সাহাবী কারা এবং তাঁদের মর্তবা

যে সকল ব্যক্তি ঈমানের হালতে নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ঊয়া সাল্লাম )-এর সাহচর্য্য লাভ করেছিলেন বা তাঁকে এক নজর দেখেছিলেন ( এবং ঈমানের উপরই মৃত্যু হয়েছিল, তাঁদেরকে সাহাবী বলা হয়।

ইসলামে সাহাবীদের গুরুত্ব অনেকসাহাবীদের এত গুরুত্ব কেন ও কিরূপ তার একটি নজীর লক্ষ্য করুন। ইসলামের মূল কালেমা তৌহিদের দু’টি বিষয়- আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই এবং হযরত মুহাম্মাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )  আল্লাহ তাআলার রাসূল। ঈমানে মুফাসসাল কলেমায় আছে- আমি বিশ্বাস স্থাপন করছি- আল্লাহ তাআলার প্রতি, আল্লাহর ফেরেশতাগণের প্রতি, আল্লাহর কিতাবসমূহের প্রতি, আল্লাহর রাসলগণের প্রতি...।

লক্ষ্য করুন, আল্লাহ ও রাসূলের মধ্যস্থলে আল্লাহর কিতাব ও তার পূর্বে ফেরেশতাগণের     উপর বিশ্বাস ও ঈমান আনার কথা বলা হয়েছে। ফেরেশতাগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাকে ঈমানের মৌলিক বিষয়াবলীর মধ্যে স্থান দেয়া হয়েছে। এই গুরুত্বের একটি বিশেষ কারণ এই যে, ওহী ছাড়া নবী হতে পারে না। আর ওহী ও আল্লাহর কিতাব প্রেরণ একমাত্র ফেরেশতার মাধ্যমেই হয়। তাই যেখানে রসূল ও কিতাবের প্রতি ঈমান আনতে হবে সেখনে ফেরেশতাদের প্রতিও ঈমান আনতে হবে। ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান ছাড়া কিতাব ) রসূলের উপর ঈমান আনয়নের অর্থই হতে পারে না।

এই দৃষ্টান্তেই বুঝুন। আল্লাহর কালাম কোরআন মাজীদ ও আল্লাহর রসূল মুহাম্মদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর পরিচয় এবং তাঁর জীবনাদর্শ বিশ্বমানব একমাত্র সাহাবীদের মাধ্যমেই লাভ করতে পেরেছে। হযরত মুহাম্মদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) আল্লাহ তাআলার দরবার হতে আনিত আদর্শ ও দ্বীনের ভিত্তিতে স্বয়ং নিজ পবিত্র হাতে সাহাবীগনের জামাত গঠন করে গিয়েছেন। তাঁদের আমল, বয়ান এবং প্রচারের মাধ্যমেই দ্বীন ইসলাম বিশ্বের কোণে কোণে প্রসার লাভ করেছে।

আল্লাহ ও তাঁর রসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) হতে দ্বীন লাভের মাধ্যম এই সাহা্বীগণের উপর হতে বিশ্বাস উঠে যাওয়ার অর্থ হবে কোরআন ও হাদীস হতে বিশ্বাস উঠে যাওয়া।

সাহাবীগণ সম্পর্কে পূর্বাপর সকল ইসলামী মনীষীগণের আক্বীদা হল- আমরা সাহাবীগণের গুণচর্চা ব্যতীত মোটেও দোষচর্চা করতে পারব না। সাহাবীদের প্রতি ভক্তি, মহব্বত রাখাই ধর্ম, ঈমান ও আল্লাহনূরুক্তির পরিচয়।

ইমাম আবু হানিফা ( রহমতুল্লাহি আলাইহি ) বলেন, রসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর প্রত্যেক সাহাবীরই শুধুমাত্র গুণচর্চাই আমরা করব; কোন সাহাবীরই দোষচর্চা আমরা করতে পারব না।

ইসলামী আক্বীদা ও মতবাদ বর্ণনার প্রসিদ্ধ কিতাব আল-মোছামারায় বর্ণিত আছে, নবীজীর সুন্নতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং খাঁটি মুসলিম জামাতভুক্ত সকলের সর্বসম্মত মতবাদ ও আক্বীদা এই যে, সমস্ত সাহাবী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমগণকে ভাল ও খাঁটি বলিয়া বিশ্বাস করতে হবে, তাঁদের কাউকেও দোষী মনে করা হতে বিরত থাকতে হবে এবং গুণচর্চা করতে হবে।

ইসলামে সাহাবীগণের গুরুত্ব এবং তা৬দের দোষচর্চা হতে বিরত থাকার অবশ্য কর্তব্যকে স্বয়ং রসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) ইসলামের ভিত্তিরূপে প্রকাশ করতে বিশেষ সতর্কবাণী উচ্চারণ করে গিয়েছেনঃ

