তুমি নারী বলেই এই লেখা তোমার জন্য উৎসর্গিত !!!

লেখাটা শুরুর করার পূর্বেই বলে নেই এই চিন্তা ভাবনার প্রেরণা পেয়েছি আমার সবচেয়ে প্রিয় আপুর কাছ থেকে। নারী কেন্দ্রিক লেখাটা খুব সাহস করেই লিখে ফেললাম যেহেতু আমি নিজেও একজন নারী। তাই একজন নারী হিসাবে নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই ও অন্য নারীদের প্রতি প্রত্যাশা করি সেটাই অকপটে বলে ফেললাম। কেউ এটা পড়ে যদি মাইন্ড করেন তবে সেটার দায় দায়িত্ব তার উপর পড়বে, লেখকের উপর নয়।

নিজ পরিবার, সমাজ ও দেশের সীমানা পেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির এই বিশ্বে একজন নারী যখন উন্নত বিশ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করে তখন এক জটিল সমস্যা অনুভব করে সে। একদিকে নারী স্বাধীনতা, নারী অধিকার পাবার চরম আকাঙ্ক্ষা অন্যদিকে নিজ অস্তিত্ব সংকট। সবকিছুর সংমিশ্রন একজন নারীর চিন্তা জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

যাইহোক হাজার নেগেটিভিটি, বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এক নারী যখন নিজেকে নিয়ে প্রচলিত ট্রেডিশান বা ঐতিহ্যের বাইরে নিজেকে নিয়ে ভিন্নরকম চিন্তা শুরু করে এবং বাস্তব জগতে তার প্রতিফলন ঘটাতে চায় তখনই তাকে সম্মুখিন হতে হয় বিভিন্নমুখী পারিবারিক ও সামাজিক বিপত্তির। অবশ্য আজকাল পারিবারিক ও সামাজিক বিপত্তির মাত্রা কিছুটা হলেও কমে গেছে। এজন্যই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নারীকে কেবল আমরা ঘরের ঘরনী হিসাবে দেখিনা। বরং চিকিৎসক, আর্কিটেক্ট, টিচার, সংবাদ পাঠিকা, জার্নালিস্ট, মিডিয়া ওয়ার্কার ইত্যাদি বিভিন্ন প্রফেশানে একজন নারী নিজেকে রিপ্রেজেন্ট করছে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। এসব যত দেখি তত ভাল লাগে, নিজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগে, সমাজে নারী হিসাবে কিছু করার তাগিদ অনুভব করি। আসলে নারী-পুরুষের সমান পার্টিসিপেশান নিশ্চিত করে সমাজের চাকা গতিশীল রাখতে। কিন্তু, কিন্তু এত কিছুর পরেও কোথায় যেন একটা সমস্যা দেখতে পাই।

সেদিন আমার এক স্টুডেন্টের সাথে কথা বলছিলাম, সে খুব আফসোস করে বাংলাদেশের ছেলেদের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করে বলল, নিউজিল্যান্ড থেকে একজন চিকিৎসক এদেশের গরীব মানুষের সেবা দেবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কতটা মানবদরদী না হলে সে তার নিজের দেশের উন্নত ব্যবস্থা বাদ দিয়ে, নিজের আরাম-আয়েশ ভুলে গিয়ে অন্য দেশের গরীব মানুষের জন্য নিজেকে এভাবে উৎসর্গ করতে পারে? অথচ বাংলাদেশের চিকিৎসকদের পক্ষে কি এটা সম্ভব? এরা তো নিজের দেশের গরীব মানুষকে কিভাবে তিলে তিলে শেষ করতে পারে এই প্রতিযোগিতায় নেমেছে! কথা বলার সময়ই আমার মধ্যে ভিন্ন একধরনের চিন্তা শুরু হল......একটা পরিবারের পুরা ভরনপোষণের দায়িত্ব থাকে সেই পরিবারের পুরুষের উপর। গৃহকর্ত্রী বাইরে জব করলেও পরিবারের ভরনপোষণের জন্য বিন্দুমাত্র কোন মাথা-ব্যাথা তার উপর বর্তায় না, যতটা বর্তায় একজন পুরুষের উপর। চিন্তা ভাবনাটাকে আরো একটু এক্সটেন্ড করে দেখলাম যে, পরিবারের সেই পুরুষ যদি তার নিজের জীবন নিউজিল্যান্ডের সেই চিকিৎসকের মত মানবতার উদ্দেশ্যে স্যক্রিফাইস করে তাহলে তো মহা সর্বনাশ!! তাই পুরুষরা কেন মানবতাবাদী হয়ে সেই নিউজিল্যান্ডের চিকিৎসকের মত হয়না একথাটা বাইর থেকে বলা যতটা সহজ বাস্তব জীবনে এটার প্র্যাক্টিক্যাল প্রয়োগ ততটাই কঠিন।

ভাবতে ভাল লাগে যে নারীরা আজ শিক্ষার অবাধ সুযোগ পেয়েছে।পরিবারেও নারীকেশিক্ষার ব্যাপারে প্রচুর সহযোগিতা করা হয়। ফলে সর্বত্র পুরুষের পাশাপাশি নারীর দৃড় পদচারনা আমাকে স্বপ্ন দেখায় একটি সুখি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু যে শিক্ষার সুযোগ পাবার জন্য নারীরা এত সংগ্রাম করল সেই শিক্ষার আলো পেয়ে কতজন নারী তাদের চিন্তা ভাবনার জগতকে আলোকিত করতে পেরেছেন? খুব দূরে যাবনা, আমার ফ্রেন্ড সার্কেলেই যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, যারা ভবিষ্যৎ চিকিৎসক তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তুমুল আলোচনা করেছিলাম। কারও ইচ্ছা প্রচুর টাকা ইনকাম করার, কারও শুধুই গাড়ি,বাড়ি,শপিং, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর, কারও ইচ্ছা সোস্যাল স্ট্যাটাস বাড়ানোর জন্য বড় বড় ডিগ্রি নেবার, কারও ইচ্ছা শখের মেডিক্যাল শেষে একদম ঘরোয়া হয়ে যাবার। কেন জানি অসামঞ্জস্য লাগছিল তাদের এই ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাগুলো। নিজের প্রতি, নিজ পরিবার,সমাজ ও দেশের প্রতি নারী হিসাবে কি কোন দায়বদ্ধতা নেই? আবার সেই নারী তাহলে কিভাবে পুরুষের কাছ থেকে পারিবারিক ও সামাজিক সকল দায়িত্বের পূর্ণ প্রয়োগ প্রত্যাশা করে??

তাই একজন নারী হিসাবে সকল নারীর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালবাসা জানিয়ে কিছু অনুরোধ করতে চাই...

