রমযান-আলোচনা:- মুমিন আল্লাহর ভয়ে ভীত

মুমিন তার অন্তরে সার্বক্ষণিক আল্লাহ তায়ালার ভয় লালন করে বিধায় শয়তান তার উপর গালিব হতে পারে না, এবং সে আল্লাহর উপর এমন আস্থাশীল যে, কোন বিপদও তাকে আল্লাহর বিধান থেকে গাফিল করতে পারে না, বরং তার ঈমানের জযবা আরো বেড়ে যায়। 

Image Not Found

মহান রাববুল আলামীন ইরশাদ করেন-প্রকৃত মুমিন তারা যারা আল্লাহর স্মরণে তাদের দিল কেঁপে উঠে, তাদের সামনে আল্লাহর বাণী উচ্চারিত হলে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, তারা আল্লাহর উপর আস্থাশীল ও নির্ভরশীল হয়ে থাকে। 
নামাজ কায়েম করে এবং আল্লাহর প্রদত্ত রিযিক থেকে ব্যয় করে। বস্তুত: এরা হচ্ছে সত্যিকারের মুমিন। তাদের জন্য আল্লাহর নিকট উচ্চ মর্যাদা রয়েছে আরো রয়েছে অপরাধের ক্ষমা ও অতি উত্তম রিযিক (আনফাল-২-৪) 
অর্থাৎ যখনই মানুসের সামনে আল্লাহর কোন হুকুম আসে এবং সে তার সত্যতা মেনে নিয়ে আনুগত্যের শির নত করে দেয় তখনই তার ঈমান বেড়ে যায়৷ এ ধরেনের প্রত্যেকটি অবস্থায় এমনটিই হয়ে থাকে৷ যখনই আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রসূলের হেদায়াতের মধে মানুষ এমন কোন জিনিস দেখে যা তার ইচ্ছা আশা-আকাংখা , চিন্তা-ভাবনা মতবাদ , পরিচিত আচার-আচরণ , স্বার্থ, আরাম-আয়েশ ,ভালোবাসা, ও বন্ধুত্ব বিরোধী হয় এবং সে তা মেনে নিয়ে আল্লাহ ও রসূলের বিধান পরিবর্তন করার পরিবর্তে নিজেকে পরিবর্তিত করে ফেলে এবং তা গ্রহণ করতে গিয়ে কষ্ট স্বীকার করে নেয় তখন মানুষের ঈমান তরতাজা ও পরিপুষ্ট হয়৷ পক্ষান্তরে এমনটি করতে অস্বীকৃতি জানালে মানুষের ঈমানের প্রাণ শক্তি নিস্তেজ হয়ে যেতে থাকে৷ কাজেই জানা গেলো, ঈমান কোন অনড়, নিশ্চল , এ স্থির জিনিসের নাম নয়৷ এটা শুধুমাত্র একবার মানাও না মানার ব্যাপার নয়৷ একবার না মানলে শুধুমাত্র একবারই না মানা হলো এবং একবার মেনে নিলে কেবলমাত্র একবারই মেনে নেয়া হলো এমন নয়৷ বরং মানা ও না মানা উভয়ের মধ্যে হ্রাস বৃদ্ধি রয়েছে৷ প্রত্যেকটি অস্বীকৃতির মাত্রা কমতেও পারে, বাড়তেও পারে৷ আবার এমনিভাবে প্রত্যেকটি স্বীকৃতি ও মেনে নেয়ার মাত্রাও বাড়তে কমতে পারে৷ 

