মুখোশ ছেড়ে আপন ইহজাগতিক চেহারায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র

উনিশশো
বাহাত্তরে নতুন রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্রে কি বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র করার
প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে ? হয় নাই।

বাংলাদেশ
কি কোনোভাবেই একটি ইসলামী রাষ্ট্র (দার-উল-ইসলাম) ? না।

তবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে
কেন ? এতদিন তবু পড়েছিল ইসলামের মুখোশ। জোর করে পরিয়ে দেয়া হয়েছিল।
আইনত অবৈধভাবে।

এবার সুযোগ ছিল- নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি'রা এবার সুযোগ
পেয়েছিলেন; বৈধভাবে, সংসদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মুখোশ ছুড়ে ফেলে
রাষ্ট্রকে আসল চেহারায় ফেরানোর সুযোগ ছিল।

কিন্তু আসলে
দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জনপ্রতিনিধি নিয়ে আওয়ামি লিগ এবারও ভাবে নাই- যে
তারা ইসলামের মুখোশ খুলে ফেলে দিয়ে ইহজাগতিক ( সেকুলারিজম ) আদর্শে ফিরবে।
তারা বরং জাময়াতে ইসলামির মতো দলকে ঠেকানোর চিন্তা থেকে এটা চাইছিল।
আওয়ামি লিগ ভাবে নিশ্চয় যে, দেশের সব নাগরিকরা এটা চায় না। সে ভাবনা
থেকেই নিজেদের কাজটা চাপিয়ে দিল আদালতের ওপর। আদালতের তরফে সিদ্ধান্ত
আদায় করে নিল। যে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের।
(এখনো তাদেরই সংসদে বিল পাস করে আইন প্রনয়ন করে সংবিধান সংশোধন করতে হবে ।
তবু সিদ্ধান্তটা আদালতের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে বলে নাগরিকদের দেখানো হলো।
যেটা জরুরি তো ছিলই না। বরং আদালত এবং সংসদের উভয়ের জন্য অবমাননাকর এটা।)

সে
যাই হোক। কাজের কথা হলো। রাষ্ট্র আমাদের তার আসল চেহারায় ফিরেছে। যে
উত্তরাধিকার আমার বহন করে আসছি ইওরোপিয় শাসনের সূত্রে। যেই ক্রমশ ইহজাগতিক
( সেকুলার ) রাষ্ট্র আমাদের নাগরিকদের ওপর আছে এখনো। মাঝখানে সাতচল্লিশ ও
একাত্তরে শাসক বদল হয়েছে মাত্র। রাষ্ট্র কিন্তু তার বৈশিষ্ট্য বদল করে
নাই।

একটা স্বৈরাচারি শাসনামল সেই বৈশিষ্ট্য ঢেকে রাখতে যে মুখোশ
পরিয়েছিল, সেটা যথাযথ কর্তৃপক্ষ না হলেও, সংসদ না হলেও, বিচারকদের
মাধ্যমে হলেও, কাজের কথা হলো খুলে ফেলা হয়েছে মুখোশ। অষ্টম সংশোধনী মামলার রায়ে।

বাংলাদেশ একটি
ইহজাগতিক (সেকুলার) রাষ্ট্র, ছিল এবং এখনো আছে। ইওরোপিয় উপনিবেশিক শাসনামল
থেকে আজ পর্যন্ত।

এখন যদি কোনো নাগরিক বা নাগরিক গোষ্ঠি যদি অন্য
কথা বলতে চান, তবে সুযোগ আছে, ইহজাগতিক রাষ্ট্রের জনপরিসর বা পাবলিক
স্ফিয়ার অনেক খোলামেলা থাকার কথা। সেখানে কথা বলার সুযোগ আছে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.6 (5টি রেটিং)

সংবিধান সবসময় বাস্তবতার প্রতিফলন নয়। এটি আইডিয়াল পিকচার। বাস্তবতা সবসময় পরিবর্তনশীল।

আপনি বহুত হক কথাই বলেছেন

-

''দ্বীনের ভাব যেদিন উদয় হবে / সেদিন মন তোর ঘোর অন্ধকার ঘুচে যাবে''

এ দৃষ্টিকোনটিকে সবার সামনে আনার জন্য ধন্যবাদ। আসলে মুখোশ দিয়ে বিভৎস্য চেহারা লুকিয়ে কি লাভ, বরং সত্যিকারের চিকিৎসা দরকার যা ঘাগুলোকে সারিয়ে তুলে প্রকৃত সুন্দর চেহারা উপহার দেবে।

তার ্ও আগে শনাক্ত করেন যে, রোগীটা কে ? দেশ-রাষ্ট্র-সমাজ, মানুষ-ব্যক্তি-নাগরিক, ইসলাম-ধর্ম-ধর্মতত্ত্ব ইত্যাদি বিষয়ে আলাদা আলাদা করে নজর দিয়ে রোগী ঠিক করা দরকার নাই ? নয়তো কার ঘা সারাতে যেয়ে কার ভালো হাতটা কাটাকুটি করা হয় কে জানে !

-

''দ্বীনের ভাব যেদিন উদয় হবে / সেদিন মন তোর ঘোর অন্ধকার ঘুচে যাবে''

"বাংলাদেশ একটি ইহজাগতিক (সেকুলার) রাষ্ট্র, ছিল এবং এখনো আছে।"
এই কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। এ কথা তো বামপন্থীরা বলে। এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। বাংলাদেশে ইসলামের শিকড় যথেষ্ট গভীর এবং আইন করে এদেশকে সেকুলার বানানো যাবেনা।

জ্বি। কথাটা অমুক বলছে, কাজেই ভুল-- এমনতরো ফৈসালা নেয়া কি ঠিক ? কি বলছে সেটাই একটু বিচার করেন না কেন ব্রাদার !
(তবু মানলাম; কোনো বামপন্থ িযদি বলে- এই কাজ করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে, তখন না হয় বলেন- এটা ভুল। বামপন্থির বেহেস্ত দোজখের আক্কেল থাকে না বলেই লোকসমাজে কথা চালু আছে। কিন্তু এখানে তো হাশর নশর নিয়া আমি কিছু বলি নাই। কথা বলছি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের চরিত্র বা খাসলত বিষয়ে। এ বিষয়ে কি আপনার নারাজি আছে ব্রাদার ?)
আবারো বলি- কথাটা অমুক বলছে, কাজেই ভুল-- এমনতরো ফৈসালা নেয়া কি ঠিক ?

-

''দ্বীনের ভাব যেদিন উদয় হবে / সেদিন মন তোর ঘোর অন্ধকার ঘুচে যাবে''

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.6 (5টি রেটিং)