অবিবাহিত নারীর প্রতিঃ
নিজেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য আপ্রানচেষ্টা করতে হবে। উচ্চ শিক্ষায় পারে সংকীর্ণ চিন্তার গন্ডি থেকে মুক্তি দিতে। নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি সচতন হোন। সমাজে আপনার ভূমিকা কি হবে এটা ক্যালকুলেইট করেন। নিছক উচ্চ শিক্ষা নারী মুক্তি আনবেনা বরং শিক্ষার সাথে নিজের চারপাশ, পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। শুধু শপিং, পার্লার, ঘুরাঘুরি করে নয় বরং অবসর সময়ে নিজেকে ক্রিয়েটিভ ও প্রোডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন। একটা ব্যাপার বিয়ের পর সংসার বা দাম্পত্য ঝামেলা, মনোমালিন্য এড়াতে আজকাল এফেয়ারের যে নতুন ট্রেডিশান শুরু হয়েছে এতে করে ঝামেলা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। একে অপরকে চেনার জন্য বিয়ের পূর্বে প্রেম এই থিওরিটা এখন চরম আকারে ধ্বসের সম্মুখিন হচ্ছে। কারণ সিটি কর্পোরেশানের এক জরীপের মতে বর্তমানে ভালবাসাজনিত বিয়ের ডিভোর্সের সংখ্যা আনুপাতিকহারে বেড়েই চলেছে। তাই বিয়ের আগে এফেয়ার জনিত কেইসে সময় না দিয়ে সর্বোপরি জীবনমুখী বাস্তব চিন্তা করুন। বিয়ের পূর্বে নিজের দাবি, অধিকার, স্বাধীনতা ও কাজের ব্যাপারে হবু বরের নিকট পরিষ্কার জানিয়ে রাখুন। পরস্পর মিউচুয়ালের মাধ্যমে একটা লিখিত ডকুমেন্টে আসুন। এতে করে পরে ঝামেলা হলেও সেটা সলিউশান করা খুব বেশি কষ্টের হবেনা আশা করি। আর যেটা অনিশ্চিত সেটা নিয়ে ঘাটাঘাটি না করে নিশ্চিত যেটা আপনি করতে পারবেন সেটা নিয়ে রিসার্চ করেন। আপনি পারবেন ভবিষ্যত একটি পরিবারকে নেতৃত্ব দেবার, নিজের অবস্থানকে সুদৃড় করে সামাজিকভাবে নিজেকে অধিক গ্রহনযোগ্য করে তুলতে।

বিবাহিত নারীর প্রতিঃ
খুব সাধারণ কিন্তু ভুল একটি ধারণা বর্তমান আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে আর সেটা হল একটা মেয়ে পড়াশুনা করবে অথচ বাইরে জব করবেনা তাই কি হয়!! এতে করে মনে করা হয় নারীর সমস্ত শিক্ষায় বৃথা, নারী নিজের প্রতি এব্যাপারে খুব হীনমন্যতায়ও ভুগে। অথচ একজন শিক্ষিত নারী যদি বাইরে জব নাও করে তার সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ জব করতে হয় ঘরের ভিতরে। একজন নারী ঘরে বসে বিশ্ব পরি্চালনায় অংশগহন করে। এই বিশ্ব পরিচালনার কাজ
নিশ্চয় এত সহজ না যতটা একজন নারী ভাবে! আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। আগামী ভবিষ্যতের দায়ভার একজন নারীকে নিতে হয়, কোন পুরুষকে নয়। তাদের পারিবারিক আবহে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশের নিশ্চয়তা দেওয়া, মানসিক ও শারিরীক বিকাশে ভূমিকা রাখা ইত্যাদি এসব কাজের জন্য যদি কোন প্রতিষ্ঠান খোলা হয় আমি নিশ্চিত পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও প্রেস্টিজিয়াস প্রতিষ্ঠান হবে সেটা। একটা শিশুর মনে মায়ের প্রভাব কিভাবে বিস্তার করে সেটা নিয়ে গবেষণা করলে সেই গবেষণার পেপার এতখানি গুরুত্ব পাবে পুরা বিশ্বে যে সবাই একথা
একবাক্যে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবে যে এক মায়ের জন্যই পুরা পৃথিবী টিকে আছে। তাই ঘরে বসে বাইরে জব না করার আক্ষেপ না করে বিশ্ব পরিচালনায় অংশ নেবার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। একথা আমি হলফ করে বলতে পারি কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক ঘরে বসে এই বিশ্বপরিচালনার কাজ পৃথিবীর হাজার শ্রেষ্ঠ কাজের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। একজন পুরুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কেবল একজন নারী। তাই সাধ্যের অতিরিক্ত প্রত্যাশা করে নিজের স্বামীকে খারাপ পথে ইনকাম করতে বাধ্য করবেননা, অন্ধকার জগতে পা বাড়াতে দিবেননা। নিজেদের মধ্যে সামান্য ব্যাপারে দাম্পত্য কলহ না করে সুষ্ঠুভাবে চিন্তা করুন। আপনাদের এই কলহ বাচ্চার মনে যে গভীর খারাপ ইফেক্ট ফেলবে সেটার ক্ষতি পূরণ সহজে হবেনা।

আর যেসব নারী বিবাহিত এবং বাইরে জব করছেন , কিংবা যারা নিছক ঘরনী হতে চাননা আবার বাইরেও জব করেননা তাদের প্রতি অনুরোধ আমি জানি সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনি অবস্থান করছেন। যেহেতু পারিবারিক ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাপারের দায়ভার আপনার উপর নেই তাই আপনি খুব দারুন ভূমিকা রাখতে পারেন সোস্যাল ওয়ার্কে। যেহেতু আপনার দক্ষতা আছে নেতৃত্ব দেবার, সময় আছে নিজেকে অন্যরকমভাবে রিপ্রেজেন্ট করার তাই কেবল শখের জব নয় পাশাপাশি সামাজিক ও মানবতাবাদী কাজে সময় দিন। যে দায়িত্ব পুরুষের পক্ষে নেওয়া কিছুটা কষ্টকর সেই দায়িত্ব আপনি নিয়ে নেন। নারীদের জন্য উপকারি কোন কিছু করার পরিকল্পনা নেন। কিংবা নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সামাজিক ও মানবতাবাদি কাজে নিযুক্ত করুন ও সমাজে নারীর অবস্থান, প্রাপ্য অধিকার, স্বাধীনতার ক্ষেত্র এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে শিক্ষিত নারীর দুর্ভোগ নিয়ে গবেষনার কাজে নিযুক্ত থাকুন। বাইরে জব করা মানেই নিছক টাকা ইনকাম করা কিংবা কেবল চাকরির উদ্দেশ্যে চাকরি নয় বরং সমাজে নিজের উপস্থিতি প্রমান করা এইভাবে যে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে নারীরাও এগিয়ে। এখনই সময় এসেছে নারীর সমান অধিকারের নামে যুক্তিহীন সংগ্রামে পুরুষের সাথে না ঝাপিয়ে নিজেদের ব্যাপারে সচেতন হোন, নিজেদের প্রাপ্য অধিকারের ব্যাপারে সংগ্রামী হোন। পুরুষরা আপনাদের প্রতিযোগী নয়, আবার আপনারাও পুরুষদের প্রতিযোগী নন, তাই নারী-পুরুষ সমান এটা প্রমাণের উদ্দেশ্যে বাইরে জব করা নারীর জন্য বোকামী ছাড়া কিছুইনা। তাই একজন প্রফেশনাল নারীর প্রতি এই অনুরোধ আপনারা এই বোকামী ছেড়ে নিজের ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে সাথে পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেকে খুব স্মার্টভাবে রিপ্রেজেন্ট করুন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (6টি রেটিং)

বিসর্গে নারী লেখিকাদের কাছ থেকে ভাল ভাল লেখা দেখতে পাচ্ছি। স্বাগতম।

পাঁচতারা সাথে রাখলাম।

-

বজ্রকণ্ঠ থেকে বজ্রপাত হয় না, চিৎকার-চেঁচামেচি হয়; অধিকাংশ সময় যা হয় উপেক্ষিত।

