সম্ভাবনার বাংলাদেশ [৯ম কিস্তি ]

 

[সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামল আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। এ দেশে রয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ। এ সম্পদ সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ। এসব সম্ভাবনার কথা নিয়ে এই বিশেষ রচনাটি আরটিএনএন এর পাঠকদের জন্য ধারাবাহিকভাবে লিখছেন সাইফ বরকতুলাহ । আজ প্রকাশিত হল এর ৯ম কিস্তি।]


১.পাম চাষ -১০ বছরে দেশ তিনশ বছর এগিয়ে যাবে
পতিত জমিতে পাম গাছ চাষ করে মাত্র ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ৩শ বছর এগিয়ে নেয়া সম্ভব। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের ভাগ্য বদলাতে আমাদের সামনে উজ্জলতর সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে পাম গাছ। একজন চাষি মাত্র এক বিঘা জমিতে পামগাছ চাষ করে বছরে আয় করতে পারবে কমপ ক্ষেদেড় লাখ টাকা। যা সাধারন এবং বর্তমান ধারার চাষের প্রায় ৩০ গুন বেশী। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে প্রতি বছরে ৩শ বছর বেশি এগিয়ে যাবে। পাম গাছ লাগানোর মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকার তেল রপ্তানী করা সম্ভব। আমরা যদি সাড়ে তিন কুটি পরিবার একটি করে গাছ লাগাই তা হলে বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানো সম্ভব। যার ফলে সহজেই আমদানী খাত থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যায়। পাম চাষের বিশেষ সম্ভাবনাসমুহ-- প্রতিটি গাছ থেকে বছরে পাঁচ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। পামচাষে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সম্ভব।

২. চুনারুঘাটে ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান
হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলা চুনারুঘাটের ইসলামপুর এলাকায় প্রায় ১০লাখ ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাম্পিংয়ের মাধ্যমে পেট্রোবাংলার উর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই গ্যাস প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ফলে চুনারুঘাটসহ গোটা হবিগঞ্জ জুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা।
জানা গেছে, বেশকিছু দিন ধরে ওই উপজেলাধীন রানীগাঁও ইউনিয়নের রানীগাঁও, ইসলামপুর, মনিপুর ও পারকুলসহ আরও কয়েকটি স্থানে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ চালাচ্ছিল পেট্রোবাংলার প্রকৌশলীরা। এক পর্যায়ে গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করেন তাঁরা। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড.হোসাইন মঞ্জুর এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল রহমানের উপস্থিতে ৬জুন রবিবার দুপুর প্রায় ১২ টায় ওই এলাকায় দু'টি বাম্পিংকরা  হয়। এই বাম্পিংয়ে প্রকৌশলীরা নিশ্চিত হন এখানে রয়েছে বিপুল পরিমাণ গ্যাস। পেট্রোবাংলার একটি সূ্ত্র ৭জুন সোমবার দুপুরে এই গ্যাস প্রাপ্তির বিষয় পুরোপুরি নিশ্চিত করে। পেট্রোবাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল রহমানের ধারণা এই কূপে ১০লাখ ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। পরে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসাইন মঞ্জুর জনতার উদ্দেশে বলেন, এই গ্যাস উত্তোলন শুরু হলে এলাকার বেকারদের চাকরি দিয়ে জীবিকার পথ নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, দ্রুত এই গ্যাস উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে ওই গ্যাস পাবার খবর ছড়িয়ে পড়লে চুনারুঘাটসহ হবিগঞ্জের সকল পেশার মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। ঘরে ঘরে গ্যাস পাবার প্রত্যাশা করছেন অনেকেই।

৩. বেগুন উৎপাদনের বিকল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবন
কীটনাশক ব্যবহার ছাড়া বেগুন উৎপাদনের বিকল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। গত ১০মে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে আয়োজিত মাঠ দিবসের আলোচনায় বক্তারা এ তথ্য জানান।

বিটি বেগুনের কার্যক্রমের ওপর এই মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফিরোজ আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ বজলুল হক মিঞা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম এম এ বি সিদ্দিক ও কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের উপ-পরিচালক জি এম আবদুল হাকিম।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিটি বেগুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়িত
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ড. শাহাবুদ্দিন আহমেদ, ড. সৈয়দ নূরুল আলম ও আ স ম মাহবুবুর রহমান খান।

কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা বেগুন চাষের প্রধান অন্তরায়। কৃষক এই পোকা দমনে বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক যথেচ্ছ প্রয়োগ করে থাকে, যা মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। কৃষি বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন বেগুন জাতে জিনের প্রবেশ ঘটিয়ে বিটি বেগুনের জাত উদ্ভাবন করেছেন, যা বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদনে সহায়ক হবে। মাঠ দিবসে কৃষকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা সরজমিন দেখানো হয়।


৪.রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় চা চাষের সম্ভাবনা উজ্জ্বল

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পাহাড়ে চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পাহাড় চা চাষের জন্য উপযুক্ত স্থান। শুধু প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা। রাঙ্গামাটি জেলার মানিকছড়ি, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, কাপ্তাই প্রভৃতি জায়গায় ছোট বড় অনেক পাহাড় রয়েছে। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অনেক পাহাড়ে বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এলাকার বিজ্ঞজনদের অভিমত ঐ সব বৃ শূন্য পাহাড়ে চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বৃক্ষ শূন্য পাহাড় গুলো চা চাষের জন্য উপযোগী। এখানে চা চাষের জন্য বিত্তশালী ব্যক্তিগণও এগিয়ে আসতে পারেন। চা চাষ হলে হাজার হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। ফলে পার্বত্য এলাকায় দারিদ্র সীমার নিচে বাস করা পাহাড়ি-বাঙ্গালি লোকজনের জীবনমান বৃদ্ধি পাবে। বিপুল অর্থ আয়সহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলার প্রায় সব পাহাড় টিলা বন-বনানীতে পূর্ণ ছিল। স্বাভাবিক ভাবে বন্য প্রাণীর পদচারনা ছিল এসব পাহাড়ে। নির্বিচারে কাঠ আহরণের ফলে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে ন্যাড়া পাহাড়। সিলেট ও মৌলভীবাজারের পাহাড়াগুলোতে যদি চা বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে অনেক বেকার লোকের কাজের সন্ধান ও মিলেছে। চা বাগান গড়ে উঠার কারণে পর্যটকের ভীরে সদা ভরপুর থাকে। সিলেট, মৌলভীবাজার ও অন্যান্য জায়গায় যদি চা বাগান গড়ে তোলা সম্ভব হয় তাহলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় সম্ভব। শুধু মাত্র প্রয়োজন সরকারী অথবা সেবরকারি উন্নয়ন সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা।

৫.নাটোরে এবার ৫০০কোটি টাকার রসুন বিক্রির সম্ভাবনা
বিনাচাষে রসুন আবাদ করে নাটোরের হাজার হাজার মানুষ হয়েছে স্বাবলম্বী। বদলে দিয়েছে মানুষের জীবনমান। এলাকায় ঘটেছে নীরব অর্থনৈতিক বিপ্লব। ১৯৯৫-৯৬মৌসুমে নাটোরের বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার কৃষকদের নিজেদের উদ্ভাবিত এ পদ্ধতি তাঁদের দিয়েছে ব্যাপক সফলতা। কৃষি বিভাগ আশা করছে, জেলায় এবার ৫০০ কোটি টাকার রসুন বিক্রি হবে।

বড়াইগ্রাম উপজেলার মানিকপুর গ্রামের লোকজন জানান, যাদের জমি নেই তাঁরা অন্যের জমি লিজ নিয়ে রসুন আবাদ করছেন। এঁদের ঘরে এখন থরে থরে সাজানো রয়েছে রসুন। উৎপাদনের সময় দাম একটু কম থাকে তাই দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাটে-বাজারে বিক্রি করা হয় এসব রসুন।

কোয়ালিটি অনুসারে এক মণ রসুন ২৬০০ থেকে ৩২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু রসুন কেনাবেচার জন্য এলাকায় তৈরি হয়েছে চারটি নতুন হাট। এসব হাটে এলাকার শত শত বেকার যুবক ব্যবসা করে উপার্জন করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বিনা চাষে রসুন চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক সহজে সরবরাহ পাওয়ায় জেলায় রসুনের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কৃষকদের উদ্ভাবিত বিনা চাষে রসুন উৎপাদন করতে কোনো চাষের প্রয়োজন হয় না।

৮ম কিস্তি

[ চলবে..]


তথ্যসূত্র : ১.ভোরের ডাক ২.প্রথম আলো ৩.নয়াদিগন্ত ৪.কালেরকণ্ঠ ৫.জনকণ্ঠ

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

অসাধারণ। কিন্তু বিসর্গে প্রথম থেকে পোষ্ট করলে ভাল হত।

-

"প্রচার কর আমার পক্ষ হতে, যদি একটি কথাও (জানা) থাকে।" -আল হাদীস

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)