সাবধান! সাবধান! আল্লাহকে ভয় করিও আমার সাহাবীদের সম্পর্কে। খবরদার! খবরদার! আমার পরে মামার সাহাবীদেরকে তোমরা সমালোচনা বস্তুতে পরিণত করো না। অধিকন্তু যে কেউ আমার সাহাবীদেরকে ভালবাসবে, বস্তুত সেই ভালবাসা আমার প্রতিই ভালবাসা হবে। আর যে কেউ তাঁদের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করবে, বস্তুত সেই খারাপ ধারণা আমার প্রতি পোষণ করা গণ্য হবে। যে কেউ তাঁদেরকে ব্যথা দিবে সেই ব্যথা আমাকেই দেওয়া হবে, আর যে আমাকে ব্যথা দিবে সে যেন আল্লাহকে ব্যথা দিল এবং আল্লাহকে ব্যথা দিবে অনতিবিলম্বেই আল্লাহ তাআলা তাকে পাকড়াও করবেন।

                                                                           ( তিরমিজী শরীফ )

রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে বাছাই করেছেন ( নবীগণের শ্রেষ্ঠরূপে ), আমার সাহাবীদেরকেউ বাছাই করেছেন ( নবীদের পরে সকল মানব শ্রেষ্ঠরূপে )তাঁদেরকে আমার এত ঘনিষ্ঠ বানিয়েছেন যে, আমার শ্বশুর-জামাতা সব তাঁদের মধ্য হতে বানিয়েছেন এবং তাঁদেরকে আমার সাহায্যকারী বানিয়েছেন।

হে আমার ভবিষ্যত উম্মতগণ! তোমরা সতর্ক থেকো- আমার পরবর্তী যুগে এমন এক শ্রেণীর লোক সৃষ্টি হবে যারা সাহাবীদের প্রতি সম্মানহানিকর কথা বলবে। হুশিয়ার! হুশিয়ার! এই শ্রেণীর লোকদের মেয়ে তোমরা বিবাহ করবে না এবনহ তাদের নিকট তোমাদের মেয়ে বিবাহ দিবে না। খবরদার! তাদের সঙ্গে তোমরা নামাজও পড়বে না। এই শ্রেণীর লোকদের জন্য তোমরা দোয়াও করবে না; নিশ্চিত জেনে থাকো এই শ্রেণীর লোকদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়েছে।                         ( মোসনাদে ইমাম শাফেয়ী )

সাহাবীদের এই সব মান-মর্যাদা খামাকা অকারণে নিশ্চই নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য্যে তাঁদের মধ্যে এমন গুণেরই সৃষ্টি হয়েছিল যার অনবার্য ফল ছিল এইরূপ মান-মর্যাদা।

মহানবী ( সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম )- এর পরশ-দৃষ্টিতে সাহাবীদের মধ্যে যে গুণাগুণের সঞ্চার হয়েছিল পরবর্তী সময়ের লোকদের পক্ষে উহার অনুভূতি দুরূহ হলেও আল্লাহ এবং রাসূলের যেসব সাক্ষ্য তাঁদের পক্ষে বিদ্যমান রয়েছে সেগুলোর দ্বারা তাঁদের সেই গুণাগুণের আভাস লাভ হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। তাঁর সাহাবীগণ আল্লাহদ্রোহীদের প্রতি অতি কঠোর, পরস্পর অতি কোমল। তাঁদেরকে দেখবে, আল্লাহর প্রতি অতিশয় নত ও রত- রূকু, সিজদায় অবনত, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও করুণা অন্বেষণে সদা মগ্ন ও ব্যতিব্যস্ত, আল্লাহ্নুরূক্তির আভা তাঁদের চোখে-মুখে উদ্ভাসিত। তাঁদের এই বৈশিষ্ট ও গুণাবলীর উল্লেখ ( পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব ) তাওরাত ও ইঞ্জিলেও বিদ্যমান রয়েছে।                                                                                    ( পারা-২৬, রুকু-১১ )

কোন কাজ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যইকরাে এখলাস বলা হয়। এই এখলাস গুণের তারতম্যে মানুষ অসাধারণ বৈশিষ্টের গৌরব লাভে ধন্য হয়।

নবীজী মোস্তফা ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর সাহচর্য্যে সাহাবীগণের মধ্যে এই এখলাস গুণ এত উচ্চ পর্যায়ে বিদ্যমান ছিল যে, আমরা তা ব্যক্ত করব দূরের কথা, তা উপলব্ধি করতেও সক্ষম হব না।সাহাবীদের মধ্যে এখলাস গুণের অসাধারণ পর্যায় হাসিল থাকার কারণেই তাঁদের বহু অসাধারণ বৈশিষ্টও হাসিল ছিল। যেমন-

