মৃত্যু - এক উপেক্ষিত বাস্তবতা

বাসায় টিভি না থাকার কারণে, সম্প্রতি নেপালে বিমান দূর্ঘটনার খবরগুলো লাইভ দেখার সৌভাগ্য হয়নি, শুধু পত্রিকায় যেটুকু এসেছে ততটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। গতকাল হঠাৎ ইউটিউবে বিভিন্ন নিউজ দেখতে দেখতে বিমান দূর্ঘটনার একটি লিঙ্ক থেকে এ সম্পর্কিত আপলোড করা অনেকগুলো নিউজ দেখলাম। মূহুর্তের মধ্যে মনটা যেন ভয়াবহ বিষন্নতায় ছেয়ে গেল।

দুর্ঘটনায় নিহত আঁখিমনির বিয়ে হয়েছিল এ দূর্ঘটনার মাত্র সাতদিন আগে। দু’চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে তার স্বামীর হাত ধরে গিয়েছিল মধুচন্দ্রিমা যাপন করতে। কিন্তু, সে জানতো না, মধুচন্দ্রিমা নয়, সে আসলে পরকালের দিকে যাত্রা করেছিল ।

বাবা-মায়ের অত্যন্ত আদরের একমাত্র সন্তান, বিমানের কো-পাইলট পৃথুলা রশীদ - বাবাকে কথা দিয়েছিল বিকেল পাঁচটার মধ্যে ফিরে আসবে। কিন্তু, প্রিয় বাবা-মা’র কোলে সে ফিরেছে সাদা কাপড়ে মোড়া কফিনে।

পাইলট আবিদ হোসেনের মৃত্যুর দশদিনের মাথায় তার স্ত্রী আফসানাও চলে গেছেন মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে। মাত্র এগারো দিনের ব্যবধানে দুনিয়াতে ভয়াবহ একা হয়ে গেছে তাদের সদ্য কৈশোর পেরোনো সন্তান মাহি।

দূর্ঘটনায় নিহত একাত্তর জনের পরিবারের রয়েছে এরকম করুণ থেকে করুণতর কাহিনী। নেপালের নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে এদেশের মেডিকেল কলেজ থেকে সদ্য পাশ করা টগবগে কিছু তরুণ-তরুণী।

হঠাৎ মৃত্যু এই মানুষগুলোর দু’চোখের স্বপ্নগুলোকে যেন এক মূহুর্তের মধ্যে চুরমার করে দিয়েছে, থেমে গেছে জীবনের সব ব্যস্ততা, থেমে গেছে জীবনের সব কোলাহল ……

বস্তুত: মৃত্যু এ পৃথিবীতে নতুন কোন বাস্তবতা নয়। বরং, এ পৃথিবীতে যত ঘটনা ঘটে তার ভেতরে মৃত্যুই সবচাইতে নিশ্চিত । কারণ, আল্লাহ বলেন, “প্রত্যেক জীবিত প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।”

কিন্তু, আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, আল্লাহ’র এ অমোঘ বাণীর পরেও, মুসলিম অধ্যুষিত এ সমাজে, মৃত্যু আমাদের কাছে ভুলে যাওয়া এক বাস্তবতা….. মৃত্যু আমাদের কাছে ভীতিকর এক বাস্তবতা।

আমরা সবসময় মৃত্যুকে ভুলে থাকতে চাই, কারণ, এ মৃত্যুর জন্য আমাদের আসলে কোন প্রস্তুতি নেই।

মৃত্যুকে ভুলে গিয়ে আমরা ক্ষণস্থায়ী এ জীবনকে সাজাতে ব্যস্ত থাকি, কারণ, আখিরাতের জীবন সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট কোন ধারণা নেই।

আমরা মৃত্যুকে ভয় করি, কারণ, এ মৃত্যু সম্পর্কে আমাদের সত্যিকার কোন জ্ঞান নেই।

যদি মৃত্যু সম্পর্কে আমাদের সত্যিকার জ্ঞান থাকতো, তাহলে আমরা বুঝতাম যে, মৃত্যুর মাধ্যমে আসলে জীবনের সমাপ্তি হয় না। বরং, মৃত্যু আমাদের ক্ষণস্থায়ী এ জীবন থেকে অনন্তকালের জীবনে পৌঁছে দেয় মাত্র।

মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে যদি আমাদের সত্যিকার জ্ঞান থাকতো, তাহলে আমরা বুঝতাম যে, জীবনটা আসলে ক্ষণস্থায়ী। তাই যত সুন্দর করেই এ জীবন সাজাই না কেন, আঁখিমনি, আবিদ হোসেন, আফসানা কিংবা পৃথুলার মতো জীবনের ছুটে চলা এই ট্রেন থেকে মৃত্যু নামক স্টেশনে হঠাৎ করেই একদিন আমাদের নেমে যেতে হবে।

মৃত্যু সম্পর্কে যদি আমাদের সত্যিকার জ্ঞান থাকতো, তাহলে আমরা জানতাম যে, প্রকৃত ঈমানদারদের জন্য মৃত্যু কোন ভয়াবহ বিষয় নয়, বরং, এটা তার জন্য অনন্ত জান্নাতের সুসংবাদ….. চিরস্থায়ী আর চিরশান্তির দেশে অনন্তকালের সুখকর এক যাত্রা।

তাই আসুন না, আমাদের জীবনের এই সবচাইতে নিশ্চিত ঘটনাটির জন্য শংকিত হৃদয়ে, দুরুদুরু বক্ষে অপেক্ষা না করে, একটি সুন্দর মৃত্যুর জন্য আমরা সময় থাকতে প্রস্তুতি নেই।

তাই আসুন না, মৃত্যু আমাদের আচমকা পাকরাও করার আগেই আমরা মৃত্যুর ফেরেশতাদের কাছে সেই সুসংবাদ শোনার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করি, যখন ঈমানদারদের আত্মাগুলোকে ফেরেশতারা ডেকে বলবে,

“হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টি চিত্তে এবং (তোমার রবের) সন্তোষভাজন হয়ে”

আর, আমাদের মহান রব আমাদের ডেকে বলবেন,

“অতঃপর, তুমি আমার বান্দাদের মধ্যে অর্ন্তভূক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।”

[সুরা ফজরঃ ২৮-৩০]

♡♡ উম্মু মুসাব ♡♡

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (4টি রেটিং)

السلام عليكم 

আমার বাসা যদি টিভিমুক্ত করতে পারতাম। 

লেখা ভাল হয়েছে।

টিভিকে কনভার্ট করার ব্যবস্থা করে দেখতে পারেন। তবে তার আগে পরিবারের সদস্যদের মানসিকাতার কনভার্ট জরুরী।

-

"এই হলো মানুষের জন্য স্পষ্ট বর্ণনা ও হেদায়াত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ।" [আলে-ইমরান: ১৩৮]

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্।
মাশ-আল্লাহ্ লেখনী খুবই ভালো হয়েছে। আপনার চিন্তাধারা মতো সবার চিন্তা হোক। আমিন। জাযাকুমুল্লাহ্

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

আল্লাহ্‌ আমাদের সকলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাগুলোকে কবুল করে নিন। 

جزاك الله خيرا كثيرا 

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (4টি রেটিং)