Cogitations

بسم الله
الرحمن الرحيم

 وَقَالُوا
لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الْأَرْضِ يَنْبُوعًا (90) أَوْ
تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الْأَنْهَارَ خِلَالَهَا
تَفْجِيرًا (91) أَوْ تُسْقِطَ السَّمَاءَ كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا أَوْ
تَأْتِيَ بِاللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ قَبِيلًا (92) أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِنْ
زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقَى فِي السَّمَاءِ وَلَنْ نُؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّى
تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتَابًا نَقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ
إِلَّا بَشَرًا رَسُولًا (93)

 তারা বলতো: “আমরা তোমার কথা মানবো না যতক্ষণ না তুমি
ভূমি বিদীর্ণ করে আমাদের জন্য একটি ঝরণাধারা উৎসারিত করে দেবে৷  

অথবা তোমার খেজুর ও আংগুরের একটি বাগান হবে এবং তুমি তার মধ্যে প্রবাহিত করে দেবে নদী-নালা৷  

অথবা তুমি আকাশ ভেংগে টুকরো টুকরো করে তোমার হুমকি অনুযায়ী আমাদের ওপর ফেলে দেবে৷ অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাদেরকে আমাদের সামনে নিয়ে আসবে৷  

অথবা তোমার জন্য সোনার একটি ঘর তৈরি হবে৷ অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে এবং
তোমার আরোহণ করার কথাও আমরা বিশ্বাস করবো না যতক্ষণ না তুমি
আমাদের প্রতি একটি লিখিত পত্র আনবে, যা আমরা পড়বো৷”

হে মুহাম্মাদ! এদেরকে বলো, পাক-পবিত্র আমার পরওয়ারদিগার, আমি কি একজন বাণীবাহক
মানুষ ছাড়া অন্য কিছু? 

 সংক্ষিপ্ত
টীকা:

টীকা ১০৬:“.......... বিরোধীদের দাবী ছিল, যদি তুমি আল্লাহর নবী হয়ে থাকো তাহলে
যমীনের দিকে ইশারা করো এবং তার ফলে অবস্মাৎ একটি ঝরণাধারা প্রবাহিত
হোক, অথবা এখনই একটি সবুজ শ্যামল বাগান তৈরী হয়ে যাক এবং তার মধ্যে নদীনালা বয়ে চলুক। আকাশের দিকে ইশারা করো এবং সংগে সংগেই আকাশ ভেংগে চৌচির হয়ে তোমার বিরোধিতাকারীদের ওপর পড়ুক।

 একটা ফুঁক দাও এবং চোখের পলকে একটি সোনার প্রাসাদ গড়ে উঠুক। একটা আওয়াজ দাও
এবং দেখতে না দেখতেই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা সমানে এসে দাঁড়াক
এবং তাঁরা সাক্ষ্য দিক যে, আমরা মুহাম্মাদকে পয়গম্বর করে পাঠিয়েছি। আমাদের চোখের সামনে আকাশে উঠে যাও এবং
আল্লাহর কাছ থেকে
একটি পত্র আমাদের নামে লিখিয়ে আনো। এ পত্রটি আমরা হাত স্পর্শ করবো এবং নিজেদের
চোখে দেখে পড়বো। এসব লম্বা চওড়া দাবী দাওয়ার জবাবে একথা বলেই শেষ করে দেয়া হয়েছে যে,
"এদেরকে বলে দাও,
আমার পরওয়ারদিগার
পাক-পবিত্র! আমি একজন বাণীবাহক ছাড়া কি অন্য কিছু৷

 "অর্থাৎ হে নিবোধের দল! আমি কি আল্লাহ হবার দাবী করেছিলাম৷ তাহলে তোমরা কেন আমার কাছে এ
দাবী করছো৷ আমি কবে তোমাদের বলেছিলাম, আমি সর্বশক্তিমান৷ আমি কবে বলেছিলাম, এ পৃথিবী ও আকাশে
আমার শাসন চলছে৷ আমার দাবী তো প্রথম দিন থেকে এটিই ছিল যে, আমি আল্লাহর পক্ষ
থেকে তাঁর বাণী বহনকারী একজন মানুষ। তোমাদের যদি যাচাই করতে হয় তাহলে আমার
বাণী যাচাই করো। আর অস্বীকার করতে হলে আল্লাহর  বাণীর মধ্যে কোন ত্রুটি বের করে দেখাও।

 আমার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হতে হলে একজন মানুষ হিসেবে আমার জীবন, চরিত্র ও কাযকলাপ দেখো। এ সবকিছু বাদ দিয়ে তোমরা আমার কাছে এ যমীন
চিরে ফেলা এবং আকাশ ভেংগে ফেলার কি সব উদ্ভট দাবী নিয়ে এসেছো৷ নবওয়াতী কাজের সাথে এগুলোর কি সম্পর্ক৷

 টীকা ১০৭: অর্থাৎ প্রত্যেক যুগের অজ্ঞ ও মূর্খ লোকেরা এ ভুল ধারণায়
নিমজ্জিত থাকে যে, মানুষ কখনো রসূল হতে পারে না। তাই যখন কোন রসূল এসেছেন এবং তারা দেখছে
তিনি পানাহার করছেন, তাঁর স্ত্রী সন্তানাদি আছে, তিনি রক্ত-মাংসের মানুষ তখন তারা ফায়সালা দিয়ে বসেছে যে,
এ ব্যক্তি রসূল নয়, কারণ এতো মানুষ।

 আর তিনি চলে যাবার দীর্ঘকাল পর তাঁর ভক্তদের মধ্যে এমনসব লোক জন্ম নিতে থাকে যারা বলতে থাকে, তিনি মানুষ ছিলেন না কারণ তিনি ছিলেন রসূল। ফলে কেউ তাঁকে আল্লাহ বানিয়েছেন, কেউ বানিয়েছেন আল্লাহর পুত্র, আবার কেউ বলেছে আল্লাহ
তাঁর মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছিলেন। মোটকথা মানবিক সত্তা ও নবুওয়াতী সত্তার একই সত্তার
মধ্যে একত্র হওয়া হামেশা মূর্খদের কাছে একটি হেঁয়ালি হয়েই থেকেছে ।

 - তাফহীমুল
কুরআন, সুরা আল ইসরা, আয়াত ৯০-৯৩

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None