পরীক্ষার নাম্বার, সনদ এবং ভোট

“ . . . . . পরীক্ষার নাম্বার, সনদ-সার্টিফিকেট ও নিবাচনের ভোট দান সবই সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত:

পরিশেষে এখানে আরও একটি বিষয় জানা জরুরী। তা এই যে, আজকাল শাহাদাত তথা সাক্ষ্যদানের যে অর্থ সবসাধারণের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তা শুধু মামলা-মোকদ্দামায় কোন বিচারকের সামনে সাক্ষ্য দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষায় ‘শাহাদাত’ শব্দটি আরও ব্যপকতর অর্থে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণত: যদি ডাক্তার কোন রোগীকে সার্টিফিকেট দেয় যে, সে কর্তব্য পালনের যোগ্য নয় কিংবা চাকুরী করার যোগ্য নয় তবে এটিও একটি শাহাদাত। এতে বাস্তব অবস্থার খেলাফ যদি কিছু লেখা হয় তবে তা মিথ্যা সাক্ষ্য হয়ে কবিরা গুনাহ হবে।

এমনিভাবে পরীক্ষার্থীদের লিখিত খাতায় নাম্বার দেয়াও একটি শাহাদাত। যদি ইচ্ছাপুবক কিংবা শৈথিল্যভরে কম বা বেশী নাম্বার দেয়া হয়, তবে তা-ও মিথ্যা সাক্ষ্যের অন্তভুক্ত হারাম ও কঠোর পাপ বলে গন্য হবে।
উত্তীর্ণ ছাত্রদের মধ্যে সনদ ও সার্টিফিকেট বিতরণের অর্থ এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়া যে, তারা সংশ্লিষ্ট কাজের পুর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছে। যদি সনদধারী ব্যক্তি বাস্তবে এরুপ না হয়, তবে সার্টিফিকেট ও সনদে স্বাক্ষরদাতা সবাই মিথ্যা সাক্ষ্যদানের অপরাধে অপরাধী হয়ে যাবে।

এমনিভাবে আইন সভা, কাউন্সিল ইত্যাদির নিবাচনে ভোট দেয়াও একপ্রকার সাক্ষ্যদান। এতে ভোটদাতার পক্ষ থেকে সাক্ষ্য দেয়া হয় যে, আমার মতে এ ব্যক্তি ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সততা ও বিশ্বস্ততার দিক দিয়ে জাতীর প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য।

এখন চিন্তা করুন, আমাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়জন এমন আছেন, যাদের বেলায় এ সাক্ষ্য সত্য ও বিশুদ্ধ হতে পারে? দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের জনগন নিবাচনকে একটি হার জিতের খেলা মনে করে রেখেছে। একারনে কখনো পয়সার বিনিময়ে ভোটাধিকার বিক্রয় করা হয়, আবার কখনো চাপের মুখে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা হয়। আবার কখনো সাময়িক বন্ধুত্ব এবং সস্তা অংগীকারের ভরসায় একে ব্যবহার করা হয়।

অন্যের কথা কি বলব, লেখাপড়া জানা ধার্মিক মুসলমানও অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে গিয়ে কখনও চিন্তা করেন না যে, সে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে খোদায়ী অভিশাপ ও শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাচ্ছে ।

কুরআনের দৃষ্টিভংগিতে প্রতিনিধি নিবাচনের জন্যে ভোট দেয়ার দ্বিতীয় একটি দিক রয়েছে – যাকে শাফায়াত বা সুপারিশ বলা হয়। ভোটদাতা ব্যক্তি যেন সুপারিশ করে যে, অমুক প্রার্থীকে প্রতিনিধিত্ব দান করা হোক। কুরআনের ভাষায় এসম্পর্কিত নির্দেশ পুবেই বর্ণিত হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি উত্তম ও সত্য সুপারিশ করবে, যার জন্যে সুপারিশ করে, তাকে তার পুণ্য থেকে অংশ দেয়া হবে এবং যে ব্যক্তি মন্দ ও মিথ্যা সুপারিশ করবে, সে তার মন্দ কর্মের অংশ পাবে” (সুরা আন নিসা ৮৫)

এর ফলশ্রুতি এই যে, এ প্রার্থী নিবাচিত হয়ে তার কর্মজীবনে যেসব ভ্রান্ত ও অবৈধ কাজ করবে, তার পাপ ভোটদাতাও বহন করবে . . . . .”। 

সুত্র: তাফসীর মা’আরিফুল কুরআন। (মাও: মুহিউদ্দীন খান সম্পাদিত) সুরা আল মায়িদা ৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যার কিয়দংশ।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)