পুরুষ নারীর কর্তা

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম
পুরুষ নারীর কর্তা

১মঃ-
সাধারণত আমাদের দেশে একটি কবিতা প্রচলন আছে যে, ‘সংসার সুখের হয় রমণীর
গুনে’ আমার মতে এমন কোন নর নারী নাই যারা এই মহান বাক্যটি জানেন না। তবে এই
কবিতায় ২য় আর একটি লাইন আছে যা সাধারণত আমরা জানিনা। লাইন টি হল ‘সুযোগ্য
পতি যদি থাকে তার সনে’। সুতরাং পুরু কবিতা টি হল-
“সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে
সুযোগ্য পতি যদি থাকে তার সনে”
তবে এই মহান কবিতাটির লেখক কে অথবা গায়ক কে তা আমি জানি না। হতে পারে কারু
তৈরী করা একটি ডাইলগ, যা ( বিষেশ করে পুরুষদের মাঝে ) বেশ জনপ্রিয়তা লাভ
করেছে।কিন্তু এই কবিতার ২য় লাইনটি জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি।মাসুদা সুলতনা
রুমী তার লেখা ‘সংসার সুখের হয় পুরুষ এর গুণে’ বইতে লিখেন,
“সংসার সুখের হয় পুরুষ এর গুনে
সুযোগ্য পত্নী যদি থাকে তার সনে”
সুতরাং যে যাই বলুক নর-নারী উভয় মিলে গড়ে তুলতে পারে একটি সুখি সুন্দর
পরিবার ও আদর্শ পরিবার আর যুদ্ধ সন্ত্রাস বিহীন সুন্দর একটি রাষ্ট্র।

