ক্যাথলিক খৃস্টান মহিলা আরিকার ইসলাম গ্রহণের সাক্ষাৎকার

প্রশ্নঃ আপনার ইসলাম গ্রহণের পিছনে কারন কি?

উত্তরঃ আমি আপনাদের শহরে খৃস্টান ক্যাথলিক আন্দোলনের সদস্য ছিলাম। আমার কাজ ছিল শিশুদেরকে শিক্ষা দেয়া। আমি তাদেরকে খৃস্টান ধর্মের শিক্ষা দিতাম। এ কারণে আমি আমার ধর্ম খুব কঠোরতার সাথে পালন করতাম এবং ধর্মীয় শিক্ষা সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত ছিলাম।

খৃস্টান ধর্মের শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে অনেক সময় আমাকে এমন সমস্যার সন্মুখীন হতে হতো-যার সমাধানের ব্যাপারে আমি নিজেই সন্দিহান ছিলাম। আক্বীদার ব্যাপারেও আমার মনে বুভিন্ন প্রশ্নের উদ্রেক হতো। কিন্তু সেখানকার উত্তর দ্বারা নিজেকে সন্তুষ্ট রাখতে পারতাম না কখনো।

আমার খুব আশ্চর্য লাগতো যে, ঈসা ( আলাইহিস সালাম ) মানুষ, আবার খোদাও! খোদা একজন, আবার তিনজনও! এ হয় কি করে? আমার পক্ষ থেকে এগুলোর উত্তর হতো-আলোচনা সমালোচনা ব্যতীত এ কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক। কিন্তু মনে খটকা লেগেই থাকতো।

তাই আমি এখানে গীর্জায় প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হতে পারতাম না। যখনই আমি এসব ব্যাপারে ভেবেছি, এর বাস্তবতা উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি।

একদিন বিবেকের তাকাযায় ছাত্রদের সাওমনে আমাদের শহরের প্রচলিত মূর্তি ও প্রতিকৃতি অস্বীকার করে বসলাম। বললাম- আমরা এসব মূর্তির ইবাদত করি, অথচ আমাদের উচিৎ মহান খোদার ইবাদত করা। গীর্জা রক্ষক আমার এ কথায় ভীষণ অসন্তুষ্ট হলেন।

এভাবে খৃস্টান ধর্ম সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে প্রকৃত সত্য ধর্মের সন্ধান করি, যার মাধ্যমে আমার সকল প্রশ্নের যথার্থ সমাধান পেতে পারি।

এ পর্যায়ে আমি ইসলামকে নিয়ে গবেষণা করি এবং ইসলামকেই সেরূপ নিরঙ্কুশ-নির্ভেজাল দ্বীনরূপে পাই। তাই ইসলাম গ্রহণ করি।

প্রশ্নঃ ইসলাম সম্পর্কে আপন কতটুকু জেনেছেন?

উত্তরঃ শিক্ষকতা ছেড়ে দেয়ার পর তিউনিসের ( তিউনিসিয়ার রাজধানী ) এক মুসলমানের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাকে ইতালীয় ভাষায় কুরআন মাজীদের অনুবাদ গ্রন্থ প্রদান করেন এবং ইসলাম সংক্রান্ত আরও অনেক বই-পুস্তক দেন। আমি সেগুলো পড়াশুনা করতে থাকি। এর মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে অনেক জ্ঞান লাভ করেছি।

প্রশ্নঃ কুরআন মাজীদে আপনি কি কি পেয়েছেন-যার মাধ্যমে অভিভূত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন? ইসলাম গ্রহণের আপনার কি নাম হয়েছে?

উত্তরঃ নির্ভেজাল একত্ববাদ, একক সত্তা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ( যার অনুসন্ধান আমার মধ্যে ছিল ), ইবাদতের পদ্ধতি অর্থাৎ কিভাবে এক আল্লাহর ইবাদত করতে হবে ইত্যাদি এগুলো বিস্তারিত কুরআন মাজীদ থেকে পেয়েছি। আমি কুরআন মাজীদ খুব গভীরতার সাথে পড়েছি। তাই এক পর্যায়ে আমার মন ইসলাম গ্রহণের জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠে। এরপর ২৭ বছর বয়সে ( ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে ) ইসলাম গ্রহণ করি।

পূর্বের নাম ছিল আরিকা। ইসলাম গ্রহণের পর আমার নাম হল আয়েশা।

প্রশ্নঃ আপনি কুরআন মাজীদে মহিলাদের অধিকার সম্পর্কে কি পেয়েছেন?

