হাদিসের ইতিহাস অনুসন্দ্বান

v\:* {behavior:url(#default#VML);}
o\:* {behavior:url(#default#VML);}
w\:* {behavior:url(#default#VML);}
.shape {behavior:url(#default#VML);}

Normal
0

false
false
false

MicrosoftInternetExplorer4

/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:"Table Normal";
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-parent:"";
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin:0in;
mso-para-margin-bottom:.0001pt;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:10.0pt;
font-family:"Times New Roman";
mso-ansi-language:#0400;
mso-fareast-language:#0400;
mso-bidi-language:#0400;}

হাদিসের ইতিহাস অনুসন্দ্বান

মুলঃআল্লামা
সাইয়েদ মুরতাজা আসকারী(রঃ),অনুবাদঃমুঃ মতিউর রহমান

প্রথম খন্ড
“সমস্ত মানুষ
ছিল একই উম্মত।অতঃপর আল্লাহ নবীগনকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে প্রেরন করেন।মানুষেরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করতো তাদের মধ্যে সে বিষয়ে মীমাংসার জন্য তিনি তাদের সহিত সত্যসহ কিতাব অবতীর্ন করেন এবং যাহাদিগকে তাহা দেয়া হয়েছিল,স্পষ্ট নিদর্শন তাদের নিকট আসবার পরে,তারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশত সেই বিষয়ে ভিন্নমত পোষন করতো,আল্লাহ তাদেরকে সে বিষয়ে নিজ অনুগ্রহে সত্য পথে পরিচালিত করেন।আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সহজ-সরল পথে পরিচালিত করেন”।(সুরা বাকারাঃ২১৩)।

“তোমরা কি
আশা এই কর যে,ইহুদীরা তোমাদের কথায় ইমান আনবে?যখন তাদের একদল আল্লাহর বানী শ্রবন করে,অতঃপর তারা উহা বিকৃ্ত করে,অথচ তারা তা জানে”। সুরা বাকারাঃ৭৫
“সুতরাং দুর্ভোগ
তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং তুচ্ছ মুল্যপ্রাপ্তির জন্য বলে,”ইহা আল্লাহর নিকট হতে”।তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য শাস্তি তাদের এবং যা তারা উপার্জন করে তার জন্য শাস্তি তাদের”।(সুরা বাকারাঃ৭৯)

ঐশী ধর্ম কেন সনাতন করা হয়?
মানব জাতির অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে,মানুষের সাধারন রীতি-প্রবনতা হলো,তারা প্রত্যেক নবীর শিক্ষাকে নাটকীয়ভাবে রদ-বদল করেছে,এমনকি তাদের ঐশীগ্রন্থেও নতুন কিছু সংযোজন করেছে বা তাতে পরিবর্তন এনেছে।আল্লাহ পরবর্তী সময়ে তাঁর নির্ভেজাল বিধানাবলীসহ অন্য একজন নবী প্রেরন করেছেন,এবং এইভাবে তিনি তাঁর প্রেরিত ঐশী ধর্মকে সনাতনরুপে উপস্থাপন করেছেন।

এই ঐশীবিধান প্রেরনের বিষয়টি অবশেষে রাসুল(সাঃ)এর আবিরভাবের পর শেষ হয়,এবং পুরনতা প্রাপ্তি ঘটে।এই পরযায়ে আল্লাহ আগের সকল ঐশী ধরমীয় বিধি-বিধানের বিপরীতে ইসলামের ধর্মীয় বিধি-বিধানকে চুড়ান্ত হিসাবে ঘোষনা করেছেন।আর এই কারনে যে কোন ধরনের পরিবর্তন বা বিচ্যুতির হাত হতে ইসলামের এই ঐশীগ্রন্থ আল-কুরানকে নিরাপত্তা প্রদান ও সংরক্ষনের দায়-দায়িত্ব তিনি নিজের হাতে রেখেছেনঃ “আমিই কুরান অবতীর্ন করেছি এবং অবশ্য আমিই উহার সংরক্ষক”(সুরা হিজরঃ৯)।

ইসলামী উম্মাহের মধ্যে মতভেদের কারন

নামায,যাকাত,হজ্ব এবং মানুষের প্রায়শই প্রয়োজনীয় অন্যান্য এবাদাত বা পারস্পরিক লেন-দেন সম্পর্কিত ইসলামের এইসব ধর্মীয় ঐশী বিধানাবলীর মৌ্লিক এবং বুনিয়াদী নীতি-নির্দেশ আল-কুরানের নির্ভুল ও সুনির্দিষ্টভাবে বর্নিত হয়েছে।রাসুলে(সাঃ) কুরানে বর্নিত ঐসব ঐশী বিধানের ব্যাখ্যা এবং বিশদ বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন।তিনি নামায কত রাকাত এবং নামাযে কি কি পড়তে হবে,কিভাবে পড়তে হবে তা নির্দিষ্ট করেছেন;সম্পদের যাকাত কি পরিমানে দিতে হবে এবং যাকাত কি পরিমান দিতে হবে এবং হজ্ব সম্পাদনের জন্য কি কি আহকাম পালন করতে হবে তা তিনি নির্দিষ্ট করেছেন।ধর্মীয় অন্যান্য আহকামের বিষয় নিরধারনও রাসুলের(সাঃ) কার্যের আওতাভুক্ত ছিল।

ফলাফল দাড়ালো এই যে, যদিও ঐশী বিধানাবলীর সকল নীতি-নির্দেশ কুরানে বরনিত আছে,তথাপি সেগুলোর বিশদ বর্ণনা এবং ব্যাখ্যা দিয়েছেন রাসুল(সাঃ) যা হাদিস নামে পরিচিত, এবং উহা অনুসরন করার জন্য আল্লাহ নিজেই নির্দেশ প্রদান করেছেন-বলেছেনঃরাসুল তোমাদিগকে যা দেয় তা গ্রহন কর এবং যা হতে তোমাদিগকে নিষেধ করে তা হতে তোমরা বিরত থাক”(আল-কুরান,সুরা হাশরঃ৭)।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো,কিছু কিছু মানুষ এমনকি রাসুলের(সাঃ) জীবদ্দশাতেই তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করে।রাসুলের(সাঃ) নামে তারা মিথ্যা হাদিস তৈ্রী করতে থাকে।নাহজুল বালাগায় ২৩ বছরের কুরান লেখক,হাফিজ-ই-কুরান ইমাম আলী(আঃ) একটি খুতবায় বিষয়টি সুস্পষ্ট করেন।তিনি বলেনঃ”রাসুল(সাঃ)এর জীবদ্দশায় কিছু লোক মিথ্যা হাদিস তৈ্রী করে তাঁর নামে প্রচার করছিল।(এই অনিষ্ট জানতে পেরে) একদা তিনি(রাসুল সাঃ) তাঁর আসন থেকে উঠে দাঁড়ান এবং উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ”যে ব্যক্তি আমার নামে কোন মিথ্যা বিষয় প্রচার করে সে নিজের জন্য জাহান্নামে স্থায়ী আবাস তৈ্রী”(সুত্রঃনাহজুল বালাগা,খুতবা ২০১;বুখারী শরিফ-অধ্যায় ‘ইল্ম’,নবীজীর প্রতি মিথ্যারোপকারী ব্যাক্তির গুনাহ;অবনে হাজার আসকালানী(ফাতিহুল বারী),সহী বুখারীর টীকা,খন্ড১,পৃঃ২০৯।
গোলযোগ সৃষ্টিকারী লোকজন নবীজীর ওফাতের পরও জাল হাদিস তৈ্রী করার অপকর্মটি অব্যাহত রাখে।এভাবে ইসলামের বিধিবিধান নানাবিধ বিচ্যুতি দ্বারা আক্রান্ত হয়,এবং মুসলমানদের মাঝে মতদ্বৈধতা দেখা দেয়।যেহেতু পবিত্র কুরানের যেকোন ধরনের পরিবর্তন বা বিচ্যুতি হতে এর হেফাজত ও সংরক্ষনের ব্যাপারে আল্লাহ নিজেই নিশ্চয়তা দিয়েছেন, কাজেই এইসব অনিষ্টকারক লোকেরা তাদের কলুষিত হস্ত প্রসারিত করে পবিত্র কুরানের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ব্যাখ্যাকারক এবং বিশদ-অর্থ প্রকাশক রাসুল(সাঃ)এর হাদিসের দিকে।এই লোকেরা বিভিন্ন বিষয়ের উপর বানোয়াট হাদীস তৈ্রী করতে থাকে এবং রাসুলের(সাঃ) নামে প্রচার করতে থাকে।এই কারনে আমরা দেখতে পাই, কত ব্যাপক পরিমানে বিরোধ ও মতদ্বৈধতা মুসলিম সমাজে সহজ অবস্থান করে নিয়েছে।এর পরিমান এতই বেশী যে,এমনকি আকিদা-বিশ্বাসের শাখা প্রশাখার মতো মৌ্লিক বিষয়েও গুরুতর মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
এই লোকদের অবস্থা এমন পর্যায়ে উপনীত হয় যে,তারা আল্লাহর গুনাবলীর বিষয়েও প্রশ্ন/তর্কের অবতারনা করেছিল।তাদের প্রশ্ন ছিলঃ “আল্লাহর হাত-পা আছে কি-না” অথবা “হাশরের ময়দানে তাঁকে দেখা যাবে কি না?দেখা গেলে,কিভাবে দেখা যাবে”?(সুত্রঃইবনে খুজায়মাহ(তাওহীদ)মাক্তাবাহ আল কুলত্নীয়াত আল-আজারিয়াহ,মিশর(হিজরী ১৩৮৭)।তারা আল-কুরানের ব্যাপারেও বিভিন্ন অভিমত প্রকাশ করতে থাকে এবং বিভিন্ন প্রশ্ন উথাপন করতে থাকে,যেমন, “আল-কুরান কি আল্লাহর সৃষ্টি,এবং ইহা কি অপরিবর্তনশীল কিছু নয়?নাকি ইহা আদি ও চিরন্তন ”?

 

 

 

এইসব
লোকেরা নবীগনের(আঃ) অবস্থান এবং সত্বার ব্যাপারেও প্রশ্নের অবতারনা করেছিল।তারা জিজ্ঞেস করতোঃ”নবীগন(আঃ) কি মাসুম(নিষ্পাপ)?”তাদের বিশ্বাস হলোঃশুধুমাত্র ওহী প্রচার সংক্রান্ত ক্ষেত্রে নবীগন মাসুম,কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের গুনাহ করার অবকাশ আছে।অধিকন্তু,তারা রাসুলের(সাঃ) উপর ১ম ওহী নাজিলের বিষয়েও ভিন্ন ভিন্ন ধারনা পোষন করতো।তারা বলতোঃ”১ম ওহী নাজিলের সময় রাসুল(সাঃ) কি জীব্রাইল(আঃ)কে শয়তান মনে করেছিলেন,যিনি তাঁর সাথে ঠাট্টা-কৌ্তুক করতে চেয়েছিলেন”? অথবা,”নবীজী জানতেন যে,তিনি পবিত্র সত্বা এবং আল-কুরান নাজিল হচ্ছে ও তাঁর অন্তরে চেতনা সঞ্চার করছে?”(সুত্রঃশিয়া-সুন্নী উভয় মাযহাব লিখিত “ওহীর সুচনা” সম্পর্কিত আলোচনা)।
ইসলামের সম্পুরক বিধি-বিধানের ব্যাপারেও তাদের অভনত ছিল ভ্রান্ত;উদাহরন হলোঃ “ওজুর ক্ষেত্রে কোন লোক কি তার পা মাসেহ করবে, নাকি ধুয়ে পরিস্কার করবে;অথবা নামাজ আদায়ের শুরুতে কোন লোক যখন সুরা ফাতেহা তেলাওয়াত করবে,তখন “ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” দিয়ে শুরু করবে নাকি “ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” ছাড়া শুরু করবে;অথবা হজ্ব সম্পাদনকালে তাওয়াফুন্নেসা(২য় তাওয়াফ)বাধ্যতামুলক, বা বাধ্যতামুলক নয়?”(সুত্রঃসাইয়েদ আব্দ আল হোসাইন শরফুদ্দিন আমলী(মাসাইল আল ফিত হিয়াহ) নাজম আল দীন আসকারী(আল-ওজু)।
এই অবস্থার কারনে,ইসলামের সকল আকিদা-বিশ্বাস এবং আইন-বিধান বিভ্রান্তিকর পরিবর্তনের বা রদ-বদলের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।এই সকল মতদ্বৈধতা ও বৈসাদৃশ্যের মুলকারন অনুস্নধান করলে আমরা দেখি যে, বিরোধের সুচনা হয়েছে খলিফাদের(১ম ৩ খলিফা) সময়ে তাদের ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতিতে।রাজনৈতিক স্বর্থই ছিল তাদের শাসন এবং সিদ্বান্তের চালিকা শক্তি।বিশাল একদল লোক নিয়োগ করা হয়েছিল কুরানের আয়াতসমুহের ব্যাখ্যা উপস্থাপনের জন্য;তারা তাদের সধ্যের সবটুকু দ্বারা কুরানের আয়াতসমুহ এমনভাবে ব্যাখ্যা করতো যাতে উহা শাসকবর্গের ইচ্ছা-আকাংখার অনুকুলে যায়(সুত্রঃ হোসায়েন মুজাফফর লিখিতঃতারিখে আল শিয়া)।তারা এই উদ্দেশ্যে রাসুলের(সাঃ) হাদিসেরও উদ্বৃতি উল্লেখ করতো।ফলতঃ যে সকল নির্দেশ ঐ ১ম ৩ খলিফা দ্বারা সত্যায়িত হতো সেগুলোই হতো আইন।আর জবরদস্তিমুলকভাবে হলেও সেই সকল আইন জনগনকে মানতে বাধ্য করা হতো;ইসলামের সত্যিকারের স্পিরিটের আলোকে এই আইনহুলো প্রনীত বলে গন্য করানো হতো।অতঃপর স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের আইনের প্রতি যেকোন বিরুপ মতামত তাদের দ্বারা সমর্থনযোগ্য হতোনা।আর তারা কোন আইন-বিধান জারী করার ইচ্ছা করলে ঐ নির্দেশ মানতে কেউ যদি অস্বিকার করতো,তাহলে তাকে অত্যন্ত নিষ্টুর আচরনের পরিনতি ভোগ করতে হতো।মাঝে মাঝে এই ধরনের প্রতিবাদী ব্যাক্তি মৃত্যুর মুখোমুখি হতো। খলিফাদের কুরান পরিপন্থি নির্দেশ-এর বিরোধীতাকারীদেরকেও এই ধরনের নিষ্টুর পরিনতি ভোগ করতে হতো।এছাড়া শাসকবর্গ তাদের সরকারের অনুকুলে স্বার্থের কারনে শরিয়তী মাসায়েলগত সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে মুসলিম প্রজা কর্তৃক বিবর্ন সুন্নাহর(দেখুনঃআল-সুলতান জহির বায়লারাস বান্দ কিনারী হিঃ৬৬৫ সালে এই ব্যাপারে একটি ঘোষনাপত্র ইস্যু করেঃসুত্রঃমাকারিজি-র ‘খুতাত’) ৪ ইমামের কোন ১জনকে মেনে চলার বাধ্যবাধকতার আওতায় আনার সিদ্বান্ত গ্রহন করে।এই ইমামগন হলেন,আবু হানিফা,শাফেঈ,আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং মালেক ইবনে আনাস(আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ৪ ইমাম)।ঈমানের মৌ্লিক নীতিমালার(আকিদা) সংক্রান্ত বিষয়াবলীর ক্ষেত্রে প্রজাগনকে আশারীয় মতবাদকে(আশারী হচ্ছেন আবুল হাসান বিন ইসমাইল,যিনি ইন্তেকাল করেন ২৪১হিঃ সালে। এই দলের সম্পরকে বিস্তারিত জানতে পড়ুন ‘Ibar’ বইটি) অনুসরন করতে বাধ্য করা হতো।