২য়ঃ-
সংসারের অভিবাবক হল একজন পুরুষ। সংসার এ যেহেতু পুরুষ এর গুরুত্ত বেশি, সেহেতু সংসারটা সুখি রাখার দায়িত্ত ও তার উপর।
অনেক ক্ষেত্রে যখন পুরুষ তার উপর অর্পিত দায়িত্বটি সঠিক ভাবে পালন করেন না, টিক তখনই সংসারে সমস্যা দেখাদে।
পবিত্র কুর’আনে মহান আল্লাহতালা বলেন,
“পুরুষ নারীর কর্তা (কাওয়াম), এ জন্য আল্লাহ তাদের একজনকে অন্যজনের উপর
শ্রেষ্টত্ত দান করেছেন। আর এজন্য পুরুষ নিজের ধন সম্পদ ব্যয় করে। ( সূরা
নিসাঃ ৩৪)
কুর’আনের মূল শব্দ হচ্ছে ‘কাওয়াম’ এমন এক ব্যাক্তিকে কাওয়াম বা কাইয়েম বলা
হয়, যে কোন ব্যক্তির, প্রতিষ্ঠানের বা ব্যবস্থাপনার যাবতীয় বিষয় সঠিক ভাবে
পরিচালনা, তার হেফযত ও তত্ত্ববধান এবং তার প্রয়োজন সরবরাহ করার ব্যাপারে
দ্বায়িত্বশীল হয়। (তাফহীমুল কুরআন)
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন যে, পুরুষ হচ্ছে স্ত্রীর নেতা, সে স্ত্রীকে সোজা ও
ঠিক ঠাককারী, কেননা পুরুষ স্ত্রীর উপর মযর্দা বান। এই কারনেই নুবুওয়াদ
পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অনুরূপভাবে শরীয়তের নির্দেশ অনুসারে খলীফা
একমাত্র পুরুষই হতে পারে। রাসূল (সঃ) বলেন, ঐ সব কখনও মুক্তি পেতে পারেনা
যারা কোন নারীকে তাদের শাসনকত্রী বানিয়ে নেয়। [ সহীহ বুখারী ] ( তাফসীর
ইবনে কাসীর )
নারীর উপর পুরুষের শ্রেষ্টত্তঃ এই আয়াতে নারীদের উপর পুরুষদের শ্রেষ্টত্ত
কতৃত্ত ও ওহাবী বা আল্লাহ প্রদত্ত, তাতে পুরুষদের চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও কোন
রকম অর্জনের দখল নেই। এটা কেবল সৃষ্টি গত। পুরষকে যে শক্তি ,চেষ্টা-তদবীরের
ক্ষমতা, জ্ঞানের প্রশস্ততা, দৈহিক শক্তি এবং যোগ্যতা বিশেষ ভাবে প্রদান
করা হয়েছে। আর এই সব নিয়ামত নারীদের কে প্রদান করা হয় নি। এই কারণে
পুরুষদের কে এমন কত গুলো বৈশিষ্ট প্রদান করা হয়েছে যা নারীদের কে দেওয়া
হয়নি। যেমন নবুয়ত, ইমামত, হুকুমত বা রাষ্ট্র পিরিচালনা, বিচার ক্ষমতা,
বিচক্ষণতা, জিহাদ ওয়াজিব হওয়া, জুমা ওয়াজিক হওয়া, দুই ঈদে নামাজ, আজান,
খোতবা, জামাতে নামাজ, উত্তরাধিকারের অধিকৃত অংশ লাভ, একাধিক বিয়ে করার
ক্ষমতা, তালাক প্রদানের এখতিয়ার ইত্যাদি।
আর ২য় কারণ হল কসবী বা প্রচেষ্টা লব্ধ। আর তা হল এই যে,পুরুষ তথা স্বামী
নারী তথা স্ত্রীর মহর সহ যাবতীয় খরচ পত্র ভরণ পোষণ, খোর পোষ, বাসস্থান সব
প্রকার ব্যয় ভার বহন করে চলে, এই দুই কারণেই আল্লাহপাক নারীদের উপর পুরুষের
শ্রেষ্ঠত্ব, প্রাধান্য ও কর্তৃত্ব দান করেছেন। এই প্রাধান্যের কারনেই
প্রিয় নবী ( সঃ ) ইরশাদ করেছন, যদি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সেজদা
করার আদেশ দিতাম, তবে স্ত্রী লোককে আদেশ দিতাম যেন তার স্বামী কে সেজদা
করে। [ আহমদ, তিরমিযী, আবূ-দাউদ](তাফসীরে জালালাইন)

