ঈসা আ: এর আগমন প্রসংগ

বিভিন্ন অকাট্য দলিল এবং যুক্তি একথা প্রমাণ করে যে, কিয়ামাতের নিকটবর্তী সময়ে ঈসা ইবনু মারিয়াম (আলাইহিমাস সালাম) পুনরায় এ পৃথিবীতে আগমন করবেন। নতুন কোন শারিয়াত নিয়ে নয়, বরং তার আগমন ঘটবে শেষ নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে। তবে সাধারণ মানুষের উপর একজন নাবীর যে মযাদা সে মযাদায় অলংকৃত হয়েই তিনি গোটা ইসলামী উম্মাহর নেতৃত্ব দান করবেন।

তখন সকল মিথ্যা ধর্মমতের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে এবং গোটা পৃথিবীর মানুষ একমাত্র দ্বীন ‘ইসলাম’ এর অন্তর্ভুক্ত হবে।  

তার আগমনের মাধ্যমে এ ভ্রান্ত বিশ্বাসের অপনোদন ঘটানো হবে যে, তাকে ক্রুশে বিদ্ধ করে হত্যা করা হয়নি, তিনি আল্লাহর পুত্র নন। তার উম্মাতের গুনাহের কাফফারা হবার কাহিনীও সম্পুর্ণ অলীক।

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: সেই মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে ঈসা ইবনু মারিয়াম ন্যায়বিচারক শাসকরুপে আবির্ভুত হবেন। অত:পর তিনি ক্রুশ ভেংগে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন এবং যুদ্ধ খতম করে দেবেন। (বর্ণনান্তরে যুদ্ধের পরিবর্তে ‘জিজিয়া’ শব্দটি উল্লেখিত হয়েছে অর্থাৎ জিজিয়া রহিত করে দেবেন)। তখন ধন সম্পদের পরিমাণ এতো বৃদ্ধি পাবে যে, তা গ্রহণ করার লোক থাকবেনা এবং দুনিয়ার অবস্থা এমন পযায়ে পৌছবে যে, মানুষ আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করে নেয়াটাকেই দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল কিছুর চাইতে মুল্যবান মনে করবে।

(নোট: 

তিনি ক্রুশ ভেংগে ফেলবেন, কেননা এ ক্রুশ খৃষ্টানদের ধর্মের প্রতিক।

শুকর হত্যা করবেন, কেননা খৃষ্টানদের একটি অংশ এ প্রাণীকে হালাল মনে করে। 

যুদ্ধ খতম করে দেবেন, কারন গোটা দুনিয়া একই দ্বীনের (ইসলামের) অন্তর্ভুক্ত হবার ফলে যুদ্ধ ইত্যাদির পরিসমাপ্তি ঘটবে।

জিজিয়া রহিত করবেন, কারন ঐসময়ে দুনিয়ার কোথাও অমুসলিমের অস্তিত্ব থাকবেনা। 

অন্য একটি হাদিসে আরও বলা হয়েছে যে, ঈসা ইবনু মারিয়াম আ: এর আগমন না ঘটা পযন্ত কিয়ামাত হবেনা।

অপর একটি হাদিসে এসেছে: ‘দাজ্জালের ফিতনার মুহুর্তটিতে আল্লাহ তায়ালা ঈসা ইবনু মারিয়ামকে প্রেরণ করবেন। তিনি ‘দিমাশক’ এর পুব প্রান্তে সাদা মিনারের সন্নিকটে দু’জন মালাক (ফিরিশতা) এর কাধে ভর করে নামবেন। তিনি মাথা নিচু করলে পানি টপকাচ্ছে বলে মনে হবে। আবার মাথা উচু করলে মনে হবে যেন বিন্দু বিন্দু পানি মোতির মতো চমকাচ্ছে। তার নিশ্বাসের হাওয়া যে কাফিরের গায়ে লাগবে সে জীবিত থাকবেনা। অত:পর তিনি দাজ্জালের পশ্চাধাবন করবেন এবং লুদ এর দ্বারপ্রান্তে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। 

(বুখারী: কিতাবুল মাযালেম, ইবনু মাজাহ: কিতাবুল ফিতান)

টীকা: লুদ (Lydda) বর্তমান ইসরাঈল রাষ্ট্রের তেলআবিব এর সন্নিকটে। 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None