মুসলমানদের এক বড় অংশ অনুসরনের ক্ষেত্রে নিজেদেরকে সিহাহ সিত্তাহ(সুন্নিগনের বিশ্বাস ৬টি হাদিস গ্রন্থের সব হাদিস সত্য।) বিশেষ করে “সহীহ মুসলিম” এবং “সহীহ বুখারীর” মধ্যে সীমাবদ্ব করে ফেলে, এবং হাদিসের বিচার পর্যালোচনা হতে বিরত হয়ে নিজেদের জন্য হাদিস বিজ্ঞানের দরজা রুদ্ব করে দেয়। উল্লেখিত ৪ ধর্মীয় ইমামের একজনকে অনুসরনের ব্যাপারে তারা বাধ্য হওয়ায় গবেষনার রাস্তা তাদের জন্য বন্দ্ব হয়ে যায়।
যখন মুসলমানেরা ১ম ৩ খলিফার আদেশ পালনের জন্য এমনভাবে নিয়োজিত ছিল যে খলিফাদের পক্ষ হতে কোন হুকুম জারী হলে তাদের নিকট তা ঐশী নির্দেশ(ওহী) হিসাবে গন্য হতো,সেই সময় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এমন কিছু ব্যাক্তি ছিলেন যারা সকল ধরনের অসুবিধা মোকাবেলা করেও অকৃ্ত্তিম্ভাবে ইসলামের আকিদা-বিশ্বাসকে যথাযথভাবে সংরক্ষনের জন্য উৎসর্গীকৃত ছিলেন এবং আল-কুরানের নির্দেশনার আলোকে সকল হুকুম-বিধানকে কঠোরভাবে প্রতিপালনের ক্ষেত্রে কোন কষ্টকে তাঁরা কষ্ট মনে করতেন না।ধর্মীয় আহকাম-বিধানকে বিলুপ্তির হাত থেকে সংরক্ষনের কাজে তাঁরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।রাসুল(সাঃ)এর হাদিসকে কোন ধরনের বিচ্যুতি বা পরিবর্তনের কবল হতে অবিকল সংরক্ষনের ব্যাপারেও তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত সতর্ক।এইসব ব্যাক্তিবর্গ ছিলেন নবী পরিবারের সদস্যবর্গের(আহলুল বায়েত আঃ) এবং তাঁদেরকে যারা আনুগত্য ও অনুসরন করতেন তাঁরা “শিয়া” নামে পরিচিত হন।শিয়া আলেমগন নীতিগতভাবে শুধুমাত্র সেইসব হাদিস গ্রহন করতেন যা ইমামগন(আঃ) বর্ণনা করেছেন।একজন কবি অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেনঃ
“ তাদের অনুসরন
কর যাদের কথা কুরান ও হাদিস নির্দেশ করে”।
“ আমাদের পিতামহ
বর্ণনা করেন(যে শব্দাবলী পেয়েছেন) জীব্রাইল হতে এবং জীব্রাইল আল্লাহ হতে”।
শিয়া আলেমগন একেবারে সুচনালগ্ন হতে চলতি সময় পর্যন্ত অত্যন্ত বিচক্ষনতার সাথে নিঃস্বার্থভাবে ইসলামের শিক্ষাকে সংরক্ষন ও প্রচার করেছেন।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো,জনগোষ্টীর বড় অংশই অনুসরন করতেছিল তাদের শাসকগোষ্টী ও রাজন্যবর্গকে।তাদের প্রভু ও রাজন্যবর্গ যা বলতো তাকেই সত্যিকার ইসলাম বলে তারা বিশ্বাস করতো।তাদের শাসকগন যে সকল বিষয় সঠিক বলে রায় দিত বা স্বীকার করতো এইসব লোকেরা সেগুলোকেই আল্লাহর বিধান বলে বিশ্বাস করতো।তাদের কাছে সেই হাদিসগুলোই ছিল একমাত্র সঠিক যা তাদের শাসকগন স্বীকার করতো।
এই রকম পরিস্তিতিতে,প্রকৃ্ত ইসলাম হতে ক্রমান্বয়ে দূরে অগ্রসরমান ও প্রকৃ্ত ইমামগনের অনুসরন-বিমুখ শাসকবর্গের অনুগত একদল লোক ইসলামী দুনিয়ায় আবির্ভুত হলো এবং নিজেদেরকে “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত” হিসাবে দাবী করলো।আর যারা তৎকালীন শাসকবর্গকে অনুসরন করতে অস্বীকার করে আইন সম্মত ইমামগনের অনুসারী ছিল তাদেরকে “রাফেজী”(এই শব্দটির মুল হচ্ছে ‘রাফজ’ যার মানে হলো বাতিল করা,ফেলে দেওয়া,অবাঞ্ছিত কিছু পরিত্যাগ করা,প্রত্যাখ্যান করা।এই পরিভাষা শিয়াদের জন্য ব্যবহার হতো,কারন ঐতিহাসিকভাবে শিয়াগন সত্যের বিপরীতে নিষ্টুর হুকুম-নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করতো।)হিসাবে চিঞ্ছিত করা হলো।এই কারনে তৎকালীন শাসকগন ইমামগনকে, একজনের পর একজন,সীমাহীন কষ্ট-জুলুম এবং অত্যাচারে জর্জরিত করছিল,এবং তাদের সমর্থক ও অনুসারীদের উপর নানাবিধ বানানো অভিযোগ দ্বারা দৈহিক ও মানসিক নিপীড়ন চালাচ্ছিল।
শিয়া মাযহাবের প্রখ্যাত আলেমগন এইসকল অন্যায়ের বিরুদ্বে প্রতিবাদী ছিলেন,এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিজেদের যুক্তি-প্রমানের ভিত্তির উপর অবস্থান গ্রহন করে তার উপর দৃঢ় থাকেন।এভাবে তাঁরা নিজেদের এবং সুন্নীধারার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী বিষয়সমুহ সুষ্পষ্ট করে তোলেন এবং তাঁদের প্রেরনার উৎস প্রানবন্ত শিয়াধারার বিকাশ সাধনে সাফল্য আনয়ন করেন।

শিয়া আলেমগনের মধ্যে সাম্প্রতিক কালে যারা এই কাজে নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছেন তাঁরা কয়েকজন হলেনঃ
ক)সাইয়েদ মোহসিন আমিন(ইন্তেকালঃ১৩৭১ হিজরী),”আইয়ান আল-শিয়া”গ্রন্থের লেখক।
খ)শেখ মুহাম্মাদ হুসাইন আল কাশিফ আল-গিতা(ইন্তেকালঃ১৩৭৩ হিঃ),”আসল আল-শিয়া ওয়া উসুলুহা” গ্রন্থের লেখক।
গ)শ্রদ্বেয় বুজুরগ তেহরানী(১৩৯০ হিঃ),”আল-জারিয়াহ ইলা তান্সিফ আল-শিয়া”এবং “তাবাকাত আলম আল-শিয়া” গ্রন্থদ্বয়ের লেখক।মুঃ রেজা মোজাফফর,”আকায়েদ আল-ইমামিয়া”গ্রন্থের লেখক।
ঘ)মুঃ হুসাইন তাবাতাবাই,”শিয়া ইসলাম” গ্রন্থের লেখক।
এই আলেমগন অন্যান্যদের সাথে সম্মিলিতভাবে শিয়া ও তাদের বিশ্বাসের নিরাপত্তা বিধানের জন্য বিশেষ ভুমিকা পালন করেছেন।এই মহান ব্যাক্তিবর্গের প্রত্যেকেই তাদের শক্তিশালী লেখনীর মাধ্যমে এই পবিত্র দায়িত্ব পুর্ন আন্তরিকতার সাথে সম্পাদন করেছেন।
আমাদের মতানুসারে,রাসুলের(সাঃ) নামে বানোয়াট তথাকথিত হাদিসের প্রচলন দ্বারা এবং তাঁর সিরাত লিখনের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্য-মিথ্যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার কারনে যেহেতু বিরোধ ও মতদ্বৈধতা দেখা দিয়েছে কাজেই যৌক্তিক কারনেই আমাদের উচিৎ হবে এই সমস্ত হাদিস ও তাদের লেখন-উৎসের তথ্যানুসন্দ্বান ও যাচাই-বাছাই করা,যাতে প্রবীন পন্ডিতগনের বক্তব্যের উপর নিরভর্তা ও তাদেরকে অন্দ্বভাবে মেনে চলার প্রবনতার কারনে সৃষ্ট জড়তার দেয়াল আমরা ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হই।এভাবে প্রশ্নবিদ্ব কর্তৃ্ত্বশীলদের নিকট বিনম্র বা অপ্রতিবাদী আত্নসমর্পনের কর্দমাক্ত অবস্থা হতে হাদিস ও ইতিহাস লেখকদেরকে আমরা বের করে আনতে পারবো,এবং আনুপুর্বিক পর্যালোচনা ও গভীর তথ্যানুসন্দ্বানের মাধ্যমে হাদিস ও ইতিহাসের সঠিক জ্ঞানের রাস্তা আমরা উন্মুক্ত করতে সক্ষম হবো।