রসূল ( সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেছেন, ( হে আমার ভবিষ্যত উম্মত! তোমরা ) আমার কোন সাহাবীকে মন্দ বলো না; তোমাদের কাহারও উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ন দান করা তাঁদের কোন একজনের মাত্র এক মুদ্দ ( প্রায় চৌদ্দ ছটাক ) বা উহার অর্দ্ধ পরিমাণ কোন বস্তু দানের সমানও হতে পারবে না।                                                       ( বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ )

ইহা অপেক্ষা আরও অসাধারণ অতি অসাধারণ একটি বৈশিষ্ট সাহাবীদের জন্য সুষ্পষ্টরূপে হাদীসে বর্ণিত রয়েছে-

হযরত ওমর ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) বর্ণনা করেন, আমি নিজ কানে রসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-কে এই কথা বলতে শুনেছি- রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেছেন, আমি আল্লাহ তাআলার নিকট আমার সাহাবীদের ( ভবিষ্যত সম্ভাব্য ) বিরোধ সম্পর্কে আবেদন করলাম। তদুত্তরে আল্লাহ তাআলা আমার নিকট ওহী পাঠিয়ে বললেন, আপনার সাহাবীগণ আমার নিকট আকাশের নক্ষত্ররাজি তুল্য। কমবেশি প্রত্যেকের মধ্যেই আলো রয়েছে। অবশ্য কাহারও আলো কাহারও অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী; ( কিন্তু অন্ধকার কারও মধ্যে নেই ), প্রত্যেকের মধ্যেই আলো রয়েছে। অতএব কোন ক্ষেত্রে তাঁদের বিরোধ হলে যে কেউ তাদের যেকোন একজনের মত ও পথ অবলম্বন করবে সে আমার নিকট সৎ পথের পথিকই সাব্যস্ত হবে।

হাদীস খানা মেশকাত শরীফের ৫৫৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে। এছাড়াও আরও নয়খানা হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত ইবনে আছাকের, (৬) হাকেম, (৭) দার-কোৎনী, (৮) ইবনে আব্দুল বর, (৯) মাদখাল-বায়হাকী।

সাহাবীগণের মর্যাদাপূর্ণ বৈশিষ্টের উল্লেখ পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবেও উল্লেখ ছিল। যথা- তাওরাত শরীফে নবীজী মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আবির্ভাব আলোচনায় মক্কা বিজয় ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে- তিনি দশ সহস্র পবিত্রাত্মা মহাত্মাসহ এমন অবস্থায় আসলেন যে, তাঁর দক্ষিণ হাতে একটি অগ্নিশিখা তুল্য (জোতির্ময়) বিধিব্যবস্থা রয়েছে। মক্কা বিজয়ের সময় নবীজীর সথে দশ হাজার সাহাবী ছিলেন। তাওরাত কিতাবে এই সাহাবীদেরকেই পবিত্রাত্মা মহাত্মা বলা হয়েছে।

নবীদের পরে কোন স্তরের মানুষই সাহাবীদের সমমর্যাদা দূরের কথা নিকটবর্তী মর্যাদারও হতে পারবে না। এই আক্বীদা ও বিশ্বাস ইসলামী মতবাদরূপে ইসলামের সোনালী যুগ ইমামগণের যুগ হতেই প্রচলিত।

ইমাম আবু হানিফা ( রহমতুল্লাহি আলাইহি )-এর শাগরেদ বিশিষ্ট মোহাদ্দিস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক ( রহমতুল্লাহি আলাইহি )-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সাহাবী মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) ও অলিকুল শিরোমণি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ( রহমতুল্লাহি আলাইহি )-এর মধ্যে কার মর্তবা বড়?

উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ( রহমতুল্লাহি আলাইহি ) অনেক বৈশিষ্টের অধিকারী ছিলেন। (১) তিনি বিশিষ্ট তাবেয়ী ছিলেন, (২) তিনি এই উম্মতের সর্বপ্রথম মোজাদ্দেদ ছিলেন, (৩) বিশিষ্ট আউলিয়া ছিলেন, (৪) খলীফাতুল মুসলেমীনরূপে এত নেক ও সৎ শাসনকর্তা ছিলেন যে, তাঁকে পঞ্চম খলীফায়ে রাশেদীনতুল্য শাসনকর্তা গণ্য করা হত। (৫) তাঁকে দ্বিতীয় উমর বলা হত।