উত্তরঃ মহিলাদের অত্যন্ত মর্যাদার কথা পেয়েছি। সামাজিক জীবনে ইসলাম মহিলাদের অনেক বড় করেছে। সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে তাদের কর্তৃত্ব ও অভিভাকত্ব দিয়েছে। পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে তাদেরকে পুরুষদের সাথে অংশীদারিত্ব প্রদান করেছে। তাদেরকে পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার যথাযথভাবে দিয়েছে।

প্রশ্নঃ তিউনিসের মুসলমান মহিলাদের আপনি কেমন পেয়েছেন? এখানকার নারী স্বাধীনতার চিন্তাধারার ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

উত্তরঃ এ সকল মুসলমান মহিলাদের অবস্থার উপর আমার খুব দুঃখ হয়। কারণ, তারা অনেকেই ইসলাম ও কুরআনী শিক্ষার উপর আমল করেন না।

আর নারী স্বাধীনতার চিন্তার কথা কী বলব, উলঙ্গ হয়ে বের হওয়াকে আমি কখনো সমর্থেন করি না। বরং আমি মনে করি নারীর বাস্তব স্বাধীনতা আল্লাহ্‌ প্রদত্ত শিক্ষা-দীক্ষা ও তার আমলের মধ্যেই নিহিত। যদি সমাজকে কুরআন অনুযায়ী সাজানো হয়, তাহলে নারীদের জীবন অত্যন্ত শান্তিময় হবে। তাতেই নারিরা তাদের যথার্থ অধিকার পাবে।

প্রশ্নঃ তিউনিসের মুসলমানদের মধ্যে ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ দেখার পরেও ইসলামের মহত্ব আপনার নিকট বিদ্যমান আছে?

উত্তরঃ এতে ইসলামের দোষ কি? মনে করুন, আমার স্বামী আমার সঙ্গে বাড়াবাড়ি করলো, এতে ইসলামের অপরাধ কি? এটাতো তার নিজস্ব ভুল। দ্বীনের শিক্ষা-দীক্ষা সুস্পষ্ট ও সুপ্রকাশিত, সেই শিক্ষার মধ্যে কোন ভুল নেই।

প্রশ্নঃ ইসলামের দাওয়াতের ব্যাপারে আপনি খুব তৎপর বলে জেনেছি। কিভাবে আপনি ইসলামের প্রতি বিধর্মীদের দাওয়াত দিয়ে থাকেন?

উত্তরঃ আমি সবাইকে বিশেষ করে ইতালীয়দেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে চাই। কারন, তারা আমার ইসলামী পোশাক প্রত্যক্ষ করেছে-যে পোশাকের উপর আমার গর্ব, তারা সে পোশাকের ব্যাপারে বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করেছে-এমন পোশাক কেন পরিধান কর? ইসলাম কেমন ধর্ম? ইত্যাদি। আমি তাদের সেসব প্রশ্নের উত্তরে ইসলামের সুন্দর বিধানের কথা বলেছি।

অবশ্য আমি বিধর্মী কাউকে কুরআন মাজীদ প্রদানে এ আশংকা করি, যেন সে কুরআন মাজীদের সাথে বেআদবী না করে বসে। যখন তার ব্যাপারে নিশ্চিত হই যে, সে কুরআন মাজীদের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে অবগত হতে পারে, তখন তাকে কুরআন মাজীদ উপহার দেই। এটাও ইসলামের দাওয়াতের বিশেষ পথ।

একদিন এক যুবতীর সাথে ইসলামের বিষয়ে আলোচনা করলাম। পূর্বে আতেক খৃস্টান ধর্মের শিক্ষা দিয়েছি। তিনি আমাকে বললেন, এ নতুন ধর্ম আবার কি? ( এ কথার দ্বারা বুঝা যায় পশ্চিমারা ইসলাম সম্পররেক কত অজ্ঞ। ইসলাম সম্পর্কে সামান্য অবগতিও তাদের নেই। ইসলাম এমন এক সুশৃঙ্খল-সুন্দর ধর্ম, যদি এর প্রচারের সঠিক উদ্যোগ নেয়া হত, তাহলে বিশ্বের এক পরিসর বিস্তৃত হয়ে যেত। ) তাকে বললাম, আমি সৃষ্টি সম্পর্কে সব তথ্য কুরআন থেকে পেয়েছি, তাই তোমাকে কুরআনের ব্যাপারে আলোচনার আহবান জানাচ্ছি।। আমাদের আলোচনা চলতে থাকলো। এক পর্যায়ে সে ইসলাম গ্রহণ করলো।

প্রশ্নঃ বোন আয়েশা! মুসলমাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

উত্তরঃ আমি ঐ সব মুসলমান মহিলাদের পছন্দ করি-যারা ইসলামের কারণের গর্বিত এবং আল্লাহ্‌ তা’আলার আদেশকে দৃঢ়তার সাথে ধারণ করেছেন। মুসলমান মহিলাদের বলছি-বোনেরা! কখনো নিরাশ হবেন না। কুরআনে কারীমের মাধ্যমে যে নেয়ামত আপনাদের কাছে আছে, যদি ইউরোপীয় মহিলারা তা জানতো, তাহলে তা নেয়ার জন্য যুদ্ধ পর্যন্ত করতে প্রস্তুত হত। এ নেয়ামতের কদর করুন। ইসলাম পরিপূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরুন।

( সূত্রঃ পাক্ষিক তা’মীরে হায়াত, লক্ষৌ, মাসিক আদর্শ নারী, অক্টোবর-২০০৯ ) 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None