Read attentively there is a message in this passage.

বলছিলাম, এই সুফী সাধকরা ইসলামের ভারসাম্য নষ্ট করে দিলেন। কেমন কোরে সেইটা এখন বিবেচ্য। আল্লাহ ও তাঁর রসুল (দঃ) জাতির সামনে যে লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেনএই আধ্যাত্ম সাধকরা সেটা বদলিয়ে নতুন লক্ষ্য স্থাপন করলেন। সেটা হলো বিশেষ প্রক্রিয়ায় সাধনা করে, আত্মাকে উন্নত করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ এবং তা করতে ঐ বিশেষ প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপই হলো লোক-সান্নিধ্য বর্জন করে নির্জনতা বেছে নেয়া। অর্থাৎ রসুলাল্লাহ (দঃ) তাঁর জাতির, উম্মাহর যে বহির্মুখী সংগ্রামী চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন তার ঠিক বিপরীতমুখী- অন্তর্মুখী। অন্যান্য ধর্মের আধ্যাত্মিক সাধকরা তাদের সাধনার প্রক্রিয়ার মাল-মশলা তাদের যার যার ধর্মগ্রন্থগুলি থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। এ ধর্মের সুফী-সাধকরাও কিছু কিছু মাল-মশলা কোরান-হাদীস থেকে খুঁজে বের করলেন। খুব বেশী কিছু পেলেন না, কারণ এ জীবন-ব্যবস্থা সংগ্রামী, নির্জনে বসে সাধনার কোন ব্যবস্থা এতে নেই। কিন্তু যেহেতু এ দ্বীন ভারসাম্যযুক্ত, দেহ ও আত্মা উভয়ের উন্নতির ব্যবস্থা এতে আছে, কাজেই আত্মার দিকের যেটুকু আছে ঐ টুকুকেই তারা আলাদা করে নিয়ে নিলেন এবং তাতে যোগ করলেন কিছু প্রক্রিয়া, যা তারা অন্যান্য ধর্মের প্রক্রিয়া থেকে নিলেন ও কিছু নিজেরা তৈরী করে নিলেন। ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেল।

এই দ্বীনে মানুষের আত্মার উন্নতির যে অংশটুকু আছে তাকে যদি মা’রেফাত বলে ধরে নেওয়া যায় তবে এ দ্বীন হলো শরিয়াহ ও মা’রেফাতের মিশ্রণে একটি পূর্ণ ব্যবস্থা। মানুষ এক পায়ে হাঁটতে পারে না, তাকে দু’পায়ে ভারসাম্য করতে হয়। দ্বীনেরও দু’টি পা। এক পা শরিয়াহ্ অন্য পা মা'রেফাত। এই দুই পায়ের সহযোগিতায় একটা মানুষ ভারসাম্য রেখে হাঁটতে পারে। একটা জাতির বেলায়ও তাই। ঐ দুই পায়ের একটা বাদ দিলে বা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে ঐ জাতিও আর হাঁটতে পারবে না, তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যেও পৌঁছতে পারবে না। সুফী-সাধকরা এই দ্বীনের মারেফাতের পাটাকে আঁকড়ে ধরলেন। অবশ্য শারিয়াহর পায়ের যেটুকু ব্যক্তিগত পর্যায়ের সেটুকু আংশিকভাবে গ্রহণ করলেন। কিন্তু এ দ্বীনের শরিয়াহয় প্রধানতঃই জাতীয়, রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক, শিক্ষা ও দন্ডবিধিই এর প্রধান ভাগ। এই প্রধান অংশটুকুকে বাদ দিয়ে শুধু ব্যক্তিগত শরিয়াহ ও আত্মার উন্নতির অংশটুকু গ্রহণ করে নির্জনবাসী হয়ে সুফীরা এই দ্বীনের একটা পা কেটে ফেললেন। ফলে তাদের নিকট এ দ্বীন স্থরিব হয়ে গেল, চলার শক্তি হারিয়ে ফেললো। যে জিনিসের গতি নেই সেটা মৃত, গতিই প্রাণ। এক পা হারিয়ে এই জাতি চলার শক্তি হারালো তারপর ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলো। যে জাতি শরিয়াহ আর মারেফাতের দু’পায়ে হেঁটে আরব থেকে বের হয়ে আটলান্টিকের তীর আর চীনের সীমান্ত পর্যন্ত গেল, সে জাতি আজ ফকিহ, মুফাসসির আর সুফীদের কাজের ফলে চলার শক্তি হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলো।

আপনার রেটিং: None

সত্যই বলেছেন... একেবারে মূল জিনিসটি তুলে ধরেছেন... শুকরান জিদ্দা।

Rate This

আপনার রেটিং: None