শাসক ও বিচারকদের ব্যাপারে

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিন প্রকার বিচারক রয়েছে। এর মধ্যে এক প্রকার জান্নাতে এবং দু’প্রকার জাহান্নামে যাবে।

যে বিচারক সত্যকে জানতে পেরেছে এবং সে অনুসারে বিচার ফয়সালা করেছে, সে জান্নাতে যাবে। যে বিচারক সত্যকে উপলব্ধি করেও স্বার্থ বা ক্রোধবশত অবিচার করেছে সে জাহান্নামে যাবে। আর যে বিচারক অজ্ঞতা সত্বেও বিচার ফয়সালা করেছে সে-ও জাহান্নামে যাবে। সাহাবীগন জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, সে-তো অজ্ঞতাবশত রায় দিয়েছে, সে কেন জাহান্নামে যাবে? রাসুল সা: বললেন: তার অপরাধ হলো: সে না জেনে কেন রায় দিতে গেল” (বর্ণনাকারী: বুরাইদা রা:, মুসতাদরাক হাকিম)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: “দুনিয়াতে দশজনেরও নেতা বা দায়িত্বশীল ছিল এমন ব্যক্তিকে কিয়ামাতের দিন এরুপ অবস্থায় উত্থিত করা হবে যে, তার দু’হাত তার গলার সাথে বাধা থাকবে। অত:পর, হয় তার ন্যায়বিচার তাকে এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রেরণ করবে অথবা তার অবিচার তাকে এ অবস্থায়ই জাহান্নামে নিয়ে যাবে”। (মুসনাদ আহমাদ, ইবন হিব্বান)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আরও বর্ণিত: “দু’দল লোক কখনো আমার শাফায়াত পাবেনা: (ক) যালিম ও প্রতারক বাদশাহ বা শাসক (খ) দ্বীনে বিশ্বাস ভংগকারী। (তাবারানী)

আরও বর্ণিত: “যাকে আল্লাহ তায়ালা জাতির নেতৃত্ব দান করেছেন, সে যদি আল্লাহর দ্বীন ও ন্যায়নীতি মোতাবেক মানুষকে পরিচালিত না করে তবে তার জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দেবেন” (বুখারী)

আরও বর্ণিত: “কিয়ামাতের দিন ন্যায়বিচারক নেতা বা শাসককে আল্লাহ তায়ালা তার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তার ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবেনা” (বুখারী, মুসলিম)

অন্য এক হাদিসে যে সাত শ্রেনীর মানুষকে কিয়ামাতের দিন আল্লাহর আরশের নীচে আশ্রয় দান করার কথা এসেছে, তাদের প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা হবে: আদল ও ইনসাফকারী শাসক এবং ন্যায় ও নীতিবান বিচারক।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None