উস্তাদ খুররম মুরাদ: ইন দ্যা আরলি আওয়ার্স - ৫

তাজকিয়া’র পুর্বশর্তঃ

জান্নাত অর্জনের চুড়ান্ত লক্ষ্যে আপনি যখন এই নতুন পথে যাত্রা করবেন তখন আপনি অসংখ্য জটিলতা ও বিপদের সন্মুখীন হবেন, যা প্রায়ই দুঃসহ মনে হবে। যাত্রার শুরুতেই আপনি যদি ‘তাজকিয়া’র নিম্নবর্ণিত পূর্বশর্তগুলি অর্জন করতে পারেন তাহলে এসব বিপদ আপদ অতিক্রম করা অপেক্ষাকৃত সহজ হবে।

১। তাজকিয়া-আপনার ব্যক্তিগত দায়িত্বঃ

আপনি নিশ্চই মানবেন যে ‘তাজকিয়া’ একটা খুবই ব্যক্তিগত প্রক্রিয়া। তাজকিয়ার উন্নত মান অর্জনের জন্য তাজকিয়া আপনার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে দ্বায়িত্বগ্রহনের দাবী করে। শুধুমাত্র যথাযথ আত্নোপলব্ধি, আন্তরিক প্রচেষ্টা আর পরিশ্রমের মাধ্যমেই ‘তাজকিয়া’ অর্জন সম্ভব।

অন্য কেউ আপনাকে এটা অর্জন করে দিতে পারবেনা। কোন সংগঠন, কোন নেতা বা কোন শিক্ষক তাজকিয়া অর্জনের জন্য আপনার দায়িত্বসমুহ আপনার বদলে পালন করে দিতে পারবেন না। আল্লাহতায়ালা বলেনঃ

             কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা উঠাবে না৷ আর যদি ভারাক্রান্ত ব্যক্তি নিজের বোঝা উঠাবার জন্য ডাকে, তাহলে তার বোঝার সামান্য একটি অংশ উঠাবার জন্য ও কেউ আসবে না, সে তার নিকটতম আত্মীয় স্বজন হলেও৷ (হে নবীঃ) তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পারো যারা না দেখে তাদের রবকে ভয় করে এবং নামায কায়েম করে৷ আর যে ব্যক্তিই পবিত্রতা অবলম্বন করে সে নিজেরই ভালোর জন্য করে এবং ফিরে আসতে হবে সবাইকে আল্লাহরই দিকে৷  (৩৫:১৮)

ব্যাক্তিগত দায়িত্বানুভুতি  হচ্ছে সামগ্রিকভাবে ইসলামের প্রাথমিক বিষয়। প্রকৃতপক্ষে, আমরা প্রত্যেকেই আমাদের কর্তব্যের ব্যাপারে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসিত হব। যদি অন্যকেউ আপনার কর্তব্যগুলো পালন করে দেয় তবে প্রতিফল আপনার নয়, তারই পাওয়া উচিৎ। প্রতিফল পেতে চাইলে আপনি অবশ্যই নিজে সেই কাজগুলো করবেন যা আল্লাহ আপনার কাছে আশা করেন।

         যে ব্যক্তিই প্রচেষ্টা- সংগ্রাম করবে সে নিজের ভালোর জন্যই করবে৷ আল্লাহ অবশ্যই বিশ্ববাসীদের প্রতি মুখাপেক্ষিতাহীন৷ (২৯:৬-৭)

কিছু মানুষ নিজেদেরকে অন্যদের কথামত পরিচালিত হতে দেয়। কোরআনে বর্ণিত আছে শেষ বিচারের দিনে কিছু দুর্বল লোকেরা বলবে যে তারা অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাদের এ অজুহাত গ্রহন করবেন না। তিনি তাদের বলবেন যে পথভ্রষ্ট হওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পুর্ণই তাদের নিজেদের ছিল। (৫০:২৬-২৮)।

আমি তোমাদেরকে আহব্বান করেছিলাম, তোমরা তাতে সাড়া দিয়েছ। সুতরাং এখন আমাকে দোষারোপ না করে নিজেদেরকে দোষারোপ কর। (১৪:২২)।

শেষপর্যন্ত পুরষ্কৃত বা তিরষ্কৃত আপনিই হবেন কারন কাজের দায়িত্ব আপনারই ছিল। (৯৯:৬-৮)

নিজের সব কাজের দায়িত্ব নিজেই নেয়া দুরহ মনে হতে পারে কিন্তু আপনি খুব ভালোভাবে (distinction) তা করতে পারবেন যদি আপনি আল্লাহ আপনাকে যে অশেষ মানবীয় সামর্থ্য দিয়েছেন তা কৃতজ্ঞতার  সাথে সদ্ব্যহার করেন।

           আর যারা ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে তাদের দুষ্কৃতিগুলো আমি তাদের থেকে দূর করে দেবো এবং তাদেরকে তাদের সর্বোত্তম কাজগুলোর প্রতিদান দেবো৷ (৯৫:৪ -৬)

তাজকিয়া শুধুমাত্র কতগুলি ধারণার সমষ্টি নয়, বরং ব্যক্তির জীবন ও আচার ব্যাবহারের সমষ্টি । কুরআন অনুযায়ী সাফল্যের চাবি হচ্ছে বিশুদ্ধ বিশ্বাস। আর প্রকৃত বিশ্বাস অর্জনের জন্য অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহ নিবিড় অধ্যায়নের মাধ্যমে ব্যপক  জ্ঞান অর্জন করতে হবে।  এরপর অর্জিত জ্ঞান অবশ্যই বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। এটা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও ও ক্রমাগত চেষ্টা। প্রকৃতপক্ষে এগুলি ‘আমালে সলিহ্‌’ বা সৎ কাজে পরিনত হবে।  একাজে সহয়তার জন্য অবশ্যই এমন লোকদের সঙ্গ লাভের চেষ্টা করতে হবে যারা  সবসময় আল্লাহ্‌কে খুশি করতে চায়। তারা আপনাকে সৎ পথে থাকার জন্য উৎসাহ দেবে এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হলে সংশোধন করবে।  সঙ্গ শুধুমাত্র মানুষ নয় বরং বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনোজাগতিক ব্যপারগুলো, যেমন যে ধারণা বা চিন্তা আপনি পোষন করেন,  যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা আপনি সযত্নে লালন করেন, যে অনুভুতি ও সংবেদনশীলতা আপনার মধ্যে বিকশিত হয় অথবা যে সব বই আপনি পড়েন- এ সবই সঙ্গের অন্তর্ভুক্ত, কারন এগুলোই আপনার একাকীত্ব বা নির্জনতার সাথী।

(চলবে)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

মূল্যবান সাহিত্যকর্ম। চলুক।

-

সূর আসে না তবু বাজে চিরন্তন এ বাঁশী!

ধন্যবাদ, অনিয়মিত হলেও চালানোর আশা রাখি Smiling

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)