গরীবের মেয়ে (বিদেশীর বউ ৪র্থ পর্ব)

আগের পর্বের পর
মা জানান ইসরা তো নানার বাড়িতে। সে বলে মা আজকে কিছু বিষয় জানতে চাইবো বলবেন? মা বলে বল, সে বলে যায়; মা আপনাদের বউ কি বেপর্দা চলে? মা বলার আগেই বাবা বলেন নাঃ নাঃ সে কখনো বেপর্দা চলেনা এমন কি সে তোর ছোট ভাইয়ের সামনেও আসেনা। সে জানতে চায় আপনাদের কথাকে অমান্য করে? দুজনেই বলে নানা সে তা করেনা। আপনাদেরকে অসম্মান করে? নানা তা ও করেনা। তাকে যে মোবাইল দিয়েছি সেটা দিয়ে কি কারো সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করে? বাবা বলেন; নাহ মোবাইলে সে সময় ব্যয় করেনা। বরং কাজের শেষে সন্ধ্যায় বা ফজরের পরে বসে বসে কোরআন তেলোয়াত করে, আমি মাঝে মাঝে গিয়ে শুনি আমার মায়ের তেলোয়াত। বাবা আরো বলেন এমন কি আমি এখনো দেখিনি আমার বউমা টিভির ঘরে এসে কখনো বসতে। আমি এটা নিয়ে আমার বন্ধু মহলে খুবই গর্ববোধ করি যে, আমার বউমা কখনো টিভির ঘরে (ড্রয়িং রুমে) এসেও বসেনা।

তারা শুনে হতবাক হয়। বলে এ যুগেও এমন মেয়ে আছে? তোমার মুখে না শুনলে বিশ্বাসই হতোনা। আমাদের বউমা তো এযুগের সেরা বউমা। মা তখন মুখটা কালো করে চুপসে যায়। বাবা সেটা খেয়াল করে তুমি সবসময় একই রকম থাকলে। পরিবর্তন তোমার হবেনা কোনদিন। এরপর বাবা জানতে চায় কেন রে বাবা আজকে এতকিছু জানতে চাইছিস? সে বলে বাবা; সে যেহেতু আপনাদের কারো অসম্মান করেনা, আপনাদের কথাকে অমান্য করেনা আপনাদের যত্ন করে তবে আমাদের সকলেরও উচিৎ তার দিকে খেয়াল রাখার। কারন সে অন্য একটা পরিবার ছেড়ে এসেছে, সে এখানে তার পরিবারের মতো আদর ভালোবাসা পেলে দেখবেন কখনো আর এবাড়ি ছেড়ে যেতে চাইবেনা। আর আমি আপনাদের পরামর্শ চাই, আপনারাই বলুন, আমি দুরে থাকি বলে আপনাদের বউ ও আমার মেয়ের কখন কি চাহিদা দেখিনা। পূরন করতেও পারিনা। যদিও আপনারা সবকিছু সঠিক ভাবেই আদায় করছেন জানি, আর সেও কখনোই বলেনি তার কোন চাহিদার কথা। তারপরও তাদের আলাদা করে কিছু খরচ দিতে চাই, আপনারা বলুন তা কেমন হবে?

