তৃষিত আত্মার করুণ ধ্বনি.......

আত্মা অবিনশ্বর, যার পথ চলা সৃষ্টির পর থেকেই চলমান, আর এই পথ চলার যেন কোন শেষ নেই, অন্তহীন পথে চলছে .......... মানুষের দেহের বিনাশ হয়তো একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আত্মার কোন বিনাশ নেই, সে বেঁচে থাকবে চিরকাল, কারণ পৃথিবীর অধ্যায় শেষে সে আবার পরকালের চিরন্তন অধ্যায় শুরু করবে। দেহ ও আত্মার চাহিদা ভিন্ন, দেহের খাদ্য ও আত্মার খাদ্যও ভিন্ন, মানুষের দেহের খাদ্য হচ্ছে আমরা সকলে প্রতিনিয়ত যা খেয়ে পরে বেঁচে আছি, তাই হচ্ছে আমাদের দেহের খাদ্য, আর দেহের গঠন যেহেতু পৃথিবীতে হয়েছে তাই দেহের খাদ্য ও তৈরী হয়েছে পৃথিবীতে।

আবার আত্মা সৃষ্টি হয়েছে আসমান হতে অর্থাৎ মহান আল্লাহর একটি বিশেষ নির্দেশ, যা আল্লাহর হুকুমে মানুষের দেহে বিরাজ করে, আবার মহান আল্লাহ যখন চাইবেন ঠিক তখনই আবার সেই আত্মা তার নিজ জায়গায় ফিরে যাবে। আত্মার জন্ম যেহেতু ঊর্ধ্ব জগতে তাই আত্মার খাদ্য ও এসেছে ঊর্ধ্ব জগত হতে, অর্থাৎ মহান আল্লাহর দেয়া হুকুম আল কোরআনের পথ, যে পথ চলাকে আল্লাহ মানুষের জন্য মঙ্গলময় করেছেন, মানুষ যখনই ভাত, মাছ, গোস্ত, শাক সবজি, পানি ও ফলমূল খায় তখন তার এই জৈবিক দেহ শান্তি পায়, আমরা দেহের খাদ্য দিয়ে থাকি প্রতিদিনই, কিন্তু কজন আত্মার খাদ্যের কথা চিন্ত করি। সকল ধরনের ভালো কাজ, যেমন ঈমান, নামায, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত, ভালো কথা বলা, মানুষকে সত্যের দিকে ডাকা ইত্যাদি সমস্ত ভালো কাজ হচ্ছে আত্মার খাদ্য, আমার আত্মাকে যদি খাদ্য না দিই তাহলে সে এক সময় না খেতে খেতে রুগ্ন হয়ে যাবে। সাভাবিকতা হারাবে, ছোট ছোট রোগ থেকে বড় বড় রোগে আক্রান্ত হয়ে এক সময় সে হারিয়ে যাবে অজানার দেশে। মানুষের দেহের রোগ হলে চিকিৎসা বা ভালো পরিবেশে গেলে তা ঠিক করা যায়, কিন্তু আত্মার রোগ নিয়ে আমরা কেউই ভাবিনা, কারণ এই রুগ্ন আত্মা চিৎকার দিয়ে বলছে আমাদের বাঁচাও, আমি সুস্থ হতে চাই, কিন্তু এই আত্মার করুণ ধ্বনি যেন দেহ রাজ্যের প্রতিটি অঙ্গের কাছে গিয়ে আবেদন করে, কিন্তু জৈবিক দেহ যেন নির্বাক দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

পৃথিবীতে আগমণের প্রথম দিন থেকে সেই আত্মা স্বপ্ন দেখে আসছে এক সুন্দর জীবনের, বেঁচে থাকবে বহু দিন ধরনীতে সুস্থভাবে, চারিদিক থেকে সে হবে সমৃদ্ধশালী, কিন্তু কালক্রমে সেই তৃষিত আত্মার ভুল ভেঙ্গে গেলো, সে যে স্বপ্ন দেখেছিল নিজেকে নিয়ে, বাস্তবে এসে সে যেন আজ দেখছে সবই মিথ্যা, যে দিকে তাকায় সে শুধুই অন্ধকার দেখে, কারণ পবিত্র আত্মাটিকে কলুষ সমাজের যত খারাপ চিন্তা, চেতনা, অন্যায়, অবিচার, মিথ্যা, অপসংস্কৃতিসহ যত সব পঁচা বাসি জিনিস পবিত্র জিনিসের পরিবর্তে তাকে খায়ানো হয়েছে, তাই আজ সেই পবিত্র আত্মা মুমূর্ষু হয়ে তার চলার গতি পথ পরিবর্তন করে চলেছে অন্ধকারের পথে, সে ভুলে গেছে যেন তার সঠিক পথে চলা, প্রভুর দেয়া হুকুমকে, সে আজ ভুল পথে পা বাড়িয়েছে। অন্যায় অত্যাচার সুদ ঘুষ, মারামারি, ইত্যাদিতে যেন সে মত্ত হয়ে চলছে,.... অথচ তার চলার পথ তো এটা নয়।

আত্মার খাদ্য হলো ভালো কাজ, ভালো উপদেশ, যিকির অর্থাৎ প্রভুর দেয়া নির্দেশ আর রাসূল (সা) এর দেখানো পথই হলো আত্মার খাদ্য, জীবনকে সৎ পথে পরিচালিত করা, যত কল্যানকর বিষয় আছে সবই আত্মার খাদ্য, আর এই খাদ্য যোগানে কেকে এগিয়ে..... আমাদের আত্মা আজ চিৎকার দিয়ে ডেকে ডেকে বলে আমাকে বাঁচাও, আমার তো মৃত্যু নেই, আমাকে মহাকালের পথে বেঁচে থাকতে হবে চিরকাল, আমার বেঁচে থাকার জন্য আমার পাথেহ সংগ্রহ করা দরকার, আমি যে শুণ্য ভেলা নিয়ে ভেসে চলছি...... আমাকে যত পারো ভালো কাজ দাও, ভালো আমল দাও, আমি যে কত তৃষ্ণাত্ব তা তোমাদেরকে বুঝাতে পারবো না। আমার প্রতি কি তোমাদের দয়া হয় না।

দেহ রাজ্যে আমার আর আপনার আত্মা আজ যেন এইভাবে করুণ আত্মনাদ করছে প্রতিদিন.... প্রতিনিয়ত..... আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন আপনার আত্মার সেই করুণ ধ্বনি? 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

চিন্তার খোরাজ জোগানো লেখা। এক কথায় ভালো লেগেছে। তবে সমৃদ্ধ হতে পারতো যদি কিছু দলীল প্রমাণ যুক্ত করা যেত।

পোস্টের মাত্র দু'লাইন দেখা যাচ্ছে প্রথম পাতায়। কারণ, প্রথম প্যারার পর দ্বিতীয় প্যারাটি এত বড় যে, যতটুকু প্রথম পাতায় দেখানো যায়, তার চেয়েও বড়। তাই দ্বিতীয় প্যারাটি ভাগ করে দিলে প্রথম পাতায় আরো কিছু লেখা দেখা যেত এবং পোস্টটি দেখতে ভালো দেখাতো।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)