পড়ার জন্য এবং উৎসাহ দেবার জন্য ধন্যবাদ।

-

shetu

এটা ঠিক। সেতুর সমাজ বিষয়ক লেখাগুলো বেশ জমিয়ে তুলছে। বোঝা যাচ্ছে এখানকার মানুষজন বেশ সমাজ সচেতন।  

বিয়ের পূর্বে নিজের দাবি, অধিকার, স্বাধীনতা ও কাজের ব্যাপারে হবু বরের নিকট পরিষ্কার জানিয়ে রাখুন। পরস্পর মিউচুয়ালের মাধ্যমে একটা লিখিত ডকুমেন্টে আসুন।----হা হা হা। কি বুদ্ধি! তুমি এরকম করবে নাকি???
আমার পরিচিত একজন আপু আছেন ইংল্যান্ডে, যাকে আমি খুবই শ্রদ্ধা করি। উনি একই সাথে তিন বাচ্চার মা, পিএইচডি করছেন এবং প্রচুর সমাজ সেবা মূলক কাজ করেন। উনি একটা কথা সব সময় বলেন, সেটা হচ্ছে, ছেলেমেয়েরা ভালো মানুষ হবে কি না এই নিয়ে ওনার ভয় কম। কারণ তিনটা: 
১. ওরা ছোট বেলা থেকেই দেখছে মা সময় নষ্ট করে না, মা স্বার্থপরের মত শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে না। ছেলেমেয়েরা এগুলো খুব সহজে কপি করা শিখে। ২. উনি মানুষের জন্য এত করার চেষ্টা করছেন সেটা আল্লাহও দেখছে, এবং ওনার দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহ এটা ক্ষতির কারণ হতে দিবে না। ৩. এত মানুষের জন্য উনি যে করছেন, ওরাও কিন্তু মনে মনে দোআ করে দিচ্ছে। সেগুলোর মূল্যও কম না। 

@ সন্ধ্যাবাতিঃ ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বিয়ের পূর্বে নিজের দাবি, অধিকার, স্বাধীনতা ও কাজের ব্যাপারে হবু বরের
নিকট পরিষ্কার জানিয়ে রাখুন। পরস্পর মিউচুয়ালের মাধ্যমে একটা লিখিত
ডকুমেন্টে আসুন।

জয়নাব আল গাজালির জীবনী যখন পড়েছিলাম ঠিক তখনি আমার নিজের মধ্যে এরকম একটা আইডিয়া তৈরি হয়েছিল। ব্যাপারটা খুব হাস্যকর মনে হচ্ছে, বাট আমার কাছে এটাই খুব লজিক্যাল মনে হয়েছে। একটা মেয়ের বিয়ের পূর্বে অনেক স্বপ্ন থাকতে পারে, হতে পারে সেই মেয়ে উচ্চ শিখায় শিক্ষিত হতে চায়, কিংবা ক্যারিয়ার নিয়ে তার আলাদা চিন্তা ভাবনা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিয়ের পূর্বে এব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা করে নেওয়া উচিত। ডকুমেন্টের কথা একারণে বলেছি যে এতে করে একটা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে দুজন বিয়ের পূর্বে আসতে পারে। ডকুমেন্টের ব্যাপার আপনার কাছে হাস্যকর মনে হচ্ছে কারণ এটা একেবারেই নতুন কিছু বলেছি আমি। আমার বিয়ের সময় এরকম কিছু না করার চিন্তা করলে এটা আমি পোস্ট উল্লেখ করতামনা।

-

shetu

:)খোলামেলা কথা নিয়ে হাসি নি, লিখিত ডকুমেন্টের কথা শুনে হেসেছি। লিখিত ডকুমেন্ট সাধারনত প্রমান হিসেবে রাখা হয়, কিন্তু আমার নিজেস্ব আন্ডারস্ট্যান্ডিঙে বিয়ের আগে মানুষ কথা বলে কম্পেটিবেলিটি দেখার জন্য। ভবিষ্যতে সিচুয়েশন বদলানোর সাথে সাথে মানুষ বদলাবেই, নিজের আশা আকাংখা পরিষ্কার করে দেয়ার সাথে সাথে ওই রাস্তাটা খোলা না রাখলেই মনে হয় বিপদ হয়... ইসলামে মেয়েদের অধিকার আছে বিয়ের নিকাহনামায় কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া যেগুলো পূরণ না হলে ডিভোর্স দিতে পারবে ওরা ছেলেদের। বাংলাদেশে বাই ডিফল্ট থাকে দুইটা: ১. বনিবনা না হলে, ২. খরপোশ না দিলে। আমি যখন প্রথম এই শর্তের সুযোগের কথা শুনেছি, তখন কত কি ঠিক করে রেখেছিলাম শর্তের তালিকায় দিব...একটা অধিকার আছে, সেটা ইউটিলাইজ করতে হবে না? কিন্তু পরে আর দেয়া হয় নি :)।  

সন্ধা আপু, এই ডকুমেন্টস রাখাটা খুব জরুরী। ২৫০ টাকার স্ট্যাম্পে প্রয়োজনে রাখতে হবে। Smiling যদি বিশ্বাস আরও বাড়াতে চাই , তাহরে আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে রাখা যেতে পারে। Smiling

প্রতৈকটা মেয়ের জীবনে একটা স্বপ্ন থাকতেই পারে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে হবু স্বামীর সাথে খোলামেলার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা আমার জানা নাই।
মনে করেন, আপনার স্বামী বিয়ের পর লিখিত ডকুমেন্টস থাকা স্বত্বেও বললেন যে না আমি তোমাকে চাকরী করতে দেব না বা উচ্চ শিক্ষার জণ্য দুরে কোথাও যেতে দেবনা, তাহলে কি সেতু আপুর মত মেয়েরা স্বামীকে ডিভোর্স দেবেন?

আপু আপনি তো বিবাহিত।আপনার কিছু এক্সপেরিয়েনস শেয়ার করেন না।

-

hasan

"বিয়ের পূর্বে নিজের দাবি, অধিকার, স্বাধীনতা ও কাজের ব্যাপারে হবু বরের নিকট পরিষ্কার জানিয়ে রাখুন।"------ ভাল লেখেছ। এইটা কয় জনই বা করতে পারেন।

পরিবার গঠিত হয় বিয়ের মাধ্যমে। এই পরিবারেই হল একটা মেয়ের স্বপ্ন, তার আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। বিয়ের ব্যাপারে একে অপরের কাছে ক্লিয়ার না থাকলে বিয়ের কিছু দিনের ভিতরেই গ্যাঞ্জাম হবে।

 বিয়ের ক্ষেত্রে বরপক্ষ ও কনেপক্ষ একে অপরের প্রতিদন্দী ভাবতে থাকে। কোন পক্ষ কাকে কতটুকু  ঠকাবে এই চিন্তাই ব্যস্ত থাকে। সবাই জিতার চিন্তা করে নিজের দোষগুলো গোপন করে। বিয়ে হলেও সেই পরিবারে শান্তি আসে না। কারণ আল্লাহর রহমত নামক জিনিসটা তাদের ভিতর থাকে না। সারাজীবন ই তারা আফসোস করে ইস্ ওই ভুলটা না করলে এখনকার অবস্থা অন্যরকম হতে পারত।

@ পাশাঃ ধন্যবাদ
আপনার কমেন্টের সাথে পুরোপুরি সহমত।

-

shetu

"খুব সাধারণ কিন্তু ভুল একটি ধারণা বর্তমান আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে আর সেটা হল একটা মেয়ে পড়াশুনা করবে অথচ বাইরে জব করবেনা তাই কি হয়!! এতে করে মনে করা হয় নারীর সমস্ত শিক্ষায় বৃথা, নারী নিজের প্রতি এব্যাপারে খুব হীনমন্যতায়ও ভুগে।"