মা সাথে সাথেই বলে দেয় বাবা ভুলেও তু্ই এই কাজ করিস না। তবে অকালে কপাল খাবি। তোর কপাল পুঁড়বে। দেখছিস না সমাজের অবস্থা? স্বামী বিদেশ আর তার নামে টাকা পয়সা থাকায় সে অপরের হাত ধরে চলে যায় বিদেশীর বুকে ছুরি মেরে। তোর ইচ্ছা বাবা আমরা এসব জানিনা। শেষে আমাদেরকে দোষারোপ করতে পারবিনা। তুই যা ভালো বুঝিস কর। এবার সে বলে মা; আপনার এত ভয় কেন? পৃথিবীর সবাই কি সমান? সবাই কি অমানুষ? খারাপ চরিত্রের কোটি মানুষের মাঝেও কিছু ভালো ও উত্তম চরিত্রের মানুষ আছে যদিও তাদের সংখ্যা খুবই কম। তবুও আমি বলবো এবার আমার তাদেরকে কিছু খরচ দেয়া উচিৎ। আমি আপনাদেরকে না জানিয়েও তা করতে পারতাম কিন্তু করিনি। কারন পরে জানতে পারলে আপনারা মনে কষ্ট পাবেন। এবার বাবা বলেন; হাঁ বাবা তুই বউমাকে খরচ দে আমরা কিছুই বলবোনা কারন আমি বউমার যখন যা চাহিদা তা সময় মতো এনে দিতে পারিনা। আর আমার বউমা ও কখনো বলেনি বাবা এটা এনে দিতেই হবে। আসলে আমরা বউয়ের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারিনি। তুই যত খুশি খরচ দে।

বাবা তো বাবার মতামত বলেই দিলেন সমস্যা থেকে গেলো গোঁড়ায় মা উল্টো হয়ে রইলেন। শেষে আবারও মাকে বললেন; মা আপনার মতামতটা বললে ভালো হতো। মা সরাসরি বলে দিলেন; তোকে আগেও বলেছি এখন আবারও বলছি তুই বউকে বেশী সুযোগ দিচ্ছিস আর সে এর অপব্যবহার করে চলে যাবে শেষে আমার নাতনীর হবে যত কষ্ট। তোর এই সিদ্ধান্তের কারনে তোর কপালে আরেক বিয়ে আছে বলে দিলাম। ছেলে বলে; মা আপনি আপনার বউকে প্রায় চার/পাঁচ বছর দেখে আমাকে এক রকম জোর করেই বিয়ে করিয়েছেন কিন্তু এখন কেন সে বউ আপনার কাছে এত কাঁটার মতো মনে হচ্ছে? মা বলে অতশত বুঝিনা তুই কোন খরচ দিতে পারবিনা। ছেলে বলে; মা আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের দেখার দায়-দায়িত্ব ছিলো আপনাদের উপর ফরজ এখন আমরা বড় হয়েছি, বিয়ে করেছি আমার অধিনস্ত হয়েছে আমার স্ত্রী এবং আমার সন্তান। আপনাদেরকে দেখা যেমন আমার উপর কর্তব্য তেমনী আমার পরিবারের দেখা-শুনা করাও আমার উপর ফরজ। আর সবকিছুর পরে তো আল্লাহ একজন আছেন যিনি হিসাব নেবেন। আমি তার ভয়েই বলছি, আমার এখন থেকে আমার পরিবারের জন্য আলাদা খচর দিতে হবে আপনি মন খারাপ করবেন না মা। তোকে তোর বিয়ের পর পরই বলেছিলাম আমার অজান্তে বা গোপনে কখনোই বউকে একাউন্ট খুলে দিবিনা। এতদিন দিসনি তাই সবকিছু ভালোই ছিলো এখন যখন হাত খরচ দিবি বলছিস; তখন তোর কপালে আমাবশ্যার অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি আমি।