মহান আল্লাহ পুরুষকে কর্তা (কাওয়াম) এর দায়িত্ব পালনের জন্য পুরুষের ২টি গুণ হলঃ-
১। তাকে নারীর ওপর শ্রেষ্টত্ব দান করা হয়েছে।
২। পুরুষ নারীর জন্য নিজের ধন সম্পদ ব্যয় করে।
প্রবিত্র কুর’আনে আল্লাহতালা বলেন,
“ স্ত্রীদের ওপর পুরুষদের একটা বিশেষ মর্যদা আছে”। ( সূরা বাকারাঃ 228)
সুতরাং পুরুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে বলতে যা বুঝায় তা হল,
১। পুরুষ নারীর চাইতে অধিক শক্তিশালী।
২। তুলনা মুলক ভাবে তার উচ্চতা ওজন বেশী।
৩। সে নারীর তুলনাই অধিক সাহসী।
৪। তার কণ্ঠ স্বরে জোর বেশি।
৫। শারিরীক দুর্লতার পাশিপাশি নারী পুরুষের চেয়ে মানসিক দিক দিয়েও দুবর্ল।
৬। বয়স্ক নারীদের মধ্যেও কিছু সুলভ আচরণ দেখা যায় যা পুরুষ এর মধ্যে নেই।
৭। নারীর কণ্ঠ স্বর শিশু পুরুষ এর মত।
৮। জীবন ধারনের জন্য অর্ উপার্জন এর পুরুষ নারীর চেয়ে বেশি উপযোগী। ( মাসুদা সুলতনা রুমী )
আল্লাহ তালা বলেন,
নারীদের জন্য ঠিক তেমনি ন্যায় সংগত অধিকার আছে, যেমনি পুরুষদের অধিকার আছে
তাদের উপর, স্ত্রীদের ওপর পুরুষদের একটা বিশেষ মর্যদা আছে”, আর সবার উপর এ
আছেন আল্লাহর সর্বাধিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব এর অধিকারী, বিচক্ষণ ও জ্ঞানী। (
সূরা বাকারাঃ 228)
তবে আমাদের সমাজে পুরুষরা তাদের দ্বায়ীত্ব সম্পর্ক উদাসীন।
আবার পুরুষ এর মর্যাদা বিষয়ে কিছু জাল হাদীস দেখা যাই, যেমন,
১। স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর জান্নত।
২। স্বামীর অত্যাচারের বা মাইর পিটে যে স্থান এ দাগ পড়ে বা যখম হয় সেই স্থান টুকু জান্নাতে যাবে ইত্যাদি।
আল্লাহ তালা যেন আমাদের কে জাল হাদীস হতে বিরত তাকার তৌপিক দিক। ( আমিন )
৩য়ঃ-
স্বামীর দায়িত্ব কর্তব্য এবং স্ত্রীর অধিকার-
সন্তুষ্টি সহকরে মোহর লাভের অধিকার।
ভরণ-পোষন লাভের অধিকার স্বামীর সমার্থ অনুযায়ী।
সদ্ব্যবহার লাভের অধিকার অধিকার।
ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ আচরন লাভের অধিকার।
স্বামী স্ত্রীর যাবতীয় গোপনীয়তা রক্ষা করবে।
স্বামী সর্ব প্রকার অনৈতিক উশৃংখলতা থেকে বিরত থাকবে এবং যৌনতা ব্যাপারে কেবল স্ত্রীর উপর সন্তষ্টি থাকবে।
(আবদুস শহীদ নাসিম)

1. সন্তুষ্টি সহকারে মোহর লাভের অধিকারঃ স্বামী হিসাবে
স্ত্রীর উপর যেই অধিকার সৃষ্টি হয় তা মোহরনার বিনিময়েই।
মহান আল্লাহতালা বলেন,
-অার তোমরা স্ত্রীদের মোহরানা মনের সন্তোস সহকারে আদায় কর ( সূরা নিসাঃ04)
-তবে মোহরানা চুক্তি হয়ে যাবার পর পারস্পরিক সন্তোষের ভিত্তিতে যগি এর
পরিমান কম বেশি করে নাও তাহলে এতে কোন দোষ নেই। ( সূরা নিসাঃ24)
তোমরা নিজেদের স্ত্রীদেরকে খুশি মনে তাদের নির্ধারিত মহরানা দিয়ে দাও যা
দিতে তোমরা স্বীকৃত হয়েছ। তবে যদি স্ত্রী ইচ্ছা প্রণোদিত হয়ে তার সম্স্ত
মহর বা কিছু অংশ মাফ করে দে তবে তা করার তাদের অধিকার রয়েছে এবং সেই
অবস্থায় স্বামীর পক্ষে তা ভোগ করা বৈধ। নবী (সঃ) এর পরে কারও জন্য মোহর
ওয়জিব করা ছাড়া বিয়ে করা জায়েয নয় এবং ফাকিঁ দিয়ে নাম মাত্র মোহর ধার্য
করা ও বৈধ নয়। ( তাফসীর ইবনে কাসীর)
যার বিয়ে করতে আগ্রহী তারা মোহর দিয়ে বৈবাহিক পদ্ধতী দেওয়ার মাধ্যমে
নারীদের গ্রহন করবে। বিয়ে ছাড়া তাদের ইযযত আবরুকে সম্পদের মাধ্যমে ক্রয়
করার জন্য নয়। (তাফসীরে ফী যিলালিল কোরআন)
তবে আমাদের বর্তমান সমাজে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় হাতে গোনা কয়েক জন
ছাড়া প্রায় সব মহিলার মোহরনা থেকে বঞ্চিত। অনেকের ধারনা মোহরানা আদায় করতে
হয় না। এটা কাবিননামায় এমনিই লিখতে হয়। আবার অনেকেই মনে করে তালাক হলে
দিতে হয়।
মোহরানা নারীদের অধিকার । বিয়ের আগে মোহরানা ধার্য করার সময় স্বামী ও
স্ত্রীর উভয় পক্ষ যেমন সোচ্চার থাকে তেমনি বিয়ের পরে মোহরানা আদায় করার
জন্য উভয় পক্ষকে সোচ্চার তাকা উচিত।
রাসূল (সঃ) বলেছেন,
যে ব্যক্তি মোহরানার বিনিময়ে কোন নারীকে বিবাহ করল এবং তা পরিশোধ না করার
নিয়ত রাখল সে ব্যভিচারী। আর যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহন করল কিন্তু পরিশোধ এর
ইচ্ছা রাখলো না সে চোর [কানযুল উম্মাল] ( মাসুদা সুলতানা রুমী)
রাসূল (সঃ) বলেন,
যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীকে মোহরানা থেকে বঞ্চিত করে ও তার উপর অত্যাচার
চালায় তার উপর আল্লাহর ক্রোধ অবশ্যম্ভাবী। ( ইমাম অয্য্হাবী)

