ভাল বন্ধু হয়ে!! ( ধারাবাহিক গল্প ৪ পর্ব)

পরশের থেকে জেনে ভাবি অনেক অনেক কিছু বুঝতে পেরেছে, বুঝতে পেরেছে
জীবনের মানে, বুঝতে পেরেছে দুনিয়ার জীবনের পরেও আরেক জীবন আছে সেখানে থাকতে
হবে অনন্তকাল! দুনিয়ার আসবাব দুনিয়াতেই থাকবে আর সাথে যাবে সুন্দর আখলাক
এসব জেনে জেনে রোকেয়া ভাবি তার জীবনের গতিই পাল্টে ফেলল!

যে রোকেয়া
জর্জেটের শাড়ি পরতো নাভীর নিচে সেই রোকেয়া আজকে হাতে পায়ে মোজা পরে বাহিরে
যায়! যে রোকেয়া পার্লার থেকে সেজে বিয়ের দাওয়াতে যেতো সেই রোকেয়া এখন
জ্ঞানার্জনে সময় ব্যায় করে! যে রোকেয়া আড্ডা বাজি করে সময় অপচয় করতো সেই
রোকেয়া আজ বুঝেছে সময়ের মূল্য! বুঝেছে জীবনের দাম!

রোকেয়া ভাবি যার
সহযোগীতায় আল্লাহকে চিনতে পেরেছে। বুঝতে পেরেছে নিজের জীবনের লক্ষ ও
উদ্দেশ্য, প্রার্থনার সময় মন ভরে দোয়া করে সেই আপন মানুষটির জন্য সে
মানুষটি আর কেউ নয় পরশ। পরশের জন্য দোয়া হে আল্লাহ পরশের কারনে আমি তোমাকে
চিনতে পেরেছি আমি তো পরশকে কিছু দিতে পারবোনা তুমিই তাকে উত্তম প্রতিদান
দিও দো-জাহানে!

ওর জন্য উত্তম বরের ব্যবস্থা করে দিও ওর মনের মত
করে! যেন ও এজাহানেই পায় জান্নাতের সুখ! আর আখেরাতেও পরশের জন্য উত্তম কিছু
রেখো যাতে ওখানেও সে চির শান্তিতে থাকে। আপন ভাবি না হলেও ভাবির সাথে
পরশের বোনের মত সম্পর্ক হয়েছিল! কিন্তু পড়শী সবার চোখে যেন কাঁটা হল পরশ আর
রোকেয়া ভাবির সম্পর্ক!

পরশ ভাবিকে কিছু ইসলামই বইও কিনে দিলো টাকা
ভাবিই দিয়েছিল! মানুষের মাঝে একটি শ্রেনী আছে যারা কারো ভালো দেখতে
পারেনা। কারো ভালো কিছু হলেই তারা ঈর্ষার অনলে জ্বলে পুঁড়ে ছাঁই হয়। আর
পিছু লেগে থাকে অপবাদ দিতে। কেউ ভালো হতে চাইলেও মানুষের অপব্যবহারের কারনে
ভালো হয়েও টিকতে পারেনা।

পরশ রোকেয়াকে সঠিক পথে আনতে সহযোগীতা
করলেও পরশ মানুষের থেকে খারাপ ব্যবহারই পেলো। পরশের সাথেও এর বিপরীত
হলোনা। তাকেও অপবাদ দেয়া হলো। রোকেয়ার সাথে মেলামেশার কারনে অনেকে পরশকে
অপবাদ দিলো এই বলে যে, বিবাহিত, কয়েক সন্তানের মায়ের সাথে একটি অবিবাহিত
মেয়ের কিভাবে সম্পর্ক হয়? সম বয়ষী ছাড়া কেউ কারো সাথে সম্পর্ক করে?

কেন
পরশ এত বড় ভুল করতে গেলো? পরশ জ্ঞানী ও গুণী মেয়ে সে কেন নিজের পায়ে নিজেই
কুঠার মারলো? আর কেউ কেউ পরশের মাকে বলল তোমার মেয়ে এতদিন ভাল ছিল এখন
খারাপ হয়ে যাবে কারন রোকেয়া সবসময় স্বামীর সাথে ঝগড়া করে তার সংসারে
অশান্তি থাকে সবসময়! রোকেয়ার সাথে মিশলে তোমার মেয়েকে ভাল জায়গায় বিয়েও
দিতে পারবেনা!

এসব শুনে অনেককিছু ভেবে পরশের মা পরশকে বলেছিল পরশ
তুই আর রোকেয়ার ঘরে যাবিনা মানুষে অনেক কথা বলাবলি করে তুই রোকেয়ার ঘরে যাস
বলে, পরশের মাকে কে কি বলেছে তা বলল পরশকে! পরশ তার মাকে বুঝালো মা কেউ
যদি কোন পথে যাবে তা জানে এবং সে রাতে সফর করে তবে কি সে রাতের কারনে পথ
ভুল করবে?

আর যে পথ চেনে না সে যদি দিনের বেলায় সেই পথে যায় তার পথ
ভূল হওয়াটা যুক্তিযুক্ত কিনা! মা বলল যদি তার বাস্তবই পথ চেনা থাকে তবে
অন্ধাকারে সে ভয় পেতে পারে কিন্তু ভুল করতে পারেনা! আর না চিনলে তো দিনের
বেলাতেও ভুল করা স্বাভাবিক! পরশ বলল মা আমি পথ চিনি আর চেনা পথ থেকে আমি
কখনো হারাবোনা মা ইনশা-আল্লাহ!

পরশ তার মাকে বলল হঠাৎ করে তো
একেবারে যাওয়া বন্ধ করা যাবেনা আস্তে আস্তে করতে হবে! আর ইনশা-আল্লাহ আমি
তোমার কথা রাখবো মা! মায়ের কথা মত রোকেয়ার সাথে মেলা-মেশা কমিয়ে দিল পরশ!
পরশ যেখানে মাদ্রাসা থেকে আসলে ভাবির ঘরে আগে যেতো সেখানে ভাবি এসে কয়েকবার
খোজ করে পরশ আসেনি? পরশ কেন এখন আমার এখানে আসেনা? কি পাইছে পরশ?

ওকে
পেলে কেন আমাকে ফাঁকি দিচ্ছে তার খবর আমি বের করবো। কে নিশেধ করেছে আমার
ঘরে ওকে যেতে আমি জানবোই নয়তো কেন পরশ এতটা বদলে গেছে? চাচি আমি আবার আসবো
তুমি তোমার পরশরে কইয়া দিও রোকেয়ার পরশকে ছাড়া চলবে না। চলবে না। চাচি তুমি
কিন্তু পরশ বাসায় আসলেই আমার কাছে পাঠাইবা। নয়তো তোমার মা বাপেরে ইচ্ছামত
বকাবকি করমু বলেই রোকেয়া চলে যায় নিজের ঘরে।

চলছে....................।

বিষয়: সাহিত্য

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)