যে বিস্ময়ের শেষ নেই - ২

কেন আল্লাহ নিজেই তা হেফাজত করছেন (বাকী অংশ)

৪- আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অশেষ করুণাময় ও মেহেরবান এবং ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর অসীম জ্ঞান এবং অনুগ্রহ ও ন্যায় বিচারের কাছ থেকে এটা আশা করা যেতে পারে না যে, মানুষ তার ধর্মীয় কথা জানতে পারবে না অথচ তার বিপরীত পথে চলার অপরাধে তিনি তাকে পাকড়াও করবেন। এটা কখনোই হতে পারেনা যে, মানুষ সরল- সোজা পথের কথা জানবে না অথচ সে পথে না চলার দরুন তাকে ধরে তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজে তা উল্লেখও করেছেন যে, পথ দেখানোর ব্যবস্থা না করে তিনি কাউকে শাস্তি দেবেননা। যেমন এসেছে সুরা আল ইসরা এর 15 নং আয়াতে: “এবং রাসুল না পাঠিয়ে আমি কাউকে শাস্তি দেইনা”। আরও এসেছে সুরা আর রা’দ এর 7 নং আয়াতে:
“এবং প্রতিটি কাওমের জন্য রয়েছে পথপ্রদর্শক”।
সুতরাং যুক্তির অনিবায এবং একান্ত দাবী হচ্ছে হেদায়াতের উৎস এ কুরআন কিয়ামাত অবধি অবিকৃত থাকা জরুরী। আর আল্লাহ তা আপন কুদরাতে করেও যাচ্ছেন।
 
আল কুরআনুল কারিম যেভাবে যেরুপ নাযিল হয়েছে অদ্যাবধি সেরুপই তা আছে:

১- সুরা আল হিজর এর 9 নং আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন: “আর এ বাণী, একে তো আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক”৷ আল্লাহর এ ঘোষণা কুরআনের যথাযথ গ্রন্থাবদ্ধ করন সম্পর্কে দুবল ইমানদারদের যাবতীয় সংশয় সন্দেহের সমস্ত ভিত্তিকে উপড়ে ফেলে।
সা'দ ইবন আবি ওয়াককাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং  আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রমুখ থেকে বর্ণিত। তারা বলেন , রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভুলে যাবার ভয়ে কুরআনের শব্দগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে থাকতেন৷  জিব্রীল আলাইহি সালাম অহী শুনিয়ে শেষ করার আগেই ভুলে যাবার আশংকায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোড়ার দিক থেকে আবার পড়তে শুরু করতেন৷ এ কারণে আল্লাহ তাঁকে নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন:
“আমি তোমাকে পড়িয়ে দেবো, তারপর তুমি আর ভুলবে না” (সুরা আল আ’লা 6)৷ (বুখারী, মুসলিম)
অর্থাৎ অহী নাযিলের সময় তুমি নীরবে শুনতে থাকো৷ আমি তোমাকে তা এমন ভাবে পড়িয়ে দেবো যার ফলে চিরকালের জন্য তোমার মুখস্থ হয়ে যাবে৷ এর কোন একটি শব্দ তুমি ভুলে যাবে, এ ভয় করো না৷
কুরআনের এ আয়াত একথা প্রমাণ করে যে, কুরআন যেমন মু'জিযা হিসেবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর নাযিল করা হয়েছিল ঠিক তেমনি মুজিযা হিসেবেই তার প্রতিটি শব্দ তাঁর স্মৃতিতে সংরক্ষিত করে দেয়া হয়েছিল৷ এর কোন একটি শব্দ তিনি ভুলে যাবেন অথবা একটি শব্দের জায়গায় তাঁর সমার্থ অন্য একটি শব্দ তাঁর মুবারক কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হবে, এ ধরনের সকল সম্ভাবনার সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল৷

২- কুরআনে উল্লেখিত কতিপয় নাম ও শব্দাবলী:
- চলবে

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

অনেক ধন্যবাদ ধারাবাহিক পোষ্টের জন্য।

এ পোষ্টগুলো সত্যিই আমাদের কে বিস্মিত করে কুরআন সম্পর্কে। আল্লাহ্ আমাদের হেদায়াত লাভ করার তৌফিক দিন এবং আমৃত্যু কুরআনের ছায়াতলে হেদায়াতের উপর রাখুন।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

সালাম

আপনাকে ধন্যবাদ

সুন্দর এ পোষ্টের জন্য, আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে কোরআনের হাক্বিকত বুঝার তৌফিক দিন ও আমল করার সুযোগ করে দিন। 

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)