2. ভরণ-পোষন লাভের অধিকার স্বামীর সমার্থ অনুযায়ীঃ
স্ত্রী ও পরিবারের ভরণ পোষণ এর দায়িত্ব পুরুষের। সামর্থ অনুযায়ী পরিবারের
ভরণ পোষন এর দায়িত্ব পালন করা পুরুষের জন্য ফরজ। যদি সে পরিবারের ভরণ পোষন
এর দায়িত্ব পালন না করে তাহলে সে কঠিন গোনহগার হবে।
তবে পরিবারের ভরণ পোষণের কাজ একজন নারী চাইলে করতে পারে আবার নাও করতে
পারে। কারণ পরিবারের ভরণ পোষণ এর দায়িত্ব নিতে একজন নারী মোট এ বাধ্য নয়।
মহান আল্লাহতালা বলেন,
যাকে অর্থ -সম্পদ দান করা হয়েছে তার কর্ব্য সে সেই হিসাবেই তার স্ত্রীর –
পরিজনের জন্য ব্যয় করবে। আর যার আয় উপার্জন সীমিত সে ব্যক্তির উচিত সে
হিসাবেই অাল্লাহর প্রদ্ত্ত রিযিক থেকে ব্যয় করা। আল্লাহ প্রত্যেক এর উপর
তার সামর্থ অনুযায়ী দায়িত্ব অর্পন করে থাকেন , কষ্টের উপর স্বস্তি দেবেন। (
সূরা তালাকঃ07)
এখানে মুসলমানদের কে এই বলে সতর্ক করা হচ্ছে যে, আল্লাহ রাসূল এবং তার
কিতাবের মাধ্যমে যে সব আদেশ নিষেধ তাদের দেয়া হযেছে যদি তারা অমান্য করে
তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে কি পরিণতির সম্মুখীন হবে। আর যদি আনুগত্যের পথ
অনুসরণ করে তাহলে কি ধরনের পরুষ্কার লাভ করবে। ( তাফহীমুল কুরআন)
ইসলাম নারীকে এমন সম্মান মর্যাদা নিরাপত্তা ও অধিকার দান করেছে, যা এর আগে
কখনো একজন নারীর কপালে কখনো জোটেনি। এখন নারী শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর তাকে
কেউ মাটিতে জ্যান্ত পুতেঁ পেলে না। কেউ তার দিকে অবজ্ঞায় মুখ পিরিয়ে নেয়
না, চাই সে কুমারী কিংবা অকুমারী যাই হোক না কেন, এখন গৃহবধু হলে সে আইন
সংগত অধিকার এর চেয়েও অনেক বেশি অধিকার ও ময়র্দা সম্পন্ন। আর তালাক
প্রাপ্ত হলে ও তার অনেক অধিকার আছে , যার বিবরণ সূরা তালাক, সূরা বাকারা ও
অন্যান্য সূরাই রয়েছে। (সাইযেদ কতুব শহীদ)

