আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক, ফারাবীর হুমকি, এবং অতপর ও পরিশিষ্ট

নাস্তিকদের ব্যাপার নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আলোচনা- সমালোচনা হয়ে আসছে অনেকদিন
ধরেই। নাস্তিকেরা বা ধর্মের সমালোচনাকারীরা আগে যেমন ছিলেন, এখনো আছেন।
সম্প্রতি, অভিজিৎ রায়ের বইয়ের ব্যাপারে রকমারি ডট কম ও এর মালিক সোহাগকে
ফারাবী শফিউর রহমান ডাইরেক্ট হুমকি দেয়ার পর, এই আস্তিক-নাস্তিক ইস্যুকে
আবারও যেন সরগরম হয়ে উঠেছে।

নাস্তিকদের মধ্যে অনেক বিখ্যাত বুদ্ধিজীবি, লেখক বা সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব
যেমন আছেন, তেমনি আছেন সাধারণ মানুষেরাও। আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আযাদের মত
অনেক পন্ডিত ব্যক্তি আছেন, যারা ছিলেন নাস্তিক, এবং এর পাশাপাশি বিভিন্ন
ধর্মীয় আচার-আচরণ, চিন্তা-ভাবনার সমালোচনাও করে এসেছেন বিভিন্ন সময়।

আস্তিকেরা, বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা বরাবরই এসব সমালোচকদের উপর
খড়গহস্ত। টিপিক্যাল মুসলমানেরা সবসময় নাস্তিকদের ঘৃণার চোখে দেখে এসেছেন।
আর যারা কিনা মৌলবাদী, তাদের তো কোন কথাই নেই—তারা নাস্তিকদের ধর্মীয়
সমালোচনাকে ধর্ম অবমাননা হিসেবে দেখে তাদের কল্লা চান। অপরদিকে নাস্তিক বা
উগ্র নাস্তিকেরাও কিন্তু থেমে নেই। তারা নামে-বেনামে ফেসবুক আর ব্লগে
অয়াকাউন্ট খুলে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক এবং স্রস্টার বিরুদ্ধে উল্টপাল্টা
কথা বলেই চলেছে।

এখানে বলে রাখা ভাল যে, ইসলাম ধর্মের আইন অনুযায়ী যারা কিনা আল্লাহ ও নবী
রাসুল নিয়ে কটূক্তি করে, তাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। অনেকেরই এটা নিয়ে সন্দেহ
আছে, তাই নিচে কিছু রেফারেন্স দিলাম সবাইকে জানানোর জন্য আসলে এইক্ষেত্রে
ইসলামের বিধানটা কি সেটা জানানোর জন্যঃ

১। আব্দুল্লাহ ইবনে খাতাল তার নিজের দুটি গায়িকা নারীর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ
(সাঃ) ) এর বিরুদ্ধে কুৎসা মূলক গান গাওয়াতে লাগলো। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)
যখন মক্কা বিজয় করলেন তখন অন্যান্য কাফেরদের সাধারণ মাফ করলেও রাসুলুল্লাহ
(সাঃ) বিরুদ্ধে কুৎসা করা ইবনে খাতাল ও তার মতো একই অপরাধ যারা করেছে যেমন
আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবী সারাহ, মাকিস ইবনে সুবাবা আল লাইসি গংদের
হত্যা করা হইয়েছিল। শুধুমাত্র একজন বাদী ব্যতীত যে মক্কা বিজয়ের আগে ইসলাম
গ্রহন করার কারণে মুক্তি পায়।
( আল মাতালিবুল আলিয়া ৪২৯৯, ইত্তিহাফুল খিয়ারাহ ২/৪৬১৩, বুগইয়াতুল বাহিস ৬৯৮)

আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মক্কা বিজয়ের দিন
মক্কায় প্রবেশ করে মাত্র মাথায় যে হেলমেট পরা ছিল তা খুললেন, এমন সময় এক
ব্যক্তি এসে বলল, ইবনে খাতাল ( বাঁচার জন্য ) কাবার গিলাফ ধরে ঝুলে আছে।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ( ঐ অবস্থায়ই) তাকে হত্যা করো। ( বুখারী ১৮৪৬,
মুসলিম ৩৩৭৪,তিরমিজি ১৬৯৩, আবু দাউদ ২৬৮৭, নাসায়ী ২৮৬৭)

২। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ)
কে নিয়ে কাব ইবনে আশরাফ কুৎসা রচনা করত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মুহাম্মদ ইবনে
মাসলামা (রা) কে কাব ইবনে আশরাফ কে হত্যার জন্য পাটান। ( বুখারী ৪০৩৮,
মুসলিম ৪৭৬৫)

আল্লাহ্‌র রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কুতুক্তিকারীদের ব্যাপারে ইমামদের ফতওয়া :

১। হানিফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব ' আল বাহরুর রায়েক শরহু কানজুদ দাকায়েক'
বলা হয়েছে, " যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে গালী-গালাজ করবে সে অবশ্যই
মুরতাদ। শরিয়তে মুরতাদের সজ্ঞে যে আচরণ করা হয় তার ব্যাপারে সেই আচরণই করতে
হবে। ইমাম আবু হানিফা (র) থেকে যারা ফতওয়া দেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন
কাজী ইয়াজ। মালেক ইবনে আনাস, লাইস, আহমদ, ইসহাক একই মত পোষণ করেন এবং এটাই
ইমাম শাফেয়ীর মাজহাব।

২। হানিফি মাযহাবের আরেকটি প্রসিদ্ধ কিতাব ' ফাতাওয়ায়ে শামীতে' বলা হয়েছে,
যারা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে গালী-গালাজ করবে তাদের হত্যা করার ব্যাপারে
সমস্ত ওলামায়ে কেরাম একমত। ইমাম মালেক,লাইস,আহমদ, ইসহাক,ইমাম শাফেয়ী,ইমাম
আবু হানিফা (র) ও তাঁর সাথীবর্গ এবং ইমাম আওজায়ী সকলেই একমত পোষণ করেন । (৪
ফাতওয়ায়ে শামি-৪১৭)

৩। শাফেয়ী মাজহাব এর মতে, যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে গালী-গালাজ বা অসম্মান
করবে তাদের হত্যা করা করা ওয়াজিব এবং এই ব্যাপারে সকলেই একমত। (কিতাবুল
ইজমা ইমাম ইবনে মুনযির ১/১৩৫)

যদিও কোরানে কোথাও ধর্ম অবমাননাকারীদের শাস্তির কথা স্পষ্ট করে বলা হয়নি,
তবে উপরিউক্ত হাদিস এবং ইসলামী মাজহাব প্রনেতাদের কথা থেকে বোঝা যায়,
ইসলামে ধর্ম সম্পর্কে কটুক্তিকারি বা অবমাননাকারীদের শাস্তি আসলে কি।

এই যখন অবস্থা, তখন আসলে এইক্ষেত্রে কারই বা করণীয় কি আছে? আমার যেটা মনে
হয়, শুধুমাত্র সহনশীলতা আর সংযমের শিক্ষাই পারে এই ক্ষেত্রে দুই উগ্র
পক্ষকে পরস্পরের মুখোমুখি করা থেকে বাচাতে। যারা কিনা নাস্তিক, তাদের মোটেই
উচিত হবেনা এমন কিছু লেখা বা বলা, যা কিনা ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মের পুজনীয়
মানুষদের হেয় করে। প্রত্যেক সমাজেই কিছু মানুষ আছেন, যাদের হেয় করে কোন
কিছু বলা যায়না। যেমন বাংলাদেশের আইন আনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বা জাতির পিতার
নামে কুৎসা রটনা করা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রধাণমন্ত্রী বা জাতির
পিতার অবমাননা যদি শাস্তি্যোগ্য অপরাধ হয়, তবে, ধর্মীয় গুরু বা ইশ্বরের
অবমাননার শাস্তি হিসেবে আস্তিকেরা তো উগ্র নাস্তিক, যারা কিনা ধর্ম নিয়ে
সবসময় আজেবাজে কথা লিখতে ভালবাসে, তাদের শাস্তি তো দাবী করতেই পারে।