মা এভাবে বলবেন না। আমি আপনার কথা মানি মানতে চেষ্টা করি কিন্তু এখানে তার হক্ব বলে কথা। আর বান্দার হক্বের ব্যপারে আল্লাহর কাছে জবাব দিহিতা করতে হবে আর এব্যপারে আমি আগে না বুঝে অনেক ভুল করেছি, আপনাদের বউয়ের উপরে অনেক জুলুম হয়ে গেছে। অনেক গুনাহ হয়েছে আমার। দয়া করে আপনি আমাকে আর গুনাহ করতে বলবেন না। মা পুরো বিষয়টাকে উল্টো বুঝে বলে; বুঝেছি ঐমাদ্রাসায় পড়ুয়া মেয়ে তোকে তাবিজ করেছে। ছেলে বলে, মা আপনি কি বলছেন এসব? মা বলে হাঁ আমি ঠিকই বলছি, নয়তো তুই এমন হয়ে গেলি কেন? তুই তো আগে আমার কথাকে বেশী মূল্যায়ন করতি কিন্তু আজকে তো তোর মুখ থেকে বউয়ের কথাই সব শুনছি। তুই যা ভালো বুঝিস কর। আমাকে আর বলতে হবেনা। বউই তোর সব তার কথাই শোন। ছেলে; মা আপনি ভুল বুঝছেন। বাবাও তাকে বুঝাতে চাইলেন। মা কারোর কথাই আর শুনলেন না। উল্টো বুঝে আরেক ঘরে চলে গেলেন। তখন বাবা বলল, বাবা তোর মাকে বুঝিয়ে লাভ নেই। তুই যা ভালো মনে করিস, কর। বাবা আপনি মাকে বুঝাতে চেষ্টা করেন। আমি পরে আবার কথা বলবো বলেই রেখে দেয়।

ভাবতে থাকে নিরবে কি করতে চাইলাম আর কি হলো? মা তো একে বারেই উল্টো বুঝলো ভেবে পায়না কি করে সবকিছুর সমাধান হবে? আসলে আমার বিয়ে করাটাই ঠিক হয়নি। বিয়ে করে এদিকে মাকে বুঝাতে পারিনা ওদিকে স্ত্রীর যে হক্ব তো আদায় করতেই পারছিনা তার উপর আবার বাহ্যিক চাহিদাও মেটাতে করতে পারছিনা। কি যে কঠিন অবস্থা হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করেন আর সাহায্য করেন। আরো কয়েকদিন পর মেজু ভাইকে কল করলে তার কথা বার্তায় বুঝলাম তারা সবাই রেগে আছে আমার উপর শেষে মেজু ভাইকে বললাম এখন আমাকে বুঝবিনা যখন বিয়ে করবি তখনই কেবল বুঝতে পারবি বাস্তবতা। এভাবে আরো কয়েকদিন যাওয়ার পরে মার মোবাইলে কল করলাম; রিং হতে হতে নো আনসার লেখা উঠে মোবাইলের স্ক্রীনে। কিন্তু কেউ মোবাইল রিসিভ করেনা। কি মুশকিল?

কেউ মোবাইল ধরেনা কেন? তাহলে কি মা এখনো ভুল বুঝে আছে? কল দেয় বাবার মোবাইলে বাবা রিসিভ করে খোজ-খবর নেয়। আর জানিয়ে দেয় যে, আমাদের নাতনী শুক্রবারে আসবে আমাদের বাসায়। ছেলে জানতে চায় মা মোবাইল ধরেনা কেন? বাবা তোর মায়ের কথা বাদ দে; সে তো সারা জীবন আমাকে জ্বালিয়েছে, এখন আমার বউদেরকে জ্বালাচ্ছে। তোরা তোদের বুঝ মতো কাজ কর। আব্বা; কি বলবো মনে হচ্ছে আমি ভুলই করলাম বিয়ে করে। আমার বিয়ে না করার সিদ্ধান্তই ঠিক ছিলো। সে এটা বলেই মোবাইল রেখে দেয়। শুক্রবার বিকেলে লাবন্য সময়মত চলে আসে শশুরালয়ে। এসেই মেসেজ পাঠায় তার স্বামীর  কাছে, আমরা ভালো ভাবে এসে পৌছেছি আলহামদুলিল্লাহ! আমি এখন তোমার ঘরে তোমার বাড়িতে। ইতি উম্মে ইসরা।

আমার ওয়েব সাইট থেকে পড়ুন

প্রথম পর্ব পড়ুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন

তৃতীয় পর্ব পড়ুন

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

সালাম

লাবন্যর  কষ্ট  তাহলে   কিছু  কমছে ?  আলহামদুলিল্লাহ ।

বাস্তবের  লাবন্যরা  যেন   সুখে  থাকে , আমীন

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)