সৌরবিদ্যুৎ–চালিত নৌকা

 

চুয়াডাঙ্গার
মাথাভাঙ্গা নদীতে গতকাল রোববার ভাসানো হয়েছে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ-চালিত ইঞ্জিন
নৌকা। বিদ্যুৎ বিভাগের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) ও
ইউএনডিপির শীর্ষ কর্মকর্তা, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সোলার-ই-টেকনোলজির প্রকৌশলী ও
গণমাধ্যমকর্মীরা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া নৌকাটিতে চড়ে বেলা ১১টা থেকে ১টা
পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা মাথাভাঙ্গা নদীতে ভ্রমণ করেছেন। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই উদ্ভাবন এক অনন্য মাইলফলক।
উল্লেখ্য, ইউএনডিপির অর্থায়ন ও স্রেডার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট
প্রকল্প) সৌরবিদ্যুৎ-চালিত মোট পাঁচটি নৌকা (সোলার বোটিং) তৈরি করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী
দুটি নৌকা সনাতন পদ্ধতি (ডিজেল ইঞ্জিনচালিত) ও সৌরবিদ্যুতের মিশ্রণে তৈরি করা
হয়েছে। বাকি তিনটি সম্পূর্ণরূপে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালানোর উপযোগী করে তৈরি করা হবে।
যে নৌকাটি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হলো, সেটিতে দুটি সুবিধাই রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় সোলার-ই-টেকনোলজির নিজস্ব কারখানায় এগুলো তৈরি করা হচ্ছে। ২০২০
সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়ন
লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০-এর ৭ নম্বর লক্ষ্যটি বাস্তবায়নের জন্যই নবায়নযোগ্য জ্বালানি
উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এ জন্যই
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) গঠন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে
অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে
চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশের অন্যতম বাংলাদেশ। এই দেশ নদীমাতৃক হওয়ায় ডিজেল
ইঞ্জিনচালিত নৌকার কারণে পরিবেশ ও নদীর পানিদূষণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যে কারণে নদীগুলোর জীব-বৈচিত্র এখন বিলুপ্তির পথে। সৌরবিদ্যুৎ-চালিত নৌকায় পরিবেশ ও নদীর পানিদূষণের কোনো আশঙ্কা না থাকায় তা
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি নদীগুলোর জীব-বৈচিত্র রক্ষাতেও
উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None