শির্কের পরিণতি:

শির্ক হল সবচেয়ে বড় অপরাধ, ঈমান বিনষ্ট কারী, জান্নাত হারামকারী ও জাহান্নাম অপরিহার্যকারী। একজন ঈমানদারের জন্য এর চেয়ে আর কোন বড় পরিণতি হতে পারে না। বিষয়টিকে আরো পরিস্কার করার জন্য কুরআন ও হাদীসের আলোকে সংপ্তিভাবে নিম্নে আলোকপাত করা হলঃ

১। কোন ব্যক্তি শির্কে আকবারে লিপ্ত হলে চূড়ান্ত ভাবে পথ ভ্রষ্ট এবং ঈমান ও ইসলাম হতে বের হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَمَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً بَعِيدًا
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশী স্থাপন করে সে চূড়ান্তভাবে পথভ্রষ্ট গুমরাহ হয়ে যায়। সূরা নিসাঃ ১১৬।

২। শির্কে আকবারের অপরাধ তাওবা ছাড়া কখনও ক্ষমা হয়না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
إِنَّ اللّهَ لاَ يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে অংশী স্থাপনের অপরাধ ক্ষমা করেন না, অবশ্য শির্কের অপরাধ ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। সূরা নিসা: ৪৮।

৩। শির্কে আকবারে লিপ্ত হলে যাবতীয় সৎকর্ম বাতিল হয়ে যায়: আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَلَوْ أَشْرَكُواْ لَحَبِطَ عَنْهُم مَّا كَانُواْ يَعْمَلُونَ
যদি তারা শির্কে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের পূর্বের সব সৎকর্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।” সূরা আনআম: ৮৮।

৪। শির্কে আকবারে লিপ্ত হলে জান্নাত হারাম এবং জাহান্নাম অপরিহার্য হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللّهُ عَلَيهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দেন এবং জাহান্নামে স্থান নির্ধারণ করে দেন। সূরা মায়িদাহ: ৭২।

৫। শির্ক সবচেয়ে বড় যুলুম, আল্লাহ তা‘আলা বলেন: লোকমান হাকীম স্বীয় সন্তানকে উপদেশ দিচ্ছেন:
يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
“হে প্রিয় বৎস, তুমি আল্লাহর সাথে শরীক করোনা, কেননা শির্ক হলো সবচেয়ে বড় যুলম”। সূরা লুকমান: ১৩।

৬। মুশরিক চিরস্থায়ী জাহান্নামী, আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا
“নিশ্চয় আহলে কিতাবদের যারা কাফির হয়ে গেছে এবং যারা মুশরিক তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। সূরা বাইয়্যেনাহ: ৬।

৭। শির্কে আসগারের কারণে ঈমান কমে যায় দুর্বল হয়ে যায় এবং শির্কে আকবারের দিকে পথ দেখায়।

৮। শির্কে আকবার পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় অপরাধ। নাবী (সা) বলেন:
أعظم الذنب أن تجعل لله ندا
“সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো আল্লাহর সাথে শরীক করা।” সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৪১।

৯। মুশরিকের সাথে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সা) এর কোন সম্পর্ক নেই। আল্লাহ বলেন:
وَأَذَانٌ مِّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الأَكْبَرِ أَنَّ اللّهَ بَرِيءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ
“বড় হাজ্জের দিন আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে ঘোষণা যে, মুশরিকদের সাথে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের কোন সম্পর্ক নেই।” সূরা তাওবা: ৩।

১০। মুশরিকরাই সর্ব নিকৃষ্ট। আল্লাহ বলেন:
أُوْلَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ
“তারাই (কাফির ও মুশরিকরা) সৃষ্টি কূলের মাঝে সর্ব নিকৃষ্ট”। সূরা বাইয়্যিনাহ: ৬।

এছাড়াও শির্কের পরিণতির আরো অনেক দিক রয়েছে। আল্লাহ আমাদের এ জঘণ্য অপরাধ হতে রক্ষা করুন। আসমানের নীচে ও যমিনের উপরে সবচেয়ে জঘণ্যতম বড় অপরাধ ও মহা যুলুম হলো- আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করা। প্রতিটি মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে সর্ব প্রথম নির্দেশ হলো তাঁর তাওহীদ বা একত্বতা পালন করা। অপর পক্ষে সর্ব প্রথম নিষেধ হলো শির্কে লিপ্ত না হওয়া। কারণ শির্কে লিপ্ত হলে ঈমান বাতিল হতে আর দেরি হয়না, এমনকি দীর্ঘ জীবনের কঠোর পরিশ্রমের ইবাদাত বন্দেগী ধ্বংস হতেও বাকী থাকে না। অতএব আমাদের ঈমান-ইসলামকে মজবুত ও দৃঢ় করতে হলে ভয়াবহ অপরাধ শির্কের পরিচয় জেনে তা হতে বিরত থাকতে হবে। অবশ্য শির্ক খুবই সূক্ষ্ম বিষয় তাই পূর্ণভাবে উপলদ্ধি করাও কঠিন, এজন্য আল্লাহর কাছেই শির্ক হতে বাঁচার সহযোগিতা কামনা করতে হবে এবং এ বিষয়ে নবী (সাঃ) এর শিখানো দু‘আ পাঠ করতে হবে। দু‘আ টি হলো:
اللهم إنى أعوذبك أن اشرك بك شيئا اعلمه واستغفرك لما لا اعلمه
“হে আল্লাহ! আমি জেনে-শুনে তোমার সাথে শরীক করা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং অজানায় কিছু করে ফেললে তা হতেও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।” আমীন।

 
কৃতিত্ব -আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None