বিশিষ্ট সাহাবী হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) পর্ব-৫

তাবেয়ীনদের চোখে হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু )

তাবেয়ীন তথা দ্বিতীয় কল্যাণযুগের মহান ব্যক্তিদের দৃষ্টিতে হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) –এর মর্যাদা কী ছিল, তা উপলব্ধি করার জন্য নিম্নোক্ত ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য। সুপ্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত ইবরাহীম বিন মায়সারাহ ( রহমতুল্লাহি আলাইহি ) বলেন-

“ হযরত উমর বিন আব্দুল আজীজকে আমি কখনও কাউকে দোররা লাগাতে দেখিনি। তবে হযরত মুয়াবিয়ার সমালোচনা করার অপরাধে একব্যক্তিকে দোররা লাগাতে দেখেছি”।   

                                                                   ( আল বিদায়া খঃ৮, পৃ-১৩৯ )

আল্লামা হাফেজ ইবনে কাসীর বলেনঃ

সুপ্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারককে হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হলে তিনি বললেন, বাহ! এমন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সম্পর্কে আমি কি মন্তব্য করতে পারি, যিনি দোযাহানের সর্দার রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) –এর পিছনে নামায পড়েছেন এবং তাঁর সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদার জবাবে রাব্বানা লাকাল হামদ বলেছেন?

তাঁকেই আরেকবার জিজ্ঞেস করা হল, উত্তম কে? মুয়াবিয়া না উমর ইবনে আব্দুল আজিজ?

প্রশ্নকারি একদিকে সেই সাহাবীকে রেখেছেন যার বিরুদ্ধে ইতিহাসের আদালতে রয়েছে জঘন্যতম সব অভিযোগ। অন্যদিকে রেখেছেন খিলাফতে রাশেদার প্রতিবিম্ব সেই মহান তাবেয়ীকে উম্মাহর প্রতিটি সদস্য যার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের সামনে শ্রদ্ধাবনত। কিন্তু প্রশ্ন শোনা মাত্র হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক ক্রোধে জ্বলে উঠলেন। তিনি বললেন হযরত মুয়াবিয়ার সাথে তুমি উমর বিন আব্দুল আজিজের তুলনা করছো? আল্লাহর কসম! নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) –এর সাথে জিহাদে গিয়ে হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়ালাহু তাআলা আনহু )-এর নাকের ছিদ্র পথে যে ধুলাবালি প্রবেশ করেছে সেগুলোও উমর ইবনে আব্দুল আজিজের তুলনায় হাজার গুণে উত্তম।

একই ধরণের প্রশ্ন  করা হয়েছিল হযরত মুয়াফা বিন ইমরানকে। তিনিও রাগত স্বরে প্রশ্নকারীকে জবাব দিয়েছিলেন, আশ্চর্য! একজন তাবেয়ী কোন সাহাবীর চেয়ে উত্তম হতে পারেন কি করে? তদুপরি হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) হলেন নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর বিশিষ্ট সাহাবীদের একজন। তাঁর বোন হলেন নবীর স্ত্রী এবং মুমিনদের মা। আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী লিপিবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব তিনি আঞ্জাম দিয়েছেন। সুতরাং মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের যে স্বর্ণশিখরে তিনি সমাসীন, কোন তাবেয়ীর পক্ষে তা কল্পনা করাই বা সম্ভব কিভাবে? তারপর প্রশ্নকারীকে তিনি নিম্নোক্ত হাদীস শুনিয়ে দিলেন-

“ আমার সাহাবা ও আহলে বায়াতকে যারা গালমন্দ করে তাদের প্রতি আল্লাহর আভিশাপ”

                                                       ( আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খঃ৮, পৃ-১৩৯ )

তাবেয়ী হযরত আহনাফ বিন কায়েসের ধৈর্য ও সহনশীলতার খ্যাতি ছিল আরব জোড়া। তাঁকে একবার জিজ্ঞস করা হল ধৈর্য ও সহনশীলতায় শ্রেষ্ঠ কে? আপনি না মুয়াবিয়া?

তিনি বললেন আল্লাহর কসম! তোমার মত মূর্খ দ্বিতীয়টি আমার নজরে পড়েনি। হযরত মুয়াবিয়ার ধৈর্য ও সহনশীলতা ছিল ক্ষমতার মসনদে থেকে আর আমারটা হল মাটির বিছানায় বসে। বল, এ দুয়ে বরাবর হয় কিভাবে?      ( তাবারী খ-৬, পৃ-১৮৭ )

ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী পর্বে এই মহান সাহাবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)