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই জয় পরাজয়, অথবা সফলতা ব্যর্থতার হিসেব কষে এগুতে হয়। জীবনের কোনো ক্ষেত্রে সাফল্য এলে যেমন আমরা খুশির স্রোতে ভাসি, ঠিক তেমনি কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে অনেকের জীবনেই নেমে আসে হতাশার অন্ধকার।কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর যদি আমাদের পূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস থাকে তাহলে জীবনের এসব কঠিন মুহূর্তেই নিশ্চিন্ত থাকা সম্ভব। দুনিয়ার জীবনের কোনো ব্যর্থতা তখন আখিরাতের পুরস্কারের তুলনায় বড় হয়ে উঠতে পারে না। জীবনের হিসেব তখন আমাদের ইচ্ছাধীন না রেখে আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত মনে সুখে শান্তিতে থাকা সম্ভব। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরানে সূরা আত্ব-ত্বালাক্ব এ বলেছেন 
"যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট।" (সূরা আত্ব-ত্বালাক্ব -৩) 
তারা নামায কায়েম করে, নামায মু'মিনের জন্য মি'রাজ। (আল্ হাদীস) আমাদের সবচেয়ে আপনজন হচ্ছে আল্লাহ্ রাববুল আলামিন। নামায আদায়ের মাধ্যমে আমারা সবচেয়ে আপনজন তাঁর সাথে কথা বলবো, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি আমার প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করেন, যিনি আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, তাঁর কাছে যাব, যার কাছে সব কথা বলা যায়। তাঁর কাছে মি'রাজ করতে যাব তাতে গাফলতি কিসের? এটাইতো বড় মজার ব্যাপার। আল্লাহ্ পাক পবিত্র কুরআনের সূরা মাউনের ৪নং আয়াতে বলেছেন, সেই নামাজীদের জন্য ধ্বংস, যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে গাফলতি করে। এ আয়াতে বলা হয়েছে যারা গাফলতি করে তাদের। আর যারা নামাজ পড়ে না অথবা মাঝেমধ্যে পড়ে তাদের অবস্থা কি হবে? আল্লাহ্ পাক কুরআনের বিরাশি জায়গায় বলেছেন, নামাজ কায়েম কর। নিজে পড় অপরকে পড়ার জন্য উৎসাহিত কর। 
হাদীসে এসেছে : একবার আল্লাহ্ রাববুল আলামিন জিব্রাইল (আ:)কে বললেন, ‘হে জিব্রাইল ঐ এলাকাটাকে ধ্বংস করে এসো। জিব্রাইল (আ:) বললেন, ‘‘হে রাববুল আলামিন’’ সেই এলাকায় আপনার এমন একজন আবেদ বান্দা আছে যে বান্দা সারাক্ষণ আপনার তাসবিহ তাহলীল ও ইবাদাত বন্দেগীতে মশগুল। 
আল্লাহ্ রাববুল আলামিন জিব্রাইল (আ:)কে বললেন, হ্যাঁ ঐ এলাকা ধ্বংস করে এসো। কেননা আমার সে বান্দা নিজেই জান্নাতে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতেছে। সে মানুষকে আমার (আল্লাহর) দিকে ডাকে না। আল্লাহর দ্বীনকে কায়েম করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে না। সুতরাং আমার সে বান্দাসহ এলাকা ধ্বংস করে এসো। 
আল্লাহ্ বলেছেন, ‘‘জল ও স্থলে যত বিপর্যয় সব মানুষের হাতের কামাই’’। 
আমাদের চিন্তার বিষয় যে, আমাদের অবস্থা কি হবে? সমাজ ও দেশের অবস্থা কি হবে? কিভাবে আল্লাহ্র কাছে পরকালে নাযাত পাব। 
হযরত আমর বিন শুয়াইব (রা:) তাহার পিতার মাধ্যমে তাহার দাদা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বললেন, রাসূল (স:) বলেছেন, তোমাদের সন্তানদিগকে নামাযের আদেশ দাও যখন তারা সাত বছরে পৌঁছিবে আর যখন তাহারা দশ বছর বয়সে পৌঁছিবে তখন তাদের নামাজের জন্য প্রহার করবে এবং তাদের শোয়ার জায়গা বা স্থান পৃথক করে দেবে। (আবু দাউদ) 

যা কিছু আমি তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে ( আমার পথে) খরচ করে৷ 
দুনিয়ার অর্থ সম্পদ আল্লাহর পথে খরচ করে আখেরাতের সফলতা অর্জন করতে হবে। রাসুল ( স : ) বলেছেন : ( আল্লাহর পথে খরচ করে) যে অগ্রিম পাঠায় তাই তার নিজের সম্পদ। আর যা সে পিছনে রেখে যায় তাই তার ওয়ারিসের সম্পদ। (বুখারী আবদুল্লাহ বিন মাসুদ রা:) 
রাসুলুল্লাহ (স:)আরো বলেছেন : তোমার মাল তো উহাই যা তুমি খেয়ে শেষ করে করেছ, যা তুমি পরিধান করে শেষ করেছ, আর যা তুমি দান সদকা করে সন্চ্বয় করেছ। (মুসলিম) 
রাসুলুল্লাহ (স:)আরো বলেছেন : ক্ষনস্হায়ী জিনিষের উপর স্হায়ী জিনিষের প্রধান্য দাউ। ( আহমাদ বায়হাকী) 
যতদিন মানুষ মানুষ হিসেবে দুনিয়ার বুকে বেঁচে আছে ততদিন তার আমলনামা শুধুমাত্র উৎকৃষ্ট মানের কার্যকলাপে ভর্তি থাকবে এবং দোষ-ত্রুটি ও ভুল -ভ্রান্তি থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকবে এমনটি হতে পারে না৷ কিন্তু মহান আল্লাহর একটি বড় রহমত হচ্ছে এই যে, যতদিন মানুষ বন্দেগীর অনিবার্য শর্তসমূহ পূর্ণ করে ততদিন আল্লাহ তার ভুল-ত্রুটি উপেক্ষা করতে থাকেন এবং তার কার্যাবলী যে ধরনের প্রতিদান লাভের যোগ্যতা সম্পন্ন হয় নিজ অনুগ্রহে তার চেয়ে কিছু বেশী প্রতিদান তাকে দান করেন নয়তো যদি প্রত্যেকটি ভুলের শাস্তি ও প্রত্যেকটি ভাল কাজের পুরস্কার আলাদাভাবে দেবার নিয়ম করা হতো তাহলে কোন অতি বড় সৎলোকও শাস্তির হাত থেকে রেহাই পেতো না৷ 
আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে নামাজের মতো ফরজ কাজকে নিজে পড়ি, অপরকে পড়ার জন্য উৎসাহিত করি। নিজে একা জান্নাতে না গিয়ে সবাইকে নিয়ে জান্নাতে যাওয়ার চেষ্টা করি। 
আমাদের মনে রাখতে হবে যে টাকা আল্লাহর পথে হচ্ছে সে টাকাই শুধু নিজের খাতে জমা হচ্ছে।বাকী টাকা ওয়ারীশের থেকে যাচ্ছে। তাই নিজের টাকা এখনই আখেরাতের ব্যাংকে সঞ্চয় করে নিতে হবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)