এখন, আমাদের কর্তব্য হলো রাসুলের(সাঃ) হাদিস এবং তাঁর ও তাঁর সাহাবীগনের,বিশেষ করে যারা হাদিস বর্ননার কাজে জড়িত ছিলেন, তাদের জীবনী সংক্রান্ত তথ্যাবলী প্রজ্ঞা বিচক্ষনতার সাথে পর্যালোচনা করা।তারপর আমরা পর্যালোচনা করবো হাদিস এবং বিভিন্ন মাযহাবের উপর সুচনালগ্ন হতে আজ পর্যন্ত স্ব স্ব অনুসারীদের লিখিত গ্রন্থসমুহ।এটাই হচ্ছে একমাত্র রাস্তা যার মাধ্যমে আমরা সত্যের নিকটবর্তী হতে পারবো, এবং মুসলমানদের মধ্যে বর্তমানে বিরাজিত মতদ্বৈধতা সমুলে উৎপাটন করতে সক্ষম হবো।
মনীষীগনের মধ্যে যারা এই পথে অগ্রবর্তী ভুমিকা পালন করেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেনঃ
ক) আবদ আল হুসাইন শরফুদ্দিন(ইন্তেকালঃ১৩৭৭ হিজরী); “আবু হোরায়রা” গ্রন্থের গ্রন্থকার।
খ)এই গ্রন্থের লেখক(আল্লামা মুরতাজা আসকারী রঃ); “দিরাসাহ ফিল হাদিস ওয়াল তারীখ”(ষ্টাডিজ ইন হাদিস এন্ড হিষ্টোরী) শিরোনামে ইতিহাস ও হাদিসের উপর তাঁর গবেষনা কর্মের সিরিজ প্রকাশনা রয়েছে।এই সিরিজের আওতায় বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
এই বিষয়ে যারা প্রত্যক্ষভাবে জানতে চান,তাদের উচিৎ ইমাম আলী(আঃ)এর সহিত সুলাইম ইবনে কা’ইয়েসের বাক্যালাপ অধ্যায়ন করা।সুলাইম বলেনঃ “আমি আমিরুল মু’মিনিনকে বললাম, “সালমান,মিকদাদ এবং আবুযর-এর নিকটে আল-কুরানের উপর কিছু ব্যাখ্যা-টীকা-মন্তব্য শুনলাম।অন্যরা যা বলে তা এগুলো থেকে ভিন্ন।
অতঃপর আপনার নিকট হতে যা শুনলাম,তাদের (সালমান,মিকদাদ এবং আবুযর) নিকট হতে শুনেছি তার সাথে মিলে যায়।উপরন্তু,আল-কুরান এবং রাসুলের(সাঃ) হাদিসের অর্থ ও ব্যাখ্যা হিসাবে লোকদের নিকট যা প্রচলিত আছে আপনি সেগুলোর বিরোধিতা করেন এবং সেগুলোকে ভ্রান্ত/মিথ্যা বলে বিবেচনা করেন।আপনি কি মনে করেন যে,লোকেরা বিশেষ অভিপ্রায়ে উদ্দেশ্যমুলকভাবে নিজেদের মতো আল-কুরানের ব্যাখ্যা করে রাসুলের(সাঃ) প্রতি মিথ্যারোপ করছে?”ইবনে কায়েস বলেন যে,ইমাম আলী(আঃ) তার দিকে ঘুরে গেলেন এবং বললেন, “জনগনের মাঝে সেই হাদিসগুলো প্রচলিত আছে যেগুলো হক ও বাতিল সংক্রান্ত বিষয় বর্ণনা করে,সত্য ও মিথ্যা সংক্রান্ত বিষয়,হারাম ঘোষনা সংক্রান্ত আদেশ বিধান-এর খন্ডন সংক্রান্ত বিষয়,একই সাথে সার্বজনীন ও সুনিদিষ্ট-নির্ভুল বিষয়,সুষ্পষ্ট ও প্রতিকী বা রুপক বিষয়,এবং প্রকৃ্ত ও কাল্পনিক বিষয়।ইহা অনস্বীকার্য সত্য যে,রাসুল(সাঃ)এর জীবদ্দশাতেই লোকেরা তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করেছে।এর ফলে রাসুল(সাঃ) যখন বিষয়টি জানতে পারেন তিনি তৎক্ষনাত দাঁড়িয়ে যান এবং উপস্থিত লোকদের উদ্দেশ্য করে খুতবা দেন এবং লোকদের মধ্যে এক বিরাট সংখ্যক মিথ্যাবাদীকে সতর্ক করে দেন যে যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃ্তভাবে তাঁর নাম দিয়ে কোন মিথ্যা বিষয় প্রচার করে,সে জাহান্নামী (সুত্রঃ “কাফি”,ইখতিলাফ আল হাদিস ১/৬২ থেকে,হাদিসের পরবর্তী অংশ নাহজুল বালাগা থেকে,খুতবা ২০১,)।অতঃপর তাঁর ইন্তেকালের পরেও তাঁর নামে মিথ্যাচার চালায়(তিনি বলেন),শুধুমাত্র ৪ ধরনের ব্যক্তি তোমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করে।তারা হলোঃ

১) দু’মুখো চরিত্রের লোক(মুনাফিক ব্যাক্তি),যে ঈমান ও ইসলামী জীবনাচারের প্রদর্শন করে কিন্তু কোনরুপ ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই সে পাপকর্মে প্রবৃত্ত হয়ে যায়। এই ধরনের ব্যাক্তি রাসুলের(সাঃ) প্রতি মিথ্যারোপ করে।লোকেরা যদি তাকে মিথ্যাবাদী বা মুনাফিক বলে ঘোষনা দেয়,তাহলে তার বর্নিত হাদিস সঠিক বলে গ্রহন করার কোন সুযোগ থাকেনা এবং সোজা-সাপ্টা তাকে প্রত্যাখ্যান আবশ্যক হয়।কিন্তু এমন লোক আছে যারা বলে,এই লোক রাসুলের(সাঃ) সাহাবী;তাঁকে সে দেখেছে এবং তাঁর নিকট হতে হাদিস স্রবন করেছে ও পেয়েছে।অতএব লোকেরা তার প্রতি আস্তাশীল থাকে।কিন্তু আল্লাহ দু’মুখো চরিত্রধারী,মুনাফিকদের আচরন-স্বভাব উল্লেখ করেছেন এবং তোমাদেরকে সতর্ক করেছেন তাদের থেকে নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখতে।
রাসুলের(সাঃ) ইন্তেকালের পর মুনাফিকদের মধ্যে যারা বেচে ছিল তারা পথভ্রষ্ট নেতাদের ঘনিষ্ট সহচর হয়ে দাড়ালো,এবং রাসুলের(সাঃ) প্রতি মিথ্যারোপ করার মাধ্যমে তারা নিজ অনুসারীদেরসহ জাহান্নামে তাদের স্থায়ী নিবাস তৈ্রী করে নিলো।এইসব জাহান্নামী নেতারাই জনগনের শাসনকর্তা হয়ে উঠলো,তাদের জীবন ও সম্পদের উপর কর্তৃ্ত্বশীল হয়ে উঠলো।যেসব লোক এইসব নেতাদেরকে জনগনের শাসনকর্তার অবস্থানে প্রতিষ্টিত করতে সহায়তা করলো তারা পুরস্কার পেলো দুনিয়াবী অজস্র সুবিধাদি;আল্লাহ যাদের হেফাজত করলেন তারা ছাড়া অন্য লোকেরা দুনিয়া ও রাজন্যবর্গের সাথে আঠার মত লেগে থাকলো।উপরে বনিত মুনাফিকেরা হলো পুর্বোল্লিখিত চার ধরনের ব্যক্তির একজন।

২) কোন ব্যক্তি রাসুলের(সাঃ) নিকট হতে কোন কিছু শুনেছে কিন্তু এর ভাববস্তু আত্নস্ত করে নি,সেই ব্যক্তি হাদিস বর্ননা করলে তার বননা ভুল বলে পরিগনিত হবে।সে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে মিথ্যা বলে না,কিন্তু হাদিস সম্পর্কে যা সে স্মরন করতে পারে তাই বর্ননা করে এবং নিজে তা আমল করে,এই ধারনায় যে সে হাদিসটি শুনেছে রাসুলের(সাঃ) কাছ থেকে।এখন,মুসলমানরা যদি জানতে পারতো যে, সে নিজেই হাদিসটি যথাযথভাবে বুঝতে পারে নি তাহলে তারা গ্রহন করতো না।যদি(হাদিস বর্ননাকারী) জানতো যে সে হাদিসটি ভুল বুঝেছে, তাহলে সেও নিজে থেকেই উহা বাতিল বলে ঘোষনা করতো এবং উহা কখনো বর্ননা করতো না।
৩)রাসুল(সাঃ) কোন একটি বিষয়ে আমল করার জন্য আদেশ করলেন এবং কোন লোক উহা জানতে পারলো।পরবর্তী সময়ে রাসুল(সাঃ) উক্ত আদেশ বাতিল করলেন ও লোকদেরকে উহা আমল করতে নিষেধ করলেন,কিন্তু লোকটি (হাদিস বর্ননাকারী) এই পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারলো না।অথবা সে কোন কিছু করার ক্ষেত্রে রাসুল(সাঃ)এর কোন নিষেধাজ্ঞা জানলো অথচ পরবর্তী সময়ে রাসুল(সাঃ) উহা করার জন্য আদেশ দান করলেন।এই লোক (হাদিস বনর্নাকারী) পুনরায় কৃ্ত এই পরিবর্তন জানতে পারলো না,সুতরাং তার মনে থাকলো বাতিল আদেশ এবং ঐ বাতিল্করন সম্পর্কে অবহিত থাকলো না।যদি সে জানতো যে হাদিসটি বাতিল করা হয়েছে,সে উহা বর্ননা করতো না,এবং আমলের আদেশ বাতিল হওয়ার কারনে সে বাতিল আদেশের উপর নিজেও আমল করতো না।
৪) এমন একজন লোক যিনি আল্লাহ ও রাসুলের(সাঃ) উপর কখনো মিথ্যাচার করেননি;আল্লাহ-ভীতির (তাকওয়া)কারনে এবং রাসুলের(সাঃ) প্রতি গভীর শ্রদ্বার কারনে তিনি মিথ্যাকে ঘৃ্না করতেন।তিনি ভুল কোন কিছু বর্ননা করেন নি এবং তাঁর বর্নিত হাদিসের ব্যাপারে কোন রুপ সন্দেহও ছিলনা;কিন্তু তিনি যা কিছুই শ্রবন করতেন উহার প্রকৃ্ত রুপেই আত্নস্থ করতেন এবং উহা বর্ননা করতেন।তিনি উহার সাথে কিছু যোগও করতেন না,কোন কিছু উহা হতে বাদও দিতেন না।তিনি আদেশের রদকরনের বিষয় যথাযথভাবে স্মরন রাখতেন এবং তিনি উহার উপর নিজেও আমল করতেন,কিন্তু যেহেতু রদকৃ্ত বিষয়টি তিনি মনে রাখতেন কাজেই তিনি ঐ কাজ নিজে করতেন না।সাধারন বা সার্বজনীন এবং সুনির্দিষ্ট আদেশ সম্পর্কে তাঁর ছিল পুর্ন জ্ঞান এবং তিনি যথাস্থানে উহাদের প্রয়োগ করতেন।সুষ্পষ্ট-সুনির্দিষ্ট ও রুপক হুকুম সম্পর্কে তার পুঙ্খানুপুংখ জ্ঞান ছিল।
কোন কোন সময় রাসুল(সাঃ) কোন বিষয় বলতেনঃযার দ্বিবিধ অর্থ হতো,একটি বক্তব্য কোন নির্দিষ্ট সময়ের প্রেক্ষিতে কোন সুনির্দিষ্ট বিশেষ বিষয়কে নির্দেশ করে এবং অন্যটি সকল কিছুকে সকল সময়ের জন্য নির্দেশ করে।সুতরাং আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল(সাঃ) ঐ নির্দেশ দ্বারা প্রকৃ্ত অর্থে কি হুকুম করেছিলেন যে ব্যক্তি তা জানতো না,এবং সময়ের অভাবের কারনে সে একে নিজে থেকে ব্যাখ্যা করলো উহার ঘোষনাকারীর প্রকৃত হুকুমের বিপরীতে( কোন কোন সময় রাসুল(সাঃ) কোন নির্দিষ্ট সময়ের প্রেক্ষিতে কোন নির্দেশ প্রদান করেছেন।অর্থাত সেই নির্দিষ্ট সময়েই সেই আদেশ প্রতিপালন করার বিষয়টি জড়িত,কিন্তু কোন সময়ে নয়)।
বিষয়টি এমন ছিল না যে সকল সাহাবীই রাসুল(সাঃ)কে কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিল এবং উহা অনুধাবন করার জন্য তারা সকলেই তাদের প্রজ্ঞা প্রয়োগ করেছিল,যাতে রাসুলের(সাঃ) নিকট কোন প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য তাদের কোন বন্দ্বু বা অন্য কেউ(যাদের অধিকাংশই মরুবাসী)দীর্ঘ পথ ভ্রমন করে এলে তারা(সাহাবীরা) উহাদের জবাব এমন সন্তোষজনকভাবে দিচ্ছিল যেন তারা মনোযোগ ও আগ্রহ সহকারে শ্রবন করছিল।এই ধরনের কিছুই আমার ব্যাপারে ঘটেনি।আমার ক্ষেত্রে আমি রাসুল(সাঃ)কে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করতাম এবং তার উত্তরে তিনি যা বলতেন আমি উহা মুখস্ত করে নিতাম।
এগুলোই হলো বিচ্যুতির কারন যা মানুষের মধ্যে মতদ্বৈধতা সৃষ্টি করেছে।হাদিসের বিভিন্ন ধরনের নননার কারনে সৃষ্ট এই অসঙ্গতি এবং বিরোধ মারাত্মক সমস্যা তৈ্রী করেছে(এই ব্যাপারে আরো জানার জন্য পড়ুনঃ’মিন তারিখ আলা হাদিসঃ’মুরতাযা আশকারী রঃ;শেখ মাহমুদ আবু রিয়া-এর ‘আজোয়া আলা সুন্নাহ আল মুহাম্মাদিয়াহ’;সাইয়েদ আব্দ আল হোসায়েন শরফুদ্দিন-এর”আবু হোরায়রা’)।
আমরা ইমাম আলী(আঃ)এর বক্তব্য উদ্বৃত করেছি যে,ইহা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীকে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে,এবং গবেষনা ও তথ্যানুসন্দ্বানের মাধ্যমে রাসুলের(সাঃ) হাদিসের প্রকৃ্ত অর্থ ও তার মমার্থ উদ্বারের জন্য দৃঢ়তার সাথে আমাদের আশু করনীয় সম্পর্কে উল্লেখ করে,যাতে সকল বিরোধ-মতপার্থক্য নির্মুল হয় এবং সকল সন্দেহের অপনোদন ঘটে।হে আল্লাহ! এই ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করুন,
“মুহাম্মাদ একজন রাসুল
মাত্র;তার মত অনেক রাসুল গত হয়েছে।সুতরাং যদি সে মারা যায় বা নিহত হয়,তবে তোমরা কি পৃষ্ট প্রদর্শন করবে?এবং কেউ পৃষ্ট প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহর ক্ষতি করতে পারবে না;বরং আল্লাহ শীঘ্রই কৃ্তজ্ঞদিগকে পুরস্কৃত করবেন”।(আল-কুরান,আলে-ইম্রানঃ১৪৪)।
“রাসুল তোমাদিগকে
যা দেয় তা গ্রহন কর এবং যা হতে তোমাদিগকে নিষেধ করে তা হতে তোমরা বিরত থাক এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর”(সুরা হাশরঃ৫৯)”।
“এবং সে
মনগড়া কথাও বলে না।এটা তো ওহী,যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়”(সুরা নাজমঃ৩-৪)।

