আধুনিক হোটেল-রেস্তরা শহর এখন রাজধানী

রাজধানীতে
চোখের পলকে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ফাস্টফুড আর রেস্তরাঁ। নতুন খাবারের সঙ্গে পরিচিত হতে
তাই তো এসব রেস্তরাঁয় ঝুঁকছে ভোজনপ্রিয় মানুষের রুচির সঙ্গে
স্বাদ, রং আর গন্ধ নিত্য পরিবর্তনশীল। প্রত্যেকেই চায় একটু ভিন্ন স্বাদ, একটু ভিন্ন ঘ্রাণ। ভোক্তা চান স্বাস্থ্যকর, মুখরোচক খাবার
আর প্রতিষ্ঠান চায় সুনাম।
রাজধানীজুড়ে বাড়ছে কর্মজীবী মানুষের
পদচারণা। সেই সঙ্গে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি
ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি; এই তিন কারণেই মূলত মানুষের জীবনযাত্রার
মান বাড়ছে। সঙ্গে বদলে যাচ্ছে খাবারের অভ্যাস। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তাই এখন
অনেকে বাড়ির খাবারের বাইরে রুচি বদলাতে ছোটেন হোটেল-রেস্তরাঁয়।
আর ভোক্তার রুচি ও চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে রাজধানীর প্রতিটি রেস্তরাঁ যেন মেতে উঠেছে।
রাজধানীতে প্রায় দশ হাজার হোটেল-রেস্তরাঁ রয়েছে। হোটেল ও রেস্তরা ব্যবসা এখন শুধু উদর পূর্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভোক্তার
বিনোদনের স্থান হিসেবেও বিবেচ্য। এ কারণে লাভজনক এ ব্যবসায় জাতীয় দলের খেলোয়াড় থেকে
শুরু করে অভিনয়শিল্পীরাও এখন বিনিয়োগ করতে দ্বিধা করছেন না। বর্তমানে তরুণ উদ্যোক্তার
মধ্যে রেস্তরাঁ ব্যবসার ঝোঁক বেশি থাকায় তারা এগিয়ে আসছেন এই ব্যবসায়। স্বল্প কিংবা
মাঝারি মূলধনে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক। রাজধানীর হোটেল-এর সঙ্গে জড়িত প্রায় তিন লাখ মালিক-শ্রমিক। রেস্তরাঁগুলোতে
শ্রমিকদের মজুরি ও খাবার তৈরি বাবদ দিনে ব্যয় হয় প্রায় ছয় কোটি টাকা। দেড় কোটি জনসংখ্যার
রাজধানীতে প্রায় এক কোটি মানুষই কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে সময় কাটান। আর যেখানেই যান
না কেন আশপাশে নিশ্চয়ই চোখে পড়বে কোন না কোন হোটেল-রেস্তরাঁ।
তাহলে কেনইবা কেউ বাড়তি সময় নষ্ট করে ঘরের খাবার খাবেন। তাই তো ঢাকার ব্যস্ত নগরবাসী
এখন পেটপূজা সারতে পারেন সহজেই। পেটপূজার পাশাপাশি রাজধানীবাসীর কাছে এখন বেড়ানো ও
বিনোদনের স্থান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নজরকাড়া সব আধুনিক হোটেল-রেস্তরা। রাজধানীবাসী যেহেতু খাবারের জন্য হোটেল- রেস্তরার
দ্বারস্থ হচ্ছেন; তাই তো ব্যবসায়ীরাও যেখানে সেখানে খুলে বসছেন
খাবারের দোকান। অনেকে খোলা আকাশের নিচে সবুজ পরিবেষ্টিতভাবে আড্ডা
দিতে দিতে খেতে পছন্দ করেন। সেভাবেই বিস্তীর্ণ জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে নগরীর অসংখ্য রেস্তরাঁ।
নিজেদের রসুইশালায় ভিন্ন স্বাদের খাবারের আয়োজন নিয়ে এ যেন এক প্রতিযোগিতা। কথায় আছে,
‘আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী’। আর এসব রেস্তরাঁর
জাঁকজমক, সাজসজ্জাই বলে দেয় কে কার আগে ভোক্তা আকৃষ্ট করতে পারে।
বিশেষ দিবস উদযাপন ছাড়াও পারিবারিক অনুষ্ঠান পালনসহ নানা উপলক্ষে এখন পরিবার নিয়ে মানুষ
হোটেল-রেস্তরাঁয় ভিন্ন স্বাদের খাবার খেতে ছোটেন। শুধু উচ্চবিত্ত
ও পেশাজীবী নয়, সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের কথা মাথায় রেখে নগরীতে
গড়ে ওঠা নতুন রেস্তরাঁগুলোয় নানা রকম ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখছে। বর্তমানে রেস্তরাঁর সংখ্যা
যত বাড়ছে সঙ্গে খাবারের মান ভাল হচ্ছে। একদিকে মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে বলেই বাইরের
খাবারের প্রতি ঝুঁকছে, অন্যদিকে কিছুসংখ্যক উদ্যোক্তা তাদের জীবনমান উন্নত করার জন্যই
রেস্তরাঁ ব্যবসার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ব্যস্ত নগরবাসী উপকৃত হচ্ছেন
তেমনি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন।


 

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None