একটি শিক্ষনীয় ঘটনা

ঘটনাটি ইংরেজ আমলের। এক ব্যক্তির মহিষ চুরি হলে সে ইংরেজের কোর্টে মামলা দায়ের করে। আসামী করা হয় তারই এক প্রতিবেশীকে। 

ইংরেজ জজ একজন বিজ্ঞ মানুষ ছিলেন, ন্যায় বিচারের খ্যাতিও ছিল তার।

বাদী অর্থাৎ যার মহিষ চুরি হয় সে ছিল হিন্দু। নাম যাদব। আর যাকে আসামী করা হয় সে ছিল মুসলিম। নাম আবদুল করিম।

বিচারের দিন ইংরেজ জজ যাদবকে জিজ্ঞেস করলেন: যাডব, টোমার কোন সাক্ষী আছে?

যাদব বললো: হ্যা আছে। আসামীর বড় ভাই আবদুল আযিয।

আবদুল আযিয একজন মুত্তাকী পরহেজগার লোক ছিলেন। সততা ও আমানতদারীতে তিনি এতটাই প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন যে, যাদব জানতো, দুনিয়া উল্টে গেলেও এ ব্যক্তি কখনো মিথ্যা কথা বলবেননা। তাই আসামীর সহোদর হওয়া সত্বেও যাদব তাকেই নির্দ্বিধায় সাক্ষী মানে।

সাক্ষী আবদুল আযিযকে কোর্টে এসে সাক্ষ্য দিতে অনুরোধ করা হয়। আবদুল আযিয বললেন: আমি ইংরেজের মুখ দর্শন করিনা। কোর্টে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসেনা।

ইংরেজদের অবর্ণনীয় যুলুম, তিতুমীরের (শহীদ) সাথে নৃশংস আচরণ ইত্যাদি কারনে হকপন্থী আলেম সমাজ তখন তাদের বিরুদ্ধে যারপর নাই ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত ছিলেন। আবদুল আযিযও সে মর্মবেদনা থেকেই এ ধরণের উক্তি করেন। 

যা হোক, ইংরেজ জজ আবদুল আযিযের এ উক্তি শুনে বললো: ওকে। আবডুল আযিয আমাকে ডেখিটে না চাহিলে আমিই টাহাকে ডেখিবে। আমাকে টাহার বাড়িটে নিয়া চল।

জজকে আবদুল আযিযের বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হলো।

জজ আবদুল আযিযকে জিজ্ঞেস করলো: মাওলানা সাব, যাডব বলিটেছে আপনার ভাই আবডুল করিম যাডবের মহিষ চুরি করিয়াছে। কিন্তু যাডব টাহা অস্বীকার করে। মাওলানা, আপনার নিকট কোন সট্য ঠাকিলে টাহা প্রকাশ করুন।

আবদুল আযিয দরজা একটুখানি ফাক করে “আমার ভাই-ই মহিষ চুরি করেছে, যাদব সত্যবাদী” – এটুক বলে দরজা সটাং বন্ধ করে দেন।

জজ যাদবের পক্ষে রায় দেন এবং আবদুল করিমের শাস্তি বিধান করেন।

ভোটের আগমনে এ কাহিনীটি আমার মনে পড়লো। তাই, পাঠকদের সমীপে উল্লেখ করলাম। যেহেতু ভোট একটি সাক্ষ্য। ভোটদাতা তার ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেয় যে, এ ব্যক্তি আমানতদারী ও সততায় জাতীর প্রতিনিধি হবার যোগ্যতা রাখে, তাই আমি তার পক্ষে এ সাক্ষ্য দিচ্ছি।

আরও একটি শিক্ষা এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠে, তা হচ্ছে: সাক্ষ্য বা ভোটদানের জন্য বয়স, নাগরিকত্ব বা জাতীয়তার চেয়ে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত সততা ও আমানতদারী।  

   

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)
ভোট কাকে দেব, ভাই? সৎ ও ন্যায়পরায়ণ কোন মানুষ অন্তত ভোটে দাঁড়াবে না। রাজনৈতিক দল কেউই সৎ ও ন্যায়পরায়ণ নয়। যারা সততা ও ধার্মিকতার দাবিদার, তাদের মধ্যেও দয়ামায়া, মানবতা ও বিবেকজ্ঞান নেই। ধর্মের মনগড়া ব্যাখ্যা করা, প্রয়োজনে হারামকে হালাল করা এগুলোই তাদের নীতি। অতএব, ভোট দিতে না গিয়ে ঐ সময়টা অন্য কোন দ্বীনী কাজে ব্যয় করাই শ্রেয়। ধন্যবাদ।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)