শিক্ষা ব্ৃথা যায় না। তবে সে তার পেশা বেছে নেবার  অধিকার রাখে। সে পেশায় যাবে কি যাবে না, এটা মূলত তারই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। 

 

"যেহেতু পারিবারিক ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাপারের দায়ভার আপনার উপর নেই তাই আপনি খুব দারুন ভূমিকা রাখতে পারেন সোস্যাল ওয়ার্কে।"

 

ফাইনান্সিয়াল দায় নেই - এটা ঠিক নয়। আর সোস্যাল ওয়ার্ক করা কর্মজীবী নারীর পক্ষে কঠিন। কারন অফিসের বাইরের সময়টা তাদের পরিবারের জন্য দিতে হয়, বা দিতে বাধ্য - যা হওয়া উচিত। 

শিক্ষা ব্ৃথা যায় না। তবে সে তার পেশা বেছে নেবার  অধিকার রাখে। সে পেশায়
যাবে কি যাবে না, এটা মূলত তারই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
জি আপু, আপনার এই কথায় আমি বলতে চেয়েছিলাম। বাট আমার মামি যে মাস্টার্স পাশ কিন্তু বাইরে জব করেনা বলে উনি চিন্তা করে উনার পুরা পড়াশুনাই বৃথা।
ফাইনান্সিয়াল দায় নেই - এটা ঠিক নয়। আর সোস্যাল ওয়ার্ক করা কর্মজীবী
নারীর পক্ষে কঠিন। কারন অফিসের বাইরের সময়টা তাদের পরিবারের জন্য দিতে হয়,
বা দিতে বাধ্য - যা হওয়া উচিত। 

আসলে এখানে আমি সেইসব নারীদের প্রতি বলেছি যারা এক্সাক্ট ঘরণি থাকতে চায়না আবার বাইরে জবও করেনা। পরিবারকে সময় দেবার পর তারা ইচ্ছা করলেই সোস্যাল ওয়ার্কে দারুন ভূমিকা রাখতে পারে।

-

shetu

"বাট আমার মামি যে মাস্টার্স পাশ কিন্তু বাইরে জব করেনা বলে উনি চিন্তা করে উনার পুরা পড়াশুনাই বৃথা।"

 

উনাকে আমার সালাম পৌছে দেবে। মনে হচ্ছে চাকুরী না করায় তিনি কিছুটা বিমর্ষ। উনাকে ধৈর্যশীল হতে বলবে। হয়ত বা এতেই আল্লাহ উনার জন্য ভাল রেখেছেন।  জীবন অনেক বড়, চতুর্দিকে তার ব্যপ্তি। পেশা মাত্র একটি দিক। উনি চাইলে ব্লগ পত্র পত্রিকায় লেখালেখিও করতে পারেন। ইন্টারনেটের এই যুগে এটা খুব কঠিন কিছু নয়। তাহলেই নিজের পড়াশোনাকে হয়ত অর্থবহ মনে হতে পারে।

Normal
0

false
false
false

EN-US
X-NONE
AR-SA

MicrosoftInternetExplorer4

আপনার লেখা পড়লাম ! চিন্তার আয়তন অনেক বড়। আমরাও চাই আমাদের নারীরা চিন্তা করতে শিখুক । হয়তোবা আপনারা আমাদের সমাজের জন্য সবুজ "সংকেত"। আপনার লেখাটা পড়ে আমারও ইচ্ছা হলো দু'কলম লিখার, তাই লিখলাম। অনধিকার চর্চা হলে ক্ষমা চাই !
কিছু জায়গায় দ্বিমত থাকলেও সার্বিক লেখার সাথে একমত। বিশেষকরে নারীর সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা আমাকে ভাবিয়ে তোলছে । স্যালুট আপনার ভাবনা কে....


ব্যক্তির সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক বহু পুরানো।
বিশেষত সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্পকলার
জগতের সৃষ্টিশীল কাজের দুনিয়ার এ তর্ক খুবই
জোরালো। "শিল্পের
দায়বদ্ধতা", "শিল্পীর দায়বদ্ধতা" অথবা
"সামাজিক দায়বদ্ধতা" - এসব কথাগুলো নিয়ে ভাবার
প্রয়োজন। সম্ভবত সেজন্য বুঝি "দায়বদ্ধতা" বিষয়ক ধারণাগুলো
আবার উল্টপাল্টে দেখার, অন্তত রিফাইন
করে বুঝার দরকার ও স্কোপ আছে; এবং তা আমার দরকারী
কাজ হয়ে অপেক্ষা করছে।

ব্যাক্তির দায়বদ্ধতা:
মানুষকে আমরা ক্রমশ ব্যক্তি হয়ে উঠতে দেখি বটে, বুঝতেও
পারি; মানি এটা বিচ্ছিন্ন
ব্যক্তি হয়ে উঠার সময়ও বটে কিন্তু, আমাদের ভুলে
যাওয়া চলে না - সমাজের মধ্যেই ব্যক্তি হবার কসরৎ
আমাদের চলে তবু পরস্পর আমরা পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত
থেকেই যাই। ফলে মানুষ মানেই সামাজিক মানুষ - মুল এই কথাটা একচিলতেও হেলে না। এই
সারকথাটা টিকে যায়। সামাজিক মানুষ একএকটা আলাদা ব্যক্তি বলে
একটা আপতিক ভ্রম তৈরি হলেও ঐ ব্যক্তির
সামাজিক দায়, নিজের সমাজের কাছে নিজের দায় হয়ে থেকেই
যায়। বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির উল্টোপিঠে ঐ ব্যক্তির সামাজিক
দায়বদ্ধতার কথা উঠে এখান থেকেই। সামাজিক দায় মানে সমষ্টির
স্বার্থের পক্ষে এক আনুগত্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা
অনুভব ও সে বিষয়ক ব্যক্তির কর্তব্য।
আগে বলেছি সামাজিক দায়বদ্ধতা দিক আমাদের আছে, আমরা
বুঝতে পারি।কারণ, ঘটনার ভিন্ন
একটা দিক আছে। যেমন ধরেন, বলছি বটে এটা সামাজিক দায়বদ্ধতা, সমাজের
কাছে ব্যক্তির দায় অনুভব করা ইত্যাদি। কিন্তু ভেবে দেখলে আমরা
বুঝব শেষ বিচারে কেউ যদি কোন দায়বোধ করে সেটা আসলে করে সমাজের কাছে না, বরং
নিজের কাছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, এটা নিজের সাথে
নিজের দায়বোধ, বোঝাপড়া; সেটা
আবার কোথায়, কতটুকু সেটাও নিজের কাছে নিজেই দায়বোধ ও প্রতিজ্ঞা
করার বিষয়: তাহলে সার
দাঁড়ালো, সামাজিক দায়বদ্ধতা জিনিষটা আসলে কাউকে
নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া করতে দেয়া ও ফলশ্রুতিতে তাঁর একটা দায়বোধ
করা অথবা না করার বিষয়। এছাড়া, সমাজ
বলে বিমূর্ত, মূর্ত আকারে যা
দেখা যায় না এমন কিছু খাড়া করার দরকারই নাই। কারণ, প্রত্যেক
ব্যক্তির ভিতরে সমানভাবে এবং একইসাথে সমাজও আছে, অর্থাৎ
সামাজিক সত্বা আছে। অতএব তা বাইরে খুঁজার
দরকার নাই, বরং ভিতরেই টের পাবার ব্যাপার সেটা।
দায়বদ্ধতা প্রসঙ্গে  উপরের কথার মানে
কী এমন যে, আমার দায়বদ্ধতার ব্যাখ্যা
অনুযায়ী যে লেখকের নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া, দায়বোধ
ঘটেনি । পুরুষ কিংবা যেহেতু একজন মানুষই সে হিসেবে উভয়ের দায়বদ্ধতা
অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। তবে ইসলাম ব্যক্তির আলাদা বৈশিষ্ট্যকেও অস্বীকার
করেনি। যেমন: আকাশমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের মাঝখানে যা রয়েছে, তা সবই দয়াময় আল্লাহর নিকট
উপস্থিত হবে বান্দাহ হিসেবে। তিনি সর্বব্যাপক এবং তাদের সকলকে গণনা করে ও প্রস্তুত
করে রেখেছেন। তাদের সকলকেই কিয়ামতের দিন তার সামনে উপস্থিত হতে হবে স্বতন্ত্র
ব্যাক্তি হিসেবে। (সূরা মারিয়াম : ৯৩-৯৫)

