সৌদির সাথে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন প্রসংগ

সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালনের ইস্যু নিয়ে দলাদলি এবং উম্মাহর বিভক্তি খুবই দু:খজনক। অথচ এটি (একই দিনে বিশ্বব্যাপী রোজা ও ঈদ উপযাপনের কল্পনা) একটি ভ্রান্তি বিলাস ছাড়া আর কিছুই না। সৌদী আরবের সাথে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য তিন ঘন্টা। এতবড় ব্যবধান নিয়ে আদৌ কি সেদেশের সাথে মিল রেখে একই দিনে রোজা ও ঈদ উদযাপন সম্ভব?  

আমার দীর্ঘ সৌদী আরবের প্রবাসজীবনে (১৯৮০ থেকে ২০১৩) ঈদুল ফিতর উদযাপনের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এর মধ্যে ৫টি ঈদের অভিজ্ঞতা হলো এরকম:

এ ঈদগুলোতে প্রতিবারই ঈদের চাদের খবর এসেছে মাগরিবের ৪৫/৫০ মিনিট পর। অর্থাৎ মাগরিব অবধি যখন কোনো সংবাদ মাধ্যমেই চাদ দেখার খবর প্রচারিত হলোনা তখন আমরা ধরেই নিলাম যে, আগামীকাল ঈদ হচ্ছেনা। আমরা তারাবিহ নামাযের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কেউ কেউ এই ভেবে খুশীও হচ্ছি যে, যাক, আরও একটি মাগফিরাতের দিন আমাদের জন্যে বোনাস আর আনন্দের ঈদটাও কালই হয়ে যাচ্ছেনা। কিন্তু হঠাৎই সকলকে অবাক করে দিয়ে টেলিভিশনে, রেডিওতে ঘোষণা করা হলো যে, চাদ দেখা গেছে। আগামী কাল ঈদ হবে।

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা! লক্ষ্য করুন: সৌদী আরবে মাগরিবের ৫০ মিনিট পর অর্থাৎ সৌদী আরব সময় ৭টা ৪৫ অথবা ৭ টা ৫০ মিনিট, এরকম। কখনো কখনো এর সামান্য আগ পিছও হতে পারে। আচ্ছা, আমি সাতটা চল্লিশ মিনিট ধরেই হিসাবটা দিচ্ছি। 

সৌদী আরবে রাত ৭টা ৪০মি: মানে, বাংলাদেশে তখন রাত ১০টা ৪০মি:।

মনে করুন, আকাশ মেঘলা থাকার কারনে সৌদী আরবে চাদ দেখার খবর প্রকাশিত হলো রাত সাতটা চল্লিশে। এর মানে হচ্ছে বাংলাদেশে এ সংবাদ পৌছাবে রাত দশটা চল্লিশে। সময়ের পার্থ্যকের কারনে। ঢাকা শহরে না হয় আপনি ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে এখবর পৌছে দিলেন। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে? ধরুন, আপনি তাদের নিকট অবশ্যই খবরটা ঐ রাতে পৌছাবেন। আপনাকে রাত ১২টা ১টা অবধি শত শত ফোন করতে হবে বা বাড়ী বাড়ী যেতে হবে। তাই নয় কি? আপনি মাইকে খবর পৌছাবেন? মাইক কি বাংলাদেশের সব গ্রামের মাসজিদগুলোতে এভেইলএবল? আর, আপনার মাইকের ঘোষণা যে সকল ঘুমন্ত মানুষই শুনবে এর কি নিশ্চয়তা আছে? 

রাত ১১টা/১২টায় মানুষকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে, তাদেরকে এভাবে কষ্ট দিয়ে, একটা বিশৃংখল অবস্থা সৃষ্টি করে একই দিনে রোজা রাখা, ঈদ করা কি খুবই জরুরী?   

আপনি অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ বা থিউডোলাইট এর কথা বলবেন? এ পযন্ত প্রাপ্ত সবশেষ তথ্যমতে ইসলামী বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রের কাছেই এমন অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ বা থিউডোলাইট নেই যদ্বারা মেঘলা আকাশ থেকে চাদকে দৃশ্যমান করে। আপনি নাসা বা নাসার মতো সংস্থাকে দিয়ে অর্ডার করে বানাবেন, প্রতিরক্ষা ও সামরিক আইনের প্রশ্নে সেটি আকাশ কুসুম কল্পনা।    

সুতরাং ঘুরে ফিরে সেই একই কথা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস

إِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلَالَ فَصُومُوا، وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَصُومُوا ثَلَاثِينَ يَوْمًا

“তোমরা চাদ দেখে রমাদানের সিয়াম শুরু কর এবং চাদ দেখেই তা সমাপ্ত কর। তবে যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারনে চাদ দৃশ্যমান না হয় তাহলে ত্রিশ দিন পূর্ণ কর”। (বুখারী, মুসলিম) না মেনে উপায় কোথায়?। 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None