ডোনান্ড ফ্লাড এর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী

এক:

ডোনাল্ড ফ্লাড এর জন্ম আমেরিকায়। পেশায় ইংরেজির শিক্ষক। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এ তিনি তার পড়াশুনা সম্পন্ন করেন। চাকুরীর সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গমন করলে সেখানেই তার জীবন নদী মোড় পরিবর্তন করে। অর্থাৎ মুসলিম হন তিনি। কিভাবে বা কোন জিনিসটি তাকে ইসলামে আকৃষ্ট করলো এ প্রশ্নের জওয়াবে তিনি বলেন: 

“জন্মসুত্রে আমি ছিলাম খৃষ্ঠান। মানুষের বয়স এবং শিক্ষা দীক্ষা যখন বাড়ে, জীবন ও জগত সম্পর্কে তার কৌতুহলও বাড়ে। আমিও এর ব্যতিক্রম ছিলামনা। আমারও কৌতুহল বেড়েই চলছিল। বিশেষ করে আমার নিজ ধর্ম বিষয়ে। যে প্রশ্নের আমি কোনো জওয়াব খুজে পাচ্ছিলাম না, তাহলো: এটি কেমন করে সম্ভব যে, আল্লাহ নিজেই যীশু (অর্থাৎ মানুষ হয়েছেন) হয়েছেন, যাকে তিনি নিজে সৃষ্টি করেছেন এবং নিজেই নিজের দুর্ভোগ অনুমোদন করেছেন অত:পর তারই সৃষ্ট সত্তার (মানুষের) হাতে কুরবানী হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন?

তাছাড়া, এ প্রশ্নও আমাকে হতবুদ্ধি করে দিচ্ছিল যে, সৃষ্টিকর্তা নিজেই যীশু ছিলেন। কিংবা যীশু ছিলেন আল্লাহর পুত্র। আমার বিজ্ঞানমনস্ক মন এ বিষয়টির কোনই কুল কিনারা যেন খুজে পাচ্ছিলনা।  

আমি অবাক হচ্ছিলাম, বাইবেল তার শিক্ষার মাঝে নতুন কোনো কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করতে নিষেধ করে অথচ বাস্তবে তা-ই ঘটেছে। (যেমন: জেরিমিয়াহ ৮:৮-৯, রিভেলেশন ২২: ১৮-১৯।  

নিজ ধর্মের ব্যাপারে এমনি ধরনের শত জিজ্ঞাসা, বিশেষ করে ঐসকল ইস্যু যা যুক্তি ও বিজ্ঞান কখনো সমর্থন করেনা - আমাকে ভাবিয়ে তুলছিল। যতই আমি আমার নিজ ধর্মকে বুঝতে চাইতাম ততই আমি হতবুদ্ধি হয়ে পড়তাম। আমার স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, আমার অতীত পাপের প্রায়োশ্চিত্যের ভয়ও এসময়ে আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল, যার শিক্ষাটা আমি যীশুর বাণী থেকে পেয়েছিলাম।

আমেরিকাতে একটি পাবলিশিং প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করাকালীন সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকুরীর একটি অফার পাই আমি। তা হলো শিক্ষকতা। মুলত: এ চাকুরীই আমার জন্য ইসলামের পথ খুলে দেয়। আমাদের প্রচার মাধ্যমগুলো (আমেরিকায়) আমাদেরকে শেখাতো: মুসলিমরা সন্ত্রাসী। তাই যতটা সম্ভব এদেরকে এড়িয়ে চলো।

কিন্তু আরব আমিরাতে এসে সম্পুর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা আমি লাভ করি। যা ছিল আমার পুব ধারণার সম্পুর্ণ বিপরীত। বলা যায়, এখান থেকেই আমার চিন্তা ও চেতনা দিক পরিবর্তন করতে শুরু করে।

আমার জীবন পথের মোড় পরিবর্তনে আরও যে জিনিসটি আমাকে সহায়তা করে তা ছিল, আমার সহকর্মীদের দেয়া ধর্মীয় বিভিন্ন তুলনামুলক বই ও আলোচনার বিভিন্ন ভিডিও। এইসব সহকর্মীদের অনেকেই ছিলেন নবদীক্ষিত মুসলিম”।   

দুই:

ইসলাম গ্রহণের পর একটা দীর্ঘ সময় তিনি আরব আমিরাত এবং সৌদী আরবে অবস্থান করেন। তার ইসলামী নাম ছিল ‘ইয়াহিয়া’। একদিন তার মায়ের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে ছুটি নিয়ে আমেরিকায় আসেন। পৈত্রিক ধর্মত্যাগের কারনে তার পরিবারের লোকেরা তার উপর খুব একটা খুশী ছিলনা। কিন্তু তার মা ছিলো ব্যতিক্রম। একদিন তার মা তাকে বল্লেন: “বাবা তোমার কপালের দিকে আমি যেন কেমন আলোর ঝলকানী দেখতে পাচ্ছি”। তিনি বলেন: “আমার মায়ের এ উক্তি আমাকে আশান্বিত করে তোলে। আমি ভাবলাম, নিশ্চয়ই আমাদের আলোর কুসুম তার হৃদয়কে আকৃষ্ট করেছে”।

তার আহবান পেয়ে মা-ও মৃত্যুর আগে ইসলাম গ্রহণ করেন।

তিনি তার মায়ের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে তিনি স্মৃতিচারণ করেন এভাবে:

“একদিন মাকে বললাম: “মা, তুমি কি একজন স্রষ্টায় বিশ্বাস কর? 

হ্যা।

তাহলে বল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আরবীতেই সে তা তিনবার উচ্চারণ করলো। আমি বললাম: ইংরেজিতেও বলো: There is no God but Allah. 

আমি কয়েক দিন বিরতি দিয়ে, একান্তে মাকে বললাম: মা, তুমি কি সকল নাবীদেরকে বিশ্বাস কর? যেমন আদাম, নুহ, ইবরাহীম, মুসা, যীশু এবং মুহাম্মাদ?

তিনি বললেন: হ্যা। 

আমি বললাম: তাহলে তুমি আমার সাথে বল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। সে তা ইংরেজিতেও বললো: There is no God but Allah and Muhammad is His Messenger”। 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)