অন্য আয়াতে বলা হচ্ছে: প্রতিটি মানুষ
যা উপার্জন করবে সে তাই পাবে। কোন বোঝা বহণকারীই অপর কারো বোঝা বহণ করবে না। শেষ
পর্যন্ত তোমাদের সকলকেই নিজেদের প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তণ করতে হবে। তখন তিনি
তোমাদের সে বিষয়ে সঠিক কথা জানিয়ে দিবেন যে বিষয়ে তোমরা পরস্পর মতবিরোধ করতে।
(সূরা আনআম: ১৬৪)

অপর আয়াতে আরোও দ্ব্যার্থহীন ভাষায়
বলা হচ্ছে, প্রতিটি মানুষের গলদেশে তার আমলনামা ঝুলিয়ে দেয়া হবে। আর কিয়ামতের দিন
তার জন্যে একটি লিপিকা প্রকাশ করবো যাকে সে উন্মুক্ত কিতাব রূপে পাবে। আজ তোমার
নিজের হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে তুমিই যথেষ্ট। (সূরা বনী ইসরাঈল: ১৩-১৪)

তাহলে ব্যাক্তি হিসেবে একজন পুরুষ বা নরী স্বাধীন হলেও জবাবদিহীতার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, একেবারে উদার
হয়ে গেলে মানুষ অনৈতিক কাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে ।

মানুষ নিজের জীবনে যেকোনো পন্থাই অবলম্বন করুক না কেন এবং
যেকোনো রাস্তায়ই চলুক না কেন, প্রকৃত সৌভাগ্যের পরিচিতি অর্জন তার
নিজেকে চেনার বা আত্মপরিচিতিরই অংশবিশেষ। রাসূল কারিম সা. ইরশাদ করেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি নিজেকে চিনতে পেরেছে, সে তার
আল্লাহকে চিনতে পেরেছে।’ আমিরুল
মু’মিনীন  আলী রা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে চিনতে পেরেছে, সে মা’রেফাতের সুউচ্চশৃঙ্গে আরোহণ করতে পেরেছে।’
মানুষের অস্তিত্ব দু’টি বস্তুর সমষ্টি। তা হচ্ছে আত্মা ও শরীর। মানুষের কর্তব্য হচ্ছে­ এ দু’টি বস্তুর পবিত্রতা ও দৃঢ়তা সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়া। পবিত্র ইসলামে এ দু’টি বিষয় সম্বন্ধে খুবই সূক্ষ্ম ও পর্যাপ্ত নির্দেশাদি প্রদান করেছে। কাজেই
মানুষের উচিত নিজের শরীর ও আত্মার পবিত্রতা রক্ষার্থে সচেষ্ট হওয়া। দৈনন্দিন জীবনে এসব ইসলামী আচরণ আমরা মেনে চললে আমাদের ব্যক্তিত্ব, পরিবার ও সমাজ মাধুর্য এবং বরকতে ভরে উঠতে বাধ্য। ইসলাম শুধু আমাদের
পরকালীন নাজাতের কথাই বলে না; পথনির্দেশ
করে দুনিয়ার সমুদয় কল্যাণ আর
সুন্দরের।

পারিবারিক দায়বদ্ধতা:
মানবজাতির প্রাথমিক ভিত্তি হলো তার পরিবার। পরিবার থেকেই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে
পড়ে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সমাজ, অতঃপর
অর্থনৈতিক লেনদেন, সেখান থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সুত্রপাত। এভাবে মানবজাতির বিকাশ, সমাজ
সভ্যতার সৃষ্টি, সংস্কৃতিবোধের উন্মেষ। ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবার শুধু
একটি উত্তম সামাজিক প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং
একটি পবিত্র সংস্থা। পরিবারের সুখ, শান্তি এবং পারস্পরিক সম্পর্ক ছাড়াও রয়েছে একটি আইনগত ও সামাজিক দিক।
নৈতিক চরিত্র গঠনের প্রকৃষ্ট ক্ষেত্র হল
পরিবার। সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টি ও বৃদ্ধি হয় পরিবারকে কেন্দ্র করে। মহানবী সা. বলেছেন- ‘তোমাদের প্রত্যেককেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং সবাই
তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। পুরুষ তার গৃহে দায়িত্বশীল, এ জন্য তাকে জবাবদিহি
করতে হবে। অনুরূপভাবে নারী তার স্বামীগৃহে একজন দায়িত্বশীল এবং দায়িত্বের ব্যাপারে তাকে জবাবদিহি করতে
হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম শরিফ)।

তাই ইসলামী ঐতিহ্য রক্ষা ও বরকতময় পারিবারিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আমাদের কতিপয়
বিষয়ের প্রতি যত্নবান হতে হবে;

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে পুরাতন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো
পরিবার। মানব-সভ্যতার
বয়সের সমান এর বয়স। সভ্যতার জন্ম ও অগ্রগতিতে পরিবারের অবদানই সর্বাধিক। নিছক
মাতৃর্গভে জন্ম নিলেই মানব-শিশু মানব রুপে বেড়ে উঠেনা। সে মানব রূপে বেড়ে
উঠার মূল সবক ও প্রশিক্ষণ পায় পরিবার থকে। পরিবারের অপরিসীমের
গুরুত্বরে কথা হাদীস শরীফে বহুভাবে র্বণতি হয়ছে। নবী কারীম সা. বলছেন, “প্রতিটি মানব
শিশুই জন্ম নয়ে মুসলমান রূপ, কিন্তু পিতা-মাতা বা পরিবারের
প্রভাবে বেড়ে উঠে ইহুদী, নাসারা বা অমুসলমি রূপে।” সভ্যতা নির্মানের কাজ
একমাত্র মানুষের,
পশুদের নয়। আল্লাহর খলীফা হওয়ার কারণে প্রতিটি মুসলমানই একাজে দায়বদ্ধ। তবে এ
লক্ষ্যে পরিবার অপরিহার্য। পারিবার গড়ে উঠেছে বস্তুতঃ মানবিক প্রয়োজনের তাগিদে। অন্য
প্রানীকূল থেকে মানুষের শ্রেষ্ঠতম হওয়ার এটিই মূল কারন। পশুদের জীবনে
সহস্র বছরেও পরর্বিতন আসে না। গবাদি পশুরা হাজার বছর পূর্বেও যেভাবে ঘাস খেত
বা জীবন ধারন করতো এখনো তাই করে। অথচ মানুষ সামনে এগিয়েছে। এর কারণ
পরিবার।