 

 

হাদিসের ইতিহাস অনুসন্দ্বান(২য় খন্ড)

 

 ইসলাম ধর্মের
নবী মুহাম্মাদ
(সাঃ) ধর্মীয়
উত্তরাধীকার হিসাবে তাঁর অনুসারীদের জন্য
দু’টো
মুল্যবান সম্পদ
রেখে গিয়েছেন।তা
হলো,আল-কুরান ও
তাঁর আহলে
বাইত।তাঁদেরকে দৃঢ়ভাবে অনুসরন করার এবং
তাদের থেকে
কখনো বিচ্ছিন্ন
না হওয়ার
জন্য তিনি
লোকদেরকে নির্দেশ
দিয়েছেন(সুত্রঃমুসনাদে
আহমাদ ইবনে
হাম্বাল,৩/৪,১৭২৯২৬
এবং ৫/১৮২,এবং
সহীহ(মুহাম্মাদ
ইবনে ঈসা)তিরমিজীর “মানাকিব”
অধ্যায়)।

 

 মহানবী(সাঃ)
তাঁর জীবদ্দশায়
জনগনের কাছে
কুরানী বিধানের
সকল সত্য
ব্যাখ্যা করেছেন,এবং ইসলামী
শিক্ষার মৌলবিশ্বাস,তাত্বিক জ্ঞান
ও মতবাদ
সংক্রান্ত সকল বিষয় হাদিসের আকারে
তাঁর অনুসারীদের
মাঝে উপস্থাপন
করেছেন।হাদিস প্রচার সম্পর্কে তিনি বলেছেনঃ
“আল্লাহ ঐ
ব্যাক্তির প্রতি রহমত নাজিল করুন
যে আমার
নিকট থেকে
মনোযোগের সাথে  হাদিস
শ্রবন করবে,তা বিশদ্ভাবে
গ্রহন করবে
এবং যিনি
শুনেন নি
ঐ ব্যক্তির
নিকট পৌছে
দেবে।জনসমষ্টির এরকম ১টি বড় অংশ
থাকবে যারা
তাদের চেয়ে
জ্ঞানী এবং
অধিকতর বিজ্ঞ
লোকের নিকট
হাদিসের বানী
পৌছে দেবে”[সহি(মুঃ
বিন ঈসা)
তিরমিজির ১/১২৫ এবং
খন্ড ১/১৪,অধ্যায়ঃ
“ফজল আল
ইলম” “তাবলিগ
আল-হাদিসা’ন রাসুলুল্লাহ”মুঃ বাকির
মাজলিসির বিহারুল
আনোয়ার,১/১০৯/১১২]

  এখন আমরা
দেখবো,ইসলামী
রাষ্ট্রের শাসকবর্গ (১ম ৩ খলিফা)
পবিত্র কুরান  ও নবীর আহলে
বাইতের প্রতি
কি আচরন
করেছিল এবং
কিভাবে হাদিস
সংক্রান্ত নির্দেশ তারা প্রতিপালন করেছিল।

     এইসব লোকেরা
রাসুলের(সাঃ)
আহলে বাইতের
(আঃ) সদস্যবর্গকে
সাধারন সমাজ
থেকে বিতাড়িত
করেছিল এবং  তাঁদেরকে
নির্জনে বসবাসে
বাধ্য করেছিল।তাঁদেরকে(আহলে বাইতের
সদস্যবর্গকে) তারা অবর্ননী উৎপীড়নের সম্মুখীন
করেছিল[সুত্রঃ
ঐ সময়
বিরাজিত পরিস্তিতি
সম্পর্কে রাসুল(সাঃ)এর
মহান সাহাবী
সালমান এবং
আবুজর(রাঃ)
তাঁদের বাগ্নিতাপুরন
বানীতে অত্যন্ত
স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।হযরত সালমান বলেন,
“তোমরা এখন
তোমাদের খারাপ
কাজের (খেলাফত
জবর দখল)
পরিনাম/ফলাফল
দেখে অবাক
হচ্ছ,এবং
তোমরা হেদায়াতের
মুল উৎস
হতে বহুত
দুরবর্তী দথা
স্থানে নিপতিত
হয়েছো(ইবনে
আবি আলা
হাদিদ,শ্রহে
নাহজ আল
বালাগা,২/১৩১,১৩২
এবং ৬/১৭)।তিনি আরো
বলেন, “তোমাদের
পক্ষে এটা
ছিল অত্যন্ত
খারাপ কাজ(খেলাফত জবর
দখল করে
নেয়া)।তোমরা যদি
ইমাম আলী(আঃ)এর
বাইয়াত করতে,তোমরা নিশ্চিতভাবেই
নিজেদেরকে বেহেশ্তী এবং দুনিয়াবী রহমতের
সাথে অবগাহন
করতে পারতে”।হযরত
আবু জর(রাঃ) বলেন,
“তোমরা যদি
সেই বিষয়ে
প্রাধান্য দিতে যে বিষয়ে আল্লাহতায়ালা
প্রাধান্য দিয়েছিলেন এবং তোমরা যদি
সেসব বিষয়
বতর্জন করতে
যেসব বিষয়
আল্লাহ র্জন
করতে বলেছিলেন
এবং যদি
তোমরা রাসুলের(সাঃ) আহলে
বাইতের নেতৃ্ত্ব
এবং উত্তরাধিকার
মেনে নিতে,তোমরা নিশ্চিতভাবেই
আল্লাহর রহমতের
ছায়াতলে নিজেদেরকে
অবগাহন করতে
পারতে।কিন্তু তোমরা এমন খারাপ আচরন
করেছিলে যে
তা (বর্তমান
সময়ের জন্য
করছিলে),এখন
তোমাদের সেই
অন্যায় কাজের
পরিনতি ভোগ
করতে হবে
এবং “যারা
অন্যায় কাজ
করে তারা
অচিরেই জানবে
কত বড়
খারাপ পরিনাম
তাদের জন্য
অপেক্ষা করছে”]।

 যখন তারা
খেলাফত যবর
দখল করে
নিতে সফল
হলো,তখন
তারা তাদের
উচ্চাভিলাষ অনুসারে কোরান ব্যাখ্যার একছত্র
প্রভাব নিশ্চিত
করনের জন্য
কোরান ও
হাদিসকে(যে
সহি হাদিস
কোরানের ব্যাখ্যা)
পরস্পর হতে
বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা গ্রহন করলো।এবং
কোরানকে তারা
নিজেদের মত
করে ব্যাখ্যা
করলো;বিরোধী
পক্ষের উপর
খলিফা(১ম
৩ খলিফা)
ও তাদের
পরাক্রমশালী অনুসারীদের হামলার কুটকৌশলের প্রধান
বাধা ছিল
মহানবী(সাঃ)এর  সহি হাদিস
এবং তাঁর
জীবনাচরন যা
সাধারনভাবে সুন্নাহ নামে পরিচিত ছিল।সুতরাং
এই শক্তিশালি
অস্ত্র হতে
প্রতিপক্ষকে নিরস্ত্র করা ছাড়া  খেলাফতের আর
কোন বিকল্প
ছিল না।
১মদিকেই আবুবকর(রাঃ) এই
কৌশলকে একক
করে নিজের
নিরঙ্কুশ অধিকারে
নিয়ে নেওয়ার
সিদ্বান্ত নিলেন।এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য
তিনি রাসুলের(সাঃ) ৫০০
হাদিস সংগ্রহ
করেন।কিন্তু অনতিবিলম্বে দেখতে পেলেন,এই
হাদিসগুলো তার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য
সহায়ক নয়।তাই
তিনি তার
সংগৃহিত সকল
হাদিস পুড়িয়ে
ফেলেন ( শামস
উদ্দিন আয
যাহাবী “তাজকিরাতুল-হুফফাজ” ১/৫)।

 

                                 নিঃসন্দেহে ঐ
সময়ে মানুষকে
হাদিস বর্ণনা
বা লিপিবদ্ব
করা হতে
বিরত রাখা
এবং কেবলমাত্র
আবুবকরের সংগৃহিত
হাদিস 
হতে লাভ নিতে বাধ্য করা
কার্যত অসম্ভব
ছিল।এই প্রেক্ষিতে
হাদিসের এই
শক্তিশালী অস্ত্রের কাছে মানুষের যাওয়ার
সুযোগ যাতে
না থাকে
সেই উদ্দেশ্যে
রাসুলের(সাঃ)
হাদিসের উপর
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছাড়া ১ম
খলিফা আর
কোন উপায়
দেখলেন না।অতএব
খলিফা রাসুলের(সাঃ) হাদিস
উদ্বৃতির ব্যাপারে
মুসলমানদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন।এই
কার্যপ্রেক্ষিতে তিনি একটি ঘোষনাপত্র জারী
করলেন,যাতে
বলা হলোঃজনগন
রাসুলের(সাঃ)
হাদিস হতে
কোন উদ্বৃতি
দিবে না
এবং তারা
শুধুমাত্র আল-কোরানকে অনুসরন করবে।
(সুত্রঃ শামস
উদ্দিন আয
যাহাবী “তাজকিরাতুল-হুফফাজ”।(৩) নাহজ
আল-বালাগা,খুতবা নং
৩,শাকশাকিইয়াহ)।অভিসন্দ্বি
হলো,আল-কোরানকে হাদিস
হতে বিচ্ছিন্ন
করে ফেলা
যাতে খলিফাগন
(১ম ৩
খলিফা)নিজেদের
ইচ্ছেমত আল-কোরানকে ব্যাখ্যা
করতে পারেন।

         মৃত্যুর পূর্বে
আবুবকর একটি
অসিয়ত প্রস্তুত
করেন,যার
মাধ্যমে তিনি
উমরকে খেলাফতের
উত্তরাধিকার নিয়োগ করেন।কিন্তু সাধারন মুসলমানদের
পক্ষ হতে
এই খেলাফতের
ব্যাপারে কোন
প্রতিবাদ আসেনি।
নিঃসন্দেহে এর কারন হলো – হাদিস
হতে বঞ্চিত
থেকে অধিকাংশ
মুসলমান দৃষ্টিভঙ্গিগত
সংকীর্নতার মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল।

 

     এমন কি
উমর তার
শাসন আমলে
হাদিসের উপর
নিষেধাজ্ঞার এই নীতি কঠোরভাবে অনুসরন
করেছেন।যাহোক,একদা তিনি জনগনের মতামত
জানার অভিপ্রায়ে
তাদের সামনে
রাসুলের(সাঃ)
হাদিস বর্ণনা
এবং লিপিবদ্ব
করার ব্যাপারে
একটি প্রস্তাবনা
উপস্থাপন করেন।হাদিসের
উদ্বৃতি এবং
লিপিবদ্বকরন রীতির পুনপ্রচলন করা জরুরী
বলে এর
অনুকুলে জনগন
সার্বজনীন মতামত প্রদান করে।সামান্যের জন্য
উমর যে
ঝামেলায় পড়েছিলেন,সমস্যার ব্যাপারে
১মাস ধরে
বিচার-বিবেচনা
করার পর
তা থেকে
নিষ্কৃতির একটি রাস্তা অত্যন্ত চতুরতার
সাথে বের
করতে সক্ষম
হলেন।তিনি জনসম্মুখে উপস্থিত হয়ে নিম্নের
বক্তব্য ঘোষনা
করলেনঃ

      “আমি রাসুলের(সাঃ) সুন্নাহ
লিপিবদ্ব করার
ব্যাপারে খুব
আগ্রহী,কিন্তু
আমি স্মরন
করছি আমার
পূর্ববর্তি লোকদেরকে যারা কিছু গ্রন্থ
লিপিবদ্ব করেছিল
এবং এর
প্রতি অত্যধিক
মনোযগ প্রদান
করে ঐশী
গ্রন্থকে অবহেলা
করেছিল;সুতরাং
আমি সিদ্বান্ত
নিয়েছি যে,আল-কোরানের
সাথে অন্য
কোন কিছুকেই
মিশিয়ে ফেলবো
না”(সুত্রঃমুঃবিন
সাদ,আল-
ওয়াকিনির অনুলেখক
“আল তাবাকাতুল-কুবরা” ৩/২৮৭,ইবনে
আব্দ আল-বার “জামিউল
বাইয়ান আল
ইলম ওয়া
ফাজলিহি” ১/৬৪-৬৫)(প্রিয় পাঠক,হযরত উমর
একটি মিথ্যের
আশ্রয় নিয়েছেন।কারন
আমরা কোরান
থেকে জেনেছি
যে এটি
লাওহে মাহফুজে
সংরক্ষিত এবং
এটি হেফাজতের
দায়িত্ব আল্লাহ
নিজে গ্রহন
করেছেন।আর একারনেই আল-কোরান আজো
পর্যন্ত অবিকৃ্ত
আছে এবং
ভবিষ্যতেও থাকবে-সম্পাদক)।

