সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নব উদ্যোগ

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বিদ্যমান আইনের শতভাগ বাস্তবায়ন। তবে অধিকাংশ সময়েই আইন প্রয়োগের সদিচ্ছা থাকা সত্বেও এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধতা হিসেবে সামনে আসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। কিন্তু বর্তমান সরকার তার সুশাসন  প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পূরণে দৃঢ়

প্রতিজ্ঞ।এরই ধারাবাহিকতায় দেশের 
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষিত জনবল, নতুন হেলিকপ্টার, ফরেনসিক ল্যাব ও উচ্চ প্রযুক্তির গোয়েন্দা সামগ্রী যুক্ত হতে যাচ্ছে। এসব সরঞ্জামের মাধ্যমে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি রোধে র‍্যাব  ও  বিজিবির  মতোই  দেশজুড়ে  অভিযান চালাবে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে সংস্থাটির জনবল

কাঠামোও ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর একটি পূর্ণাঙ্গ গোয়েন্দা সংস্থার অনুরূপ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।দেশজুড়ে চোরাচালান, মানি লন্ডারিং ও জঙ্গি অর্থায়ন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সংস্থাটির কার্যক্রমে গতি আনতেই এ উদ্যোগ।পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে বৈদেশিক বাণিজ্যের মোড়কে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এমনকি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে বিধায় অবৈধ বাণিজ্যের ক্ষেত্র সংকুচিত করা
প্রয়োজন। তবে সংস্থাটির বর্তমান সক্ষমতা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথেষ্ট নয় কারণ এর বর্তমান জনবল মাত্র ১৮৪ জন, যার মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আছে সর্বসাকুল্যে ৬৪ জন। কিন্তু দেশের বিস্তৃত সীমান্ত ও বন্দর এলাকার তুলনায় এ জনবল নিতান্তই অপ্রতুল। নতুন প্রস্তাবে ৩ হাজার ১৬৮ জনের পূর্ণাঙ্গ জনবলসহ দুর্গম সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানোর জন্য দুটি হেলিকপ্টার, ৫টি নৌযান ও অন্যান্য কৌশলগত গোয়েন্দা সামগ্রীর চাহিদা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অর্থ আইন ২০১৬ তে শুল্ক সংক্রান্ত যে কোন অপরাধ তদন্তে এ সংস্থাটিকে পুলিশের মতো ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।এছাড়া মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) অনুযায়ী চোরাচালানসহ আরও ৫টি অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রেও এ প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) এর ২০১৫ সালের রিপোর্ট মোতাবেক ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে এবং গত অন্যদিকে বৈদেশিক বাণিজ্যের মোড়কে প্রতি বছর গড়ে দেশ থেকে অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। তিন দশকে বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে কম পক্ষে ৫০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। কিন্তু
যথোপযুক্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের অভাবে সংস্থাটি অভিযান ও  তদন্তের  ক্ষেত্রে নানা  সীমাবদ্ধতার
সম্মুখীন হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত জনবল
কাঠামো বাস্তবায়ন ও চাহিদাকৃত সরঞ্জামাদি

দেয়া হলে অর্থ
পাচার রোধে সংস্থাটি দৃশ্যমান সফলতা দেখাতে সক্ষম হবে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি
বিমানবন্দরে স্বর্ণ, মাদক ও বৈদেশিক
মুদ্রাসহ ক্ষতিকর পণ্যের অবাধ চোরাচালান প্রতিরোধে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে
সক্ষম হয়েছে।প্রস্তাবিত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সংস্থাটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি
মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হবে।

 


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None