একমাত্র পারিবারীক শান্তিই ব্যক্তিকে দেয় প্রকৃত শান্তি। পরিবার হলো জীবনের
কেন্দ্রবিন্দু।
মানুষ তার ন্যায়বোধ, রুচিবোধ, মূল্যবোধ ও আচার-আচরন নিয়ে জন্মায়না, এগুলো সে পায়
পরিবার থেকে। আর এগুলো নিয়েই তার সর্বত্র বিচরন। অপর দিকে বাইরের জগতে যতই
সমৃদ্ধি হোক, তাতে
পরিবারে শান্তি আসেনা। একাজ ব্যক্তির একান্তই নিজস্ব। পরিবারকে ঘিরেই শান্তির
নিরাপদ দুর্গটি গড়ে উঠে প্রেম-প্রীতি ,ভালবাসা ও উচ্চতর মূল্যবোধরে ভত্তিতি।
নিছক পানাহার, যৌনতা
বা যৌথবাসই পরিবারের ভিত্তি নয়। এটি নিছক পশু সুলভ। পরিবার গড়ে উঠে উচ্চতর এক
উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। দেহ-ভিত্তিক বা যৌনতা-ভিত্তিকি সম্পর্ক প্রাধান্য পেলে
মানুষ তখন আর পশু থেকে শ্রেষ্ঠতর থাকে না। এর জন্য পরিবারের প্রয়োজনও পড়নো।
ঘরবাড়ি ও পরিবার ছাড়াই জীব-জন্তু যুগ যুগ বেঁচে আছে। তাদের বংশবিস্তারও
হয়েছে। পশুর মত বসবাস, পানাহার বা অবাধ যৌনতা এ বিশ্বে কোন কালেই কম ছিল
না। এরপরও মানুষ ঘর বেঁধেছে, পরিবার গড়েছে। শুধু নিজের নয়, সমগ্র পরিবার ও
পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যদরে দায়-দায়িত্বও মাথায় তুলে নিয়েছে। শুধু
ভোগ নয়, দায়িত্ব-পালনও
যে বাঁচবার অন্যতম মিশন - মানুষ এ ভাবেই তার স্বাক্ষর রেখেছে। সমাজ ও রাষ্ট্র
নির্মান দুরে থাক একাকী একখানি ঘরও উঠানো যায়না। এর জন্য পারস্পারিক সহযোগিতা ও
সহমর্মিতা চাই।
এজন্য নরী অথবা পুরুষের মাঝে উভয় সমাজ চেতনার বাইরের লোক নয় সুতরাং
তারও পারিবারিক দায়বদ্ধতা আছে। এ ব্যাপারে রাসূল সা. বলেন; "বিবাহ আমার
সুন্নাত, যে ব্যাক্তি বিবাহকে অস্বীকার করলো সে আমার দলভুক্ত নয়"। আর বিবাহই
হচ্ছে পরিবারের প্রথম দাপ।

আল্লাহ ইরশাদ করেছে ‘হে মু’মিনগণ! তোমরা
নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে রক্ষা কর দোজখ হতে, যার ইন্ধন হবে
মানুষ ও পাথর’।(সূরা
তাহ্‌রীম ৬)

রাসূলে আকরাম সা. স্বীয়
পরিবারের লোকদের ব্যাপারেও খুব লক্ষ রাখতেন। যাতে তার
জন্য তাদের কোন রকম কষ্ট না হয়। এজন্য রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন হলে
অত্যন্ত ধীরস্থির ভাবে উঠে জুতা পরিধান করতেন এবং নিঃশব্দে দরজা খুলে
বের হতেন। অনুরূপ ভাবে ঘরে প্রবেশ করার সময়ও নিঃশব্দে প্রবেশ করতেন, যাতে কারো
ঘুমের কোন প্রকার ব্যাঘাত না ঘটে (মিশকাত-১৮১-১৮২)।
নবী করীম সা. পারিবারিক
দায়িত্ববোধ থেকে এবং সামাজিক কর্তব্য থেকেও দিনের সময়কে
তিন ভাগ করে এক ভাগ আল্লাহর ইবাদত ও দ্বীনের কাজ, একভাগ পরিবার -পরিজনের
খোঁজ খবর নেয়ার জন্য এবং আর এক ভাগ ব্যক্তিগত কাজ ও নিজের শারীরিক
সুস্থতা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়ার তালীম দিতেন (উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম, ১০৪)।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এ সত্যে উপনিত হতে
পারি যে কোন মানুষ নারী কিংবা পুরুষ অবশ্যই মানুষের উর্ধ্বে নয়। আর মানুষ হিসেবে
তিনি পারিবারিক দায়বদ্ধতাকে অস্বীকার করতে পারেন না।

সামাজিক দায়বদ্ধতা:  সামাজিক জীবন-যাপনে অনেক
নিয়ম-কানুন ও পদ্ধতি প্রতি পালন করতে হয়;কর্তব্য কর্ম
দায়িত্বসমূহ নিষ্ঠার সাথে অনুশীলন করে প্রতিনিয়ত তৎপর হওয়া অপরিহার্য।
আর এরই মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটে থাকে। ঘুনেধরা
সমাজের সর্বশ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক মহানবী সা.
ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তৎকালীন
বিশৃঙ্খল আরব জাতিকে সুসংগঠিত করে বিশৃঙ্খল জীবন-প্রবাহ
থেকে সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থায় নিয়ে আসেন। তিনি অনুকরণযোগ্য নিয়ম-কানুন, নীতি-পদ্ধতি
সুসংগঠিত সমাজ গঠনে প্রতিষ্ঠা করেন। হাদীসে এসেছে -“সকল
মুসলমান (সম্মিলিতভাবে) যেন একটি প্রাচীর, যার প্রতিটি অংশ
বাকি অংশগুলোকে দৃঢ় করে। এমনিভাবে তারা নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠিত হবে একে অন্যের
সহায়তায়”। ‘মুসলমান ভাইকে
মুসলমান ভাই সাহায্যে করবে, সে অত্যাচারিত হোক
বা অত্যাচারী হোক’। কিন্তু সে অত্যাচারী হলে কিভাবে আমারা সাহায্য করব? রাসূলে
আকরাম (সাঃ) বললেন,‘তাকে অত্যাচার করা থেকে নিষেধ ও নিরস্ত করবে’।

সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে হাদীসে
বর্ণিত হচ্ছে; “সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যে
ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে” (মিশকাত শরীফ)।
হাদীসে আরো পাই “সেই ব্যক্তি মু’মিন
হতে পারে না, যে ব্যক্তি নিজে পেট ভরে পানাহার করে, কিন্তু
তার পার্শ্বেই প্রতিবেশী খাদ্যের অভাবে অভুক্ত থাকে।” (মিশকাত-বায়হানী)।

প্রিয় নবী সা. বলেছেন- “সে
আমার উম্মত নয়, ‘যে প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর করে
না।” তিনি এও পরামর্শ দিয়েছেন, পিতা-মাতা, স্ত্রী/স্বামী-সন্তানসহ
সকল আত্মীয়-স্বজন ও মুসলমানদের হক আদায়ে সচেষ্ট থাকতে হবে। মোট
কথা, মানুষের হকের ব্যাপারে
খুব বেশি ফিকির রাখা অবশ্যম্ভাবী, নতুবা সমস্ত
ইবাদাত বিফলে যাবে।
ওই ‘হক’ হচ্ছে
পারিবারিক-সামাজিক দায়বদ্ধতা। এ দায়বদ্ধতা থেকে মুখ ফিরিয়ে
রাখলে ব্যক্তির ইবাদতসমূহ কোন কাজে আসবে না।

এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক সুস্পষ্টভাবে
বলেন;“তোমরা যা গোপন রাখ এবং যা প্রকাশ কর আল্লাহ
তা জানেন”। (সূরা-নাহ্‌ল ১৯
) এ ক্ষেত্রে মহান প্রভু আরোও বলেন, ‘যে সম্পর্ক
অক্ষুণ্ন রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন, তা
ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের
জন্য আছে লা’নত এবং তাদের জন্য আছে মন্দ আবাস।’ (সূরা-রা’দ এর
২৫)  আরোও বর্ণিত হচ্ছে ‘মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন
ও দরিদ্র্যদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে এবং মানুষের সঙ্গে
সদালাপ করবে, সালাত কায়েম
করবে ও যাকাত দিবে—’। (সূরা
আল বাকারা: ৮৩) ,

সামজের মাঝে
মানুষে মানুষে বিরোধ দেখা দিলে তা মিটিয়ে ফেলার প্রয়াস নিতে হবে। এ ব্যাপারে পবিত্র
কোরআনের সূরা-শূরার ৪০ আয়াতে আছে” যে ক্ষমা করে দেয় ও আপোষ নিষ্পত্তি করে তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট
আছে। আল্লাহ জালিমদেরকে পছন্দ করেন না।’ অন্য এক আয়াতে (সূরা-শূরা-আয়াত-৪৫) আছে— ‘ক্ষতিগ্রস্ত
তারাই যারা নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতিসাধন করেছে।’ জেনে রাখ জালিমরা অবশ্যই ভোগ করবে
স্থায়ী শাস্তি।

আত্মীয়তার
সম্পর্ক রক্ষা করতে হলে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে অনুশীলনের প্রয়াস ঐকান্তিকতার সাথে চালাতে
হয়।” মূলকথা হচ্ছে ইসলামের গুরত্বনুযায়ী মহানবী সা.- এর জীবনাদর্শ
ও শিক্ষাকে অনুশীলন করে সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্বকে যথাযথ অনুধাবনের মাধ্যমে জীবন-যাপন করতে হবে।
দুনিয়ার সুখ-শান্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে আমাদের সকল প্রকার বিদ্বেষ, ঈর্ষা ভুলে
গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও সামাজিকবৃন্দের সাথে সুসম্পর্ক গড়ায় আরো সর্তক, সচেতন ও আন্তরিক হওয়া সমীচীন!


মানুষের সাধারণ প্রবনতা হলো প্রথাগত সমাজব্যাবস্থার সঙ্গে
খাপ খাইয়ে চলা। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার মধ্যে সামাজিক ধর্মীয় ও
নৈতিক বিধানগুলো এক অদৃশ্য শক্তির মতো কাজ করে।

একটি অদৃশ্য মহান ক্ষমতাসম্পন্ন
সত্তার হাতে মানুষের প্রাণ।মানুষকে তিনি সৃষ্টি করেছেন।মহান এ  জগত তাঁরই সৃষ্টি।মানুষকে তিনি স্বাধীন ক্ষমতা দিয়ে
সৃষ্টি। মানুষের সমাজ-সভ্যতার
রুপ এই যা ছিল,যা আছে,যা হবে বা হওয়া
উচিত তার সবটুকুই ইসলামী জীবনব্যবস্থার বিষয়বস্তু। ইসলাম জীবনের প্রতিনিধিত্ব
করে। আর জীবন বলতে
যা ছিল,যা
হচ্ছে বা হবে এবং যা হওয়া উচিত সবগুলোই বুঝায়। ব্যাপক অর্থে বলতে গেলে
ইসলাম সমস্ত নৈতিক মূল্যবোধ সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

ইসলাম কোন স্থবির আকীদা বিশ্বাস ও নিষ্প্রাণ ধর্ম নয়। বরং একটি জীবন্ত ও গতিশীল জীবন
দর্শন ও জীবনব্যবস্থা। মূল্যবোধের ব্যাপারে পরাশ্রয়ী না হয়ে নিজস্ব জীবনবোধের উপর
ভিত্তি করে, ভৌগলিক
পরিবেশ ও ইতিহাসকে স্বীকার করে সংগঠনমূলক ও সৃষ্টিশীল সাহিত্য রচনা করা নিছক
পুনরুজ্জীবনের ব্যাপার নয়,
যদি তার মধ্যে সুষ্ঠু সমাজচেতনা,মূল্যবোধ ও  প্রতিশ্রুতি থাকে। অনেকে বলেন, আমাদের সামাজিক ভিত্তি যে ইসলামী হবে, তা তো স্বত:সিদ্ধ ব্যাপার, তা নিয়ে এত বকা-বিতন্ডা
কেন? কথাটা
সরল মনের পরিচায়ক। কিন্তু সত্যিকারভাবে আমাদের জীবনের বিভিন্ন
ক্ষেত্রে ইসলামী জীবনদর্শনের প্রকৃত রূপ সম্পর্ক ও বিচিত্র সমস্যাকে
ইসলামের মারফত মুকাবিলা করার ব্যাপারে সুষ্ঠু ধারণা কতজনের আছে?

আমাদের জীবনদর্শন শুধু
বৈশিষ্ট্যের উপলদ্ধিতে নয়। বৈশিষ্ট্যের মাঝেও সম্ভব বৈচিত্রের
সমারোহ। দুনিয়ার সব জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও সাহিত্যের জ্ঞানাহরণের
জন্য ইসলামী জীবনদর্শনের রয়েছে অফুরন্ত প্রেরণা। আর ইসলামে যদি কিছু বৈশিষ্ট্য
থাকে, তা
নীতিগত-স্বার্থপরতা, নিপীড়ন
ও চরমাবাদের বিরুদ্ধে তৌহীদ ও মানবিকতার উদ্ধোধন ।

জীবনের পারিপার্শ্বিকতার দিকে জাগ্রত দৃষ্টি দিয়ে স্বকীয় আদর্শ অক্ষুন্ন রেখে
ঢেলে সাজাতে হবে। এ জীবন্ত জীবনবোধই হবে আমাদের জীবনকাঠি।
মুসলিম মানসের সেই ঔদার্য,
ব্যাপকতা ও সর্বজনীনতা আবার আনতে হবে। স্বীয় দু:খ-কালিমাকে লুকিয়ে না রেখে
সেগুলো সাধারণো প্রকাশ করে,
অনুশীলন করে, আত্মস্থ করে, দুঢ় প্রত্যয়
নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। তবেই আমাদের সংস্কৃতি ও  নবজীবন
লাভ করে স্বগৌরবে প্রদীপ্ত হবে ও আমরা নতুন পথে অগ্রসর হতে পারব।

মানুষের মধ্যে নৈতিক গুণাবলী বিকাশের ক্ষেত্রে ধর্মের ভূমিকা খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ
করে মানবতার মুক্তির একমাত্র পাথেয় পবিত্র ধর্ম ইসলামে নৈতিকতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া
হয়েছে। নৈতিকতার সপক্ষে এবং এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলতে গিয়ে কোরআনুল
হাকিমে বলা হয়েছে-‘শপথ
মানুষের এবং তাঁর, যিনি
তাকে সুঠাম করেছেন। অতঃপর তাকে তার সৎকর্ম ও অসৎকর্মের
জ্ঞানদান করেছেন। সেই সফলকাম হবে যে নিজকে পবিত্র করবে এবং সে-ই ব্যর্থ হবে যে
নিজকে কলুষাচ্ছন্ন করবে।’
(সূরা শামসঃ ৭-১০)।