ধর্মের সমালোচনা করা এক জিনিস, আর ধর্মের অবমাননা আরেক জিনিস। কেউ যদি বলে
যে, আমি হযরত মোহাম্মদের এতগুলো বিয়েকে ভাল চোখে দেখিনা, উনি সেটা না করলেও
পারতেন, তাহলে হয়তো সেটা উগ্র আস্তিকদের চোখে খারাপ কিছু মনে হবেনা।
কিন্তু, তার চরিত্র নিয়ে বাজেভাবে অশ্লীল কথা বললে এবং ওনার মত একজন
মানুষকে নিয়ে যদি কিছু অর্বাচীন চটি সাহিত্য তৈরি করার কু-উদ্যোগ নেয়, তবে
মুসলমানরা অবশ্যই সেটাকে ভাল চোখে দেখবেনা। যেমন, আসিফ মহিউদ্দিন, আকাশ মালিক, রাজিব
হায়দারের মত ব্লগার তো সবসময়ই ছিলেন বা আছেন। পাশপাশি কিছু ব্লগ সাইটই তৈরি
করা হয়েছে ইসলাম ধর্ম ও এর প্রবক্তাকে নিয়ে কুৎসা রটনা করার জন্য। ব্লগ
সাইট ‘চুতরাপাতা’ সেরকমই একটা ভয়াবহ অশ্লীল সাইটঃ
http://www.chutrapata.com/daripalla/167

উপরের পোষ্টটি পড়লেই বোঝা যায় ধর্মীয় বিষয়ের গঠনমূলক সমালোচনা করা এইসব
ব্লগারের উদ্যেশ্য নয়, তাদের উদ্যেশ্য হল বিকৃত রুচির লেখা তৈরি করা ও এর
প্রসার।

সমালোচনা হতেই পারে। তবে, উপরোক্ত পোস্টে যা করা হয়েছে, তা কোন সুস্থ ধারার
কাজের মধ্যে পড়েনা। এরকম ব্লগ পোস্ট, সন্দেহ নেই, নামে বেনামে আরো অনেকে
লেখেন। এদের এইরুপ লেখা পড়ে হেফাজতী আর হুজুর সম্প্রদায় যদি লেখকদের কল্লা
চেয়ে বসে, তাহলে সেটা ব্যতিক্রম কিছু হবে?

আবার, যেসকল উগ্র আস্তিক আর মৌলবাদী ব্লগার নেটে রয়েছেন, তারাও পান থেকে
চুন খসলে, ব্লগার বা লেখকের কল্লা দাবি করে বসেন। হেফাজতে ইসলাম তাদের ১৩
দফার মধ্যে ধর্ম অবমাননার দায়ে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছে। আর
ফারাবি তো তার উগ্র আচরণ আর তীব্র প্রতিক্রিয়াশীলতার মাধ্যমে মৌলবাদী আর
ধর্মান্ধ সম্প্রদায়ের কাছে ফেসবুক আর ইন্টারনেটে ‘হিরো হয়ে’ গেছে।

ফারাবি আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। সে একসময়, ২০১২ সালের দিকে দূর্বা জাহান নামে
একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে। সেটা সম্ভবত ফেসবুকে মেয়েটির ছবি ও পরিচিতি দেখেই।
সাংবাদিক আনিস রায়হান ভাইকে সে অনেক রিকুয়েস্ট করেছে যাতে আনিস ভাই
মেয়েটার সাথে তার একটা সম্পর্ক তৈরিতে সাহায্য করেন। নিচের লিঙ্ক-এ ক্লিক
করলে, সেতার ডিটেইলস দেখতে পাবেনঃ
http://www.nagorikblog.com/node/7987

আমি সম্প্রতি ফারাবীকে ফেসবুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, “আপনি দূর্বা জাহানকে এখনো ভালবাসেন কি না?”
ফারাবী তখন বিষয়টা অস্বীকার করল আর বললো, “ভাই, ওসবই ছিল Love Zihad’.”

ওকে, নাইস! তাহলে ব্যাপারটা কি এরকম ছিল যে ফারাবী ভালবাসা দিয়ে দূর্বার মত
একটা কমিউনিস্ট মেয়েকে ‘লাইন’-এ আনতে চেয়েছিলেন। তাই, যদি হয়, তাহলে অন্য
উগ্র নাস্তিকদের তিনি ভালবাসা দিয়ে, দাওয়াতের মাধ্যমে কেন লাইনে আনতে চান
না? ইসলামের দাওয়াত, যুক্তিতর্কের উপস্থাপনের ব্যাপারটা কি তিনি ভুলে
গেছেন? নাকি তার Love Zihad শুধুমাত্র মেয়েদের জন্যই সীমাবদ্ধ?

