যুক্তির নিরিখে কুরআন – সাত

কুরআন পাঠকের জন্য শর্তাবলী:

সাধারণত: কোন বই পুস্তক অধ্যয়ন করলে আমরা দেখি যে, তাতে রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু। লেখক ঐ বিষয়বস্তুর উপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ বিভক্ত করে বিন্যাসের ক্রমানুসারে এক একটি বিষয়ের উপর তত্ব বা তথ্য সরবরাহ করে থাকেন। 

কুরআন কারিম কিন্তু তেমনটি নয়। কুরআন পাঠ শুরু করলে দেখা যায় যে, একটি বিষয়বস্তুর পর আকস্মিকভাবে অন্য একটি প্রসংগের আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। বক্তব্য বিষয় বার বার মোড় পরিবর্তন করছে। বিষয়ভেদে আলোচনার বিন্যাস বা বক্তব্যকে ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায় বা অনুচ্ছেদে বিভক্ত করার কোন চিহ্নও কোথাও নেই। এককথায় বই পত্র যেভাবে লিখা হয় এ গ্রন্থ মোটেও তেমন নয়। 

একজন পথহারা ব্যক্তি এসব দেখে সংশয়াপন্ন হয়ে পড়েন। ভাবেন – এ-ই কি সেই কিতাব যার সম্পর্কে জোর গলায় এতো কিছু বলা হচ্ছে। এবং আরও কত কি! 

একারনে কুরআন পাঠককে পুবাহ্নেই এটি অবহিত হওয়া জরুরী যে, নবুয়াতের যে দায়িত্ব দিয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠানো হয়েছিল তা পূর্ণতার চুড়ান্ত মানযিলে পৌছা অবধি এ কুরআন তার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও চাহিদা অনুসারে দীর্ঘ তেইশ বছরে অবতীর্ণ হয়েছে। 

অর্থাৎ কুরআনের প্রতিটি আয়াত নাযিলের রয়েছে বিশেষ বিশেষ এবং আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপট। কুরআন বুঝতে চাইলে অবশ্যই এর পাঠককে সেই প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যক অবহিত হতে হবে। অর্থাৎ তাফসীর অধ্যয়ন করতে হবে।

কুরআন পাঠককে আরও জানতে হবে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর শুধু কুরআন শুনিয়ে দেয়ার দায়িত্বই অর্পণ করা হয়নি, কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানও তার দায়িত্বের অর্ন্তভুক্ত ছিলো। তিনি তার এ দায়িত্ব পালন করেছেন নিজের চরিত্র ও কর্মে দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে। 

সুতরাং কেউ কুরআনের বক্তব্য অনুধাবন করতে চাইলে অবশ্যই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোটা জীবন চরিতকেও অধ্যয়ন করতে হবে এবং এ ব্যক্তিটির (মুহাম্মাদ সা) কথা, আচরণ ও কর্মধারার কী প্রভাব তার সংগী সাথীদের উপর পড়েছিল – তা-ও এ গ্রন্থের পাঠককে জানতে হবে।  

(চলবে)

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None