এ ফিতনার বিরুদ্ধে সকলেরই সোচ্চার হওয়া কর্তব্য

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০টির মতো গ্রামে বৃহস্পতিবার রোজা শুরু হচ্ছে। ওই অঞ্চলে বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাস শুরু হবে।
 গ্রামগুলো হলো- হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, বলাখাল, মনিহার, জাক্নি, প্রতাপপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভূলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলী, মুন্সীরহাট, মূলপাড়া, বদরপর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, কাইতপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর; মতলবের দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী। এছাড়া শাহরাস্তি ও কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রাম।
 সাদ্রা গ্রামের সাদ্রা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক জানান, মধ্যপ্রাচ্য তথা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বৃহস্পতিবার থেকে চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামের লোকজন রোজা রাখা শুরু করবে। সেই অনুযায়ী ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন তারা।
সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ১৭ই মে ২০১৮
--------------------------------------------------
যে কারনে সৌদী আরবের সাথে মিল রেখে রোজা/ইদ পালন অসম্ভব
অধুনা বাংলাদেশের কতক লোক সৌদী আরবের সাথে মিল রেখে একই দিনে রোজা, ইদ ইত্যাদি পালন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এটি কিভাবে সম্ভব? সৌদী আরবের সাথে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য, বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, খবর আদান প্রদানের জটিলতা – এ বিষয়গুলোকে সামনে রাখলে এব্যবস্থা আদৌ বাস্তবায়নযোগ্য মনে হয় কি?
আমি সৌদী আরবে ছিলাম ৩১ বছর। দীর্ঘ এ সময়ে ৭/৮ টি ইদ আমরা এভাবে উদযাপন করেছি যে, ইদের চাদ দেখার খবর এসেছে মাগরিবের এক থেকে দেড় ঘন্টা পর। বিলম্বে চাদ দেখা এবং অত:পর সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশের এ অনিশ্চিত অবস্থা বা ধারা ভবিষ্যতের পৃথিবী অবলোকন করবেনা এমন কথা জোর দিয়ে বলা যায়না। এখনতো জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে এ আশংকা আরও প্রবল হয়ে উঠেছে। মনে করুন: সৌদী আরবে চাদ দেখার খবর প্রকাশিত হলো রাত ৮টায় (আকাশ মেঘলা থাকার কারনে)। এর মানে হচ্ছে বাংলাদেশে এ সংবাদ পৌছাবে রাত ১১টায়। ঢাকা শহরে না হয় আপনি ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে এখবর পৌছে দিলেন। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে? ধরুন, আপনি তাদের নিকট অবশ্যই খবরটা ঐরাতে পৌছাবেন। আপনাকে রাত ১টা ২টা অবধি শত শত ফোন করতে হবে, বাড়ী বাড়ী যেতে হবে। তাই নয় কি? যদি কেউ নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন তোলে তাহলে আপনি নির্ঘাত ফেসে যাবেন, সমাজে অশান্তি ও বিভেদ সৃষ্টির দায়ে দন্ডিত হবেন। কারন রাত ১২টা ১টায় মানুষকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে এমন অশান্তির ইস্যু তৈরী করার কোন অধিকার আপনার নেই। শারিয়াতের কথা বলবেন? মানবতার দ্বীন ‘ইসলাম’ এমন মুর্খতাপ্রসুত বিধিকে কখনোই সমর্থন করেনা।
বাকী রইল, চাদ দেখা সম্পর্কিত হাদিসগুলোর কথা। সেখানে এমন বহু দলিল এবং তথ্য উপাত্ত বিদ্যমান যদ্বারা এটা প্রমাণ হবে যে, সৌদী আরবে চাদ দেখে বাংলাদেশে রোজা বা ইদ উদযাপন বাস্তবে সম্ভব না, ইসলামী শারিয়াতও তা অনুমোদন করেনা।

 ইত্তেফাকে প্রকাশিত খবরটি প্রমাণ করছে যে, ফিতনার এ মিছিল ক্রমেই বাড়ছে। আপনি যদি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার না হোন তাহলে বিভেদ ও দলাদলির এ আগুন একদিন আপনার ঘরে কিংবা এর আঙিনায়ও এসে পৌছবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

কিছু মানুষ আল্লাহর ইবাদাতের মোড়কে নিজেদের নফসের ইবাদাতে লিপ্ত। আল্লাহ্ হেফাযত করুন উম্মাহকে।

-

আমার প্রিয় একটি ওয়েবসাইট: www.islam.net.bd

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)