বাংলাদেশের বিপন্নতার আর কি বাকী আছে?

তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছিল। বিশ্বের দাতা দেশগুলো কিছুটা চিন্তাভাবনাও শুরু করেছিল বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা দেয়া না দেয়ার প্রশ্নে। বিশ্ব চিন্তা করলে কি হবে, একদিন এদেশ খ্যাতি(?) পেয়েছিল "তলা বিহীন ঝুড়ি" হিসেবে। যারা সেজন্য দায়ী তারা আবারো প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তাদের লক্ষ্য আজো অপরিবর্তিত। প্রতিটি বছর ঘুরে বৈশাখ আসে। আমরা প্রস্তুতি নেই কাল বৈশাখী ঝড়ের মোকাবেলার। প্রস্তুতি নেই বিভিন্ন মহামারীর মোকাবেলায়। আশংকা করি নানা বিপর্যয়ের। কখনো সেগুলো আসে কখনো আসেনা। যদি এসেই পড়ে তাহলে তাকে আখ্যা দেই "কাল বৈশাখী", বিপর্যয়ের মাস।

তেমনি কোন দেশ যখন কোন সরকারের অধীনে যায় তখন দেশের অধিকাংশ মানুষ স্বপ্ন দেখে শান্তির। কারণ অধিকাংশ ভোটেই কোন সরকার গদি অর্জন করে থাকে। যদিও তখনো সংখ্যা লঘিষ্ট নাগরিক ক্ষতির আশংকা কিংবা অন্তত অকল্যাণের আশংকা করে থাকে। এটা আমাদের দেশের রাজনৈতিক কালচার হয়ে গেছে। এই ক্ষতির আশংকা কখনো দেশের জন্য হতে পারে, কখনো হতে পারে তার নিজের ব্যক্তিগত। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তেমনিভাবে দেশের নাগরিকদের বিশাল একটা অংশ বিভিন্ন আশংকা করেছিল। যদিও তাদের আশংকাগুলো অধিকাংশই বাস্তবায়ন করে ফেলেছে সরকার। তবুও যখন এগুলোর সম্মিলিত একটা রিপোর্ট আসে তখন আতংকিত হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। দেখুন তেমনি একটি রিপোর্ট-

====খবরটি হুবহু এমন
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের জরিপ রিপোর্ট
আগস্ট মাসে মোট হত্যা ৪০৭টি

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে কমিশনের ডকুমেন্টেশন বিভাগ জরিপ কার্য সম্পন্ন করে। জরিপ অনুযায়ী ২০১২ সালের আগস্ট মাসে সারা দেশে মোট হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় ৪০৭টি। এ ধরনের অব্যাহত হত্যাকান্ড অবশ্যই আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি বলে বর্ণনা করা যায়। কমিশন ২০১২ সালের আগস্ট মাসের এই ব্যাপক হত্যাকান্ড এবং শিশু নির্যাতনের হার অধিকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। আগস্ট মাসে গড়ে প্রতিদিন হত্যাকান্ড ঘটে প্রায় ১৪ জন।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের কর্মীদের অবশ্যই আরো দায়িত্ববান হতে হবে। যাতে করে এ ধরনের হত্যাকান্ড কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়। বাংলাদেশের গণ ব্যবস্থাপনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং মানবাধিকার সম্মত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবলমাত্র এ ধরনের ক্রমবর্ধমান হত্যাকান্ড হ্রাস করা সম্ভব।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডকুমেন্টেশন বিভাগের জরিপে দেখা যায়

১। ২০১২ সালের আগস্ট মাসে মোট হত্যাকান্ডের শিকার ৪০৭ জন। এর মধ্যে- ক) সামাজিক সহিংসতার কারণে হত্যা ২৬৯ জন, খ) আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে নিহত ৪ জন, গ) রাজনৈতিক ব্যক্তি হত্যা ২৮ জন, ঘ) ধর্ষণের পর হত্যা ১২ জন, ঙ) গণপিটুনিতে নিহত ৪ জন, চ) চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যু ৭ জন, ছ) যৌতুকের কারণে নিহত ২৪ জন, জ) বিএসএফ-এর গুলীতে নিহত ৪ জন, ঝ) আগুনে পুড়িয়ে হত্যা ২ জন, ঞ) গৃহ পরিচারিকা হত্যা ১ জন, ট) গুপ্তহত্যা ৪৬ জন, ঠ) ইভটিজিংয়ের কারণে হত্যা ৫ জন, ড) বোমা হামলায় নিহত ১ জন।

২। মোট ধর্ষণের শিকার ৩৩ জন। এর মধ্যে- ক) নারী ধর্ষণ ৮ জন, খ) শিশু ধর্ষণ ২৫ জন।

৩। সাংবাদিক নির্যাতন করা হয় ৪ জন।

৪। এসিড সন্ত্রাসের শিকার ০৭ জন।

৫। ইভটিজিংয়ের শিকার ৪১ জন।

৬। বোমা হামলায় আহত ০১ জন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
=====খবরের সূত্র: http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=95054

বাম ঘরানার অনেকেই লিংকটি দেখে মুদ্রাদোষ বশতঃ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু নযরকে বিশেষভাবে স্থাপন করতে হবে "বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের জরিপ রিপোর্ট" কথাটির উপর। কারণ এটা অন্ততঃ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়ার মত কোন সংস্থা নয়।

জরিপটি তুলে ধরার উদ্দেশ্য হলো কতটা ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে দেশে; এ চিত্র দেখে অনুধাবন করা যাবে। বর্তমান সময়ে সিরিয়ায় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। অথচ বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ(!) নির্বাচিত এমন এক সরকারের অধীনে মাত্র একমাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার ৪০৭জন যারা মিডিয়ায় উঁচু গলায় বলে বেড়ায় যে, দেশের আইন-শৃংখলা অনেক ভালো! এই যদি হয় ভালো তাহলে খারাপ কত ভয়ংকর হতে পারে; চিন্তা করে দেখার দাবী রাখে। কি নির্মম বিপন্নতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় ভূমি বাংলাদেশ!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)