3. সদ্ব্যবহার লাভের অধিকার অধিকারঃ নারী বা স্ত্রী
একজন পুরুষ হতে অবশ্যই সে সদ্ব্যবহারে লাভের অধিকারি।
মহান আল্লাহতালা বলেন,
নারীর সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন কর, অততপর যদি তাদেরকে অপসন্দ করো, তবে তোমরা
জেনে রেখো হয়ত তোমরা এমন জিনিসকে অপছন্দ করছো যাতে আল্লাহ তায়লা অনেক
কল্যান রেখেছেন। ( সূরা নিসাঃ 19)
রাসূল (সঃ) বলেন,
তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট সর্বোৎকৃষ্ট এবং যে নিজ পরিবারের সাথে স্নেহশীল আচরণ করে। ( তিরমিযী)

4. ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ আচরন লাভের অধিকারঃ একজন
স্ত্রী তার স্বামীর কাজ হতে ন্যায় ও ইনসাফ পূর্ণ আচরণ লাভ করবে। বিশেষ করে যদি একএর অধিক স্ত্রী থাকে।
মহান আল্লাহতালা বলেন,
স্ত্রীদের মধ্যে পুরোপুরি ইনসাফ করা তোমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তোমরা চাইলে ও
এই ক্ষমতা তোমাদের নাই। কাজেই এক স্ত্রীকে একদিকে ঝুলিয়ে রেখে অন্য
স্ত্রীর প্রতি ঝুঁকে পড়বে না। ( সূরা নিসাঃ129)
এই আয়াত থেকে কেউ এ সিদ্ধান্ত পৌঁছেছেন যে, কুরআন একদিকে আদলের শর্ত
সহকারে একাধিক বিয়ের অনুমতি দে আবার অন্য দিকে অসম্ভব গন্য করে এই অনুমতি
বাতিল করে দে। কিন্তু এ ধরনের কোন সিদ্ধান্ত গ্রহনের কোন অবকাশ এই আয়াতে
নেই। কুরআন যদি কেবল এতটুকু বলে ক্যান্ত হতে যে, তোমরা স্ত্রীদের মধ্যে আদল
কায়েম করতে পারবেনা। তাহলে উপরোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহনের সুযোগ থাকত। কিন্তু
এর পরপর এই বলা হয়েছে, কাজেই এক স্ত্রীর প্রতি সম্পূর্ণ রূপে ঝুঁকে পড় না। (
তাফহীমুল কুরআন)
তবে তোমরা যদি মনে কর ইনসাফ করতে পারবে না তাহলে একাধিক বিয়ে কর না।
মহান আল্লাহ তালা বলেন,
হ্যাঁ তোমরা যদি স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করার ব্যাপারে আশংকা হয়, তবে কেবল একজন মাত্র স্ত্রী রাখবে। (সূরা নিসাঃ 03)

