এক রাজা ও দুই ভিক্ষুকের গল্প

অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক রাজার মাথায় অদ্ভুত এক খেয়াল চাপলো: তিনি পরীক্ষা করবেন যে, “ভাগ্য কি স্রষ্টা নির্ধারিত কোন বিষয়? নাকি চরিত্র ও কর্মের মাধ্যমে মানুষ তা লাভ করে!” কিন্তু কিভাবে তিনি তা পরীক্ষা করবেন?

অনেক ভেবে চিন্তে তিনি এক পরিকল্পনা আটলেন। তবে কাউকে তা বললেননা। তিনি গোপনে রাজবাবুর্চীকে দিয়ে দু’টি রুটি তৈরী করালেন। এর মধ্যে একটির ভেতরে ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরা এমনভাবে ঢুকালেন যেন বাইরে থেকে কিছুই আচ করা না যায়।

যেমন গোপনে রুটি তৈরী করালেন তেমনি গোপনে তা বিতরণেরও উদ্দোগ নিলেন রাজা।

ছদ্ধবেশে একজন বিশ্বস্ত সংগী নিয়ে লোকালয়ের উদ্দ্যেশে বের হলেন তিনি। রাস্তার মোড়ে দু’জন ভিক্ষুক পেয়েও গেলেন। কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে দু’টি রুটি তিনি দু’জনকে দান করলেন এবং এক জায়গায় লুকিয়ে রইলেন। রুটি দু’টু নিয়ে দু’জন কি করে তা তিনি প্রত্যক্ষ করবেন।

রাজা দেখলেন: স্বর্ণ লুকানো রুটিটি যে ভিক্ষুক পেয়েছিল, সে অনেকক্ষণ ধরে তা উল্টে পাল্টে দেখছে। চোখে মুখে বিরক্তির ভাব। চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে রুটিটি তার পছন্দ হয়নি। হয়তো ভাবছে - রুটিটি বাসী। নয়তো এতো ফোলা ফোলা কেনো? 

রাজা আড়ালে থেকেই ভিক্ষুকদ্বয়ের আরও কাছাকাছি এলেন।

তিনি কান পেতে শুনছেন: সেই ভিক্ষুক তার সংগীকে বলছে: ভাই, তোমার পরিবারের লোকসংখ্যাতো আমার চেয়ে অনেক বেশী। তুমি বরং এই বড় রুটিটি নাও, আর, আমাকে তোমার ছোট রুটিটি দাও। ওতেই আমার চলবে।

সংগী রাজী হওয়াতে রুটি বদল হয়ে গেল। 

রাজা আবার তাদের সামনে এলেন। সেই ভিক্ষুক, যে কিনা স্বর্ণ লুকানো রুটিটি বাসী ভেবে সংগীকে দিয়ে দিয়েছিল, তৃপ্তির হাসি হেসে বললো: আমি বাসী রুটিটি বদল করে ফেলেছি।

রাজা বললেন: না, বরং তোমার কুৎসিত অন্তরের কারনে তুমি বঞ্চিত হয়েছো।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)