প্রকৃতির এক বিভ্রান্তিকর রহস্য যা টুইন প্যারাঢক্স

প্রকৃতির এক বিভ্রান্তিকর রহস্য যা টুইন প্যারাঢক্স (Twin paradox) নামে পরিচিত : আমাদের এই প্রকৃতি সত্যিকার অর্থে কতটা রহস্যময় তা জানা মানুষের পক্ষে সম্ভব কিনা বলা মুশকিল । তারপরও মানুষ প্রকৃতির রহস্য উদঘাটনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে । এই পরিশ্রমের সফলতা হিসেবে আমাদের কাছে, বিজ্ঞানীদের কাছে ধীরে ধীরে একের পর এক প্রকৃতির রহস্য ধরা দিচ্ছে । বিজ্ঞানীদের কাছে ধরা দেয়া প্রকৃতির এরকম হাজারো  রহস্যের মাঝে কিছু কিছু রহস্যের মূল হোতা জানা যাচ্ছে  আবার কিছু কিছু রহস্য আমাদের কাছে বা বিজ্ঞানীদের কাছে অজানাই থেকে যাচ্ছে । প্রকৃতির এই রহস্য নিয়ে খেলা করাটাই বোধয় প্রকৃতির আরও একটা রহস্য। 

প্রকৃতির এসকল সমস্যা বা অস্পষ্ট ঘটনাগুলোর কিছু কিছু হয়ত আমাদের কাছে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভ্রান্তিকর বা চরম রহস্যময়ই থেকে যাবে । এরকম একটি ঘটনা যা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে আপাত বিরোধী মনে হলেও তাই সত্য, আর তা হল-- "টাইম ডাইলেশন" (Time Dilation) বা  "সময় সংকোচন" । এই "সময় সংকোচন" ব্যাপারটা প্রথম ধরা পড়ে জার্মান নোবেল বিজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এর  "থিয়রী অফ রিলেটিভিটি" তত্ত্ব আবিস্কারের মাধ্যমে । ঐ থিয়রী থেকেই বিজ্ঞানীদের জানা সম্ভব হয়েছে যে  "সময়" ব্যাপারটাও কখনো কখনো ধীর হয়ে যায় । অর্থাৎ সময় তার নির্দিষ্ট গতিতে প্রবাহিত না হয়ে বরং শ্লথ বা ধীর গতিতে চলে । আর এ ব্যাপারকেই আমরা   "টাইম ডাইলেশন" (Time Dilation) বা  "সময় সংকোচন" বলতে পারি ।

"সময় ব্যাপারটা কীভাবে ধীর হবে" এই চিন্তা করলে স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের মাথায় বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক হবে, ব্যাপারটা অস্বাভাবিক মনে হবে, মনে হবে কোন অবাস্তব কথাবার্তার মেলা বসেছে । কিন্তু না - এটাই সত্য । সময় ব্যাপারটাও ধীর হয়ে যেতে পারে আর তা বিজ্ঞান জগতে প্রমাণিত । আর এটাও প্রমাণিত যে "সময় সংকোচন"  ব্যাপারটা প্রকৃতির চরম রহস্যগুলোর মাঝে একটি । 

ধরা যাক,   যমজ  ভাবে জন্ম নেয়া দুই ভাইয়ের বর্তমান বয়স বিশ বছর। তাদের দুজনের নাম যথাক্রমে A এবং B। এবার A মহাকাশে   পাড়ী  দিল  রকেটে  করে।  রকেটের  বেগ  অবশ্যই সাধারণ গাড়ী বা বিমানের চেয়ে বেশী। ধরা যাক রকেটের বেগ ০.৯৯c (এখানে c হল আলোর বেগ যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার) ভাই A পাঁচ বছরে গেল মহাকাশের কোন এক জায়গায়। তারপর আবার সে পৃথিবীতে ফিরে আসল আরো পাঁচ বছরে। তাহলে মহাকাশে ভাই  A মোট দশ বছর থাকল। পৃথিবীতে রেখে যাওয়া যমজ ভাই B দশ বছর অতিক্রম করল। অর্থাৎ এখন দুজনেরই বয়স ত্রিশ বছর করে  হওয়ার কথা। কিন্তু আশ্চর্যজনক আর অবাক করা হলেও এটাই সত্য যে- যখন ভাই A পৃথিবীতে পৌছাবে তখন সে দেখবে তার অন্য যমজ ভাই B এর বয়স ত্রিশ না হয়ে আরো বেশী হয়েছে। (রকেটের বেগ, ত্বরণ, সময় ইত্যাদি হিসাব করে প্রকৃত বাড়তি সময় বের করা যাবে)। কিন্তু মহাকাশচারী ভাই A ঠিকই ত্রিশ বছরে   রয়েছে। কিন্তু  অন্য যমজ ভাই B এর বয়স তখন প্রায় সত্তর বছর হয়ে যাবে । 

উপরোক্ত এই ঘটনাটি যে সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয় তা হল-

Image

T=Tr / [whole root over {1-(v^2/c^2)}]

Observer of earth = Observer of rocket / [whole root over{1-(velocity's square/speed of light's square)}]

অর্থাৎ

T= পৃথিবীতে অবস্থানরত ভাই ( যার বয়স হিসাব করার পর বেরিয়ে আসবে ৭০ বছর )

Tr=১০  ( রকেটে ভ্রমণরত ভাই যার  কাছে মনে হবে সে ১০ বছর পার করেছে )

v= রকেটের বেগ প্রতি সেকেন্ডে (ধরা হল প্রায় ০.৯৯c)

c= আলোর বেগ যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার

উপরোক্ত এই ব্যাপার গুলো যদি ঐ সমীকরণে বসানো হয় তাহলে দেখা যাবে দশ বছর পর ভাই A এসে দেখল পৃথিবীতে অবস্থানরত ভাই B এর বয়স প্রায় সত্তর বছর । অর্থাৎ B এর বয়স A এর বয়সের চেয়ে প্রায় সাত গুণ। এখানে উল্লেখ্য যে-  সাধারণ  গতিকে এই হিসাবে ফেলা যাবেনা । এই বয়স রকেটের গতির উপর নির্ভর করে কমবে বাড়বে । 

তাহলে এ ঘটনা থেকে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে মহাকাশে কেউ খুব বেশী গতিতে ভ্রমণ করলে তার কাছে সময় ধীর হয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে পৃথিবীতে সময় ঠিক ভাবেই প্রবাহমান রয়েছে।

যদিও ব্যাপারটা প্রকৃত অর্থেই বেশ বিভ্রান্তিকর মনে হচ্ছে, কিন্তু এটাই সত্যা, এটাই বাস্তব। 

বিজ্ঞানের এই মহা সমারোহে অবস্থানরত মানব জাতি আজও প্রকৃতিকে সম্পূর্ণ রূপে বুঝতে এখনো অনেক পিছিয়ে।

Foyez Ahmed

Physics with Astrophysics

University of central lancashire

England

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None