5. স্বামী স্ত্রীর যাবতীয় গোপনীয়তা রক্ষা করবেঃ এখানে
স্বামী স্ত্রী কে পরস্পরের পোশাক বলা হয়েছে।
মহান আল্লাহ তালা বলেন,
তারা হচ্ছে তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা হচ্ছ তাদের জন্য পোশাক। ( সূরা বাকারাঃ 187)
পোশাক যে ভাবে মানুষের শরীরের সাথে মিশে থাকে এবং তাকে ঢেকে রাখে বইরের
ক্ষতিকর বস্তু হতে হেফাজত করে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্বামীর ও স্ত্রীর
জন্য এই পোশাক শব্দ ব্যবহার এর মধ্যমে তাই বুঝাতে চেয়েছেন। ( মাসুদা
সুলতানা রুমি)
পোশাক ও শরীর এর মাঝকানে যেমন কোন পর্দা বা আবরণ থকতে পারে না এবং উভয়ের
সর্ম্পক ও সম্মিলন হয় অবিচ্ছিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য, ঠিক তেমনি তোমাদের ও
তোমাদের স্ত্রীদের সর্ম্পকও। ( তাফহীমুল কুরআন)
6. স্বামী সর্ব প্রকার অনৈতিক উশৃংখলতা থেকে বিরত
থাকবে এবং যৌনতা ব্যাপারে কেবল স্ত্রীর উপর সন্তুষ্টি থাকবেঃ ইসলাম
দাম্পত্য জীবনে স্বামী স্ত্রীর বৈধ সর্ম্পক এর ব্যাপারে একে অপরের প্রতি
দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হবার নির্দেশ দে এবং তাদের ব্যাপারে গোটা
মানব জাতির আমানতের ব্যাপারে লক্ষ রাখে আর সে আমানত হচ্ছে, নতুন প্রজন্মকে
সঠিকভাবে লালন পালন করা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যাতে তারা উন্নত মানব জীবনের
চাহিদানুসারে নিজেরা বেড়ে উঠতে পারে। ( সাইয়েদ কুতুব শহীদ)
স্বামীর উপর একজন স্ত্রীর একটি বড় অধিকার হল, স্বামী সকল ধরনে অনৈতিক
কার্যকলাপ হতে বিরত থাকবে এবং যৌনতার ব্যাপারে শুধুমাত্র স্ত্রীর উপর
নির্ভর করবে।
উপসংহার ঃ- ইসলাম নারীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এতো সব আইন রচনা এ জন্যে
করেননি যে, আরব দেশে ও পৃথিবীতে অন্যান্য দেশে নারীরা তাদের মানবেতর অবস্থা
উপলব্ধি করে বিক্ষুদ্ধ ছিলো অথবা নারীদের অবহেলিত দেখে পুরুষরা অসন্তুষ্ট
ছিল, কিংবা নারী অধিকার সংরক্ষণ এর জন্য কোনো আন্ত আরব বা আর্ন্তজাতিক নারী
সংস্থা সক্রিয় হয়ে উঠেছিল, কিংবা নারীরা কোন পার্লামেন্ট সদস্য হয়েছিল বা
নারীদের পরিস্তিতি উন্নয়নের কোন আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এটা ছিল পৃথিবী বাসীর
জন্যে আল্লাহর দেওয়া অবাচিত বিধান ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ন্যায়বিচার। এটা ছিল
আল্লাহর ইচ্ছার প্রতিফলন যে, মানুষের জীবন এ বিরাজমান মানবেতর অবস্থা
উন্নতি হোক,একই মানব সত্তা থেকে উদ্ভুত দম্পতি মানব সুলভ মর্যদা ও অধিকার
অর্জন করুক।
কারণ ইসলাম ইচ্ছে আল্লাহর মহান মহিমান্বিত দ্বীন। ( সাইয়েদ কুতুব শহীদ)

….end…..

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)
লাইনগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে গেছে। ইনপুট ফরমেট পরিবর্তন করে দেখুন। তিনটি ফরমেটের মধ্যে শেষেরটি হয়তো আপনার এ পোস্টের জন্য উপযোগী হবে। এতে আপনার লেখাটিও সুন্দর গোছানো হবে, আর ব্লগের পেজটিও লম্বা হবে না।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)