মহানবী( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এর কুস্তীজয়ী মু’জিযা

মক্কার বনু হাশেম গোত্রের প্রসিদ্ধ বীর পলোয়ান রুকানা। নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর আত্মীয়। কিন্তু ভয়ংকর সন্ত্রাসী। মানুষকে হত্যা করা তার কাছে কোন ব্যাপারই নয়। তাই মক্কার আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলেই তাকে খুব ভয় করে। তাকে দেখলে শিউরে উঠে সবাই।

মন দিয়ে রুকানাকে কেউ শ্রদ্ধা না করলেও সবাই তাকে সমীহ করে চলত। কারণ, তার অবয়বে ছিল প্রচণ্ড শক্তি। সে একজন বলবান কুস্তিগীর। এ পর্যন্ত যত কুস্তি যুদ্ধেই অংশ নিয়েছে, সবগুলোতেই সে জয়লাভ করেছে। কেউ তাকে কোনদিন হারাতে পারেনি। 

রূকানা পেশায় ছিল মেষ-পালক। তার বড় একপাল ছাগল ছিল। প্রতিদিন সকালে সেগুলোকে নিয়ে যেত “ ওয়াদিয়ে আজম ” নামক প্রান্তরে। গাছতলায় বসে সে পাহারা দিত।

অন্যদুকে সে ছিল কট্টর মুশরিক। লাত ও উজ্জা মুর্তির অনুরাগী। এগুলোর বিরুদ্ধে কারও কোন উচ্চ বাচ্য তার কাছ অসহ্য লাগত। কিছুতেই তা সহ্য করতে পারত না।

একবার রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) রূকানার মেষ চারণের সেই মাঠ দিয়েই কোথাও যচ্ছিলেন। তিনি একা। হঠাৎ রূকানা সামনে দাড়িয়ে তাঁর গতি রোধ করে বলতে লাগল- মুহাম্মদ! শুনেছি তুমি নাকি আমাদের লাত ও উজ্জার বিরুদ্ধাচরণ করছ? তাদের ইবাদত না করে এক আল্লাহর ইবাদত করতে বল? শোন! যদি তোমার সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকত, তাহলে এহেন ধৃষ্টতার জন্য এখানে তোমাকে হত্যা করে ফেলতাম। তুমি তো আমাকে চিন। আমার গায়ের শক্তি সম্পর্কে জান। আচ্ছা দেখি তোমার সেই প্রভুকে বল, আজ আমার কঠিন হাত থেকে তোমাকে রক্ষা করতে।

নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) নির্বিকার! চেহারায় ভয়ের কোন চিহ্ন নেই। অতঃপর রূকানা বলল, আচ্ছা তুমি তো জানি নিজেকে একজন সত্য নবী বলে দাবী কর। তাহলে আস না, তোমার সত্যতা একটু যাচাই করে দেখি। তুমি কি রাজী আছ যে, আমার সাথে কুস্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হবে? তুমি তোমার প্রভু আল্লাহকে সাহায্যের জন্য ডাকবে আর আমি আমার প্রভু লাত ও উজ্জাকে সাহায্যের জন্য ডাকবো। এভাবেই প্রকাশ পাবে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য।

অতঃপর সে নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-কে লোভ দেখিয়ে বলল, যদি তুমি সত্যি জিততে পার তাহলে আমার ছাগল পাল থেকে দশটি ছাগল তোমার হাতে তুলে দিব । তা আবার তোমার পছন্দমত বেছে নিবে। তুমি কি আমার সাথে কুস্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে রাজী আছ?

হকের সাথে বাতিলের সংঘাত। সত্য প্রশ্নের সন্মুখীন। কাফের তার শক্তি দেখাতে চায়। এমতাবস্থায় নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) নীরব থাকবেন? বলবেন-আমি তো কোনদিন কুস্তিযুদ্ধ করিনি? না, এহেন আত্মসমর্পণ কল্পনাও করা যায় না। কাফের চ্যালেঞ্জ করবে, আর নবীজী ( সাল্লাল্লাহহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) জবাব দেবেন না-তা কখনও হতেই পারে না। তাই নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এই প্রস্তাবে সায় দিলেন।

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। প্রথম ধাক্কায়ই রুকানাকে শিশুর মত চিৎ করে শুইয়ে দিলেন নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )। এরর তার বক্ষদেশে কঠিন করে জেঁকে বলেন। নবীজী ( সাললাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর ভারে রূকানার লৌহশক্ত বুক যেন গুঁড়িয়ে যাচ্ছিল।

রূকানা বিস্ময়-হতবাক। একই চোখের ভুল না স্বপ্ন? মুহাম্মদের মত অতি নাযুক ব্যক্তি তাকে এভাবে ধরশয়ী করতে পারে? অসভব!