                            
রাসুলের(সাঃ) কোন সাহাবীকে তিনি
(উমর) যখন
কোথাও অফিসিয়াল
কাজে পাঠাতেন
তিনি তাদেরকে
কোন ধরনের
হাদিস বর্ণনা
না করার
জন্য বিশেষ
নির্দেশ দিতেন।তার
আশংকা ছিল
উহা মানুষকে
আল-কোরানের
প্রতি অবহেলা
প্রদর্শন করতে
পারে।উপরন্তু,তিনি যদি জানতে পারতেন
যে তাদের
কেউ তার
নির্দেশ অমান্য
করেছে,তাহলে
তিনি তাকে
তার সামনে
হাজির হওয়ার
আদেশ জারী
করতেন এবং
তাকে যাবজ্জীবন
কারাদন্ড প্রদান
করতেন।এছাড়া জনগনের কারো কাছে কোন
লিখিত হাদিসের
খোজ পেলে
তিনি সেগুলো
নিয়ে যেতেন
এবং পুড়িয়ে
দিতেন।

                     এভাবেই উমরের
খেলাফতকাল শেষ হলো এবং এসময়
একটি সঙ্গঘবদ্ব
দলের অভ্যূদয়
ঘটলো যাদের
সহায়তায় উসমান
(রাঃ)খেলাফতে
অধিষ্টিত হলেন(সুত্রঃইমাম আলী
ইবনে আবিতালিব,নাহজ উল
বালাগা,খুতবা
৩;বিস্তারিত
জানার জন্য
দেখুন “আব্দুল্লাহ
বিন সাবা”,পৃঃ১/১৪২-১৫১,২য়
প্রকাশ)।

উসমানের শাসন আমলে
হাদিস বর্ননার
বিরুদ্বে খেলাফতের
শাসকবর্গ এক
কঠিন যুদ্বে
অবতীর্ন হলো।উমর(রাঃ) যখন
মহানবীর সাহাবীদেরকে
(হাদিস বর্ননার
কারনে) নিপীড়ন
করতেন ও
মদীনায় কারাদন্ড
দিতেন এবং
তাদের লিপিবদ্ব
হাদিস পুড়িয়ে
দিতেন,উসমান
তখন রাসুলের(সাঃ) বক্তব্য
ও তাঁর
জীবনাচরনের বর্ণনা বন্দ্ব করার কতিপয়
প্রথিতযশা সাহাবিকে নির্যাতনে  জর্জরিত
করেছেন বা
নির্বাসনে পাঠিয়েছেন।উসাহরনস্বরুপ বলা
যায়,হযরত
আবুজর(রাঃ)কে মদীনা
হতে বিতারন
করে রাবজাহ
মরুভুমিতে  নির্বাসন
দেন;রাসুলের(সাঃ) এই
সুপরিচিত (সুত্রঃ ‘মিন তারিখ আল
হাদিস’,লেখকঃআল্লামা
মুরতাযা আশকারী
রঃ)।সাহাবী উত্তপ্ত
বালুকাময় নির্জন
মরুভুমি এলাকায়  মৃত্যু
পর্যন্ত থাকতে
বাধ্য হন।রাসুলের(সাঃ) অন্য
একজন সাহাবী
আম্মার ইবনে
ইয়াসিরকে তিনি
এমনভাবে বেত্রাঘাত
করেন যে
তিনি চৈতন্য
হারিয়ে মাটিতে
পতিত হন(সুত্রঃ আহমদ
বিন বালাজুরী,”আনসাব আল-আশ্রাফ”৫/৪৯)।

 

 

প্রথম ৩ খলিফার
২৫ বছর
সময়ের শাসনকালে,গনঅভ্যুথ্যানের ফলে
উসমানের ক্ষমতাচ্যুতি
ও হত্যাকান্ডের
পুর্ব পর্যন্ত,মহানবী(সাঃ)এর সাহাবীগন
ও ইসলামের
অন্যান্য প্রজন্ম
চরম অনিশ্চয়তার
মধ্যে জীবনপাত
করছিল।অতঃপর জনগন ইমাম আলী(আঃ)এর প্রতি
ফিরে আসে
এবং তাঁকে
তাদের পরবর্তি
খলিফা নিযুক্ত
করে(“আল-হাদিছ-ই-উম্মুল মু’মেনিন আয়শা”
অধ্যায়-আলা
আহদ আল
সাহরাইন/১১৫)

ইমাম আলী(আঃ)
এমন সময়ে
খেলাফতে অধিষ্টিত
হলেন যখন
মুসলমানেরা পুর্ববর্তি খলিফাদের আমলের ২৫
বছরে তাদের
নিজেদের স্টাইলে
জীবন-যাপনে
অভ্যস্ত হয়ে
পড়েছিল।ঐ সময়ে বিরাজিত পরিবেশ সম্পর্কে
ইমাম আলী(আঃ)নিজে
যে বর্ননা
দিয়েছেন তা
হলো নিম্নরুপ(মুহাম্মাদ ইবনে
ইয়াকুব কুলাইনীর
গ্রন্থ “রাওজাতুল
কাফী”৮/৬১-৬৩তে
বিস্তারিত দেখা যেতে পারে)ঃ

“আমার পুর্ববর্তি খলিফাগন
এমন কাজ
করেছিলেন যাতে
তারা সচেতনভাবেই
রাসুলুল্লাহর(সাঃ) নির্দেশের বিপরীতে চলে
গিয়েছিলেন।তাঁর প্রতি করা আনুগত্যের শপথ
তারা ভঙ্গ
করেছিল এবং
তাঁর সুন্নতের
পরিবর্তন করেছিল।এখন
আমি যদি
ঐ সকল
বিষয়গুলোকে পরিত্যাগ করার জন্য চাপ
প্রয়োগ করি
এবং রাসুল(সাঃ)এর
সময় যা
ছিল সেইভাবে
ঐ বিষয়গুলোকে
পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনি,তাহলে আমার
বাহিনীর লোকেরা
আমাকে নিঃসঙ্গ
অসহায় অবস্থায়
ফেলে আমা
হতে বিচ্ছিন্ন
হয়ে যাবে।খুব
বেশী হলে
এক ক্ষুদ্র
সংখ্যক অনুসারী
আমার পক্ষে
থাকবে;যারা
আল-কুরান
ও সুন্নাহর
ভিত্তিতে আমার
ইমামতকে স্বীকার
করে”।

“আমি যদি নিম্ন
বর্নিত ব্যাবস্থাগুলো
গ্রহন করি
তার ফলাফল
কি হবে
তা কি
তোমরা ভাবতে
পারো?ঃ

১/রাসুল(সাঃ)
যেখানে মাকামে
ইব্রাহিমকে স্থাপন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন
যদি আমি
তা সেখানে
পুনঃস্থাপন করি।

২/নবী কন্যা
ফাতেমা(আঃ)এর সন্তানদেরকে
আমি আমি
যদি ফিদাকের
সম্পত্তি ফিরিয়ে
দেই।

৩/মহানবী(সাঃ)এর সময়
ওজন ও
পরিমাপ যেমন
প্রতিস্টিত ছিল,যদি সেই অবস্থায়
তা প্রতিস্টিত
করি।

৪/যেসব ভুমি
মহানবী(সাঃ)যাদেরকে দিয়ে
গিয়েছিলেন যদি সেগুলো তাদের কাছে
ফিরিয়ে দেই।

৫/যদি খলিফাদের
জারীকৃ্ত নিষ্টুর
আইন বাতিল
করি।

৬/যদি যাকাত
ব্যাবস্থাকে তার প্রকৃ্ত ভিত্তির উপর
পুনর্বিন্যাস্ত করি।

৭/যদি অজু
গোসল ও
নামাযের নিয়ম-নীতি সংশোধন
করি।

৮/যে সকল
মহিলাদের অন্যায়ভাবে
তাদের স্বামীদের
থেকে পৃ্থক
করে অন্যদের
নিকট দেওয়া
হয়েছে,যদি
তাদেরকে তাদের
আসল স্বামীদের
নিকট ফিরিয়ে
দেই।

৯/বায়তুলমালের অর্থ
যেভাবে ধনিকদের
প্রদান করতঃশুধুমাত্র
তাদের হাতে
উহা পুঞ্জিভুত
না করে
মহানবী(সাঃ)এর সময়কালে
যেমন ছিল
তেমনিভাবে উহা পাওয়ার উপযুক্ত ব্যাক্তিদের
মাঝে সমভাবে
বন্টন করি(হযরত উমর
রাষ্টিয় কোষাগার
হতে অর্থ
বন্টনের ক্ষেত্রে
সমাজে শ্রেনী
বিভাজন চালু
করেছিল।সেই সময়ে একটি তালিকা করা
হয়েছিল এবং
এই অনুযায়ি
একদল পাচ্ছিল
প্রতি বছর
৫০০০ দিরহাম,অন্য একদল
৪০০০ দিরহাম
এবং অন্যান্যরা
৩০০০,২০০০,১০০০ এবং
৫০০ শত
থেকে ২০০শত
দিরহাম।এইভাবে সমাজে ধনী ও দরিদ্র
শ্রেনী সৃষ্টি
করা হয়)।

১০/যদি ভুমি
কর বাতিল
করি(হযরত
উমর ইরাকের
ভুমি কর
আরোপ করেছিল
ইরানের সাসানিদ
রাজন্যদের ভুমি রাজস্ব আইন অনুসারে
এবং মিশরে
রোমান রাজন্যদের
ভুমি রাজস্ব
আইন অনুসারে)।

১১/যদি দাম্পত্য
সম্পর্ক সংক্রান্ত
ব্যাপারে সকল
মুসলমানকে সমান ঘোষনা করি(হযরত
উমর আরবীয়
কন্যাদের সাথে
অনারবদের বিবাহ
নিষিদ্ব করেছিলেন)।

১২/যদি আল্লাহর
আইন অনুসারে
খুমস(সম্পদের
এক পঞ্চমাংশ)
আদায় করি(সুরা আনফাল-৪১)(৩
খলিফা মহানবী(সাঃ) ওফাতের
পর খুমস
হতে আহলে
বায়াতের প্রাপ্য
অংশ বাদ
দিয়ে দিয়েছিল)।

১৩/যদি মসজিদে
নববীকে এর
সুচনালগ্নের কাঠামোতে,যে কাঠামোতে রাসুল(সা)এর
সময়কালে প্রতিষ্টিত
ছিল,পুনঃপ্রতিষ্টিত
করি।মহানবী(সাঃ)ওফাতের পর মসজিদের
যে প্রবেশ
পথ গুলো
বন্দ্ব করে
দেয়া হয়েছিল
তা আবার
খুলে দেই,এবং তাঁর
ওফাতের পর
যে প্রবেশ
পথগুলো খোলা
হয়েছিল তা
আবার বন্দ্ব
করে দেই।

১৪/যদি ওজুতে
চামড়ার মোজার
উপর মাসেহ
করা নিষিধ্ব
করি(‘খুফ’
হচ্ছে পশুর
চামড়ার তৈরী
মোজা।সুন্নী মুসলমানগন,তাদের পুর্ববর্তীদের মত,ওজুর জন্য
নগ্ন পা
ধোয়া বাধ্যতামুলক
মনে করে,কিন্তু ‘খুফ’
দ্বারা পা
আবৃত থাকলে
উহা মাসেহ
করা যথেষ্ট
মনে করে(এব্যাপারে বুখারি
শরিফে মিথ্যা
হাদিস রয়েছে)।

১৫/ “নাবিয” এবং
খেজুরের মদপানের
উপর দন্ড
এবং বিশেষ
শাস্তির বিধান
চালু করি(নাবিয হচ্ছে
একধরনের হাল্কা
মদ,যা
সাধারনত বিয়ার
জাতীয় যব/বার্লি হতে
তৈ্রি করা
হয়)।

১৬/যদি নারী
এবং হজ্বের
ক্ষেত্রে মহানবী(সাঃ)এর
সময়কালে যেমন
ছিল,সেই
মোতাবেক মু’তার বিধান
আইনসিদ্ব করি(খলিফা উমর
২ ধরনের
মুতাকে অবৈ্ধ
ঘোষনা করেন।হজ্বের
মুতা(হজ্বে
তামাত্তু) ও নারীর মুতা।একইভাবে নিদিষ্ট
কন্যাদের বিবাহ,কুরানের ঘোষনা
ও সুন্নী
পন্ডিতগনের বননা অনুযায়ী যা সুস্পষ্টভাবেই
ইসলামি বিধানের
অন্তর্ভুক্ত)।

১৭/যদি মৃত
ব্যাক্তির জানাযার নামাযে ৫বার তাকবির
বলি(আবু
হোরায়রার সুত্রে সুন্নীগন মৃতের জানাজা
নামাযে ৪বার
তাকবির পড়ে
থাকে,সুত্রঃইবনে
রুশদ আন্দালুসীর
“বিদায়া ওয়াল
মুজতাহিদ”১//২৪০)।

