কল্কি অবতার

ভারতের এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড: বেদ প্রকাশ তার “কল্কি অবতার এবং মোহাম্মাদ সাহেব” গ্রন্থে লিখেছেন: 

“বেদ, বাইবেল এবং বৌদ্ধ গ্রন্থে যে অন্তিম ঋষির আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে তাতে মোহাম্মাদ সাহেবই প্রমাণীত হন। অত:পর আমার অন্তরে এ প্রেরণা জাগ্রত হয় যে, সত্য প্রকাশিত করা আবশ্যক, যদিও এটা কোন কোন মানুষের অপ্রিয় লাগে। মোহাম্মাদ সাহেবের পুব যুগে ভারত এবং আরববাসীগনের একই ধর্ম ছিল। এর বহু প্রমাণ বিদ্যমান, কিন্তু তা উদৃত করার উপযুক্ত স্থান নয় এটা। আমি ধর্মীয় সংকীর্ণতার পক্ষপাতি নই। যদি কোন স্থানে কোন সত্য কথা থাকে, তাকে অস্বীকার করার দু:সাহস করতে পারিনা। বেদসমুহে দ্বাদশ পত্নীধারী এক উষ্ট্রারোহ ব্যক্তির আগমনের ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে, যার নাম নরাশংস হবে। সায়নের নরাশংস – এর অর্থ বলেছেন, যিনি মানুষ কর্তৃক প্রশংসিত হন। কিন্তু আমার বিশ্লেষণ অনুসারে আমি সায়নের সাথে একমত নই। কারন, আমার মতে নরাশংস শব্দ এমন নরস অর্থাৎ ব্যক্তিকে সুচিত করে যার নামের অর্থ হবে প্রশংসিত। অতএব, মুহাম্মাদ এবং নরাশংস একার্থবোধক শব্দ। আলোচ্য গ্রন্থে আমি যথাসাধ্য সত্য উদঘাটন করার প্রয়াস পেয়েছি। ইসলামী সংস্কৃতিতে নাবী রাসুল বা পয়গাম্বরগনের যে স্থান, প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতিতে অবতারগনের সেই স্থান। মুসলিমগন মোহাম্মাদ সাহেবকে সবশেষ নাবী বা মহাপুরুষ বলে স্বীকার করেন এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতে তাকে কলিযুগের শেষ অবতার বলা হয়েছে। 

বিদেশে কেবলমাত্র নাবী আগমন করেন আর ভারতে কেবলমাত্র অবতার আগমন করেন এমন হতে পারেনা। পয়গাম্বর কেবলমাত্র আরবের জন্য আবির্ভুত হবেন, ভারতের জন্য হবেননা – এমনটা ন্যায়বিচার সম্মত নয়। সেজন্য মোহাম্মাদ সাহেবকে যখন সবশেষ পয়গাম্বর বা মহাপুরূষ বলে অবগত হলাম তখন আমার অন্তরে পুরাণে উল্লেখিত কল্কি অবতার রচিত বিষয়ক অধ্যায়সমুহ পড়ার বিশেষ আগ্রহ জন্মিল। ভারতীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী ইতিপুবেই কলি যুগের কিছু অংশ বিগত হয়েছে। কলি যুগে যেসমস্ত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং যেসকল ঘটনা ঘটবে আমি তার সমুদয় বিষয় মোহাম্মাদ সাহেবের জীবনের সাথে সযত্নে তুলনা করেছি। তা সম্যকভাবে মিলে গিয়েছে।

মোহাম্মাদ সাহেবের তুলনাত্বক গ্রন্থ অধ্যয়ন করে কেউ যেন এ ধারণা না করেন যে, আসলে মোহাম্মাদ সাহেবের চরিত্রের রুপরেখা নিয়ে পরবর্তীকালে লোকেরা কল্কীর কল্পনা করেছে। এজন্য আমি সে সকল সনাতন ধর্মগ্রন্থ সমুহকে সামনে রেখে আমার আলোচ্য গ্রন্থটি প্রণয়ন করেছি। তার মধ্য পুরাণের রচনাকাল (মোহাম্মাদ সাহেবের বহু পুবে) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যুক্তি দ্বারা প্রমাণীত করেছি।

(অধ্যাপক ড: বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, রিসার্চ স্কলার। সংস্কৃত বিভাগ, প্রয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়, এলাহাবাদ)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)