকে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে অভিহিত করেছে। বিশ্বের নেতৃবৃন্দ এ জঘন্য
কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। সন্ত্রাসের শিকড় উপড়াতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের
মোকাবিলা করতে হয় তাতেও আমরা প্রস্তুত। বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবিরোধী বাংলাদেশের
অবস্থান তাতে আরো শক্তিশালী হবে। আর্টিজানের জঘন্য হামলার তদন্তে যদি আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার
তথ্য পাওয়া যায় তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। এদেশের সম্মানিত বিদেশি উন্নয়ন
সহযোগীদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে জঙ্গিরা আমাদের চোখে মুখে যে চুনকালি মেখেছে এ
থেকে বেরিয়ে আসার অন্যতম মাধ্যম হবে বিশ্বাসযোগ্য সঠিক তদন্ত এবং কোনো লিংক পেলে এর
শিকড় উৎপাটনের ব্যবস্থা করা। আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জঙ্গি বিরোধী তৎপরতা কিভাবে বৃদ্ধি
করা যায় এ বিষয়ে বিভিন্ন ফোরামে আরো সক্রিয় হওয়ার ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করা। ইতোমধ্যে
বাংলাদেশ সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক কোয়ালিশনে যেভাবে ভূমিকা রেখেছে আর্টিজান হত্যাযজ্ঞ, শোলাকিয়া
হামলা এবং পরবর্তী কল্যাণপুরের জঙ্গিদের অপতৎপরতার বিপরীতে তা যথেষ্ট ছিল বলে মনে হয়। বাংলাদেশ জনসংখ্যার
দিক থেকে চতুর্থ মুসলিম প্রধানদেশ। বর্তমানে ইসলাম ধর্মের মোড়কে যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম
চলছে তার সঙ্গে যদিও সত্যিকার ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই তথাপি মুসলিম সমাজের ভাবমূর্তি
ক্ষুণ্ন হচ্ছে এই কারণে যে,
হামলার পর দেখা যায়, কোনো না কোনোভাবে মুসলিম নাম
জড়িত। ব্যর্থতার ব্যাপকতা এত বেশি হয়েছে যে, অনেক ইংরেজি অভিধানে
টেররিজম শব্দের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়কে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কতিপয় জঙ্গির ভ্রান্ত ও
উগ্র কার্যক্রমে একদিকে ইসলামকে কলুষিত করা হচ্ছে অপরদিক থেকে বাংলাদেশের মধ্যমপন্থার
আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে হলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী
কার্যক্রমে প্রশাসনের আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও নিরাপত্তাকর্মীদের সংশ্লিষ্ট করতে হবে।

 


 

Normal
0

false
false
false

EN-US
X-NONE
BN

/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:"Table Normal";
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-priority:99;
mso-style-qformat:yes;
mso-style-parent:"";
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin-top:0in;
mso-para-margin-right:0in;
mso-para-margin-bottom:10.0pt;
mso-para-margin-left:0in;
line-height:115%;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:11.0pt;
mso-bidi-font-size:14.0pt;
font-family:"Calibri","sans-serif";
mso-ascii-font-family:Calibri;
mso-ascii-theme-font:minor-latin;
mso-hansi-font-family:Calibri;
mso-hansi-theme-font:minor-latin;
mso-bidi-font-family:Vrinda;
mso-bidi-theme-font:minor-bidi;}

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None