উগ্র আস্তিকদের ভুলনীতি এই জায়গায় যে, সবকিছু তারা ধর্মীয় দৃস্টিকোন থেকে
দেখতে চান, যদিও ধর্মীয় নীতিমালা তারা নিজের জীবনে শতভাগ পালন করতে পারুক
আর না পারুক।

যেমন, লাভ জিহাদ করতে হলে একটা মেয়ের সাথে বিয়ের আগেও মিশতে হব, সেটা
ফেসবুকে হলেও। ফারাবী দূর্বাকে ফেসবুকে নকও করেছেন—সেসবই কিনা ইসলামের
দৃস্টিতে নাজায়েয। এইক্ষেত্রে ফারাবীরা যদি একটু ছাড় দিতে পারেন, তাহলে
নাস্তিকদের ব্যাপারে ইসলামের নীতিতে তারা কি একটু ছাড় দিতে পারেনা?

আসলে, মানবতার মহান শিক্ষা ও অনুভুতি এক্ষেত্রে উগ্র আস্তিক আর মৌলবাদীদের
অসভ্য আর বর্বর হওয়া থেকে বাচাতে পারে। সেজন্য তাদেরকে একজন মুসলমান হওয়া
থেকে বেশি করে একজন মানুষ হয়ে উঠতে হবে। হারম্যান হেসের সিদ্ধার্থ
উপন্যাসের নায়ক সিদ্ধার্থ যেমন ভালবাসার শক্তিকে জীবণের চালিকাশক্তি হিসেবে
খুজে পায়, ঠিক সেইরকম চিন্তা-চেতনা মানুষের মধ্যে বিরাজ করলে আসলে কোন
কিছুই অসম্ভব নয়।

আর ইসলামের সব নীতিই কি সবসময় অটুট থাকতে পারে? যেমনঃ সূর্যের অবস্থান দেখে
মুসলমানেরা নামায পড়ার সময় নিরধারণ করেন। কিন্তু, মানুষ অলরেডি চাঁদে
গিয়েছে, মঙ্গলে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে ২০২৩ সালে। আজ থেকে ২০০ বছর পড়ে যখন
বিপুল সংখ্যাক মানুষ চাঁদ ও মঙ্গলে বসতি গড়বে, তখন তাদের মধ্যে কিছু
মুসলমানও হয়তো থাকবে। তখন তারা কেমন করে নামাজ পড়বে, আর কেমন করেই বা রোজা
রাখবে? কারণ, চাঁদে একদিন পৃথিবীর ২৮.৫ দিনের সমান। এখানে ২৪ ঘন্টা ধরে
হিসাব করলেও ঝামেলা আছে। কারণ, নিয়মই আছে ইসলামে সূর্য উঠার আগে ফজরের
নামায পড়তে হবে, আবার সূর্যাস্তের পড়ে ইফতার করতে হবে। সূর্য যদি ২৮.৫ দিন
ধরে আকাশে থাকে তাহলে তারা কিভাবে কি করবে? এখানে কিন্তু, ইসলামের কিছু
নিয়মই কিন্তু ভেঙ্গে পড়বে। সেই অবস্থায়, ইসলাম চালু রাখতে হলে নিয়ম-নীতিতে
কিছু চেঞ্জ তো আনতেই হবে।

কাজেই, ইসলামের সবকিছুই যে অপরিবর্তনীয় বা চেঞ্জ করা যাবেনা – এই ধারণা
থেকে বোধহয় সরে আসার আবশ্যকতা আছে। ধর্মীয় বিষয়ের সমালোচনা কেউ করলেই যে
তার উপর খড়গহস্ত হতে হবে, এই কট্টর নীতি থেকেও মনে হয় মুসলমানদের বেরিয়ে
আশা জরুরী। উদারমনসকতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা তো এখন সময়ের দাবি, তাই না?

এদিকে, একজনের পিতা যত খারাপই হোক না কেন, হক সে দুর্নীতিবাজ বা অসভ্য,
সন্তানের কাছে পিতার সবসময় একটা আলাদা সম্মান থাকেই। তাদের সামনে তাদের
পিতার কেউ যদি কলার চেপে ধরে, তখন সে অবশ্যই চুপ করে বসে থাকবেনা। সেইখানে
তো, মুসলমানদের কাছে হযরত মুহাম্মাদ অনেক অনেক সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালবাসার
এক নাম। তারা নিজের পিতা-মাতার থেকেও উনাকে অনেক উপরে রাখে। তাই, তাকে
অপমান করে কেউ কোন কথা বললে বা লিখলে তারা চুপ করে বসে থাকবেনা, এটাই
স্বাভাবিক।