পবিত্র কোরআনে উত্তম নৈতিক মূল্যবোধের সব মৌলিক বৈশিষ্ট্যাবলীকে একত্রে সন্নিবেশিত করে
আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন- 
‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তোমাদের সুবিচার, কল্যাণ কামনা ও আত্মীয়তার বন্ধনকে সুদৃঢ় করার
নির্দেশ দেন এবং
অন্যায়-অশ্লীলতা, জুলুম
ও খোদাদ্রোহিতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। আল্লাহ তোমাদেরকে
নসিহত করেন এই জন্য যে,
যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পার।’ (সূরা নাহলঃ ৯০)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,
‘হে নবী আপনি তাদেরকে বলে দিন, তোমরা আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে শরিক কর না। মাতা-পিতার সাথে
সৌজন্যমূলক আচরণ করো। নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার কাছেও যেও না, চাই তা
প্রত্যক্ষ হোক আর পরোক্ষ হোক। আর ইসলামী আদালতে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্যায়ভাবে কাউকে
হত্যা করো না। এসব উপদেশ আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেন-  যাতে তোমরা ভেবে-চিন্তে- কাজ
কর।’ (সূরা
আনআমঃ ১২৭-১৩১)
এছাড়াও অসংখ্য আয়াতে কারিমায় নৈতিকতার সপক্ষে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া
হয়েছে।

কোরআনিক দর্শন অনুযায়ী ইসলামের এই যে নৈতিক শিক্ষা এটি শুধু দার্শনিক
তত্ত্বের মতো
পুঁথিগত নয়, বরং
একে সারাবিশ্বের মানুষের জন্য নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপনের নিমিত্তে
আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় রাসূল মোহাম্মদ সা.-এর জীবন মুবারকের মধ্যেও প্রতিফলিত
করেছেন। নবী করিম সা. ছিলেন উন্নত ও উত্তম নৈতিকতার এক অনুপম আদর্শ। স্বয়ং আল্লাহ
রাব্বুল আলামীন তাকে সার্টিফাই করেন এভাবে-  ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে
অধিষ্ঠিত।’ (সূরা
কলমঃ ৪)

নবী করিম সা.-এর নৈতিকতার উল্লেখযোগ্য মৌলিক গুণাবলী ছিল-  ন্যায়বিচার, ইনসাফ, ওয়াদা পালন, সততা, কর্তব্যবোধ, শালীনতা, বদান্যতা, সঠিক পন্থা
গ্রহণ, ন্যায়পরায়ণতা, প্রয়োজনে
প্রতিশোধ গ্রহণ, উদারতা, মধ্যপন্থা
প্রভৃতি। এ মহৎ কাজগুলো শুধু নিজের জীবনে বা-বায়ন
করেই তিনি ক্ষা- হননি বরং নৈতিক মূল্যবোধ ও নৈতিক আচরণসমূহের প্রতি যে উৎসাহ
এবং প্রেরণা দিয়েছেন তা সত্যিই অনন্য।

হাদিসে এসেছে, হজরত
নাওয়াস ইবনে সাময়ান বর্ণনা করেন, ‘একদা রাসূলুল্লাহকে সা. নেক ও বদ আমল
সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তদুত্তরে তিনি বলেন, নেক আমল হচ্ছে উত্তম চরিত্র আর বদ
আমল হচ্ছে যে কাজ তোমার বিবেকের কাছে সদ্বিগ্ন মনে হয়, আর তা লোকের
কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ুক এটা তুমি চাও না।’ (মুসলিম, তিরমিজী)।

অন্যত্র আবু
দারদা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম সা. বলেছেন-  ‘কিয়ামতের দিন মু'মিনের
নেকের পাল্লা ভারি করার মতো উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারি কোন আমল নেই। আর অবশ্যই আল্লাহ
অশ্লীল ও অশ্রাব্য গালিগালাজকারীর ওপর অসন্তুষ্ট। (তিরমিজী ও ইবনে মাজাহ)

সুতরাং কোরআন ও হাদিসে নৈতিকতার প্রতি যে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, উন্নত নৈতিক
গুণাবলী মেনে চলার যে ফযীলত বর্ণনা করা
হয়েছে তা কারও জানার মধ্যে নয় বরং মানার মধ্যেই রয়েছে যথার্থ সার্থকতা। ইসলামের
সুপ্রতিষ্ঠিত এ নৈতিক দর্শনের মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই সাহাবায়ে কেরাম, তাবিঈ
তাবে তাবিঈ, সালফে
সালেহিন ও আইইম্মায়ে
মুজতাহিদীন সফলভাবে ইসলামের বিজয় কেতন চতুর্দিকে
ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তাঁরা যে দিকে গিয়েছেন সে দিকেই সফলতা তাঁদের পদচুম্বন করেছিল। এর মূল কারণ
ছিল-  তাঁরা
নৈতিকতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ ছিল। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, ইসলামের এই
নৈতিক শিক্ষা
মুসলমান সমাজ থেকে প্রায়ই নির্বাসিত। মুসলমানরা বিশেষ করে মুসলিম তরুণরা আজ গড্ডালিকা
প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে স্বজাতীয় কৃষ্টি-কালচার ও নৈতিকতাকে উপেক্ষা করে তথাকথিত ‘সুস্থ সংস্কৃতি’ নামে
যাবতীয় বেহায়াপনা ও অশ্লীলতায় মেতে উঠেছে। সুতরাং এ পথ থেকে বেরিয়ে
এসে ইসলামের নৈতিক শিক্ষাকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করে তাকওয়াভিত্তিক জীবন গঠন না করলে
আমাদের জন্য আল্লাহ্‌র আজাব-গজব অনিবার্য।

কিছু বানানের সমস্যা আছে সময়ের স্বল্পতার কারণে ঠিক করতে পারলাম না ! দুঃখিত !!!!

বরাবরের মত আপনার কমেন্ট আমি পরে ধীরে সুস্থে পড়ে পরে রিপ্লাই দিব।
ধন্যবাদ।

-

shetu

রিপ্লাই আর আসলোনা। তবুও অপেক্ষা করি ।

বরাবরের মত আপনার কমেন্ট আমি ধীরে সুস্থে পড়লাম। কিন্তু বলার কিছুই খুঁজে পাইলাম না। অত্যান্ত শোকাহত এজন্য যে আমার কথাগুলো সবাই মিলে বলে দিয়েছে।

আর মর্মাহত এজন্য যে, আপনার কমেন্টগুলোই এক একটা পোষ্ট হওয়ার যোগ্যতা রাখে। সেই যোগ্যতা অনুসারে তাদের সাথে সঠিক বিহেভিয়ার করা হচ্ছেনা।

পর্যবেক্ষন

-

hasan

এ পোষ্ট টা দেখে মনে হচ্ছে বিসর্গ সত্যি জমে উঠছে। মাশাআল্লাহ॥

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

সালাম

সবার কমেন্ট দেখে দেখে আমি কি লিখবো ভাবছি। সবার কথার জবাবে যেন আমার কথাও বলা হয়েছে। এমূহুর্ত্বে একথাই বলবো ভাল লেগেছে।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (6টি রেটিং)