এ ঘটনাও নবুয়াতের সত্যতার প্রমাণ

মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি প্রথম অহী নাযিলের পুবাপর ঘটনাই নবুয়াতের সত্যতার আরেক প্রমাণ। 

বিভিন্ন সহীহ সনদে (উরওয়া ইবন যুবাইর, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে) বর্ণিত: 

“অহী নাযিলের পর রাসুল সা. ভীত কম্পিত অবস্থায় ঘরে ফিরে খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে বললেন: আমাকে কম্বল জড়িয়ে দাও, আমাকে কম্বল জড়িয়ে দাও। তাকে কম্বল জড়িয়ে দেয়া হলো। ভীত কম্পিত অবস্থা দুর হলে তিনি খাদিজা রা. কে বললেন: হে খাদিজা, এ আমার কি হয়ে গেল? অত:পর হেরা গুহার ঘটনা আদ্যোপান্ত বর্ননা করলেন এবং বললেন: আমার নিজের জীবনের ভয় লেগে গিয়েছে। শুনে খাদিজা রা. বললেন: কক্ষনোই না। আল্লাহর শপথ, তিনি আপনাকে কখনোই লাঞ্চিত করবেননা। আপনিতো আত্বীয় স্বজনের সাথে ভালো ব্যবহার করেন, সত্য কথা বলেন। মানুষের আমানতসমুহের হেফাজত করেন। অসহায় মানুষকে সাহায্য করেন। আপনাকে আল্লাহ কখনোই বিপদগ্রস্থ করবেননা।

অত:পর তিনি রাসুল সা. কে সংগে করে ওয়ারাকা ইবনু নাওফিলের নিকট গেলেন। তিনি ছিলেন খাদিজার (রাদিয়াল্লাহু আনহা) চাচাত ভাই। খৃষ্টধর্মের অনুসারী ছিলেন। আরবী ও হিব্রু ভাষায় ইনজিল কপি করতেন। এসময় তিনি খুব বৃদ্ধ ও অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদিজা রা. তাকে বললেন: ভাইজান আপনার ভাতিজার ঘটনাটা একটু শুনুন। 

ওয়ারাকা রাসুল সা. কে বললেন: ভাতিজা, তুমি কি দেখতে পেয়েছো? রাসুল সা. হেরাগুহার সমুদয় ঘটনা সবিস্তারে বর্ননা করলেন। শুনে ওয়ারাকা বললেন: এতো সেই নামুস (অহী বহনকারী মালাক) যাকে আল্লাহ মুসার (আ) নিকট পাঠাতেন। হায়! আমি যদি তোমার নবুয়াতকালে যুবক বয়সের হতাম। হায়! তোমার জাতির লোকেরা যখন তোমাকে বহিস্কৃত করবে তখন যদি আমি জীবিত থাকতাম! 

রাসুল সা. অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন: জাতির লোকেরা কি আমাকে বের করে দেবে?

ওয়ারাকা বললেন: হ্যা, কারন তুমি যে জিনিস নিয়ে এসেছো তা নিয়ে ইতিপুবে যারাই এ দুনিয়ায় এসেছে তাদের সকলের সাথেই এরুপ আচরণ করা হয়েছে। তবে তোমার সেই দু:সময়ে যদি আমি জীবিত থাকি তাহলে অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবো”।

(কিন্তু এর অল্পকাল পরই ওয়ারাকা ইনতেকাল করেন)।

উপরোক্ত এই বিবরণ অকাট্য ও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, জিবরীল আ. এর আগমনের এক মুহুর্ত পুবেও রাসুল সা. জানতেননা, তার চিন্তা কল্পনায়ও আসেনি যে, তাকে নবুয়্যাত দান করা হবে। নবুয়্যাত প্রার্থী হওয়া কিংবা উহার আকাংখা মনে পোষণ করাতো দুরের ব্যাপার। তার সামনে জিবরীল আ. এর আগমন ও অহী নাযিল হবার ব্যাপারটি ছিল আকস্মিকভাবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। 

একারনেই রাসুল সা. যখন স্বজাতির কাছে ইসলামের দাওয়াত পেশ করলেন, তখন লোকেরা সন্দেহ সংশয়সহ নানাবিধ প্রশ্নবাণ নিক্ষেপ করে, কিন্তু কখনোই তারা একথা বলেনি যে, হ্যা, আপনি যে কিছু একটা হবার দাবী করবেন তা বহু পুব থেকেই আমরা আশংকাবোধ করছিলাম।

এ ঘটনা থেকে আরও প্রমাণ হয়, নুবয়্যাতের পুবে মুহাম্মাদ সা. এর জীবন ছিল অতীব পবিত্র। চরিত্র ছিল উন্নত। খাদিজা রা. কোনো অল্পবয়স্কা মহিলা ছিলেননা। এ ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ৫৫ বছর। অর্থাৎ এর মধ্যে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর রাসুল সা. এর জীবন সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন। স্বামীর কোন দুবলতা থাকলে তা অন্তত: স্ত্রীর নিকট গোপন থাকতে পারেনা। তিনি এই দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে রাসুল সা. কে একজন অতীব উচ্চ মযাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরুপে দেখেছেন। তাই হেরা গুহার ঘটনা শুনেই তার অন্তর নি:সংকোচে রায় দিয়েছে যে, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর দূতই তার নিকট এসেছিলেন। 

ওয়ারাকা ইবনু নাওফিলের উক্তিও কম গুরুত্বপুর্ণ নয়। তিনি মাক্কারই একজন বয়োবৃদ্ধ অধিবাসী ছিলেন। পনের বৎসরের নিকটাত্বীয়তার কারনে তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আরও নিকট থেকে জানবার ও গভীরভাবে বুঝবার কারন বর্তমান ছিলো। তিনিও ঘটনা শুনে একে কোনরুপ ধোকাবাজি বা প্রতারণামুলক ব্যাপার মনে করলেননা। বরং বললেন: এতো সেই নামুস যে মুসা আলাইহিস সালামের নিকট অহী নিয়ে আগমন করতো।

এর অর্থ এই দাড়ায় যে, তার দৃষ্টিতেও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অতীব উচ্চ মযাদাসম্পন্ন ও সম্ভ্রমশালী মানুষ ছিলেন। নবুয়্যাতের পদে অভিষিক্ত হওয়াটা তার নিকট মোটেই আশ্চযের বা অস্বাভাবিক ব্যাপার মনে হয়নি। 

ঋণ স্বীকার: তাফহীমুল কুরআন, সুরা আল আলাক। 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)