হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রবের স্মরণ হতে বিস্মৃত করলো?

আমাদের খাবার ঘরের পশ্চিমের বিশাল জানালা দিয়ে অন্দরমহলে উঁকি দেয় বিশাল একফালি আকাশ। এখান থেকে কসমোপলিটন শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্র বসে প্রতিদিন দেখা যায় অপূর্ব সূর্যাস্ত। আর, ফজরের পর যদি কেউ যদি একটু কষ্ট করে জেগে থাকে, তাহলে দেখতে পাবে অসম্ভব সুন্দর এক সকাল।

পূব আকাশের সোনারঙা সূর্য চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় সোনালী আলো। শরতের পেঁজা তুলোর মতো ধবধবে সাদা মেঘের উপর সেই আলো ঠিকরে পড়ে মেঘের রঙ হয়ে যায় স্বর্ণাভ।

কি যে অপূর্ব সেই মেঘের রঙ তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না! সূর্য যখন উঠি উঠি করে তখন এই মেঘের রঙ হয় হালকা গোলাপী। আর, যখন আরও একটু উপরে উঠে তখন এই মেঘগুলোই আস্তে আস্তে উজ্জ্বল সোনালী বর্ণ ধারণ করে।

আলো ফুটলেই পশ্চিম দিগন্ত থেকে পূবের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে দল বেঁধে উড়ে যায় কালো কাকের দল। কখনও বা দল বেঁধে উড়ে যায় ধূসর বর্ণের কবুতর। হয়তো আশেপাশেই কোথাও এদের আবাস। কখনও বা উড়ে যায় শালিক, চড়ুই কিংবা নাম না জানা পাখির দল।

প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে এইসব পাখিরা পশ্চিম থেকে পূবের দিকে উড়ে যায়। মনে হয় যেন, অন্ধকারের দেশ পেরিয়ে আলোর দেশে যাত্রা করে। আবার সূর্যাস্তের সাথে সাথে নিজ নিজ আবাসে ফিরে আসে।

প্রতিদিন এইসব পাখিরা শুধু তাদের রবের উপর ভরসা করে অজানা রিজিকের সন্ধান করে। প্রতিদিন এইসব পাখিরা পরম বিশ্বাস নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে রিজিকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

কখনও কি আমরা ভেবে দেখেছি এইসব পাখিদের চাকরী নেই, বাকরী নেই, বিশাল মাপের ব্যবসা নেই, নামীদামী বিশ্ববিদ্যালেয়ের ডিগ্রী নেই, ব্যাংক ভর্তি কালো টাকা নেই, নিজেদের দখলে শত শত বিঘা জমি নেই, লেটেস্ট মডেলের ডিপ ফ্রিজে আগামী ছয়মাসের খাদ্য সঞ্চিত নেই ……

কিন্তু, তবুও তারা কখনও একবেলা অভূক্ত থাকে না …. তবুও তারা কখনও তাদের রবের হুকুম অমান্য করে রিজিকের জন্য মারামারি, হানাহানি কিংবা খুনোখুনিতে লিপ্ত হয় না!

আমাদের মহান রব তাঁর অসীম ক্ষমতাবলে এই পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে অসংখ্য আর অগণিত নাম না জানা পাখিদের রিজিকের ব্যবস্থা করেন। বস্তুত: সৃষ্টিজগতের মধ্যে একমাত্র মানুষই রিজিকের জন্য তার রবের উপর ভরসা করতে পারে না।

ভরসা করতে পারে না বলেই, এ পৃথিবীর তাবৎ সম্পদ দখলের নিমিত্তে স্যুটেড ব্যুটেড কিন্তু, পশুপাখির থেকেও নিকৃষ্ট একদল পুঁজিপতির অনন্ত লোভের বলি হয় এ পৃথিবীর লক্ষ-কোটি নিরীহ মানুষ….

ভরসা করতে পারে না বলেই যুদ্ধাস্ত্র বিক্রির নিমিত্তে, সন্ত্রাস দমনের উছিলায় এ পৃথিবীতে অনন্ত যুদ্ধের দামামা বাজে, নিরপরাধ মানুষের তাজা রক্তে সিক্ত হয় এ ধরণী….

ভরসা করতে পারে না বলেই, এ পৃথিবীর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদেরা তাদের চৌদ্দপুরুষের রিজিক নিশ্চিত করতে জনগণের সম্পদ ঢালাও ভাবে লুটপাট করে, চিরকাল ক্ষমতায় থাকার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আল্লাহ’র পরিবর্তে শয়তানের দাসত্ব করে।

কারণ, তারা ভাবে এই সম্পদ চিরকাল তাদের সাথেই থাকবে, যেভাবে ভেবেছিল ফেরাউন।

তারা ভাবে এই সম্পদ তাদের অনন্তকাল এই পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখবে, যেভাবে ভেবেছিল নমরুদ।

তারা ভাবে, এই সম্পদ তারা অনন্তকাল ধরে উপভোগ করবে, যেভাবে ভেবেছিল কারুন।

কিন্তু, হায়! তারা কি জানে না, খুব শীঘ্রই কবরের মাটি দিয়ে তাদের মুখ ভরে যাবে?

তারা কি জানে না,  খুব শীঘ্রই তাদেরকে শুধু একটুকরো সাদা কাফন পরিয়ে হিমশীতল আর অন্ধকার মাটির ঘরে শুইয়ে দেয়া হবে?

যদি সত্যিই তারা জানতো, তাহলে তো তারা ঐ পাখিদের মতোই তাদের রবের উপর ভরসা করতো!

যদি সত্যিই তারা বুঝতো, তাহলে তো তারা ঐ পাখিদের মতোই নিজেদের তাদের রবের হুকুমের মধ্যে বেঁধে রাখতো!

সৃষ্টির সেরা জীবের এই নির্বোধ কর্মকান্ড দেখে উড়ে চলা পাখিরা হয়তো দূর থেকে আমাদের বলে,

“হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রবের স্মরণ হতে বিস্মৃত করলো, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, বিন্যস্ত করেছেন, তারপর তোমাকে যেমন ইচ্ছা আকৃতি দিয়েছেন।” [সুরা ইনফিতর: ৬-৮]

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

বিসর্গ ব্লগে আপনাকে স্বাগতম।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)