১৮/যদি নামাযের
শুরুর সময়
শব্দ করে
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ তেলাওয়াত করা
বাধ্যতামুলক করি(সুন্নিদের একটি গ্রুপ
তেলাওয়াতের সময় সুরা ফাতিহা ও
অন্য সুরা
হতে ‘বিসমিল্লাহির
রাহমানির রাহিম’
বাদ দেয়।স্পষ্টতই
তারা এই
ব্যাপারে মুয়াবিয়াকে
অনুসরন করে
থাকে,সুত্রঃআল-ফাতিহার তাফসীর,
‘তাফদীরে আল-কাশশাফ’১/২৪-২৫)।

১৯/যদি মহানবী(সাঃ)এর
সময়কালে তালাকের
যে রীতি
প্রচলিত ছিল,সেই রীতি
কঠোরভাবে অনুসরনের
নির্দেশ দেই(তালাক ২
বার……..সুরা
বাকারাহঃ২২৯,সুন্নিদের মতে তালাক দেওয়ার
জন্য এক
বৈঠকে ৩
তালাক উচ্চারন
করলে তা
বৈ্ধ,এবং
এর যথাযথ
সাক্ষী না
থাকলে তা
দ্রুত অনুসমর্থন
করাতে হবে,সুত্রঃ’বিদায়াহ
ওয়াল মুজতাহিদ
১/৮০-৮৪)।

২০/যদি বিভিন্ন
জাতির যুধ্ববন্দীদের
প্রতি আচরনের
ব্যাপারে আল্লাহ
এবং তাঁর
রাসুল(সাঃ)এর নির্দেশনা
কঠোরভাবে অনুসরনের
নির্দেশ দেই।

“ এক কথায় আমি
যদি লোকদেরকে
আল্লাহতায়ালা এবং রাসুল(সাঃ)এর
নির্দেশ অনুসরন
করানোর জন্য
প্রচেষ্টা গ্রহন করি,তাহলে তারা
আমায় ত্যাগ
করবে এবং
এদিক-সেদিক
চলে যাবে”।

“আমি আল্লাহর নামে
শপথ করে
বলছি,যখন
রমযানের মাসে
ওয়াযিব(ফরয)
নামায ছাড়া
অন্য কোন
নামায জামাতের
সাথে না
আদায় করার
জন্য আমি
লোকদেরকে নির্দেশ
দিলাম এবং
বুঝিয়ে বললাম
যে মুস্তাহাব
নামায জামাতের
সাথে আদায়
করা বিদায়াত,আমার সেনাবাহিনীর
একটি দল,যারা আমার
পক্ষে একদা
যুধ্ব করেছিল,হৈচৈ শুরু
করে দিল,বলেঃ’আহ!উমরের সুন্নাত’।‘হে মুসলমানেরা।আলী উমরের
সুন্নাত পালটে
দিতে চায়
ও রমযান
মাসে মুস্তাহাব
নামায বন্ধ
করে দেওয়ার
বাসনা করে।তারা
এমন গোলমাল
শুরু করে
দিল যে
আমি ভীত
হলাম-তারা
কিনা বিদ্রোহ
করে বসে”।

“হায়!”,ইমাম আলী(আঃ) বলতে
থাকেন, “আহ
এমন যন্ত্রনা
আমি এই
লোকদের হাতে
ভোগ করলাম,যারা অত্যন্ত
প্রবল ভাবে
আমার বিরোধিতা
করে;যারা
তাদেরকে কেবলমাত্র
জাহান্নামের দিকেই চালিত করেছিল তারা
তাদের সেই
ভ্রান্ত নেতাদের
আনুগত্য করে”।

     রাসুল(সাঃ)
ঘোষিত ১ম
ইমাম আলী(আঃ) ১ম
৩ খলিফাদের
রীতি-পদ্বতির  বিপরীতে
বিশেষ করে
হাদিস সংক্রান্ত
বিষয়ে মহানবী(সাঃ)এর
পথ অনুসরন
করে সম্মুখে
অগ্রসর হওয়ার
জন্য একটি
কার্যক্রম গ্রহন করেছিলেন।তিনি ১ম ৩ খলিফা কত্বৃক
চালুকৃ্ত বিদয়াত
( নতুন রীতি
পদ্বতি)ধ্বংশ
করার জন্য

এক বিরামহীন যুদ্ব
শুরু করেছিলেন(তিনি সকল
কাহিনী কথকদের
উপর,যারা
উমর ও
উসমানের নির্দেশ
মোতাবেক জুময়ার
দিনে মসজিদসমুহে
খোতবা দিত,নিষেধাজ্ঞা আরোপ
করলেন।তিনি নবীজীর হাদিস মুক্তভাবে কোন
লুকানো ছাড়াই
বর্ননার রীতি
চালু করলেন।তাঁর
পক্ষে যতটুকু
সম্ভব তিনি
খলিফাদের আবিস্কারসমুহের
মুলোতপাটন করলেন।বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুনঃ
“ মিন তারিখ
আল-হাদিস”)।

      

 

                                     যারা ইমাম
আলীর(আঃ)
ভুমিকা তাদের  দুনিয়াবী
স্বার্থের প্রতিকুল বিবেচনা করছিল কুরাইশদের
সেইসব লোক
তাঁর বিরুদ্বে
দাঁড়িয়ে গেল।তারা
“জামাল” এবং
“সিফফিন” যুদ্বে
প্রচুর রক্তপাতের
পরিস্থিতি তৈ্রী করলো।তাঁর বিরুদ্বে তাদের
শত্রুতা এমন
পর্যায়ে উপনীত
হলো যে
প্রায় ৪
বছরের মধ্যেই
তারা তাঁকে
নামাজরত অবস্থায়
শহীদ করে
দিল।

                                    আল্লাহ এবং
রাসুলের(সাঃ)
শত্রু মুয়াবিয়া
তার ধুর্ত
পরিকল্পিত চক্রান্তের ফলাফল হিসাবে হযরত
ইমাম আলী(আঃ)এর
ইন্তেকালের কিছু সময়ের মধ্যেই খেলাফতের
সিংহাসনে নিজেকে
আসীন করতে
সক্ষম হলো।মুগীরা
ইবনে শোবা’র সাথে
বাক্যালাপকালে তিনি তার রাজনৈ্তিক উচ্চাভিলাসের
গোপন তথ্য
ফাঁস করে
দেন।মুগিরা প্রশ্ন করলোঃ “হে আমিরুল
মু’মিনিন,আপনার আকাঙ্ক্ষা
বাস্তবায়নে আপনি সফল হয়েছেন।আজ কোন
ধরনের ক্ষতির
আশংকা নেই
যদি আপনি
আপনার এই
বৃ্দ্ব বয়সে  লোকদের
জন্য সুবিচারের
ব্যাবস্থা করেন এবং সৎ্কাজ করেন
যাতে আপনার
পশ্চাতে সুনাম
রেখে যেতে
পারেন।আল্লাহর শপথ হাশেমীদের আজ এমন
কিছুই নেই
যাতে ভীত
হতে হবে;সুতরাং আপনার
পক্ষে এটাই
উত্তম হবে
যদি আপনি
তাদের সাথে
সদয় ব্যবহার
করেন এবং
সম্পর্কের বাধনকে মজবুত করেন”।

      মুয়াবিয়া প্রশ্নোত্তরে
বললেনঃ “অসম্ভব।আবুবকর
শাসক 
হল এবং সুবিচার প্রতিষ্টা করলো
এবং সকল
ধরনের দুর্ভোগ
পোহালো,কিন্তু
মৃত্যুর অব্যবহিত
পর পরই
তার আর
কিছুই আবশিষ্ট
রইলো না,তার নাম
আজ কেবল
কদাচিত উচ্চারিত
হয়।তারপর এলো
উমর।তার শাসনকার্যকে
সফল 
করার জন্য তিনি  সর্বোত্তমভাবে  সচেষ্ট
ছিলেন,এবং
তার ১০
বছরের শাসনকালে
তিনি অনেক
সমস্যা মোকাবেলা  করলেন,কিন্তু তার
মৃত্যুর সাথে
সাথে তার
নামও মৃত্যুবরন
করলো।তারপর উসমান,যে অত্যন্ত উচ্চ
বংশের সন্তান,শাসন ক্ষমতায়
অধিষ্টিত হলো
এবং উল্লেখযোগ্য
বেশকিছু কাজ
সম্পাদন করলো।অন্যরা
করলো তার
প্রতি অন্যায়
আচরন এবং
তিনিও মৃত্যবরন
করলেন।তার মৃত্যুর সাথে সাথে নামটিও
মাটির নীচে
চলে গেল।লোকেরা
তার মহৎ
কাজগুলো সম্পুর্নরুপে
বিস্মৃত হলো।কিন্তু
ঐ হাশেমীর(আল্লাহর নবীর)
নাম এখনও
এই দুনিয়ায়
রোজ ৫বার
উচ্চস্বরে উচ্চারিত হচ্ছে।এই নামের অস্ত্বিত্ব
থাকাকালে কে
জীবিত থাকতে
পারে? হে
মাতৃহীন সাথী!
না,আল্লাহর
শপথ,যতক্ষন
না এই
পৃ্থিবীর ভুমি
হতে তাঁর
নাম মুছে
ফেলতে পারবো
ততক্ষন পর্যন্ত
আমার কোন
শান্তি নেই”(সুত্রঃমাসুদী,”মুরুজ
আল-জাহাব”৩/২৫২,দার আল-আন্দালিস প্রেস।২১২
হিজরি)।     

        এইভাবে মহানবী(সাঃ)এবং তাঁর
আহলে বাইতের
নাম নিশানা
নিশ্চিনহ করার
জন্য মুয়াবিয়া
তার সকল
ক্ষমতা,উপায়-উপকরন ব্যবহার
করেছিল এবং
হাদিস জাল
করার নানা
উপায়/কারখানা
স্থাপন করেছিল।মুয়াবিয়া
তার এই
কাজে এতটা
সফল হয়েছিল
যে,আবু
হোরায়রা যিনি
৫০৩০টি হাদিস
জাল করেছিলেন(মুরতাজা আল-আসকারী,"আহাদিস-ই-উম্মুল
মু'মেনিন
আয়শা"পৃঃ-২৮৯ এবং,তেহরান
১৩৮০ হিজরী")।আব্দুল্লাহ
ইবনে উমর
এই ধরনের
২০০০ হাজারেরও
বেশী জাল
হাদিস বর্ণনা
করেছেন।উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা ও
আনাস বিন
মালিক দু’জনের প্রত্যেকে
২০০০ হাজারের
বেশী জাল
হাদিস বর্ণনা
করেছেন।এই ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের মত
অন্যরা স্বার্থান্বেষী
শাসকগোষ্টীর আনুকুল্য পাওয়ার জন্য হাদিস
জাল করার
জন্য পরস্পরের
সাথে প্রতিযোগিতায়
নেমেছিল।আল্লাহই ভাল জানেন।এই প্রচারাভিযানকালে হাদিসের নামে কত অসংখ্য
কাহিনী উদ্ভাবন
করা হয়েছিল।এর
ফলে ইসলামী
নীতিমালা-বিধান
এবং আমলের
বিকৃ্তি সাধিত
হয়েছিল এবং
সব উলট-পালট করে
দিয়েছিল।এই ধারাবাহিকতায় প্রকৃ্ত ইসলাম সম্পুর্নভাবে
পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল।

      শাসকগোষ্টী কেবল্মাত্র
এই রুপান্তরিত
ইসলামকে অফিসিয়াল
স্বীকৃতি প্রদান
করতো।এই ইসলামের
বহিরাবরন ও
মানদন্ড তৈ্রী
হয়েছে মুয়াবিয়ার
আমলে এবং
এই ধারাবাহিকতার
পথ ধরে
ইহাই সত্য
ইসলাম বলে
প্রতিপন্ন হয়েছে।ঐ বিষয়গুলো এখন এমন
পর্যায়ে উপনীত
হয়েছে যে,মহানবী(সাঃ)এর সত্য
ইসলামকে যদি
এই সকল
দরবারী ইসলামে
অভ্যস্ত লোকদের
কাছে উপস্থাপন
করা হয়,তবে প্রকৃ্ত
সত্য হিসাবে
তা বিশ্বাস
করা কঠিন
হয়া দাড়ায়।কারন
তারা তাদের
ইসলামকে জেনেছে
সেইসব গ্রন্থ
থেকে যেগুলো
মিথ্যা 
এবং জাল হাদিস সমৃদ্ব।উদাহরন স্বরুপ
আবুহোরায়রার কারখানায় উদ্ভাবিত একটি জাল
হাদিস আমরা
এখানে উল্লেখ
করতে পারিঃ

 

 

