ইসলাম ও অন্যান্য মতবাদ ১ম অংশ

ইসলাম-শাব্দিক অর্থ আনুগত্য
আর পারিভাষিক অর্থে ইসলাম মানে আল্লাহর নিকট সম্পুর্ন ও শর্তহীন আত্মসমর্পন। আল্লাহ প্রদত্ত ও
রাসূল (সঃ) প্রদর্শিত পথে চলা এবং
এর বিপরীত পথ ও মত পরিহার করায় হচ্ছে ইসলাম।

এটা মানব জীবনের একটা পুর্ণাঙ্গ জীবন ব্যাবস্থা A Complete code of life. মানুষের জন্য দুনিয়াই এবং পারলৌকিক জীবনের জন্য যা কিছু করার দরকার বা
থাকার দরকার সবই আছে এই ইসলামে।

প্রকৃতিতে সবকিছুই আল্লাহ প্রদত্ত আইন মেনে চলছে। মানুষকেও
সে একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলছেন,’’তারা কি আল্লাহর দ্ধীন ব্যতিত অন্য কোন পথের সন্ধান করে? অথচ আসমান জমীনে যা কিছু
আছে তারা সবাই ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক তার নিকট আত্নসমর্পন করেছে এবং তারই
নিকট সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে। ইমরান-৮৩

অন্যদিকে ইসলাম পৃথিবীতে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে এসেছে;অন্যর অধীনে থাকার জন্য
আসেনি।

আল্লাহ বলছেন,‘’তিনি সেই আল্লাহ যিনি তার রাসূলকে(সাঃ) সত্য দ্ধীন ও হেদায়াত সহকারে পাঠিয়েছেন এজন্য যে তিনি
অন্যান্য সকল মতাদর্শের উপর একে বিজয়ী মতাদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন আর আল্লাহই
এব্যাপারে সাক্ষী হিসেবে যতেষ্ঠ।‘’

অন্যান্য মতবাদ

পটভূমি- আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি
করে এ দুনিয়াতে প্রেরনের সময় যে দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, মানুষ বার বার তার সে
দায়িত্বের কথা ভুলে আল্লাহর বিরোধিতা করেছে শয়তানকে অনুসরন করেছে। আর তাই আল্লাহ যুগে যুগে নবী রাসূল(সাঃ) পাঠিয়ে সেই পথহারা
মানুষকে সঠিক পথে আনয়নের ব্যবস্থা নিয়েছেন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মানুষ
আল্লাহর দেয়া বিধানকে অস্বীকার করে নিজেরা বিধান তৈরি করেছে আর সাধারন মানুষকে সে
বিধানকে মানার জন্য চেষ্টা করেছে অথবা মানতে বাধ্য করেছে।

প্রাচীন কালের ইতিহাসেও দেখা যায় একসময় গ্রীসে বেশ কিছু
মনিষীর আবির্ভাব হয়েছিল যারা শাসন ব্যবস্থা হিসেবে কিছু মতবাদ দিয়েছিল যা সে সময় বিভিন্ন
দেশে সংবিধান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এভাবে বর্তমান কাল পর্যন্ত যদি আমরা চিন্তা
গবেষোনা করে দেখি তবে দেখব ইসলামের বিপরীতে যে সমস্ত মতবাদ মোটামুটি প্রতিষ্ঠা লাভ
করেছে তা হচ্ছে-

 

ধর্মীয় মতবাদ-

১/ শিরক- এ মতবাদের অনুসারীরা মুশরিক হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব প্রকৃতির এ বিরাট ব্যবস্থায়  একজন সৃষ্টিকর্তা বা ব্যবস্থাপক না মেনে একাধিক মানে।

‘’এরা কতইনা
অজ্ঞ ও মুর্খ- ইহারা এমন সব জিনিসকে আল্লাহর শরীক করে যাহারা
কোনো কিছু পয়দা করেনা বরং নিজেরাই সৃষ্ট-( আরাফ ২০১ )

২/ বৈরাগ্যবাদ- জীবনের সকল প্রকার সম্পর্ক সম্বন্ধ ধান্ধা ঝামেলা এড়িয়ে শারিরিক
প্রয়োজনকে অস্বীকার করে দেহমনকে কঠোর কৃচ্ছ সাধনার মাধ্যেমে আত্মাকে পবিত্র করা।

‘’কিন্তু সন্যাসবাদ
ইহাতো উহারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রবর্তন করেছিল, আমি উহাদিগকে ইহার বিধান দিই নাই’’ (হাদীদ-২৭)

৩/ সর্বেশ্বর বাদ -  স্রষ্টা এবং সৃষ্টি আলাদা কিছু নই। সমস্ত
সৃষ্টিজগত বস্তুজগত একটি সত্তারই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

আধুনিক শাসনতান্ত্রিক বা অর্থনৈতিক মতবাদ

১/ পুজিবাদ-শাসন ব্যবস্থা ও
অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

২/ সমাজতন্ত্র- শাসন
ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

৩/ গনতন্ত্র- শাসন
ব্যবস্থা

৪/ ধর্মনিরপেক্ষতা-শাসন ব্যবস্থা

৫/ জাতীয়তাবাদ-শাসন ব্যবস্থা

১/ পুঁজিবাদ- মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রধান অভিশাপ। এটা মূলত একটা
অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা সুদের উপর প্রতিষ্ঠিত। প্রত্যেক ব্যক্তি অবাধ মালিকানা,উপার্জনে স্বাধীনতা ও
নিয়ন্ত্রনহীন ব্যয় করে থাকে। এ অর্থ ব্যবস্থায় প্রত্যেক উৎপাদনকারীর লক্ষ্য হল
সর্বাধিক মুনাফা অর্জন। ধনী দিন দিন আরো ধনী হয়।

