বাংলাদেশীদের প্রতি ব্যবহার @ গালফ এয়ার

মাসখানেক আগে দেশে আসছিলাম। যাত্রার অর্ধেকটা ছিল গালফ এয়ারে করে।

হিথ্রো থেকে বাহ্রাইন, আর বাহ্রাইন থেকে ঢাকা - দুই জায়গাতেই সেইম ক্যারিয়ার, এয়ারবাস ৩৪০। অথচ সার্ভিসে পার্থক্য আকাশ পাতাল। প্রথমটাতে পরিপাটি বিমান, পুরো প্রফেশনাল আপ্যায়ন (যেটা কিনা খুবই সাধারণ একটা বিষয়)।

অথচ বাহরাইন থেকে ঢাকায় যেটাতে আসলাম, সেটা পুরানো একটা বিমান। বাহরাইন এয়ারপোর্টে টার্মিনাল থেকে একটা বাসে করে প্লেনের সিড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেলো, যেটাতে কিনা হাতে গোনা কয়েক্টা মাত্র সিট। মোটামুটি সব যাত্রীই দাঁড়িয়ে গেলেন প্লেনের কাছে। তারপর বাস থেকে সবশেষে বের হয়ে যখন প্লেনে উঠলাম, বিশাল একটা ধাক্কা খেলাম - প্লেনের ভিতরে মরুভূমির গরম। জানা গেলো - প্লেন ছাড়লে নাকি এসি ছাড়বে... ওই মুহুর্তে আমি হাসবো নাকি কানবো, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আজব।

আর বাহরাইন এয়ারপোর্টে এসে যে টার্মিনালে চেকইন করলাম, সেটার অবস্থা আমাদের গাবতলি বাস টার্মিনালের মত। মিস-ম্যানেজমেন্টের চরম প্রদর্শনী সেখানে - বিশাল কিউ। অনবরত সিগারেট টানতে থাকা (যেটা কিনা নিষিদ্ধ) এয়ারপোর্টের কর্মকর্তাদেরকে দেখে মনে হলো ইউরোপ-আমেরিকায় এই কাজটা কেউ করলে মুহুর্তের মধ্যে চাকুরী চলে যেত।

মাঝখানে একটা কাউন্টারে সার্ভিসের জন্য ১০-১৫ দাঁড়িয়ে থাকার পরে যখন আমার টার্ন আসলো, তখন আমাকে জানালো হলো - পাশের কাউন্টারে যাবার জন্য। সেখানেও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর আর সহ্য করতে না পেরে সেই সার্ভিসের আশা বাদ দিলাম।

এইসব চরম বিরক্তি নিয়ে যখন ঢাকার পানে উড়লাম, তখন মোটামুটি ক্লিয়ার হলো কেন এই অবস্থা -  কারন, এই ফ্লাইটের মোটামুটি ম্যাক্সিমাম যাত্রীই হলো বিভিন্ন আরব দেশে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিক।

ফ্লাইট চলাকালে অবশ্য প্লেনের ভিতরে প্রচন্ড রকম সার্কাস হচ্ছিলো। অনেকের আচরণ দেখে আমার নিজেরই লজ্জা লাগছিলো। এই ধরণের প্লেনে যারা ফ্লাই করেছেন, কেবলমাত্র তারাই হয়তো ঠিক আঁচ করতে পারবেন - ব্যাপারটা কত ভয়াবহ।

কয়েক্টা নমুনা দেইঃ ওয়াশরুমের সামনে একজনের সাথে দেখা হলো, উনি বেশ গর্ব করে বলছেন - 'আমি তিনটা ডিনার করেছি'। একজনের খাবারে ওনার পেট ভরেনি, তাই উনি আরো দুইবার চেয়ে নিয়ে খাবার খেয়েছেন। তারপর পাশে একজন হঠাৎ মোবাইলে জোরসে ছেড়ে দিলেন হিন্দি গান। আর পায় কে, আশেপাশে গলা মেলানো শুরু করলেন কয়েকজন। Smiling আর প্লেনের ভিতরে গ্রুপে গ্রুপে দাঁড়িয়ে মানুষ গল্প করছে - এই বিরল দৃশ্যও প্রথম দেখলাম। বেচারী এয়ার হোস্টেসরা... এই ভিড় ঠেলে হাটতে গিয়ে তাদের অবস্থা কেরোসিন :)।

বারবার একটা কথাই খালি মনে হচ্ছিলো - নিজের স্বাক্ষারটা পর্যন্ত করতে জানে না, এই মাপের নিরক্ষর এইসব মানুষদেরকে কি একটু শিক্ষিত করে তারপরে বিদেশে পাঠানো যায় না? এতে করে তো আমাদের দেশের ভাবমূর্তিই উজ্জ্বল হবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

একবার আমার পি আই এ ভ্রমণেও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল।

-

সূর আসে না তবু বাজে চিরন্তন এ বাঁশী!

টিকেটের পিছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করার পর একটা কমফোর্টেবল জার্নি সবাই আশা করতেই পারে... তাই গায়ে লাগে বেশি Smiling

আপনাকে ধন্যবাদ।

আর প্লেনের ভিতরে গ্রুপে গ্রুপে দাঁড়িয়ে মানুষ গল্প করছে - এই বিরল দৃশ্যও
প্রথম দেখলাম।

সত্যিই বিরল অভিজ্ঞতা!

আমার জানা মতে ইয়ং ইংলিশম্যানরা বেশি উশৃংখল হয়। কিন্তু যতবার এদেরকে দেখেছি, তারাও অল্প সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে গল্প করে, রাস্তাও ব্লক করে না। সেইদিন সত্যিই প্লেনের ভিতরে হাটতে অনেক 'হিউম্যান জ্যাম' ফেস করতে হয়েছিল।  :)

একজন বাংলাদেশীর জন্য পুরো বাংলাদেশীদের বদনাম হচ্ছে এটা তাদের মাথায় আসেনা।যদি আসতো তাহলে এই ধরনের নোংরামী তার করতো না।

শুধু বিমানে না সব খানেই কিছু কিছু লোক আছে যাদের জন্য আজ বিভিন্ন দেশের মতো সোউদি আরবেও বাংলাদেশী হিসাবে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে।

ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্য।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)