আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি
জাতির সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে শিশুরা। আজ যারা শিশু তাদেরকে যদি আমরা
সচেতন, সুস্থ-সুন্দর পরিবেশে বিকাশ লাভের সুযোগ করে দেই, তাহলে ভবিষ্যতে তারা হবে
এদেশের এক একজন আদর্শ, কর্মক্ষম, সুযোগ্য নাগরিক। এমন এক সময় আসবে যখন তারা দেশের
প্রতিটি সেক্টরে অসাধারন দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এ দেশকে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে
যাবে। অথচ যুগের নাম দিয়ে ধ্বংসের জীবাণু খুব সহজেই চারদিকে বিস্তার করছে।
রং-বেরঙের গল্প ছড়ার বইও এখন হার মানছে ভিডিও গেমসের কাছে। কারো জন্মদিনে তাকে যদি
বই উপহার দেওয়া হয় তখন সে বইটা হাতে নিয়েই মুখ কালো করে ফেলছে। সঙ্গে সঙ্গেই বলে
উঠছে “ওমা এটাতো পড়ার বই! এটা দিয়ে আমি কি করব?”। অর্থাৎ তার মনে
বইয়ের প্রতি ভালোবাসাই গড়ে উঠেনি। ঠিক এই চিত্র তার একার নয়, প্রায় শিশুর কাছেই
কার্টুন এবং ভিডিও গেমসের কারণে বই এখন অবজ্ঞার বিষয়। এর জন্য দায়ী আমাদের
অভিবাবকরা। তাদের শিশুর প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের অভাব, বইয়ের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে
তোলার ব্যর্থতা, শিশুকে সঠিক পরিমাণে সময় না দেওয়া, শিশুর সামনে মা-বাবার ঝগড়া ইত্যাদি বিষয়
শিশুদের বিকাশে প্রভাব ফেলছে এবং শিশুকে নিয়ে যাচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যতের দিকে।
আর এরই ফলে আরো একটি সমস্যা খুব নিখুঁত ভাবে গেড়ে বসেছে তা হলো ‘তরুণদের জঙ্গিবাদ’। এই পরিণামের জন্যও
সমান ভাবে দায়ী উপরিউক্ত কারণসমূহ। গুলশান হামলার আগে ধারণা ছিল জঙ্গি মানেই বুঝি
দাড়িওয়ালা পানের পিক ফেলানো কিছু বিদঘুটে চেহারা। কিন্তু হামলার পর যখন জঙ্গিদের
পরিচয় ও ছবি প্রকাশ হলো তখন ধারণা পুরোপুরি পাল্টে গেল। দেখা গেল জঙ্গিরা প্রায়
সবাই সম্ভ্রান্ত ও উচ্চবিত্ত ফ্যামিলির স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সন্তান এবং
সবেমাত্র কৈশোর অতিক্রম করছে। তারা জঙ্গি হওয়ার পেছনে যেমন উপরিউক্ত কারণ দায়ী
সঙ্গে আরো একটি বিষয় তা হলো ‘হতাশা’। মানুষ যখন অতিমাত্রায় হতাশ হয়ে পড়ে তখন
তার মাঝে চরম ধর্মভীরুতা দেখা দেয়। আমার মনে হয় না তারা ধর্ম সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা
পেয়েছিল। তা নাহলে তাদের জীবনটাই ভুল হয়ে যেত না। তরুণ সমাজকে যে পরিমাণে জঙ্গিবাদ
গ্রাস করছে তার কিছু চিত্র ফুটে ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কমেন্ট বক্সে।
এখানেই বোঝা যায় কি পরিমাণ শিশু-কিশোর জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট। মানুষ মাত্রই এখন
চাহিদাশীল। চাহিদাতে বিন্দু পরিমাণ কিছু ক্ষুণ্ন হলেই হতাশা মানুষকে গ্রাস করে। আর
এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শিশু-কিশোরদের মাঝে। এই চাহিদার যুগে জীবনের মানে
বোঝার আগেই তারা হতাশাকে আপন করে নেয়। আর এই সুযোগটাই মূল পয়েন্ট হিসেবে নিচ্ছে
কিছু ধর্ম ও মাদক ব্যবসায়ীগণ। উপরোক্ত সকল সমস্যা যদি আমাদের সমাজে
এভাবে বিস্তার লাভ করতে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই আমাদের দেখার
থাকবে না। এর জন্য অভিভাবকদেরই বেশি এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের মনে বইয়ের প্রতি
ভালোবাসা গড়ে তুলতে হবে, শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে সে কার সঙ্গে মেলামেশা করছে
সেদিকে নজর রাখতে হবে। ইদানীং শিশুদের মাঝে ইন্টারনেট আসক্তি বেড়ে গেছে, তাও নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। সমাজের
বিজ্ঞরা এগিয়ে এসে অধিক খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশুদের মুক্ত আকাশে উড়ার সুযোগ করে
দিতে হবে। শিশুর অন্যায় চাহিদাগুলোকেও তাদের যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে রোধ করতে হবে এবং
বাস্তবতার অর্থ শিশুকে বোঝাতে হবে। শিশুকে সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক
শিক্ষা দিতে হবে। তবেই শিশুরা এসব ভয়াবহ সমস্যা থেকে বাঁচতে পারবে। আর নিশ্চিত হবে
শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুন্দর আগামী।


 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)