মূলনীতি-

১/ সম্পদে ব্যক্তি মালিকানা আছে কিন্তু কোন সীমা
পরিসীমা নেই।

২/ মীরাসি আইন সম্পর্কে নিরব।

৩/ একের সম্পদে অন্যের হক স্বীকার করা হয়না।

৪/ সহায় সম্বলহীনদের জন্য নিরাপত্তার কোন
গ্যারান্টি দেয় না।

৫/ চক্র বৃদ্ধি সুদের মাধ্যমে সীমাহীন শোষনের
সুযোগ থাকার ফলে ভিক্ষুক ও সর্বহারার                      সংখ্যা শুধু বাড়তেই থাকে।

৬/ আয়,ব্যয় ও সঞ্চয়ে কোন বাধা নিষেধ নেই। (Limitation)

৭/ সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ আছে।

৮/ উপার্জনে হারাম হালালের কোন বাধা নিষেধ নেই।

৯/ দ্রব্যমূল্য সামগ্রী গুদামজাত করে মূল্য
বৃদ্ধির সুযোগ আছে।

এ ব্যাপারে কোরআন বলছে-

‘’তোমরা
তোমাদের পরস্পরের ধনমাল অবৈধ পন্থায় ভক্ষন করবেনা’’।( বাকারা-১৮৮)

‘’তাদের
ধনসম্পদ প্রার্থনাকারী ও বঞ্ছিতদের অধিকার রয়েছে’’। (মাআরিজ-২৪-২৫)

আল্লাহ তোমাদের যে ধন সম্পদ দিয়েছেন তোমরা তা থেকে তাদের
অংশ দিয়ে দাও''।( বাকারা-২৫৪)  

সুতরাং পুজিবাদ বলে অধিক অর্থ সংগ্রহ করে রাখবে এবং তা অধিক অর্থ সংগ্রহের কাজে খাটাবে।

 ইসলাম বলে অতিরিক্ত
অর্থ জমা করা যাবেনা তা খরচ করতে হবে।

২/ সমাজতন্ত্র- পুজিবাদের প্রতি মানুষের ঘৃনাই সমাজতন্ত্রের জন্ম। ব্যক্তি
স্বাধীনতা বলতে এখানে কিছু থাকবেনা। উৎপাদন,বিনিয়োগ,বন্টন,ভোগ সবকিছুই রাষ্ট্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ব্যক্তি এখানে
বেতনভুক্ত কর্মচারী মাত্র। কার্লমার্কসের Theory কেই সমাজতন্ত্র বা Socialism  বলা হতো  পরে তা Communism  বা
সাম্যবাদ বলে পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু 
পরিভাষাটি কিছুটা বদনাম অর্জন করার ফলে আবার তা Socialism    বা সমাজতন্ত্রে
ফিরে আসে।

আসলে মানুষকে কেবলমাত্র একটি অর্থনৈতিক জীবই নয় তার যে স্বাধীনতার
প্রয়োজন  এটা সমাজতন্ত্রীরা
বুঝতে না পারলেও এখন সমাজতন্ত্রের কবর রচনা হওয়াতে তারা টের পেয়েছে।

যেসব মূলনীতির উপর সমাজতান্ত্রিক মতবাদ নির্ভরশীল তা হচ্ছে-

১ / সম্পদে ব্যক্তি
মালিকানা নেই সমস্ত সম্পদই রাষ্ট্র নায়কদের কুক্ষিগত।

২ / ধর্ম পালন এ মতবাদে
একেবারে নিষিদ্ধ। ধর্মকে আফিনের সাথে তুলনা করে।

৩ / আয় ও ব্যয় সবই
রাষ্ট্রের;কোন ব্যক্তির নয় আর সঞ্চয়ের কোন বালাই নেই এ ব্যবস্থায়।

৪ / জনগনের মতামতের কোন
মূল্য নেই।

৫ / রাষ্ট্র নায়কদের অহেতুক ব্যয়ের সীমাহীন সুযোগ রয়েছে এ ব্যবস্থায়।

৬ / যে ব্যক্তি শ্রমে
অক্ষম  সে সব ধরনের মৌলিক অধিকার থেকে
বঞ্চিত।

যাহোক,কার্লমার্কসের মতবাদ মানব জীবনের জন্য সামগ্রীক বিধান দেয়
না বলেই তা সামঞ্জস্যপূর্ন নয় এবং একমাত্র অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে মানব সমস্যাকে
অধ্যায়ন করার ফলে তার রচিত সমাধান মানুষকে মুক্তি দিতে পারেনি বরং অর্থনৈতিক
স্বাধীনতার নামে মানুষকে মানুষের দাস বানিয়েছে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)

সোনালী দিন ভাই আপনি কোন ফন্ট ব্যবহার করেছেন ?

আমি ovro দিয়ে লিখেছি কিন্তু ওনাদের সমস্যা তাই ১ম english এসেছে ।

-

moniruzzaman

ভাই প্রথম দিকে কিছুই বুঝিনাই।

-

 

 

ভাই ১ম দিকে ফন্ট সমস্যা করেছে

-

moniruzzaman

আমি অভ্র দিয়ে লিখি কোন সমস্যা হয়না, আপনার হয় কেন??? সম্পাদন করতে পারেন ঠিক হয়ে যাবে।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)