হাজারো প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ১৭ বছর বয়সী এসিডদগ্ধ সেলিনা

ওরা আমাকে শেষ করে দিয়েছে। কার কাছে বিচার চাইবো, কি বিচার চাইবো, কে করবে এর বিচার। আমি কি ফিরে পাবো আগের সেই জীবন? এরকম হাজারো প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ১৭ বছর বয়সী এসিডদগ্ধ সেলিনা আক্তার। দু’চোখ ভরা জল আর চেহারায় নীল কষ্ট নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছেন তিনি। যারাই তাকে দেখছেন সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারাচ্ছেন। আনমনে নিজেরাও কাঁদছেন। নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর মানবিক বিভাগের ছাত্রী সেলিনা। মঙ্গলবার রাতে তিন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় এসিড দিয়ে ঝলসে দেয় তার মুখমণ্ডল ও শরীরের বেশকিছু অংশ। এতে সেলিনার মুখমণ্ডলের ডান অংশ, ঘাড় ও পিঠ ঝলসে যায়। তার অপরাধ-দুই বছর আগে ছোট বোনের ওপর এসিড নিক্ষেপকারীদের বিচার চাওয়া। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়া। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, একই গ্রামের সুনাম, শরীফ, রাজু ও বিহারী শরীফ, শাহজাহান, ইয়াসিন আরাফাত সজীব, গিয়াস উদ্দিন রাজু, মাহমুদ ও পারভেজ ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে মুক্তি পেয়েই এ ঘটনা ঘটায়। এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সেলিনার শরীরের ১৫ ভাগ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে তিনি রাজধানীর বনানীর এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রায় বিকৃত মুখমণ্ডলের দিকে চেয়ে ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছেন বারবার। চোখে-মুখে এখনও আতঙ্কের ছাপ। শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা। গতকাল হাসপাতালে সেলিনাকে দেখতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, এখন আমাকে তিলে তিলে মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে ধুঁকে ধুঁকে। তার ভাষায়- টানা দু’বছর ছোট বোনের ওপর এসিড নিক্ষেপের বিচার চেয়ে আসছি। বোনের অসহ্য যন্ত্রণা দেখেছি দিনের পর দিন, রাতের পর রাত। আর এখন সেই যন্ত্রণা বহন করতে হচ্ছে আমাকে। ২০১০ সালের ১৫ই জুন সেলিনার ছোট বোন মাদরাসা ছাত্রী ফারহানা আক্তারকে দুর্বৃত্তরা এসিড দিয়ে ঝলসে দেয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এসিড মেরে তারা শুধু আমার জীবন নষ্ট করেনি, আমাদের পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে পরিবারে সুখ ফিরিয়ে আনতে। দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্ত করতে। বিধবা মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে। এখন আর কিছুই সম্ভব নয়। সবকিছু শেষ হয়ে গেলো। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেলিনারা দু’বোন ছাড়া তাদের কোন ভাই নেই। বাবা সোহরাব হোসেন দীর্ঘদিন ছিলেন ইতালিতে। ছোট মেয়ে ক্লাস সেভেনের ছাত্রী ফরহানাকে এসিড দিয়ে ঝলসে দেয়ার খবর শুনে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মেয়েকে দেখতে ছুটে আসেন দেশে। এর কিছুদিন পরই তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। সেলিনা জানান, ছোট বোনের যন্ত্রণা বাবা সইতে না পেরেই মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে আমরা অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ি। সেলিনার ৫ মামার সহায়তায় সংসারটিকে কোনরকম টিকিয়ে রাখছিলেন তার মা মাজেদা খাতুন। বোনের মামলার খরচ ও নিজেদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাদের। সেলিনা জানালেন, মায়ের কষ্ট সইতে না পেরে এসএসসি পাস করার পর টিউশনি শুরু করেছিলাম। চারজনকে পড়িয়ে যা আয় হতো তা মায়ের হাতে তুলে দিতাম। কিন্তু এখন আমি কি করবো। বিধবা মায়ের হাসি ফোটাবো কিভাবে? এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সেলিনা। বিচার চান কিনা প্রশ্নে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকেন সেলিনা। বলেন, কি বিচার চাইবো, কার কাছে বিচার চাইবো? ছোট বোনের বিচার দু’বছরেও হয়নি। দোষীরা শাস্তি না পাওয়ায় তারা আমাকেও এসিড দিয়ে ঝলসে দিতে দ্বিধা করেনি। তিনি বলেন, ছোট বোনের মামলার সাক্ষী ১৩ জন। এদের সবাইকে দিনের পর দিন হুমকি দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনজন সাক্ষী ভয়ে তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে। তাই সংশয়, ওই বিচার পাবো কিনা। এখন আবার যোগ হলো আমারটা। কাঁদতে কাঁদতে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, আপনারাই বলেন, বিচার কি পাবো? এদিকে সেলিনার চিকিৎসক আফরিনা শারমিন জানান, এসিডে তার শরীরের ১৫ ভাগ পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ডিপ বার্ন বেশি। এ জন্য অপারেশন করতে হবে। এক সপ্তাহ তাকে গভীর পর্যবেক্ষণ শেষে ওই অপারেশন করা হবে।সুএ স্টেটনিউজবিডি.কম

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2.5 (2টি রেটিং)

আসলে এই দেশে আইন নাই

সালাম
সত্যিই তো কে বিচার করবে? যারা বিচার করবে তারাই অপরাধী সব বিচার আল্লাহর দরবারে, তিনিই ন্যায়বিচারক। 

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

সালাম

বেশ আগে এসিড  সন্ত্রাস নিয়ে বিসর্গে  একটা  লেখা  দিয়েছিলাম , এখন  খুঁজে পাচ্ছি  না ।  অন্য ফোরাম  থেকে  কিছু  অংশ  দিচ্ছি এখানে ।

সৃষ্টির সেরা মানুষকে তরল আগুনে পুড়িয়ে বিকৃত করছে কারা ?

হজরত মুহাম্মদ صلى الله عليه وسلم জীবন্ত কোন প্রাণীকে আগুনে পুড়াতে মানা করেছেন । কেননা , কিয়ামতের দিনে আল্লাহ পাপীদের আগুনে ফেলে শাস্তি দেবেন । জীবন্ত কাউকে আগুনে পুড়ানোর অধিকার শুধু আল্লাহর ১।

অথচ আমরা দেখি তরল আগুনে বা এসিডে মুখ পুড়ে যাচ্ছে নারী , শিশুসহ অনেকেরই । শুধু ২০০৫ সালে এ দেশে প্রায় তিন শত মানুষের উপর এসিড নিক্ষেপ করা হয় । এর মানে রোজই এ দেশে কমপক্ষে একজন তরল আগুনে পুড়ে যাচ্ছে ।

একটি পিঁপড়াকে যেখানে আগুনে পোড়ানো মানা , সেখানে কিভাবে আল্লাহর সৃষ্টির সেরা মানুষকে তরল আগুনে পুড়িয়ে বিকৃত করছে একদল বেপরোয়া সন্ত্রাসী ? এদের ঠেকাবে কে ?

http://www.ummah.com/forum/showthread.php?300832-সৃষ্টির-সেরা-মানুষকে-তরল-আগুনে-পুড়িয়ে-বি

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2.5 (2টি রেটিং)