এক্ষেত্রে, নাস্তিক বা উগ্র নাস্তিকদের ভূমিকা কি হতে পারে? ধরা যাক,
নাস্তিকদের এক বন্ধুর বাবা ভাল মানুষ নন। কিন্তু, পিতা যতই মন্দ মানুষ হন,
নাস্তিকেরা যদি তার বন্ধুর সামনে, তার বাবার কলার চেপে ধরে, তখন তার
বন্ধুটি অবশ্যই চুপচাপ বসে থাকবেনা। সেখানে, হযরত মোহাম্মদের স্থান তো
মুসলমানদের কাছে অনেক উপরে। তার ব্যাপারে কোন কুৎসা রটনা না করাই সমিচীন--
এই বিষয়টাও নাস্তিকদের মাথায় রাখতে হবে।

নাস্তিকদের মধ্যে অনেক যথেষ্ট মানবিক গুনাবলিও বিদ্যমান। ব্লগার রাজিবকে
নিয়ে মুক্তমনা ব্লগে তামান্না ঝুমুর লেখা থেকেই সেটা অনেকটা পরিস্কার বোঝা
যায়ঃ

“একবার কয়েকদিন ধ’রে আমার ভীষণ মন খারাপ ছিল। আমার সেই বিষণ্নতা ছড়িয়ে
পড়েছিল ফেসবুকেও। খুব মনমরা কয়েকটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ফেসবুকে। আমার সেই
বিধ্বস্ত দুরবস্থায় রাজীব প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছিল আমাকে হাসাতে, আমার মন
ভালো করে দিতে। তার কথা শুনে শেষ পর্যন্ত সজল চোখেও আমি না হেসে পারিনি।
আমার দুর্দিনে, বিষণ্ন সময়ে আমার পাশে এসে একান্ত আপনজনের মতন দাঁড়িয়েছিল
রাজীব। আমার অশ্রু মুছিয়ে দিয়েছিল কথা দিয়ে, বন্ধুত্ব দিয়ে। আমার ব্যথাতুর
মনে হাসির ঝলক এনে দিয়েছিল। কান্নার মাঝে হাসিয়ে ছেড়েছিল আমায়। তার এই
দুর্মূল্য, দুষ্প্রাপ্য সহায়তার দান আমি কোনোদিন ভুলবো না”।
লিঙ্কঃ http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=39708

যারা কিনা এতটা মানবিক হতে পারেন, তারা চাইলে অবশ্যই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস
বা আবেগের প্রতি সচেতন হতে পারেন বলেই বিশ্বাস করি। তারা চাইলেই অন্যের
স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত দেয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারেন। মানুষের বোধ,
আবেগ আর অনুভূতিতে আঘাত না দেয়া বা সম্মান করাও নিশ্চয় মানবিকতা বা
মানবধর্মের মধ্যে পড়ে, তাই নয় কি?

পরিশিষ্টঃ

আমার এই লেখাটা আসলে একটা বোগাস লেখা। কারণ উগ্র মৌলবাদীরা কখনো ধর্মীয়
অনুশাসনের বাইরে গিয়ে শান্তি আর ভালোবাসার মাধ্যমে কোনকিছু সমাধানের চেষ্টা
করবেনা। তারা সবসময় ধর্মের সমালোচনাকারীদের কল্লায় চাইবেন। অপরদিকে,
নাস্তিক ও উগ্র নাস্তিক ব্লগাররাও একটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বোধকে
শ্রদ্ধার চোখে না দেখে ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ, গালিগালাজ ও অশ্লীল লেখার মাধ্যমে
সেগুলোর সমালোচনা করে যাবে, গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে। একপক্ষ হয়তো
‘চুতরাপাতা’র মত ‘ধুতুরাপাতা’, বা ‘বিছুটি পাতা জাতীয় ব্লগ তৈরি করে যাবেন।
কেউ এসবের সমালোচনা করলে তাদের ‘ছাগু’ টাইটেল দেবেন। অন্যদিকে, অপরপক্ষ
ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কেউ সমালোচনা করলে তাদের কঠিন শাস্তি বা কল্লা চেয়ে
বসবেন। আরও ফারাবী তৈরি হবে, আরও ‘হুমকি’ বা কতল করার ‘থ্রেট’ চালু থাকবে।

তাই, আমার এই লেখাটা একটা হাস্যকর লেখা। আমি শুধু খামোখাই কিছু সমাধানের পথ খোজার চেষ্টা করেছি।

দি এন্ড!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)