ক্যান্সারের চিকিৎসা এখনও অপ্রতুল

মরণব্যাধি
ক্যান্সার। দেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা এখনও অপ্রতুল। চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি
পেলেও অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও মেডিক্যাল উপকরণ এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে
ক্যান্সারের চিকিৎসা। বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।
প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। আর বছরে মারা যায় প্রায় দেড় লাখ রোগী। সরকারী-
বেসরকারী পর্যায়ের বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে বছরে ৫০ হাজার
রোগীকে চিকিৎসা সেবার আওতায় নিয়ে আসা গেলেও আড়ালে থেকে যায় আরও প্রায় আড়াই লাখ
রোগী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, জনসংখ্যা অনুপাতে বর্তমানে দেশে সব ধরনের সুবিধাসংবলিত ১৬০টি ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র
থাকা অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশে এখন এমন কেন্দ্রের সংখ্যা
আছে মাত্র ১৫টি। আবার এর সবই কার্যকর নয়, বেশির ভাগই চলছে জোড়াতালি দিয়ে। এ ছাড়া সারা দেশে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের
সংখ্যা মাত্র ৮৫ জন। অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিয়ে থেরাপি
ব্যবসার অভিযোগও আছে। হাসপাতালের খরচ ছাড়া ওষুধের দাম সবখানেই এক। এই বিশাল খরচ
কমাতে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সহযোগিতা দরকার। হয়ত সরকারী
হাসপাতালে হাসপাতাল
খরচটা ফ্রিতে পাওয়া যায়, কিন্তু
ওষুধের দাম একই। এক্ষেত্রে কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত হতে হবে। এই চিকিৎসা ব্যয়য়বহুল
হওয়ার কারণে বিশ্বের সব জায়গায় যাদের অর্থ আছে তারা সরকারের সাথে সাহায্য করে। দেশের
জনসংখ্যা বাড়ার হারের সঙ্গে ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বাড়ছে, তা
সামাল দেয়া অনেকটাই কঠিন। এ ক্ষেত্রে আগে সবাইকে সচেতন হতে হবে, যাতে
করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে না হয়। এ জন্য তামাক সেবন থেকে শুরু করে যেসব কারণে
ক্যান্সার হয় সেগুলো পরিহার করা জরুরী। দেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা ও চিকিৎসকের ওপর
আস্থাহীনতার কারণে প্রতিবছর দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বিপুল অঙ্কের টাকা। বাংলাদেশ
থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষ ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য পাশের দেশ ভারতসহ
সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, চীন
এমনকি জাপানেও যাচ্ছেন। একই ক্যান্সার চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে খরচ পড়ে ৫০ লাখ, সিঙ্গাপুরে
১০ লাখ, থাইল্যান্ডে
৭ লাখ, মালয়েশিয়ায়
৬ লাখ এবং ভারতের দক্ষিণে অর্থাৎ মাদ্রাজ, বেঙ্গালুরু, ভ্যালোর
ও চেন্নাইতে খরচ পড়ে মাত্র আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। সবখানেই চিকিৎসার মান একই। তবে
রোগীর ধরন এবং রোগের ধাপ (স্টেজ) অনুযায়ী খরচের তারতম্য হয়। ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ
আরও ১৯টি দেশে রোগীরা চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বেশি যাচ্ছেন ভারত, থাইল্যান্ড
ও সিঙ্গাপুর। সরকারী পর্যায়ে একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, একটি
ইনস্টিটিউটসহ মাত্র ৯টি মেডিক্যাল কলেজে বর্তমানে অনকোলজি বিভাগ চালু রয়েছে।
সরকারী হাসপাতালগুলো দেশের মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত রোগীদের সেবা দেয়ার গুরু
দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সরকারী সেবার পাশাপাশি কিছু প্রাইভেট হাসপাতালও
ক্যান্সার সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণের
নাগালের বাহিরে। চিকিৎসার পেছনে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন অনেকেই। তাই
ক্যান্সার চিকিৎসায় সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসে তাহলে
চিকিৎসা ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None