 ---"একদল লোক
রাসুল(সাঃ)কে জিজ্ঞাসা
করলো, হে
আল্লাহর নবী,হাশরের দিন
আমরা কি
আল্লাহকে দেখতে
সক্ষম হবো?তিনি জবাব
দিলেন,"পুর্নিমার রাতে চাঁদের দিকে
তাকিয়ে তোমরা
কি আনন্দ
পাওনা?""আমরা পাই"
তারা উত্তর
দিল।আবার তিনি
বললেন,"মেঘমুক্ত আকাশে সুর্য দেখার
ক্ষেত্রে তোমরা
কোন অসুবিধা
অনুভব কর
কি?"তারা
উত্তরে বললো,"না,হে
আল্লাহর নবী,করিনা।"তারপর
তিনি বললেন,তোমরা আল্লাহকে
দেখতে পাবে
ঠিক একই
রকমভাবে"।শেষ বিচারের দিন
আল্লাহ সকল
মানুষকে একত্রিত
করবেন এবং
দুনিয়াতে তারা
যার ইবাদাত
করতো তাকে
অনুসরন করার
জন্য তাদেরকে
নির্দেশ দিবেন।যারা
সুর্য পুজা
করতো তারা
সুর্যকে অনুসরন
করবে এবং
যারা চন্দ্রকে
পুজা করতো
তারা চন্দ্রকে
অনুসরন করবে;এবং যারা
প্রেত(অশুভ
আত্নার)পুজা
করতো তারা
তাদের দেবতার
পশ্চাতে চলতে
থাকবে।কেবল্মাত্র মুসলমান ও
মুনাফিকেরা অবশিষ্ট থাকবে।অতপর লোকেরা পুর্বে
যেরুপ আল্লাহর
চিনতো তিনি
তাদের সামনে
ভিন্নরুপে আবির্ভুত হবেন,এবং বলবেন,"আমিই তোমাদের
আল্লাহ"।তারা বলবেঃআমরা তোমা
হতে আল্লাহর
নিকট আশ্রয়
চাই"।আমরা এখানে
অপেক্ষা করবো
যতক্ষন না
আল্লাহ আমাদের
সামনে উপস্থিত
হন এবং
আমরা তাকে
চিনবো।তারপর আল্লাহ আবার তাদের সামনে
সেইরুপে উপস্থিত
হবেন যেরুপে
লোকেরা আগে
তাঁকে চিনতো।তখন
লোকেরা চিৎকার
করে বলবে,"নিশ্চয়ই তুমি
আমাদের প্রভু"
এবং তারা
তাঁকে অনুসরন
করবে"(সহী বুখারী,১ম খন্ড,বিষয়ঃ"ফজল
আল-সুজুদ",অধ্যায় ৯
"আল-সিরাতজসর
জাহান্নাম"।মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ
নিশাপুরি,সহীহ
খণ্ড ১,বিষয়ঃ"মারিফাহ
তারিখ আল-রুইয়াহ"।)

 

এই হাদিসটি স্পষ্টতই
আল্লাহ সম্পর্কে
জ্ঞানের ভিত্তি
এবং পরকাল
সম্পর্কে ইসলামের
মুল বিশ্বাসকে
নষ্ট করে
দেয়।

 অন্য ১টি
হাদিসে বর্নিত
হয়েছে যে,শেষবিচারের দিনে
মহানবী(সাঃ)
আল্লাহর নিকট
এইভাবে মুনাজাত
করবেনঃ “হে
আমার আল্লাহ
আমি মুসলমানদের
প্রতি রাগবশে
যে বদদোয়া
করেছি এর
পরিবর্তে তুমি
তাদের প্রতি
রহম কর
এবং তাদের
পরিশুদ্ব করে
দাও” (সুত্রঃসহি
মুসলিম,বিষয়ঃমানলা
আনাহু আল-নবী বা
“জায়ালাল্লাহ লাহু জাকাতান ওয়া তহুরান”)।

             ……………………………

……….

               আরো বর্নিত
হয়েছে যে,একদিন মহানবী(সাঃ) মক্কায়
নামাজ আদায়কালে
সুরা নাজম-এর এই
আয়াত “ তোমরা
ভাবিয়া দেখিয়াছ
“লাত” ও
“উজ্জা” সম্বন্বে
এবং ৩য়
আরেকটি “মানাত”
সম্বন্দ্বে?পযন্ত তেলাওয়াত করতেছিলেন।যখন তিনি
এই আয়াত
তেলাওয়াত করতেছিলেন,শয়তান মহানবীর(সাঃ) মুখে
এই শব্দাবলী
জুড়ে দিলঃ
“এরা হলো
বিশিষ্ট দেবতা
যারা শ্বেতশুভ্র
পাখির মত
এবং তাদের
অনুগ্রহ আকাংখিত”।মুর্তিপুজারীরা
যখন এই
শব্দগুলো শুনলো,তারা খুশী
হয়ে গেল
এই ভেবে
যে,অবশেষে
মহানবী(সাঃ)
তাদের দেবতাদের
সম্পর্কে ভাল
বক্তব্য পেশ
করলো,এবং
একই সাথে
সকল মুসলমান
এবং কাফিররা
সেজদায় চলে
গেল।তারপর জীব্রাঈল আমিন(আঃ) অবতরন
করলেন এবং
রাসুলকে(সাঃ)তাঁর এই
ভ্রান্তি সম্পর্কে
দৃষ্টি আকর্ষন
করলেন।রাসুল(সাঃ) বললেন যে,শয়তান
তার মুখে
এই শব্দগুলো
জুড়ে দিয়েছিল।

        অন্য একটি
বর্ননা অনুসারে,জীব্রাঈল (আঃ)মহানবী(সাঃ)কে সেই
আয়াত পুনরায়
তেলাওয়াত করতে
বললেন, এই
“এরা হলো
বিশিষ্ট দেবতা”
শব্দগুলো যোগ
কর,রাসুল(সাঃ) তা
করলেন।জীব্রাঈল তাকে বললেনঃ যে তিনি
ঐ শব্দগুলো
তাঁর কাছে
নিয়ে আসেননি,এটা শয়তান  যে তাঁকে (মহানবী)
দিয়ে ঐ
শব্দগুলো উচ্চারন
করিয়েছে( “আমি তোমার পুর্বে যে
সমস্ত রাসুল(সাঃ) কিংবা
নবী প্রেরন
করেছি তাদের
কেহ যখনি
কিছু আকাঙ্ক্ষা
করেছে,তখনই
শয়তান তার
আকাঙ্ক্ষার কিছু প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ
তা বিদুরিত
করেন”(সুরা
হজ্জঃ৫২)এই
মহিমান্বিত আয়াতের তাফসীরে সয়ুতি তার
“দুররে মনসুর”
নামক তাফসীর
গ্রন্থে(৪/৩৬৬-৩৬৮)
এই বিষয়বস্তুর
সমর্থনে বিখ্যাত
সাহাবাদের সুত্রে ১৪টি হাদিস বননা
করেছেন)।

     এই বর্ননাগুলো
প্রখ্যাত ও
নির্ভরযোগ্য সুন্নী পন্ডিত যেমন,তাবারী,ইবনে কাসীর,সুয়্যুতি এবং
আল্লামা সাইয়েদ
কুতুবের 
ভাষ্যে উল্লেখিত হয়েছে।

     এই সকল
ব্যক্তিবর্গ মহানবী(সাঃ)এর নামে
এত বিশাল
সংখ্যক জাল
হাদিস বর্ননা
করেছেন যে,তারা মহানবীর(সাঃ)সঠিক
রুপ মিথ্যা
ও অসত্য
বক্তব্যের পর্দার আড়ালে ঢেকে দিয়েছেন।

    কুরাইশ শাসকবর্গ
ও তাদের
কর্মকর্তাদের প্রতিকৃ্তি চিত্রিত হলো মেকি
রঙে।অতিপ্রাকত গুনাবলি তাদের জন্য আবিস্কৃত
হল,এবং
তাদের বিরোধী
পক্ষের ব্যক্তিবর্গ
নিন্দার লক্ষ্যবস্তুতে
পরিনত হল।উহা
এমন পর্যায়ে
উপনীত হলো
যে আবুযর
গিফারী,মালিক
আশতার,আম্মার
ইবনে ইয়াসির
এবং তাদের
মত ব্যক্তিবর্গ
আত্নাভিমানী এবং ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ
হিসাবে ঘোষিত
হলো(সুত্রঃ
“আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা”,লেখক-সাইয়েদ
মুরতাজা আশকারী
রঃ,১ম
অধ্যায়)।এছাড়া,তারা
আল্লাহর গুনাবলী,পুরুথথান ও
শেষ বিচার,পুরস্কার ও
শাস্তি,জান্নাত
ও জাহান্নাম,পুর্ববতী নবীগনের
কাহিনী,সৃষ্টির
সুচনা,ইসলামী
আকিদা-বিশ্বাস
এবং বিধিবিধান
সম্পর্কিত বহু হাদিস তারা উল্লেখ
করেছেন,কিন্তু
প্রকৃ্তপক্ষে এসম্পর্কিত তথ্যের উৎস ছিল
তাদের নিজস্ব
মস্তিস্কের উদ্ভাবন।

    প্রতীয়মান হয়
যে,এই
ধরনের অসংখ্য
জাল করা
হাদিস রয়েছে।এই
জাল হাদিসগুলোর
বর্ননা ক্ষেত্র
এত বিস্তৃত
ছিল যে,ধর্ম সম্পর্কীয়
সকল সত্য
যেন ছায়ায়
পরিনত হল,
এবং এর
পরিবর্তে উমাইয়া
ও আব্বাসীয়
শাসকবর্গের উদ্ভাবিত নতুন ইসলামের আবির্ভাব
ঘটলো;তুর্কী
উসমানী খেলাফতের
শেষ পর্যন্ত
এই ধারাবাহিকতা
কার্যকরভাবে চালু ছিল।

     ইসলামের ইতিহাসের
সমগ্র অধ্যায়
জুড়ে আর
একদল লোকের
অস্তিত্ব পাওয়া
যায় যারা
জাল হাদিস
প্রস্তুতকারকদের বিরোধিতা করতো।এই দলের সদস্যবর্গ
তাদের সাধ্যমত,
এমনকি নিজের
জীবিনের বিনিময়ে
হলেও,রাসুলের(সাঃ)সঠিক
সুন্নাহকে সংরক্ষন করার জন্য সচেষ্ট
ছিলেন।রাসুলের(সাঃ) একজন বিশ্বস্ত সাহাবী
আবুযর এই
ব্যক্তিবর্গের মধ্যে অন্যতম অগ্রনী ছিলেন।একদিন
তিনি একদল
লোক পরিবেষ্টিত
হয়ে মিনায়
“২য় শয়তান”-এর নিকট
বসে ছিলেন।লোকেরা
তার নিকট
ধর্ম সম্পর্কে
প্রশ্নাবলী জিজ্ঞেস করছিল।হঠাৎ উমাইয়া সরকারের
শয়তান-প্রকৃ্তির
একজন কর্মকর্তা
তার নিকট
এলো এবং
জিজ্ঞেস করলো,
“লোকদের প্রশ্নের
জবাব দান
না করার
জন্য তোমাকে
কি সতর্ক
করা হয়নি?”আবুযর জবাব
দিলেন, “আমার
উপর নজরদারী
করার জন্য
তুমিই কি
দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি”?এই কথা বলে
তিনি তার
ঘাড়ের দিকে
অঙ্গুলী নির্দেশ
করে বললেন,
“যদি তুমি
এইখানে তরবারি
ধর এবং
শরীর হতে
মস্তক বিচ্ছিন্ন
হওয়ার পুর্বে
মহানবী(সাঃ)এর নিকট
হতে যা
আমি জানতে
পেরেছি তার
সামান্য কয়েকটি
শব্দও উদ্বৃতি
দেওয়ার সুযোগ
পাবো বলে
আমি বুঝতে
পারি,তবে
অবশ্যই তা
আমি করবো”(সুত্রঃ সুনানে
দারামি ১/১৩২,মুঃ
ইবনে সা’দের “তাবাকার
আল-কুব্রা”২/৩৫৪)।

 

রাশিদ হিজরী নামে অন্য একজন মহান ব্যাক্তি এই দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।এটা সেই সময়ের কথা যখন কুফার গভর্নর জিয়াদ তার হাত এবং পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল।বিপুল সংখ্যক লোক সে সময় তাকে দেখতে এসেছিল এবং শোক প্রকাশ করছিল।রাশিদ তাদের উদ্দেশ্যে বললেন,”কান্না বন্দ্ব কর,কিছু একটা নিয়ে আস যার দ্বারা লিখতে পারা যায়,কারন আমি তোমাদের সেই নির্দেশগুলো জানাতে চাই যা আমি আমার মাওলার কাছ থেকে জেনেছি”।লোকেরা একমত হলো।কিন্তু এই খবর জিয়াদের কাছে পৌছার পর জিয়াদ তার(রাশিদের) জিহবা কেটে দিল(মুঃ ইবনে আল-হাসান তুসীর “ইখতিয়ার মারফা আল-রিজাল” যা “রিজাল কাশী” নামে পরিচিত এবং আল্লামা বাকির মাজালিশীর “বিহারুল আনোয়ার”৯/৬৩২।

    মিসাম-এ-তাম্মার এই দলের একজন সাহসী কর্মী ছিলেন।যখন ইবনে জিয়াদ তার হাত এবং পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিল এবং তাহে যখন ফাঁসিকাষ্টে ঝুলাতে যাচ্ছিল তখন তিনি মঞ্চে অতিকষ্টে একজন বক্তার মত দাড়ালেন এবং চিৎকার করে বললেন, “হে লোকেরা শুন,আমি ইমাম আলীর(আঃ) নিকট থেকে যে হাদিস টি শুনেছি তা শুনতে যার ইচ্ছা করে সে আমার কাছে আস”।লোকজন ফাঁসিকাষ্টের নিকট জমায়েত হলো মিসাম-এ-তাম্মার তখন বলতে শুরু করলেন।ইবনে জিয়াদ যখন এটা জানতে পারলো,সে তার(মিসাম) জিহবা কেটে দেবার নির্দেশ দিল।জহবা কেটে দেবার পর পরই মিসাম-এ-তাম্মার ১ ঘন্টার বেশী তীব্র যন্ত্রনা ভোগ করেন নি;ফাঁসিকাষ্টে রক্তের ঝনার মাঝে শাহাদাত বরন করলেন(মুঃ ইবনে আল-হাসান তুসীর “ইখতিয়ার মারফা আল-রিজাল” যা “রিজাল কাশী” নামে পরিচিত এবং আল্লামা বাকির মাজালিশীর “বিহারুল আনোয়ার”,৭৬-৭৭)।