কিন্তু তার নিজের অজান্তেই আহত সুরে রুকানার মুখ থেকে বের হয়ে এল, মুহাম্মদ! বুক থেকে নেমে পড়। আমি পরাজয় স্বীকার করছি। ইতোপূর্বে অন্য কেউ আমাকে হারাতে পারেনি। তোমার শক্তিবলে নয়, তোমার প্রভুর অপার সাহায্যে তুমি জিততে পেরেছ। লাত ও উজ্জা আজ আমাকে সাহায্য করেনি।

নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বিজয়ী হলেন। অথচ তিনি শান্ত, গম্ভীর। বিজয়ের কোন উল্লাস তাঁর মধ্যে নেই। কিন্তু পরাজয়ের গ্লানি শইতে পারছে না রুকানা। খুব কষ্ট হচ্ছে নিজেকে সামলে নিতে।

শরীর থেকে গ্লানির ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে রুকানা বলল, মুহাম্মদ! তুমি বিজয়ী এ কথার স্বীকৃতি দিতে আমি কার্পণ্য করছি না। তবে তুমি নিজ শক্তি বলে আমাকে হারিয়েছ, এটা আমি মানতে পারছি না। নিশ্চয়ই তোমার মা’বূদ তোমাকে সাহায্য করেছেন। কিন্তু লাত ও উজ্জা আমাকে সাহায্য করেনি।

রুকানার সামনে মর্যাদার প্রশ্ন। আরবের নারী আর শিশুরা শুনলে মুখে থুথু দিবে তাকে। সে কথা চিন্তা করে রুকানা অনুনয় করে বলল, আরেকটিবার সুযোগ দাও আমাকে। আর শোন, এবার জিতলে আরও দশটি সুন্দর তাজা ছাগল তোমাকে দেওয়া হবে। নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এবারও তার প্রস্তাবে রাজী হলেন।

শুরু হল কুস্তিযুদ্ধ। কিন্তু এবারও রুকানা তার প্র্যাকটিস প্রয়োগের আগেই কুপোকাত হয়ে গেল। নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এবারও তাকে ধরে চিৎ করে শুইয়ে দিলেন। তার বুকের উপর চেপে বসলেন।

রুকানার এখন খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে। সারা জীবনের রেকর্ডটা যে এভাবে ভেঙ্গে যাবে তা সে ভাবতেই পারছিল না। সে মনে মনে বলল-এখন আমি আরব বাসীকে কিভাবে মুখ দেখাব? এই অপমানের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়।

রুকানার ভেতর হাহাকার চলছে। কাঁপা কাঁপা সুরে এবারও পূর্বের মতই বলল, পরাজয় স্বীকার করতে আমি রাজী। কিন্তু এটা তোমার শক্তিতে নয়। তোমার প্রভুই আমাকে কুপোকাত করেছেন। তোমার প্রভু তোমার প্রতি খুবই সদয়। কিন্তু লাত ও উজ্জা আজ আমার প্রতি খুবই নির্দয়। 

রুকানা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। অপমানবোধ তার মনে পীড়া সৃষ্টি করল। ভাবল, তবে কি মুহাম্মদ সত্যবাদী? আমাদের লাত ও উজ্জা ভুয়া!

কিন্তু দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাস দেবভক্তি সহজে তার হৃদয় থেকে ছেড়ে যাবার নয়। সে ব্যাপারটা প্রাণপণে বুঝতে চেষ্টা করল। মনে মনে বলল, শেষবারের মত আরেকটিবার কুস্তি করে চূড়ান্ত পর্যায়টা বুঝা যাক।

সে নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-কে তৃতীয়বারের মত সবনয় অনুরোধ করে বলল, মুহাম্মদ! আরেকটিবার আমাকে সুযোগ দাও।আমার খুব কষ্ট হচ্ছে পরাজয় মানতে। মনকে কোনভাবেই স্থির রাখতে পারছি না। আর শোন, এবার যদি তুমি জিততে পার, তাহলে আরও দশটি ছাগল নিয়ে যাবে।

নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এবারও তার পেস্তাব গ্রহণ করলেন। রুকানা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অবয়বের সমস্ত শক্তি দিয়ে সে জাপটে ধরল নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-কে। কিন্তু এবারও তার শোচনীয় পরাজয় হল। নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) তাকে ফেলে দিয়ে তার বুকে চেপে বসলেন।

এবার সে পরাজয় স্বীকার করে বলল, মুহাম্মদ! তুমি বিজয়ী। আর আমি পরাজিত। তবে এটা লাত ও উজ্জার নির্দয় ব্যবহারের ফল। তুমি শর্তমত আমার পক্ষ থেকে পছন্দমত ত্রিশটি ছাগল নিয়ে যেতে পার।

রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) খুব দুঃখ পেলেন। মনে মনে ভাবলেন-হায়! রুকানা! সত্যের এ প্রচন্ড ধাক্কাও তোমার বিবেকের বদ্ধ দরজা খুলতে পারল না?

নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) উদাস কণ্ঠে বললেন, রুকানা! কী হবে তোমার এই ছাগলগুলো নিয়ে? আমি ছাগল নিতে চাই না। তোমার ছাগলের প্রতি আমার কোন লোভ নেই। বরং তোমার শুভাকঙ্খী হয়ে বলছি, তুমি মুসলমান হয়ে যাও। তোমার মত একজন সাহসী যুবক মিথ্যাকে আকড়ে ধরার পরিণামে জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডে নিপতিত হবে তা আমার মোটেও পছন্দ নয়। তুমি ইসলাম গ্রহণ করলে, তা থেকে নিরাপদে বেঁচে যাবে।

রুকানা বলল, আচ্ছা,শোন মুহাম্মদ! তুমি যে সত্যবাদী, সে ব্যাপারে প্রমাণস্বরূপ আমাকে কোন বিস্ময়কর অলৌকিক ঘটনা দেখাও। যেন আমি ভাল করে বুঝতে পারি, সত্যিই তুমি সৃষ্টিকর্তার একজন প্রেরিত রাসূল।

নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বললেন, দেখ, আল্লাহ্‌ সব শুনছেন। আমি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে যদি তোমাকে ছেড়ে দেবার মত বিস্ময়ের অতল সমুদ্রে ছেড়ে দেবার মত কোন অলৌকিক কান্ড দেখাতে পারি, তবে কি তুমি আমার কথা মেনে নেবে?

রকানা বলল,হ্যাঁ, অবশ্যই আমি মেনে নিব। যদি সত্যিই কিছু অলৌকিক কাণ্ড দেখাতে পার, তাহলে আমার মুসলমান হতে আর কোন বাঁধা থাকে না।

যেখানে তাদর কথা হচ্ছিল, তার াশেই চছিল একটা ঝাকড়া বাবলা গাছ। ডাল-পালা ছিল প্রচণ্ড ঘন। নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) সেটির দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, হে গাছ! আল্লাহর নির্দেশে তুমি অর্ধেক হয়ে কাছে চলে এস। নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর পবিত্র মুখ থেকে এ নির্দেশ পেয়েই ডাল-পাতা সহ গাছটি পুরোপুরি অর্ধেক হয়ে দ্রুত নিকটে এসে চমকে দিল রুকানাকে। সে পলকহীন দৃষ্টিতে দেখছে যে, গাছের মধ্য দিয় দেখা যাচ্ছে তার ছাগলগুলো ঘাস খাচ্ছে। কোনটি জাবর কাটছে। একটি বাচ্চা দুধ পান করছে।

এটা কোন ভেল্কিবাজী নয়। এটা সম্পূর্ণ সত্য। কি নিপুণভাবেই গাছটা অর্ধাংশ হয়েছে। সামান্য অংশও আস্ত নাই। এমনকি সদ্য গজানো কুঁড়িটা পর্যন্ত অর্ধাংশ হয়েছে। গাছের অন্য অর্ধাংশ যথাস্থানে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে।

রুকানা বিস্মিত কণ্ঠে বলল, মুহাম্মদ! সোত্যি আমাকে বড় রকমের এক অলৌকিক বিষয় দেখালে। এবার বৃক্ষটির এ অর্ধাংশকে পূর্বস্থানে ফিরে যেতে বল।

নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) গম্ভীর হয়ে আবার রুকানাকে পূর্ব অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে বললেন, আমি যদি আল্লাহর আছে প্রার্থনা করি, আর এ অর্ধাংশ পূর্বস্থানে চলে যায়, তখন তো আর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোন প্রকার দ্বিরুক্তি করবে না? রুকানা বলল, হ্যাঁ দ্বিরুক্তি করব না। অবশ্যই ঈমান আনবো।

নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) আল্লাহর কাছে দুআ করে পুনরায় সেটিকে ইঙ্গিত করে বললেন, হে গাছ! আল্লাহর হুকুমে তুমি তোমার স্থানে চলে যাও। রুকানা বিস্মিত চোখে চেয়ে দেখল, গাছটির চলে আসা অর্ধাংশ নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে অনুগত ভৃত্যের ন্যায় এত নিপুণভাবে তার স্বস্থানে গিয়ে মিশল, এটা কারও বুঝার উপায় রইল না যে, এই গাছটি কিছুক্ষণ পূর্বে অর্ধাংশ হয়ে কিছু জায়গা হেঁটেছিল।

নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এবার আনন্দচিত্তে বললেন, রুকানা ! এবার তুমি কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে যাও। আল্লাহর কঠিন আযাব থেকে বেঁচে যাবে।

রুকানা মনে মনে বলল, এখন তো আর মুসলমান না হওয়ার আর কোন অজুহাত থাকতে পারে না। কিন্তু পরক্ষণে তার মনে শয়তান ওয়াসওয়াসা দিল। তখন হতভাগা উত্তর দিল, মুহাম্মদ! ইসলাম গ্রহণ করতে কোন বাঁধা নেই, তবে আমার মনে সংশয় হচ্ছে, এখন যদি আমি মুসলমান হয়ে যাই, তাহলে আরবখ্যাত বীর রুকানার নামে কলঙ্ক থেকে যাবে। লজ্জা-ধিক্কা ও ঘৃণার রোল পড়ে যাবে। হৈ চৈ শুরু হবে। বস্তির নারী, শিশু, কিশোররা পর্যন্ত বলে বেড়াবে, রুকানা মুহাম্মদের ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে। কারণ, তারা জানে, আজ পর্যন্ত রুকানার পিঠ কেউ মাটির সাথে লাগাতে পারেনি। কারও ভয় রুকানার অন্তরকে কোনদিন গ্রাস করেনি। তাই তোমার কাছে আমার অনুরোধ, তুমি শর্তানুযায়ী ত্রিশটি ছাগল পছন্দানুযায়ী বেছে নিয়ে চলে যাও। দয়া করে ইসলাম গ্রহণের কথা বলো না।

নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) তার ইত্তরে খুবই মর্মাহত হলেন। তাঁর অন্তরে রুকানার ইসলাম গ্রহণের যে আশা ছিল, তা নিমিষে দপ করে নিভে গেল। নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বিষন্ন কণ্ঠে বললেন, তুমি যখন ইসলাম গ্রহণ করবে না, তখন তোমার ছাগলগুলো নিয়ে আমি কি করবো। এই বলে তিনি সেই স্থান ত্যাগ করলেন। এদিকে হযরত আবু বকর ও হযরত উমর ( রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা ) অনেকক্ষণ যাবৎ নবীজীকে খুঁজে কোথাও পাচ্ছিলেন না। ইতিমধ্যে লোকমুখে শুনেছেন যে, নবীজীকে ওয়াদিয়ে আজম উপত্যকায় দেখা গেছে। এ সংবাদ শুনে তাঁরা চমকে উঠলেন। ওয়াদিয়ে আজমে রুকানা থাকে। না জানি নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-কে একা পেয়ে রুকানা কোন অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। তাঁরা ভয় ও সংশয় নিয়ে পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে উদভ্রান্তের মত নবীজীকে খুঁজতে লাগলেন।

হঠাৎ, দূর থেকে নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-কে দেখতেই তাঁদের চেহারায় আনন্দ ফুঁটে উঠল। তাঁরা দ্রুত নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর নিকট গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি একা এসেছেন কেন? এখানেই রুকানা নামক বীর পলোয়ান ছাগল চরায়। আপনি তো জানেন-সে একজন ক্ষমতাধর কুস্তিগীর, ভয়ংকর সন্ত্রাসী এবং কট্টর মুশরিকও। যদি আপনাকে সে একা পেয়ে যেত!

নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) তাঁদের জবাবে মুচকি হেসে বললেন, সে আমার একটি পশমও বাঁকা করতে পারবে না। আর পারেনিও। যিনি আমাকে রাসূল করে প্রেরণ করেছেন, তিনি আমাকে হেফাজত করেছেন। অতঃপর রুকানার সাথে ঘটে যাওয়া কাহিনী তাঁদেরকে শুনালেন।

তাঁরা গভীর আগ্রহ ও মনোযোগের সাথে নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর কথা শুনে বললেন, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাকে পরাজিত করেছেন, কিন্তু অন্য কেউ আজ পর্যন্ত তাকে মাটিতে ফেলতে পারেনি। নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বললেন, তা আমি জানি। আমি আমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম। তিনি কবুল করেছেন। তখম অতিরিক্ত আরও দশজন বীরের শক্তি ও সাহস আমাকে দান করেছিলেন।

                 ( তথ্যসূত্রঃ  লামাইয়াতুল মু”জিযাত, আদর্শ নারী,ফেব্রুয়ারী-২০১০ )        

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)