মিসর সম্রাট মুকাওকিসকে

তখন (৬ষ্ট হিজরীতে) মিসর শাসন করতো জুরাইজ ইবনু মাত্তা। তার উপাধী ছিলো মুকাওকিস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে তার চিঠি পৌছানোর জন্য সাহাবী হাতিব ইবনু আবী বালতায়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে মনোনীত করেন। 

হাতিব রা: চিঠি পৌছালেন এবং কথাও বললেন। যেসব কথা তিনি মিসর সম্রাটকে বলেছিলেন তা অবাক করার মত। তিনি বলেছিলেন:

“ আপনার পুবে এখানে এমন একজন শাসক অতীত হয়েছেন যিনি নিজেকে খোদা মনে করতেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের আযাবে নিমজ্জিত করে দৃষ্টান্তমুলক প্রতিশোধ গ্রহণ করেছেন। অন্যদের থেকে আপনারও উপদেশ হাসিল করা উচিত। আপনি নিজেই উপদেশ লাভের স্থলে পরিণত হন, এমনটি কাম্য নয়।

শুনে মুকাওকিস বললো: আমরা একটি ধর্মের অনুসারী। যতদিন অন্য কোন ধর্ম সে ধর্ম থেকে উন্নততর প্রমাণিত না হয় ততদিন আমরা তা পরিত্যাগ করতে পারিনে। (উল্লেখ্য যে, মুকাওকিস খৃষ্টধর্মের অনুসারী ছিলেন)।

হাতিব রা: বললেন: আমরা আপনাকে দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি – যা অন্য সকল দ্বীন থেকে উত্তম ও পরিপুর্ণ। আমাদের এ নাবী যখন মানুষকে এ দ্বীনের দাওয়াত দিলেন, কুরাইশরা তীব্র বিরোধিতা করলো। বৈরীতায় ইহুদীরা ছিলো এগিয়ে। তবে তুলনামুলকভাবে খৃষ্টধর্মাবলম্বীরা নমনীয় ছিলো। আল্লাহর কসম! মুসা (আলাইহিস সালাম) যেমন ঈসার (আলাইহিস সালাম) সুসংবাদ দিয়েছিলেন, তেমনি ঈসাও (আলাইহিস সালাম) মুহাম্মাদ    

(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুসংবাদ দিয়ে গেছেন। আপনারা যেমন ইঞ্জিলের দিকে ইয়াহুদীদেরকে আহবান জানান আমরাও তেমনি আপনাদেরকে কুরআনের দাওয়াত দেই। নাবীদের আবীর্ভাকালীন সময়ে পৃথিবীতে যত কাওম বা জাতি থাকে তারা সকলে সেই নাবীর উম্মাত এবং তাদের ওপর সেই নাবীর অানুগত্য ফরজ। যেহেতু আপনি একজন নাবীর যুগ লাভ করেছেন, তাই তার উপর ইমান আনা আপনার অবশ্য কর্তব্য। আমরা আপনাকে দ্বীনে মাসীহ থেকে অন্য দিকে ফিরিয়ে নিচ্ছিনা বরং সঠিকভাবে সেদিকেই নিয়ে যেতে চাচ্ছি। 

মুকাওকিস এবার বললো: মুহাম্মাদ কি সত্যই একজন নাবী?

হাতিব রা: কেন সত্য নয়?

মুকাওকিস: কুরাইশরা যখন তাকে নিজে শহর থেকে তাড়িয়ে দিল, তিনি তাদের জন্য বদ-দুয়া করলেন না কেন?

হাতিব রা: আপনারা কি বিশ্বাস করেন – ঈসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর রাসুল? যদি তা-ই হয়, তাহলে যখন তাকে শুলীতে চড়ানো হয় (যদিও প্রকৃত ব্যাপার তা নয়) তিনি তার কাওমের লোকদের জন্য বদ-দুয়া করলেননা কেন?

এমন অন্তরভেদী তাৎক্ষণিক জওয়াবে অবলীলাক্রমে মুকাওকিসের মুখ থেকে প্রশংসাসুচক ধ্বনি উচ্চারিত হলো। সে বললো: নিশ্চয়ই আপনি একজন জ্ঞানী এবং একজন মহাজ্ঞানীর পক্ষ থেকেই এসেছেন। আমি যতটুকু ভেবে দেখেছি, এই নাবী কোন অনর্থক কাজের আদেশ দেননা এবং কোন পছন্দনীয় বিষয় থেকেও বিরত রাখেননা। আমি না তাকে ভ্রান্ত যাদুকর বলতে পারি, আর না মিথ্যুক ভবিষ্যতবক্তা। তার মধ্যে নবুয়াতের অনেক নিদর্শন বিদ্যমান। আমি শীঘ্রই বিষয়টি ভেবে দেখবো।

মুকাওকিস অত্যন্ত সম্মানের সাথে হাতিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)কে বিদায় দেন এবং তার সাথে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্য তিনজন দাসী, দুলদুল নামের একটি খচ্চর এবং বেশকিছু কাপড়সহ মুল্যবান উপহার পাঠান। মুকাওকিস প্রেরিত দাসীদের মধ্যে একজন মারিয়া কিবতীয়া। এ দাসী রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রীর মযাদা লাভ করেন। তারই গর্ভে রাসুলুল্লাহর পুত্র ইবরাহিম জন্মলাভ করেন।

মুকাওকিস ইসলাম গ্রহণ করেছিলো বলে কোন তথ্য ইতিহাসে খুজে পাওয়া যায়না। আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপুরী তার “আর রাহিকুল মাথতুম” গ্রন্থে লিখেছেন যে,  ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য থেকে মুকাওকিস বঞ্চিত ছিলো। 

গ্রন্থঋণ : ১) ড: মুহাম্মাদ আবদুল মা’বুদ প্রণীত “আসহাবে রাসুলের জীবন কথা” । ২) খাদিজা আখতার রেজায়ী অনূদিত “আর রাহিকুল মাখতুম”।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)