          আমরা দেখতে পাই যে,রাজ্যে খেলাফতের প্রভাব ক্রমান্বয়ে বিশালাকারে বেড়ে যাচ্ছিল।পর্যায়টা এমন দাড়ি্যেছিল যে,তারা হালাল-হারাম সংক্রান্ত আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের(সাঃ) বিধান পরিবতন করে দিতে সক্ষ ছিল।শেষ পযন্ত বিষয়টি এমন দুর্ভাগ্যজনক অবস্থায় পৌছাল যে,খলিফাদের জারীকৃ্ত আদেশ আল্লাহর বিধান হিসাবে কার্যকর হতে থাকলো।

   যা হোক উসমানের খেলাফতের পর বেশীদিন এই পরিস্থিতি টিকতে পারেনি।গনঅভ্যূথান এই স্বেচ্ছাচারী শাসনের অবসান ঘটায়।তবে জাল হাদিস প্রস্তুতকারক ও প্রচারনাকারী একদল শক্তিশালী লোকের সহায়তায় স্রোতধারা মুয়াবিয়ার দিকে ঘুরে গিয়েছিল।মুয়াবিয়া পুরনো রীতি-নীতি পুনঃপ্রচলনের জন্য একটি কার্যপরিকল্পনা নির্ধারন করলো(উম্মুল মু’মেনিন আয়েশা,আবু হোরায়রা,আনাস ইবনে মালেক,আব্দুল্লাহ ইবনে উমর,আব্দুল্লাহ বিন আমর,মুগিরা বিন শোবাহ এবং সামরাহ বিন জুন্দুর-এর মত লোকেরা ছিল এর বর্ননাকারী।আরো তথ্যের জন্য জানুন “আল হাদিসুন উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা” এবং “মিন তারিখ আল-হাদিস”।সাইয়েদ আবুল হোসাইন শারফুদ্দিনের “আবু হোরায়রা”,শেখ মাহমুদ আবু রাইয়াহ-র “আজওয়া আলা সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া” এবং শেখ আল-মুজিরাহ”)এবং অতীতের সেই তথাকথিত গৌ্রবোজ্জ্বল রীতি পুনঃপ্রতিষ্টা করলো।তবে ইমাম হোসাইনের(আঃ)শাহাদাত এই সকল নীল-নকশা চিরতরে ব্যার্থ করে ছিল এবং তৎপরবর্তী খলিফাদের পক্ষে অতীত রীতি-নীতির পুনঃপ্রচলন আর কখনোই সম্ভবপর হয়ে উঠেনি।এই কারনে সঠিক ইসলামের বিপরীতে দরবারী ইসলামের উদ্ভাবন ও সংযোজন কার্যক্রমের আর কোন উন্নতি দেখা যায়নি(আব্দুল মালিকের অনেকগুলো কার্যক্রমের একটি হলো হজ্জ করার জন্য লোকজন কাবা ঘরের পরিবর্তে জেরুজালেম যাবে এবং তৈ্রীকৃ্ত ঘর তাওয়াফ করবে,কিন্তু এই উদ্ভাবন ধোপে টেকেনি।দেখুনঃ “তারিখ আল ইয়াকুবী”৩/৭-৮,নাজাফে প্রকাশিত)।পরবতী খলিফারা নতুন কোন উদ্ভাবন চালু করতে পারেনি।

 

                ইমাম হোসাইন(আঃ)এর শাহাদাত আরও একটি
সুফল বয়ে এনেছিল।ইসলামের সঠিক রুপের অনুসারী এবং মহানবীর(সাঃ)হাদিস পুরুজ্জীবনের প্রচেষ্টাকারীদের
প্রতি প্রতিশোধ্মুলক কার্যাবলী,যেমন জেল-জুলুম,নির্দয় আচরন,অত্যাচার-নির্যাতন এবং হত্যাকান্ড
হ্রাস পেয়েছিল,কারন পরবর্তী রাজন্যবর্গ এই ধরনের যন্ত্রনাদায়ক ও অমানবিক ব্যাবস্থা
গ্রহন করতে সমর্থ হয়নি।অতঃপর তারা পুববর্তী খলিফাদের নিয়োজিত কর্মীদের সৃষ্ট হাজার
হাজার জাল হাদিস হতে সঠিক হাদিস বাছাই করার জন্য তাদের সকল প্রচেষ্টা নিয়োজিত করার
সিদ্বান্ত নিল,এবং এইগুলো মুসলমানদের নিকট সহজলভ্য করে দিল।

     উমর ইবনে আব্দুল আজিজের খেলাফতে আরোহনের মাধ্যমে
শতবর্ষ ধরে হাদিসের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটলো।হিজরী ২য় শতকের আগমনের সাথে
সাথে দরবারী ইসলামের অনুসারীরা তাদের রাজন্যবগের নিকট হতে মহানবীর(সাঃ) হাদিস লিপিবদ্ব
করার অনুমতি পেয়ে গেল।এই সুত্র ধরে মহানবীর এবং তাঁর সাহাবীদের জীবনী ভিত্তিক বিশাল
সংখ্যক গ্রন্থ সংকলিত হলো।কিন্তু তাদের হাজার হাজার সংখ্যকের মধ্যে সঠিক ইসলামের প্রকৃত
অনুসারীদের  সুত্রে পাওয়া গেল মাত্র অল্প কয়েকটি
হাদিস।তবে যারা রাজন্যবর্গের নিকট তাদের বিবেক বিক্রয় করে দিয়েছিল সেইসব তথাকথিত বুদ্বিজীবীদের
কাছে ঐ হাদিসগুলো স্বল্প সংখ্যক হয়েও মাথা ব্যথার কারন হয়ে দাড়িয়েছিল।এর থেকে উত্তরনের
জন্য তারা দুটো পন্থা  অবলম্বন করেছিলঃ

   প্রথমতঃবুদ্বিবৃত্তিকভাবে হাদিস বর্ননাকারী(রা’বী)-দের
সম্পর্কে তথ্যানুসদ্বান এবং হাদিস বাছাইকরন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই সিদ্বান্ত গৃহীত
হয় যে,যদি কোন রা’বী ইমাম আলী(আঃ)এর কোন সুহ্রদ বা সহযোগী হতো,তবে তার বর্ননাকে দুর্বল  বা মুল্যহীন ভাবা হতো(দেখুনঃহাদিসের উপর সকল সুন্নি
বই)।দ্বিতীয়তঃইমাম আলীর(আঃ)বর্ননা বাদ দিয়ে তারা হাদিসের বই সংকলিত করেছিল।

   এইভাবে সংকলিত হাদিস বইগুলোকে “সহীহ” হিসাবে তারা
পরিচিত করালো এবং সেহুলো সংখ্যায় নির্দ্ধারিত হলো ছয়টি।তন্মধ্যে বোখারীকে সবচেয়ে বেশী
নির্ভরযোগ্য বিবেচনা করা হল,কারন তিনি ঐ পন্থা দু’টোর প্রতি বিশ্বস্ত  ছিলেন সবচেয়ে বেশী।তিনি এমনকি খারেজী যেমন-উমর ইবনে
খাত্তানের নিকট থেকেও হাদিস গ্রহন করেছেন,কিন্তু আবু আব্দুল্লাহ জাফর সাদিকের(আঃ) নিকট
হতে কোন হাদিস তার সহীহতে অন্তর্ভুক্ত করেননি।একইভাবে তিনি খলিফাদের(১ম ৩ খলিফা)বর্নিত
এই ধরনের সকল হাদিস,সেগুলো অসম্পুর্ন এবং টুকরা টুকরা হওয়া সত্বেও,তার সহীহতে অন্তর্ভুক্ত
করেছেন।এই কারনেই দরবারী ইসলামের অনুসারীরা আল-কোরানের পর বোখারীর হাদিস গ্রন্থকে সবচেয়ে
নির্ভরযোগ্য মনে করে। 

             একই ভিত্তিতে আত্নজীবনী এবং ইতিহাসের গ্রন্থসমুহের মধ্যে
তারিখে তাবারী-কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থ হিসাবে গন্য করা হয়।কেননা তিনিও
এই ক্ষেত্রে বোখারীর পদাংক অনুসরন করেছিলেন।তিনি নব-ইসলামের কর্মকর্তাদের নিকট সম্মানিত
ব্যক্তিবর্গের স্বার্থের সাথে ন্যুনতমভাবেও সাংঘর্ষিক হয় এমন কোন হাদিস তার গ্রন্থে
অন্তর্ভুক্ত না করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন।অন্যদিকে তিনি সেই সকল হাদিসও
তার গ্রন্থে উদ্বৃতি হিসাবে এনেছেন যেগুলো ১ম ৩ খলিফাদের নিষ্টুর কার্যসমুহকে ন্যায়ানুগ
প্রতিপন্ন করেছিল।এজন্য দেখা যায়,তাবারী তার গ্রন্থে ইসলামের শত্রুদের বানানো শত শত
মনগড়া হাদিস বর্ননা করেছেন,এবং এইভাবে মহানবী(সা)ও ১ম ৩ খলিফাদের সময়কালের ঐতিহাসিক
সকল ঘটনাকে বিকৃ্ত করেছেন(সুত্রঃ “আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাহ”,২য় খন্ড,লেখক-সাইয়েদ মুরতাজা
আশকারী রঃ)।এইকারনে সেই লেখক(তাবারী) খলিফা ও তাদের সহযোগিদের প্রতি তার একনিষ্ট আনুগত্যের
কারনে এত বিখ্যাত হয়েছিলেন যে,তিনি (তাবারী)ঐতিহাসিকগনের পুরোধা(নেতা) হিসাবে অভিহিত
হন।তার পরবর্তী সময়ে ইবনে আসির,ইবনে কাসীর এবং ইবনে খালদুনের মত অন্যান্য ঐতিহাসিকগন
মহানবী(সাঃ)এর সাহাবীদের ইতিহাসের ক্ষেত্রে তার লেখনীর উপর নির্ভর করেছেন(দেখুনঃ “আব্দুল্লাহ
ইবনে সাবাহ”,২য় খন্ড,লেখক-সাইয়েদ মুরতাজা আশকারী রঃ)।

      ৪র্থ হিজরী শতকের পরের সময়ে দরবারী ইসলামের
অনুসারীরা ঐ ৬টি হাদিস গ্রন্থ ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে কার্যক্রম
গ্রহন পরিচালনার ঘোষনা জারী করে।

     

 

     ইতিহাস লেখকের ক্ষেত্রে কেবল্মাত্র তাবারী ও
তার অনুসারীদেরকে প্রধান উৎস হিসাবে গন্য করার পরিনামে লেখকগনের সংকলিত শত শত ইতিহাস,হাদিস
এবং তাফসীরগ্রন্থ বিভ্রান্তির অতল তলে নিমজ্জিত হয়েছে(বালাজুরীর বিশালাকার ইতিহাস গ্রন্থ
“আন্সাব আল-আশরাফ” এবং মাসুদীর মধ্যমাকার ইতিহাস গ্রন্থ “আখবার আল-জামান” এবং “আওসাত”
হতে সংক্ষিপ্ত আকারে উদ্বৃত)।এই পথ ধরে সঠিক ইসলামের মহানবীর(সাঃ)যা মানবজাতির জন্য
অনুগ্রহ হিসাবে এনেছিলেন তার অনুসন্দ্বান এবং গবেষনা সকলের জন্য চিরতরে বন্দ্ব হয়ে
যায়।

    ৪র্থ হিজরী শতকের পর হতে আজ পর্যন্ত মানবগোষ্টির
প্রজন্মসমুহ সেই গ্রন্থকারগনকে অন্দ্বভাবে অনুসরন করেছিল।এর পরিনামে এখন,মহানবীর(সাঃ)
আহলে বাইতের(নবী পরিবার আঃ)ধারার অনুসারীগনকে ব্যাতিক্রম হিসাবে বাদ দিলে,সকল মানুষ
জানে যে, “ হাদিস উদ্ভাবনকারীদের” মাধ্যমে বাস্তবরুপ প্রাপ্ত দরবারী ইসলামই হচ্ছে সর্বজনস্বীকৃত
ইসলাম।অতপর আমরা দেখতে পাই যে,ইসলামের সঠিকরুপ,এর বিধিবিধান,আদেশ-নিষেধ,নীতিমালা ও
আমল,ইতিহাস এবং অতীতের প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গের জীবনীর সঠিক চিত্র জানার পর সর্বপ্রধান
বাধা হচ্ছে জাল হাদিসের অস্ত্বিত্ব।

  আমরা উপরে যা উল্লেখ করেছি তার আলোকে ইহা সময়ের
অতিজরুরী গুরত্বপুর্ন হয়ে দেখা দিয়েছে যে,ইসলামী বিশ্বের সকল প্রজ্ঞাবান এবং জ্ঞানবান
পন্ডিত সঠিক ইসলাম সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য বিস্তারিত তথ্যানুসদ্বান করতে অগ্রসর
হবেন।ইহা খুজে পাবার একমাত্র উৎস হচ্ছে রাসুলের(সাঃ) আহলে বাইতের(আঃ) ধারা।

    

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None