চার্লস ডারউইন কি স্রষ্টায় বিশ্বাস করতেন না!?

আমি
চার্লস ডারউইনের ফ্যান কিংবা অন্ধ অনুসারী নই। কিন্তু তারপরও এই প্রশ্নটি করতে বাধ্য
হলাম। আমার এই অনুসন্ধিৎসা অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হলেও সত্যের খোঁজে এর মূল্য আমার
কাছে কম নয়। এ সম্পর্কে কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা থাকলে বা কোন বক্তব্য থাকলে তা সেয়ার
করার জন্য আমন্ত্রণ রইল।

Normal
0

false
false
false

EN-US
X-NONE
X-NONE

/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:"Table Normal";
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-priority:99;
mso-style-qformat:yes;
mso-style-parent:"";
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin-top:0in;
mso-para-margin-right:0in;
mso-para-margin-bottom:10.0pt;
mso-para-margin-left:0in;
line-height:115%;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:11.0pt;
font-family:"Calibri","sans-serif";
mso-ascii-font-family:Calibri;
mso-ascii-theme-font:minor-latin;
mso-hansi-font-family:Calibri;
mso-hansi-theme-font:minor-latin;}

ঐশী
কিতাব হিসেবে বাইবেল এবং স্রষ্টা বা ইশ্বরের পুত্র হিসেবে যিশুখ্রিষ্ট অর্থাৎ ঈশা নবী
সম্পর্কিত ডারউইনের মন্তব্য-

"I am sorry to have to inform you that I do not believe in the Bible as a divine
revelation, & therefore not in Jesus Christ as the Son of God."

 

তার
এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায় যে বাইবেলে বিদ্যমান নানান অসঙ্গতি তার চোখে ধরা পরেছিল।
তাই তিনি বর্তমানের এই বাইবেলকে ঐশী কিতাব হিসেবে মেনে নিতে পারেন নাই। সঙ্গত কারণেই
বাইবেলের ত্রিত্ববাদ মেনে নিতে না পারায় যিশূখ্রিষ্টকেও তিনি ইশ্বরের পুত্র হিসেবে
স্বীকার করতেন না। আর সে কারণেই সে সময়কার খৃষ্টধর্মের অনুসারী ধর্মান্ধরা তাকে নাস্তিক
হিসেবে আখ্যায়িত করতে কুণ্ঠাবোধ করে নাই। পরবর্তীতে ইশ্বরে অবিশ্বাসী ও প্রকৃতিবাদী
নাস্তিকরা নাস্তিকতা বিস্তারের কুটকৌশল হিসেবে তার এই একপেশে অবস্থাকে কাজে লাগায় এবং
খানিকটা সফলকামও হয়।

 

চার্লস
ডারউইন নাস্তিক নয়, বরং অজ্ঞেয়বাদী আস্তিক (Agnostic theism- The view of those
who do not claim to know of the existence of any deity, but still believe in
such an existence.) ছিলেন। চিন্তা-চেতনায় তিনি একজন পরম স্রষ্টায় বিশ্বাস করতেন এবং
একই সাথে স্রষ্টার অস্তিত্ব অর্থাৎ বিদ্যমানতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে কিছুই জানা সম্ভব
নয় বলেও তিনি বিশ্বাস করতেন। এ সম্পর্কে তার বক্তব্য-

"I
am with you in thought, but I should prefer the word Agnostic to the word
Atheist."

 

১৮৭৯
সালে John Fordyce কে লেখা এক পত্রে ডারউইনের বক্তব্য থেকে বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে
ফুটে ওঠে। তিনি বিবর্তন ও আস্তিকতা অর্থাৎ স্রষ্টা বা ইশ্বরে বিশ্বাস এর মাঝে সুসংগতিপূর্ণ
যে মতামত ব্যক্ত করেন তা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে তিনি নাস্তিক ছিলেন না অর্থাৎ
স্রষ্টা বা ইশ্বরে অবিশ্বাস করতেন না-

"In
my most extreme fluctuations I have never been an atheist in the sense of
denying the existence of a God.— I think that generally (& more and more so
as I grow older) but not always, that an agnostic would be the most correct
description of my state of mind."

 

যিনি
চিন্তা-চেতানায় ও বিশ্বাসে নাস্তিক ছিলেন না। তার কর্মও নিশ্চয় নাস্তিক্যবাদকে কখনই
প্রশ্রয় দেয় নাই। কিন্তু অজ্ঞতা প্রসূত ভুল বোঝাবুঝির কারণে ধর্মান্ধ সম্প্রদায় কর্তৃক
তিনি ও তার কর্ম প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় নাস্তিক সম্প্রদায় সেই সুযোগকে লুফে নিয়েছিল এবং
তার কর্মের কিছু অংশকে ভিন্নভাবে উপস্থান কোরে তাদের পক্ষে কাজে লাগানোর জন্য যে তুরুপের
তাস হিসেবে ব্যবহার করেছিল এবং এখনও করছে তা বলার অপক্ষো রাখেনা।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)