How much land does a man require?

How much land does a man require?   লিও টলষ্টয়ের আরও একটি সেরা গল্প। 

একজন লোভী কৃষককে নিয়ে টলষ্টয়ের এ কাহিনী। কৃষকের নাম পাহম। স্ত্রী ও সন্তানদেরকে নিয়ে রাশিয়ার একটি গ্রামে বাস করতো সে। হঠাৎ একদিন সে শুনলো: দূরে এক জায়গায় এ গ্রামের চেয়েও ভালো এবং উবর জমি পাওয়া যায়। দামও তেমন বেশী না। পাহমকে আর পায় কে! জমি জিরাত সব বিক্রি করে দিয়ে পরিবার পরিজনসহ সেই জায়গায় চলে গেল পাহম।

পাহমের আনন্দ আর ধরেনা। নতুন এ জায়গায় যা-ই বুনে অল্প ক’দিনেই তা লক লক করে বেড়ে উঠে। আহ! আরও আগে যদি সে এ বসতির খবর জানতো!

দিন যায়, বছর আসে। পাহমরা এখানে এসেছে দু’বছর হয়েছে। তার অর্থ-সম্পদ আগের চেয়ে এখন প্রায় চারগুণ। কিন্তু এতো পেয়েও কেমন যেন অতৃপ্ত পাহমের অন্তর। তার আরও অর্থ-সম্পদ চাই। এরচেয়েও কম দামে কোথাও জমি পাওয়া যায় কিনা খোজ লাগাল সে। 

দু’দিন পর এক লোক খবর নিয়ে এল: জমি আছে, তবে এখান থেকে কিছু দূরে। দামও কম। বারো মাসই ফল ফসলাদিতে টই টম্বুর হয়ে থাকে। 

জরুরী কাজ ফেলে সেই এলাকাটি দেখতে ছুটে গেল পাহম। সে ঠিকই শুনেছে। জমির দাম  এখানে পানির মতো। উবরতাও বেশী। এমন সুযোগ কিছুতেই হেলায় হারানো যায়না। কালবিলম্ব না করে ঘর-বাড়ি, জমি জিরাত সকল কিছু বিক্রি করে দিয়ে নতুন সেই জায়গায় গিয়ে বসতি গাড়লো পাহম।

এখন পাহমের অর্থ-সম্পদ আগের চেয়ে প্রায় দশগুণ। কিন্তু এতো কিছু পাবার পরও কোথায় যেন তার অতৃপ্তি। তার আরও জমি চাই।

লোক লাগালো সে। খবর এলো: এখান থেকে বেশ দুরে ‘সিফোল’ নামে একটি এলাকা আছে। জমি বিক্রয় হয় সেখানে দিনের দামে। একদিনের জমি এক হাজার রুবল। ক্রেতা সকাল বেলা যে জায়গা থেকে রওনা করবে সুযাস্তের পুবে তাকে ঐ জায়গায় ফিরে আসতে হবে। সারাদিনে সে যতটুকু জমি ঘুরে আসবে ততটুকু জমি তার। 

এমন সুযোগ কিছুতেই হাত-ছাড়া করবেনা পাহম। তবে এবার যেহেতু ব্যতিক্রমী ধরণের শর্তে জমি বিক্রি হচ্ছে তাই আগে পাহম সেখানে যাবে। জমি কেনার পর দখল নেবে, এরপর সবকিছু ঠিকঠাক করে এখান থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে যাবে।

সিফোল।। পাহম লোকমুখে যা শুনেছে এ ভুমি যেন তার চেয়ে শতগুণ উবর। কোথাও আংগুরের বাগান, কোথাও বা তরমুজ। কোথাও গম কিংবা ভুট্টার ভারে নুয়ে পড়া দিগন্ত বিস্তৃত ক্ষেত। এর শেষ কোথায় কে জানে!

দুরের পথ হওয়ায় একদিন পুবে অর্থাৎ গত রাতে এখানে এসে পৌছেছে সে। সাথে তার দুজন চাকর। জমির চিন্তায় রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। যাহোক, শরীর স্বাস্থ্য তার ভালই আছে, কাটিয়ে নিতে পারবে।

সকাল সকালই ঘুম থেকে উঠেছে পাহম। শীতকাল হওয়ায় সুযের তেজ তেমন থাকবেনা। পাহম মনে মনে খুশীই হলো। এ জনপদের মালিক লিয়েনচেভ। লোকেরা তাকে জমিদার লিয়েনচেভ বলে। চাকর বাকরসহ অদুরে তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসে আছেন লিয়েনচেভ। 

শুরুর সীমানা দেখিয়ে জমি চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ছুটে চললো পাহম। যতোই সামনে এগোয়, ততোই চোখ তার চক চক করছে। এক এক করে জমি চিহ্নিত করতে লাগলো পাহম। বিশ্রাম নেয়ার সময় নেই পাহমের হাতে। 

একসময় সুয পশ্চিম গগনে হেলে পড়লো। কিন্তু বসলে চলবেনা। বসলেই ঘুম এসে যাবে। জমি যতোই দেখছে ততোই তার লোভও বাড়ছে।

হঠাৎ সুযের দিকে তাকিয়ে মনে ভয় ঢুকে গেল পাহমের। এবার ফিরতে হবে। সন্ধ্যের আগে যদি শুরুর জায়গাটিতে না পৌছতে পারে তাহলে এতো পরিশ্রম সব বিফল। ফিরে যাবার জন্য দৌড়াচ্ছে সে। পা দু’টু যেন চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। বার বার সুয্যের দিকে তাকাচ্ছে পাহম। প্রায় ডিমের কুসুমের মতো হয়ে গেছে। আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে বিদায় জানাবে তার আজকের এ সৌভাগ্য প্রদীপ। আরও দ্রুত দৌড়াতে লাগল পাহম। ঐতো দেখা যাচ্ছে জমিদার লিয়েনচেভকে। পাহমের চাকর চিৎকার করতে লাগলো: তাড়াতাড়ি আসুন জনাব। তাড়াতাড়ি আসুন।

শুরুর জায়গায় এসে পড়েছে পাহম। কি্ন্তু জায়গাটির দিকে হাত বাড়িয়েই ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেল সে। মারা গেছে পাহম।

পাহমের চাকরটি হাউ মাউ করে কাদা শুরু করলো। জমিদার লিয়েনচেভও খুব আফসোস করলেন। জমিদারের চাকররা কেউ মন্তব্য করলো: ‘আহারে বেচারা’। আবার কেউ বললো: ‘তাকদীরের লিখন!’

পাহমের পরিবার কাছে নেই। এত দুরে এখন খবর পৌছানো অসম্ভব। সুতরাং তার দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়। কবর খুড়তে হবে। জমিদার লিয়েনচেভ হিসেব করে দেখলেন: তার দাফনের জন্যে জায়গার প্রয়োজন হবে মাত্র ছয়ফুট জমির।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2 (টি রেটিং)

আসসালামু আলাইকুম 

অনেকদিন পরে হঠাৎ পেয়ে গেলাম প্রিয় বিসর্গ ব্লগ।  ইনশাআল্লাহ নিয়মিত হাজির থাকব।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2 (টি রেটিং)