এতগুলো বৈশিষ্ট্যেপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ( রহমতুল্লাহি আলাইহি )-কে সাহাবী মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু )-এর পরিমাপের প্রশ্ন করা হলে ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক ( রহমতুল্লাহি আলাইহি ) উত্তরে বললেন, মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) যে ঘোড়ায় চরে জিহাদে গমন করতেন ঐ ঘোড়ার পায়ের দাপটে ধুলি উড়ে ঘোড়ার নাকে যে ধূলিকণা লাগত ঐ ধূলিকণার মর্তবা ও মর্যাদাও উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ( রহমতুল্লাহি আলাইহি )-এর মর্তবা ও মর্যাদার অনেক উর্ধে।  ( মেরকাত-শরহে মেশকাত )।

এই দীর্ঘ আলোচনায় প্রমাণিত হল, সাহাবীগণ সম্পর্কে উচ্চ ধারণা ও বিশ্বাস ইসলামের বিশেষ আক্বীদা এবং মুসলামান্দের বিশেষ কর্তব্য। এই কারণেই অধিকাংশ হাদীস গ্রন্থে সাহাবীগণের বৈশিষ্টের বর্ণনায় বিশেষ অধ্যায় উল্লেখ হয়। এমনকি বোখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিজী শরীফ যে শ্রেণীর গ্রন্থ,  উহাকে হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় জামে বলা হয়। যে গ্রন্থে সাহাবীগণের বৈশিষ্টের অধ্যায় না,থাকবে সেই গ্রন্থ জামে হিসেবে পরিগণিত হবে না।

এমরান ইবনে হোসেন ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) বর্ণনা করেন, রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এরশাদ করেন, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম যুগ ও জামাত আমার (গঠিত ) যুগ ও জামাত ( তথা আমার সাহাবীগণের যুগ )তারপর ঐ যুগ সংলগ্ন যুগ ( অর্থাৎ, সাহাবীদের হাতে গঠিত তাবেয়ীনদের জামাত ), তারপর এই দ্বিতীয় যুগ সংলগ্ন তৃতীয় যুগ ( অর্থাৎ, তাবেয়ীনদের হাতে গঠিত তাবে-তাবেয়ীনদের জামাত ) ; এই যুগটির উল্লেখ নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) করেছেন কিনা সে সম্পর্কে  বর্ণনাকারী সাহাবী সন্দিহান রয়েছেন।

মহানবী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেছেন- এই সব উত্তম যুগ চলে যাওয়ার পর এমন যুগের সৃষ্টি হবে, ( লোকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পরিণামের চিন্তা মোটেই থাকবে না, যেমন- সাক্ষ্যদানের মত দায়িত্বর কাজেও প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য না রেখে শুধু কোন প্রকার স্বার্থের খাতিরে ) সাক্ষী না বানালেও সাক্ষ্য দানে দৌড়িয়া আসবে। খেয়ানত করতে অভ্যস্ত হবে, আমানতের নির্ভরযোগ্যতা একেবারেই হারিয়ে ফেলবে। আল্লাহর নামে মান্নত করেও উহা পুরা করবে না। ( আখিরাতের চিন্তা শূন্য ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকবে এবং আখিরাতের উন্নতির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করিয়া শুধু ) দৈহিক মেদবহুল বা মোটা হওয়ার অভিলাসী হবে এবং মোটা হতে থাকবে।  ( বুখারী শরীফ )

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) হতে বর্ণিত আছে, নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেছেন, মানব সমাজের মধ্যে সর্বোত্তম সমাজ ও যুগ আমার (গঠিত) সমাজ ও যুগ, অতঃপর যে যুগ উহার সংলগ্ন, তারপর যে যুগ এই দ্বিতীয় যুগের সংলগ্ন। তারপর এমন লোকের সৃষ্টি হবে, ( তাদের মধ্যে দ্বীন ও শরীয়তের মোটেই কোন মর্যাদা থাকবে না, যেমন- আল্লাহর নামে শপথ বা কসম করার মত মহান কাজেরও তারা গুরুত্ব দিবে না, সাক্ষ্যদানে কসমের আবশ্যক না থাকা সত্যেও কসম ব্যবহার করবে যে, দ্বিধাহীন ও দিশেহারা রূপের তাড়াহুরার পরিচয় দিবে ) কখনও বা সাক্ষ্য দান করে কসম খাবে, কখনও বা সাক্ষ্যদান করে কসম খাবে।  ( বুখারী শরীফ )

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সাহাবীগণের গুরুত্ব সঠিকভাবে বুঝার এবং সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন।   

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)

ভাল লাগলো।

আপনাকে ধন্যবাদ

''সাদামেঘ''

জাযাকাল্লাহ খায়ের।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

এ প্রসঙ্গে আমার একটি লেখা রয়েছে:-

সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ও উম্মতের বিভক্তি

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)